• ই-পেপার

মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে যুবকদের দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে : ডেপুটি স্পিকার

চলন্ত বাসে নারী শ্রমিককে ধর্ষণচেষ্টা, চালক গ্রেপ্তার

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
চলন্ত বাসে নারী শ্রমিককে ধর্ষণচেষ্টা, চালক গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

সাভারের আশুলিয়ায় ইতিহাস পরিবহনের একটি চলন্ত (লোকাল) বাসে এক নারী পোশাক শ্রমিককে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বাসটির চালক ও হেলপারের বিরুদ্ধে। সে সময় ইজ্জত বাঁচাতে চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে পড়েন ওই নারী। পরে তিনি মামলা করলে অভিযুক্ত বাসচালককে গ্রেপ্তার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। তবে বাসের হেলপার এখনো পলাতক রয়েছে।

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার বাসচালক মো. আজিজুল শিকদার ওরফে রাজু (৩৭)। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানার হরিণহাটি এলাকার বাসিন্দা। রাজু বর্তমানে সাভারের রাজ ফুলবাড়িয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে গাড়ি চালাতেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী পোশাক শ্রমিক (২৭) আশুলিয়ার ইপিজেড-১ এলাকার তৈরি পোশাক কারখানায় জুনিয়র অপারেটর হিসেবে কাজ করেন। গত ১২ জুলাই দিনাজপুর থেকে কর্মস্থলে ফেরার পথে রাতে চন্দ্রা চৌরাস্তায় নেমে আশুলিয়াগামী ইতিহাস পরিবহনের একটি লোকাল বাসে ওঠেন।

বাসটি শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর পর অন্য সব যাত্রী নেমে গেলে চালক ও হেলপার আর কোনো যাত্রী বাসে উঠতে দেননি। এতে তিনি আতঙ্কিত হয়ে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু চালক বাস থামানোর পরিবর্তে দ্রুতগতিতে বাস চালাতে থাকেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ড ও ইপিজেড এলাকার মধ্যবর্তী নির্জন স্থানে পৌঁছালে বাসের হেলপার তার পাশে এসে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি করে এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় চালকও তাকে সহযোগিতা করেন। নিজেকে রক্ষার আর কোনো উপায় না দেখে চলন্ত বাস থেকে লাফ দেন তিনি। এতে তার মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। পরে অন্য একটি বাসের সহায়তায় আশুলিয়া এলাকায় এসে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরদিন থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগীর অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং বিভিন্ন সূত্র বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত চালকের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধর্ষণচেষ্টায় ব্যবহৃত ইতিহাস পরিবহনের বাসটি জব্দ এবং ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়, যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তের পাশাপাশি গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক হেলপারকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
 

বুড়িগঙ্গায় ট্রলারডুবি, নিখোঁজ দুজন সাঁতরে উঠেছে অন্য পাড়ে

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
বুড়িগঙ্গায় ট্রলারডুবি, নিখোঁজ দুজন সাঁতরে উঠেছে অন্য পাড়ে
সংগৃহীত ছবি

ঢাকার সদরঘাট এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলার ডুবে নিখোঁজ দুজনের সন্ধান মিলেছে। তারা নদীর অন্য পাড়ে সাঁতরে উঠেছে বলে নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম এক বার্তায় জানিয়েছেন, ওই দুজনের কাছে মোবাইল ফোন ছিল না। পরবর্তীতে তারা পরিবারের মাধ্যমে ট্রলারের মালিককে জানালে, ট্রলারের মালিক তাদের সন্ধানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

অন্য কোনো নিখোঁজের অভিযোগ না থাকায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে ফিরে গেছে বলেও জানিয়েছেন আনোয়ারুল ইসলাম।

রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্যামবাজার এলাকায় লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে।

আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বরিশাল থেকে ছেড়ে ঢাকায় আসা এমভি সুন্দরবন-১২ লঞ্চের সঙ্গে কুমিল্লাগামী একটি ট্রলারের সংঘর্ষ ঘটলে ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারটি একদম নতুন। এতে মোট ১০ জন আরোহী ছিলেন। তারা সবাই জীবিত উদ্ধার হয়েছে।  

জামালপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ নিহত ৩

জামালপুর প্রতিনিধি
জামালপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ নিহত ৩
জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল।

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় পৃথক ২টি সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ ৩ জন নিহত হয়েছে। রবিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলার চরপলিশা বেতমারী তালতলা এলাকায় সিএনজি ও ভটভটির মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন নিহত হন। একই দিন সকালে উপজেলার আগপয়লা এলাকায় অটোরিকশার চাপায় নাজনিন নাহার (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।

শিশু নাহার ওই এলাকার নাজমুল হোসেনের মেয়ে। নিহত বাকি দুজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাঁদের লাশ জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘রবিবার দুপুরে জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের চরপলিশা বেতমারী তালতলা এলাকায় জামালপুরগামী একটি সিএনজি ও মেলান্দহগামী একটি ভটভটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজিতে থাকা এক নারী ও এক যুবক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে পুলিশ তাঁদের লাশ উদ্ধার করে।’

অন্যদিকে উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের আগপয়লা এলাকায় বাড়ি থেকে বের হয়ে সড়ক পার হওয়ার সময় নাজনীন নাহার নামে এক শিশু অটোরিকশার চাপায় গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম মাহমুদুল হক বলেন, ‘পৃথক দুইটি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সিএনজি ও ভটভটির সংঘর্ষে নিহত ২ জনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তাঁদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।'

চট্টগ্রাম

চাঁদা না পেয়ে ইন্টারনেট অফিসে হামলা : মূল হোতা মাইকেলসহ গ্রেপ্তার ৯

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চাঁদা না পেয়ে ইন্টারনেট অফিসে হামলা : মূল হোতা মাইকেলসহ গ্রেপ্তার ৯
সংগৃহীত ছবি

চাঁদা না পেয়ে চট্টগ্রাম মহানগরের চকবাজার এলাকায় একটি ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও ৩৫ লাখ টাকা লুটপাটের ঘটনায় মূল হোতা মাইকেলসহ ৯ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৭। এ সময় তাদের কাছ থেকে হামলায় ব্যবহৃত ৪টি দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।

রবিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে র‌্যাব-৭-এর মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান এসব তথ্য জানান। 

হাফিজুর রহমান বলেন, শনিবার চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশে হস্তান্তর করেছিল র‌্যাব। 

গ্রেপ্তাররা হলেন রোহেন মিয়া প্রকাশ মাইক্যাল (৩১), মো. তুহিন (২২), আকবর হোসেন (৩৮), মো. আব্দুল মুমিন (৩০), মো. মাসাদ মিয়া (২৭), মো. দিদার মিয়া (২২), মো. সানজাত হাসান (১৮), সৈরত হোসেন (১৮), মো. সাইফুদ্দিন (৩২)।

মামলার এজাহার ও র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, চকবাজার থানাধীন ‘ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন)’ নামের ইন্টারনেট সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আদিল বিন মামুনকে গত ১১ জুলাই তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ফোন করে ‘ডেভিড-ইমন’ পরিচয়ধারী এক সন্ত্রাসী। ডেভিড ইমন এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ১৩ জুলাই দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ৩০-৪০ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী ফিল্মি স্টাইলে ওই অফিসে প্রবেশ করে।

সন্ত্রাসীরা রামদা, ছুরি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অফিসের আসবাবপত্র, কম্পিউটার, সার্ভার মনিটর ও ল্যাপটপসহ মূল্যবান মালামাল ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে অফিসে রক্ষিত কর্মচারীদের বেতন বাবদ রাখা নগদ ৩৫ লাখ টাকা লুট করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। 

র‌্যাব অধিনায়ক বলেন, এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার বাদী হয়ে চকবাজার থানায় একটি মামলা করেন। ঘটনার পর থেকেই জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় র‌্যাব-০৭। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ১৮ জুলাই র‌্যাবের একাধিক আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হামলার অন্যতম মূলহোতা ও সংগঠক মাইকেলসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। উদ্ধার করা ৪টি দেশীয় অস্ত্রসহ আসামিদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।