• ই-পেপার

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে পরিবেশ দূষণবিষয়ক বৈঠক

ফিটনেসবিহীন বাস-ট্রাক দ্রুত অপসারণে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
ফিটনেসবিহীন বাস-ট্রাক দ্রুত অপসারণে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ছবি : পিএমও

রাজধানীর সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ এবং পরিবেশদূষণকারী বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন দ্রুত অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

এ সময় রাজধানী ঢাকায় যানবাহনের হর্নের অতিরিক্ত ব্যবহার কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরো কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চামেলী হলে পরিবেশ দূষণবিষয়ক এক বৈঠকে এ গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেসসচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকটিতে সভাপতিত্ব করেন। 

বৈঠকে বায়ু ও শব্দদূষণ প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে, ইটভাটার কারণে সৃষ্ট বায়ুদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইট উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী ইট উৎপাদনের জন্যে পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

বৈঠকে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত এআই ক্যামেরার মতো হর্ন নিয়ন্ত্রণেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি কিভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ ছাড়া রাজধানীতে আরো অন্তত ৫০টি পয়েন্টে অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট সিস্টেম দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালু করারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

‘নজরুল কেবল আমাদের গর্ব নন, তিনি মুসলিম রেনেসাঁর এক অনন্য রূপকার’

নিজস্ব প্রতিবেদক
‘নজরুল কেবল আমাদের গর্ব নন, তিনি মুসলিম রেনেসাঁর এক অনন্য রূপকার’
ছবি: কালের কণ্ঠ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বাংলাদেশের গর্ব নন, তিনি মুসলিম রেনেসাঁরও এক অনন্য রূপকার বলে মন্তব্য করেছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।

তিনি বলেন, নজরুলের সৃষ্টি, চিন্তা ও সাহিত্যকর্ম উপমহাদেশের মানুষের মাঝে জাগরণ সৃষ্টি করেছে। তার রচিত রণসঙ্গীত ‘চল চল চল’ বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ১১টি দেশে পরিবেশিত হয়। এর মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, আফগানিস্তান ও ইরান অন্যতম।

শনিবার (১৮ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানার বিপরীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে নবনির্মিত ‘নজরুল ভিলেজ’-এর ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজশাহী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্মিত ‘নজরুল ভিলেজ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহীতে ‘নজরুল ভিলেজ’ স্থাপনের মাধ্যমে নজরুল গবেষণা ও সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। এটি স্থানীয় সংস্কৃতি বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, ‘নজরুল ভিলেজ’-এর কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাজশাহীতে এনে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ সময় তিনি জাতীয় কবির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুধীসমাজ এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে ‘নজরুল ভিলেজ’ চত্বরে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন ভূমিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘নজরুল ভিলেজ’ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন উৎস থেকে ২৫ লাখ টাকার তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘নজরুল মঞ্চ’ নির্মাণে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্প এলাকায় কোনো বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে না। এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চার স্থান হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানে যেকোনো দল বা গোষ্ঠী নজরুলের নাটক, পালাগান, কবিতা ও সাহিত্যের বিভিন্ন শাখা নিয়ে চর্চা করতে পারবেন।

নজরুল চর্চাকে নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে ইতোমধ্যে একটি ‘নজরুল ক্যালেন্ডার’ প্রণয়ন করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী সারা বছর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হবে। আগামী মাসের নির্ধারিত অনুষ্ঠানগুলো যাতে এই প্রাঙ্গণে আয়োজন করা যায়, সে লক্ষ্যে দ্রুত ‘নজরুল মঞ্চ’-এর নির্মাণকাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় কবির সাহিত্য, কবিতা ও গান নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই ‘নজরুল মঞ্চ’ ও ‘নজরুল কর্নার’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মির্জা ফখরুল

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে চীনের প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রয়োজন

অনলাইন ডেস্ক
সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে চীনের প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রয়োজন
সংগৃহীত ছবি

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে চীনের প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতি’ আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ওই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যকার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। আমাদের যুবসমাজ যেভাবে চীনে পড়াশোনা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত আদান-প্রদান বাড়াচ্ছে, তা দুই দেশের সম্পর্ক আরো ভালো হবে।

বাংলাদেশে চলবে বুলেট ট্রেন, জানালেন চীনা রাষ্ট্রদূত

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশে চলবে বুলেট ট্রেন, জানালেন চীনা রাষ্ট্রদূত

চীনের উচ্চগতির রেল প্রযুক্তি বাংলাদেশে ব্যবহারের সম্ভাবনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে জানিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, ভবিষ্যতে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ রুটে দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন চালুর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সমিতি’ আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এ সময় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনার এক বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। যেখানে তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে পূর্ণ সহযোগিতা, বাংলাদেশের পণ্যের জন্য চীনের বাজার আরো উন্মুক্ত করা, দ্রুতগতির বুলেট ট্রেনের সম্ভাবনা এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সক্রিয় মধ্যস্থতা করার কথা উল্লেখ করেছেন।

বুলেট ট্রেনের সম্ভাবনা ও যোগাযোগ খাতে সহযোগিতার বিষয়ে ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর (বিসিএম) নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম সেরা পর্যায়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের সফর দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরো শক্তিশালী করেছে।

উন্নয়ন, বাণিজ্য, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা দিতে চীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিস্তা মহাপরিকল্পনায় পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে ইয়াও ওয়েন বলেন, তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীন আন্তরিকভাবে কাজ করছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিতে বেইজিং প্রস্তুত রয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

কাঁঠাল রপ্তানির জন্য চীনের বিশাল বাজার খুলছে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরে বাংলাদেশের তাজা কাঁঠাল রপ্তানির বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রটোকল স্বাক্ষর হয়েছে। এর ফলে আমের পর এবার দেশের জাতীয় ফল কাঁঠালও চীনের বিশাল ভোক্তা বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে, যা কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, মিয়ানমারে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে এবং টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে চীন মধ্যস্থতামূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।