• ই-পেপার

দিনাজপুর সেক্টর কমান্ডার

কোনোভাবেই পুশ ইন মেনে নেওয়া হবে না

সাভারে ছাত্র হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার, পালাতে গিয়ে আহত

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
সাভারে ছাত্র হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার, পালাতে গিয়ে আহত
সংগৃহীত ছবি

সাভারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার বনগাঁও সাধাপুর এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে পুলিশ হেফাজতে রেখে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

সাভার মডেল থানার ভবানীপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ইমরান হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

গ্রেপ্তার আসামির নাম মো. আব্দুল বাতেন (৪২)। তিনি সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের সাদাপুর গ্রামের মৃত এসহাক মিয়ার ছেলে। 

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে বনগাঁও ইউনিয়নের সাধাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই হত্যা মামলার আসামি আব্দুল বাতেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তিনি পুলিশের হাত থেকে পালাতে দোতলা ভবনের ছাদ থেকে একটি গাছ বেয়ে নিচে নামার সময় লাফ দিলে পা পিছলে পড়ে আহত হন। পরে তাকে পুলিশ হেফাজতে রেখে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

সাভার মডেল থানার ভবানীপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ইমরান হোসেন জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যার ঘটনায় করা দুই মামলার আসামি আব্দুল বাতেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তিনি পালানোর চেষ্টাকালে আহত হন। বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

ওসি জানান, সুস্থ হলে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তাকে আদালতে পাঠানো হবে। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বিজিবি মহাপরিচালকের কক্সবাজারে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিজিবি মহাপরিচালকের কক্সবাজারে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ
সংগৃহীত ছবি

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর পরিদর্শন উপলক্ষে কক্সবাজারে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।

গত ১৭-১৮ জুলাই কক্সবাজার ও সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, অপারেশনাল প্রস্তুতি ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন।

পরিদর্শনকালে মহাপরিচালক বিজিবির চলমান সীমান্ত নিরাপত্তা কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হন।

তিনি অত্র অঞ্চলের দায়িত্বপালনরত কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। দুর্গম ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ পরিবেশে তাদের পেশাদারি, নিষ্ঠা ও সতর্কতার প্রশংসা করে তিনি অপারেশনাল কার্যক্রমের আরো উন্নয়ন, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

কক্সবাজার অঞ্চলের বন্যাকবলিত মানুষের সহায়তায় সরকারের মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ কার্যক্রমে বিজিবি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে চকরিয়া পৌরসভা, লক্ষ্যচর  ইউনিয়ন এবং কাকারা ইউনিয়নে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য একটি চিকিৎসাসেবামূলক মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। 

দেশের সীমান্ত সুরক্ষা এবং জনগণের সেবায় বিজিবির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে মহাপরিচালক সবি সদস্যকে সর্বদা সতর্ক, পেশাদার ও দায়িত্বশীল থেকে উদ্ভূত যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার নির্দেশনা প্রদান করেন। একই সঙ্গে তিনি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অটুট রাখতে সব বিজিবি সদস্যকে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

ফেনী

সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের চা-দোকানে আড্ডা ও ঘোরাঘুরি নিষিদ্ধ

ফেনী প্রতিনিধি
সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের চা-দোকানে আড্ডা ও ঘোরাঘুরি নিষিদ্ধ
সংগৃহীত ছবি

ফেনীতে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের শহরে অযথা ঘোরাঘুরি, চায়ের দোকানে অবস্থান ও আড্ডা নিরুৎসাহিত করতে জনসচেতনতামূলক মাইকিং করেছে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যায় শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকায় মাইকিং করে এ বিষয়ে জনসাধারণকে অবহিত করা হয়। শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মাইকিংয়ে জানানো হয়, জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাগরিবের পর শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে অবস্থান, চা-দোকানে আড্ডা বা উদ্দেশ্যহীন ঘোরাঘুরি থেকে বিরত থাকতে হবে। এ সময় অভিভাবকদেরও সন্তানদের বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, এ নির্দেশনা অমান্য করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রশাসনের এ উদ্যোগকে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মনিরা হক জানান, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও জনসাধারণকে জনসচেতনতা ও পরামর্শমূলক প্রচারণা করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটির পরে কেউ প্রতিষ্ঠান আঙ্গিনায় অবস্থান না করে সে জন্য জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রচারণা চালানোর জন্য তথ্য অফিসারকে বলা হয়েছে। সে হিসেবে তথ্য অফিস শহরের বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করার কথা। তারা না-বুঝে ভিন্নভাবে মাইকিং করেছে। যেটি কারফিউর মতো হয়ে গেছে। যেটা সঠিক নয়। সেটি কারেকশন করে আজ শনিবার পুনরায় মাইকিং ও প্রচারণা করতে বলা হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ ব্যাপারটি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরো জানান, এটি কোনো দমনমূলক সিদ্ধান্ত নয়। শিক্ষার্থী বাইরে বের হলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, বিষয়টি এমনও নয়। মূল লক্ষ্য হলো, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কমানো, অভিভাবকদের সচেতন করা এবং শিক্ষার্থীদের মাগরিবের পর অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরা করতে নিরুৎসাহিত করা। জেলা প্রশাসনের তদারকি দল মাঠে কাজ করবে। পাশাপাশি পুলিশও বিষয়টি নজরদারি করবে বলে তিনি জানান।

এখনো বেঁচে আছি শরীরে ২২টি সিসা নিয়ে

আঞ্চলিক (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
এখনো বেঁচে আছি শরীরে ২২টি সিসা নিয়ে
সংগৃহীত ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মম হামলার দৃশ্য দেখে আর ঘরে বসে থাকতে পারিনি। অধিকার আদায়ে আন্দোলনে গিয়েছিলাম। আন্দোলনে চলাকালীন হঠাৎ বুকে গুলি লাগে। এতে আমার মুহূর্তের মধ্যেই পুরো শরীর রক্তে ভিজে যায় এবং অচেতন হয়ে  যায়। মনে হয়েছিল শহীদ হয়ে যাব, তবে এখনো ২২টি সিসা নিয়ে বেঁচে আছি। এভাবেই স্মৃতিচারণ করে কথাগুলো বলছিলেন আহত জুলাইযোদ্ধা মুশফিকুর রহমান আশিক।


আশিক পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার সাতকাছিমিয়া গ্রামের বাসিন্দা। জুলাইযোদ্ধাদের সংগঠনের স্থায়ী কমিটির সদস্য।

জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আশিক বলেন, তখন আমি এইচএসসি পরীক্ষার্থী। ১ জুলাই থেকেই আন্দোলনের খবর জানতে পারছিলাম। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ভিডিও দেখে নিজেকে আর আটকে রাখতে পারিনি। তাদের রক্তাক্ত মুখ দেখে মনে হয়েছে, ঘরে বসে থাকলে নিজের বিবেকের কাছে অপরাধী হয়ে থাকব।

তিনি জানান, ১৬ জুলাই আন্দোলনে সরাসরি যোগ দেন। এরপর রাজধানীর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। ৪ আগস্ট রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব ও পিলখানার মধ্যবর্তী এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় ছাত্রলীগের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। সেদিনের বিভীষিকাময় মুহূর্ত স্মরণ করে আশিক বলেন, হঠাৎ বুকে গুলি লাগে। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো শরীর রক্তে ভিজে যায়। আমি ধীরে ধীরে অচেতন হয়ে পড়েছিলাম। তখন মনে হয়েছিল, আর হয়তো বাঁচব না শহীদ হয়ে যাব। চিকিৎসার পর তার শরীর থেকে একটি গুলি বের করা সম্ভব হলেও এখনো ২২টি সিসা কার্তুজ শরীরের ভেতরে রয়ে গেছে। এসব সিসার কারণে তিনি নিয়মিত শারীরিক যন্ত্রণা অনুভব করেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন এগুলো শরীরে থাকলে ভবিষ্যতে জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি, এমনকি ক্যান্সারের আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।

আশিক বলেন, আমরা কোনো ব্যক্তিগত লাভের জন্য আন্দোলনে করিনি। একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়েই রাজপথে নেমেছিলাম। সেই স্বপ্ন এখনো বুকে লালন করি।

তিনি আরো বলেন, আজও অনেক জুলাইযোদ্ধা গুলির ক্ষত, শারীরিক অক্ষমতা ও মানসিক ট্রমা নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। অনেকেই পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছেন না। আমি সরকারের কাছে আবেদন জানাই, আহত জুলাই যোদ্ধাদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হোক এবং তাদের জন্য টেকসই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক। পিরোজপুরের প্রত্যন্ত জনপদ থেকে উঠে আসা এই তরুণের শরীরে এখনো আন্দোলনের রক্তাক্ত স্মৃতি বহন করছে ২২টি সিসা কার্তুজ। কিন্তু তার কণ্ঠে হতাশার চেয়ে বেশি উচ্চারিত হয় একটি স্বপ্ন একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ, যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানুষকে আর জীবন দিয়ে মূল্য দিতে হবে না।