• ই-পেপার

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শোকযাত্রায় অংশগ্রহণকারীসহ নিহত ১৪

জাপানের রাজকীয় আইনে পরিবর্তন, বহাল নারী সম্রাটের ওপর নিষেধাজ্ঞা

অনলাইন ডেস্ক
জাপানের রাজকীয় আইনে পরিবর্তন, বহাল নারী সম্রাটের ওপর নিষেধাজ্ঞা
সংগৃহীত ছবি

জাপানের রাজপরিবারের সদস্য সংখ্যা দিন দিন কমে যাওয়ার উদ্বেগের মধ্যে রাজউত্তরাধিকারের নিয়ম শিথিল করে নতুন বিল অনুমোদন করেছে দেশটির সংসদ।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সংসদের উচ্চকক্ষে পাস হওয়া এই বিলটি ১৯৪৯ সালের পর জাপানের রাজতন্ত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। তবে সাধারণ মানুষের ব্যাপক জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও, নারীদের সিংহাসনে বসার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, নতুন আইনে তা পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে বর্তমান সম্রাটের একমাত্র সন্তান রাজকুমারী আইকো এখনও সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হওয়ার যোগ্য নন।

নতুন এই বিলের মাধ্যমে রাজপরিবারের সংকট কাটাতে দুইটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে রাজপরিবার ১৫ বছরের বেশি বয়সী দূর সম্পর্কের পুরুষ আত্মীয়দের দত্তক নিতে পারবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যে ১১টি রাজবংশীয় শাখাকে পরিবার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, মূলত তাদের পুরুষ বংশধরদের পরিবারে ফিরিয়ে আনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এর মাধ্যমে। পাশাপাশি, রাজপরিবারের নারী সদস্যরা সাধারণ পরিবারের কাউকে বিয়ে করলেও এখন থেকে তাদের রাজকীয় মর্যাদা বজায় রাখতে পারবেন। আগের আইন অনুযায়ী, সাধারণ মানুষকে বিয়ে করলে নারীদের রাজকীয় উপাধি ত্যাগ করে পরিবার ছেড়ে চলে যেতে হতো। ২০২১ সালে রাজকুমারী মাকো তার কলেজ জীবনের প্রেমিককে বিয়ে করার সময় ঠিক এই নিয়মের কারণেই রাজপদ হারিয়েছিলেন।

২৬০০ বছরেরও বেশি পুরোনো ঐতিহ্যের জাপানি রাজতন্ত্রে বর্তমানে সিংহাসনের যোগ্য পুরুষ উত্তরাধিকারী আছেন মাত্র তিনজন। বর্তমান সম্রাটের পর প্রথম সারিতে আছেন তার ছোট ভাই ৬০ বছর বয়সী ফুমিহিতো। দ্বিতীয় সারিতে আছেন ফুমিহিতোর ১৯ বছর বয়সী পুত্র যুবরাজ হিসাহিতো এবং সর্বশেষ প্রার্থী হলেন সম্রাটের ৯০ বছর বয়সী চাচা। নতুন আইনে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষকে বিয়ে করা রাজকীয় নারীদের সন্তানেরা সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হতে পারবে না। ফলে যুবরাজ হিসাহিতোর কোনো পুত্রসন্তান না হলে এই রাজবংশের ধারা ভবিষ্যতে শেষ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

জাপানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং অন্যান্য রক্ষণশীল রাজনৈতিক নেতারা রাজতন্ত্রের ঐতিহ্য ধরে রাখতে শুধুমাত্র পুরুষ উত্তরাধিকার নীতির পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। কিন্তু দেশটির সাধারণ মানুষের মনোভাব সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৭০ থেকে ৮৩ শতাংশ সাধারণ মানুষ একজন নারী সম্রাট থাকার পক্ষে মত দিয়েছেন। নতুন এই আইনের ফলে রাজপরিবারের সদস্য সংখ্যা বাড়ার কারণে রাজদরবারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বগুলো পালন করা সহজ হলেও, সিংহাসনের ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকার নিয়ে মূল বিতর্ক ও উদ্বেগ রয়েই গেল।

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৫০০০ ছাড়াল

অনলাইন ডেস্ক
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৫০০০ ছাড়াল
ছবি : রয়টার্স

গত জুনে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার মানুষের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে জাতিসংঘের আশঙ্কা, এখনো প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকতে পারেন, যাদের অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার আইনপ্রণেতা হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, ভূমিকম্পে নিশ্চিত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ৯৩০ জনে পৌঁছেছে। প্রায় এক মাস আগে ঘটে যাওয়া এই দুর্যোগে আরো কয়েক হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

সরকারি হিসাবে, প্রায় ১৭ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন এবং ২১ হাজার ১২০ জন বর্তমানে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করছেন। ভূমিকম্পের পর থেকেই উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন দল। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারের প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট দ্রুত ছিল না।

ভূমিকম্পে বাস্তুচ্যুত সিনথিয়া পুলিদো আল জাজিরাকে বলেন, ‘ভূমিকম্পের পরপরই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল সাধারণ মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবকরা। শুরু থেকেই তারাই উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম চালিয়েছে। সরকারের তৎপরতা এখন দেখা যাচ্ছে। আমরা এখনো কোনো কার্যকর সমাধানের অপেক্ষায় আছি।’

ভূমিকম্পের পরপরই সহায়তার আসা আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো তাদের কাজ শেষ করে ইতিমধ্যে ফিরে গেছে। এখন উদ্ধার তৎপরতার পরিবর্তে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভূমিকম্পে বাস্তুচ্যুত লুইসমারেজ পায়েজ আলজাজিরাকে বলেন, ‘আমি যা সামান্য পাচ্ছি, তা দিয়ে শুধু নিজের বেঁচে থাকা, সন্তানদের দেখাশোনা এবং মাকে সাহায্য করার চেষ্টা করছি।’

তিনি জানান, তার মা সরকারের কাছ থেকে কোনো সহায়তা পাচ্ছেন না। তিনি নিজে যা দিতে পারেন, সেটাই তার একমাত্র ভরসা।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দুর্যোগ মোকাবেলায় ভেনেজুয়েলা অতিরিক্ত চাপে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইকোনমিক অ্যান্ড পলিসি রিসার্চের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ মার্ক ওয়েইসব্রট বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও অর্থনৈতিক সম্পদ রয়েছে, যেগুলোতে দেশটির প্রবেশাধিকার নেই। ফলে সংকট মোকাবেলা আরো কঠিন হয়ে পড়েছে।’

তিনি মনে করেন, এসব সীমাবদ্ধতার কারণে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে হিমশিম খাচ্ছে। মার্ক ওয়েইসব্রটের মতে, ভেনেজুয়েলার প্রায় ১১০০ কোটি ডলার সমমূল্যের সম্পদ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবরুদ্ধ রয়েছে, যা দেশটির আইনগতভাবে পাওয়ার কথা।

এদিকে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ১৪ জন আইনপ্রণেতা হোয়াইট হাউসের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার আহ্বান জানিয়েছেন। স্প্যানিশ সংবাদপত্র এল পাইসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চিঠিতে তারা বলেন, বর্তমান নিষেধাজ্ঞাগুলো জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমকে গুরুতরভাবে বাধাগ্রস্ত করছে এবং ভেনেজুয়েলার দুর্যোগ মোকাবেলা ও পুনর্গঠন প্রচেষ্টাকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করে দিয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে ভেনেজুয়েলার প্রায় ৩৭০০ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে।


 

মহাকাশে ‘ট্যাক্সি সেবা’ দিতে প্রস্তুত ভারতের প্রথম বেসরকারি রকেট

অনলাইন ডেস্ক
মহাকাশে ‘ট্যাক্সি সেবা’ দিতে প্রস্তুত ভারতের প্রথম বেসরকারি রকেট
ছবি : রয়টার্স

ট্যাক্সি বা উবার ডাকার মতোই সহজে এবার মহাকাশে পাঠানো যাবে স্যাটেলাইট। এই লক্ষ্য নিয়ে শনিবার (১৭ জুলাই) ভারতের শ্রীহরিকোটা থেকে নিজেদের প্রথম রকেট ‘বিক্রম-১’ উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছে দেশটির প্রথম স্পেস-টেক ইউনিকর্ন ‘স্কাইরুট এরোস্পেস’। এই ঐতিহাসিক মিশনটি সফল হলে, আমেরিকা ও চীনের পর ভারত হবে বিশ্বের তৃতীয় দেশ, যেখানে কোনো বেসরকারি সংস্থা কক্ষপথে রকেট পাঠাতে সক্ষম হলো।

সাধারণত বড় বড় রকেটে স্যাটেলাইট পাঠাতে হলে কম্পানিগুলোকে মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। ‘স্কাইরুট’ এই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে চায়। তাদের ৭ তলা বিশিষ্ট ছোট রকেট ‘বিক্রম-১’ গ্রাহকদের প্রয়োজন ও সময় অনুযায়ী যেকোনো নির্দিষ্ট কক্ষপথে স্যাটেলাইট পৌঁছে দেবে। ট্রেনের জন্য অপেক্ষা না করে যেমন মানুষ উবার বা ট্যাক্সি বুক করে, এটিও ঠিক তেমনই এক ‘ক্যাব পরিষেবা’। ৩৫০ কেজি পর্যন্ত ওজন বহনে সক্ষম এই রকেটটি মাত্র ১৬ মিনিটের ফ্লাইটে ২৮০ মাইল দূরের নিম্ন ভূ-কক্ষপথে পৌঁছাবে।

‘আগমন’ নামের এই পরীক্ষামূলক অভিযানে মোট ছয়টি বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি বা পেলোড মহাকাশে পাঠানো হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মহাকাশের আবর্জনা সরানোর রোবোটিক আর্ম, জার্মানির তৈরি একটি স্যাটেলাইট ও পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী ক্যামেরা। তবে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে দুইটি বিশেষ প্রতীকী জিনিস। একটি হলো ল্যাবরেটরিতে তৈরি হীরা দিয়ে বানানো পদ্মফুল এবং অন্যটি একটি ছোট্ট সোনার রকেট। এই সোনার রকেটের ভেতর ধানের দানার চেয়েও ছোট আকারে খোদাই করা হয়েছে ভারতের তিন মহান বিজ্ঞানী—বিক্রম সারাভাই, সি ভি রমন ও এপিজে আবদুল কালামের ভাস্কর্য।

২০১৮ সালে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো)-র দুই সাবেক বিজ্ঞানী পবন কুমার চন্দনা ও নাগা ভারত ডাকা চাকরি ছেড়ে এই স্টার্টআপটি শুরু করেন। ২০২০ সালে ভারত সরকার বেসরকারি খাতের জন্য মহাকাশ উন্মুক্ত করার পর স্কাইরুট দ্রুত উন্নতি করে এবং বর্তমানে কম্পানিটির বাজার মূল্য ১.১ বিলিয়ন ডলার। ২০২২ সালে ভারতের প্রথম বেসরকারি সাব-অরবিটাল রকেট উৎক্ষেপণ করে তারা ইতিহাস গড়েছিল। হায়দ্রাবাদে অবস্থিত তাদের কারখানায় প্রতি মাসে একটি করে রকেট তৈরির সক্ষমতা রয়েছে। স্কাইরুটের সিইও পবন কুমার চন্দনা জানান, আজকের এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের পর আগামী বছর থেকেই তারা বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করবেন। যদিও তারা ইসরোর মহাকাশ অভিযানেও যুক্ত হতে পারে, তবে তাদের মূল লক্ষ্য বিশ্ববাজার।

যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষি, মৎস্য চাষ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জাতীয় নিরাপত্তার মতো দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত বৈশ্বিক স্যাটেলাইটগুলোর ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বাজার ধরাই তাদের মূল লক্ষ্য। ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মহাকাশ বাজারে ভারতের অংশ ২% থেকে বাড়িয়ে ১০% করার যে স্বপ্ন সরকার দেখছে, স্কাইরুটের এই মিশন তাতে বড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

চীনের ভূমিধসে নিহত অন্তত ৮, নিখোঁজ ৩৪

অনলাইন ডেস্ক
চীনের ভূমিধসে নিহত অন্তত ৮, নিখোঁজ ৩৪
ছবি : রয়টার্স

দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের চংকিং শহরের উপকণ্ঠে শুক্রবার ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত আটজন নিহত এবং ৩৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন। ভূমিধসে একাধিক বাড়িঘর চাপা পড়েছে এবং এক হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৮ মিনিটে চংকিং পৌরসভার পেংশুই কাউন্টিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পাহাড় থেকে বিপুল পরিমাণ মাটি ও পাথর ধসে নিচে নেমে এসে ১০টিরও বেশি আবাসিক ভবন চাপা দেয়। পেংশুই কাউন্টির মেয়র রেন শুজিয়াং জানান, উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দুর্ঘটনার কারণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং উদ্ধারকাজ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। স্থানীয় পরিকল্পনা ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের প্রধান ওয়াং চুয়ানজুন জানান, ভূমিধসে প্রায় ১৮ হাজার ঘনমিটার পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পাথরটির আয়তন ছিল প্রায় ৩ হাজার ঘনমিটার।

তিনি আরো সতর্ক করে বলেন, ভারি বৃষ্টিপাত বা দীর্ঘ সময়ের গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে এলাকায় নতুন করে ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরিদর্শনে পাহাড়ের চূড়া ও ঢালের বিভিন্ন স্থানে এখনও অস্থিতিশীল পাথরের স্তূপ দেখা গেছে।

ভূমিধসের পর আরো দুর্ঘটনা এড়াতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণকাজে ৮০০ জনের বেশি কর্মী অংশ নিচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পর্যবেক্ষণ ও পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাহাড় থেকে ছোট ছোট পাথর গড়িয়ে পড়া এবং অস্বাভাবিক শব্দ শোনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা দ্রুত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন।

স্থানীয় সংবাদপত্র চংকিং ডেইলি জানায়, সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলাকালীনই বড় ধরনের ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পাশের আবাসিক এলাকার ওপর পড়ছে।

ধসের স্থানটির আশপাশে বেশ কয়েকটি ভবন ছিল এবং উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। তবে অস্থিতিশীল ভূখণ্ড এবং নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কার কারণে উদ্ধার অভিযান বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে সিসিটিভি জানিয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, কমলা রঙের পোশাক পরা উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরাতে খননযন্ত্র ব্যবহার করছেন। এক পর্যায়ে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একজন ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। ভূমিধসের ফলে পাহাড় থেকে বিশাল পাথরের খণ্ড নিচের একটি জলপথে গিয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলের পাশে থাকা প্রায় পাঁচ ও পনেরো তলা উচ্চতার দুটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ধসে পড়েনি।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনাস্থলটি উজিয়াং নদীর একটি অংশের কাছে, যা ছোট ছোট শহর ও ধাপযুক্ত কৃষিজমির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় চীনা কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ১৩ হাজারের বেশি ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তাঁবু, ভাঁজ করা বিছানা এবং জরুরি পারিবারিক সহায়তা কিট। পেংশুই কাউন্টি চংকিংয়ের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। এটি হুবেই ও গুইঝৌ প্রদেশের সীমান্তঘেঁষা একটি এলাকা।