• ই-পেপার

হাসপাতালে কেমন আছেন সোনম ওয়াংচুক

২ সপ্তাহে ১৪ বার চুরি, এশীয় এক কালো ভালুকের খোঁজে জাপানের পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক
২ সপ্তাহে ১৪ বার চুরি, এশীয় এক কালো ভালুকের খোঁজে জাপানের পুলিশ
ছবি : রয়টার্স

জাপানের পুলিশ এশীয় এক কালো ভালুকের খোঁজ করছে। দেশটির একটি শহরে এক বৃদ্ধ দম্পতির বাড়িতে ঢুকে ফ্রিজের খাবার খেয়ে ফেলেছে সেই ভালুক। কর্তৃপক্ষের ধারণা, গত দুই সপ্তাহে শহরের ১৪টি চুরির ঘটনাগুলোর পেছনে এই একই ভালুক থাকতে পারে।

সোমবার সন্ধ্যায় ৮৭ বছর বয়সী মিৎসুও মাতসুবারা রান্নাঘর থেকে শব্দ শুনে দেখতে গেলে সেখানে একটি বড় এশীয় কালো ভালুক দেখতে পান। ভালুকটি তার বাড়িতে ঢুকে ফ্রিজ খুলে ফেলেছিল এবং খাবারদাবার মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। পরে তার স্ত্রী পুলিশকে খবর দেন। উত্তর-পূর্ব জাপানের শিজুকুইশি শহরে এ পর্যন্ত পাঁচটি বাড়িতে ভালুকের অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, একই ভালুক বারবার এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। 

ভালুকটিকে ধরতে কর্তৃপক্ষ ফাঁদ বসিয়েছে, বারবার লক্ষ্যবস্তু হওয়া বাড়িগুলোর চারপাশে বৈদ্যুতিক বেড়া দেওয়া হয়েছে এবং এলাকাবাসীকে সতর্ক করতে টহল জোরদার করেছে। এসব ঘটনার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। 

গত শুক্রবার আরেক বাসিন্দা বাজার থেকে বাড়ি ফিরে দেখেন, তার বৃদ্ধ বাবা যে ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন তার কাছেই একটি ভালুক বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়েছে। তিনি পাশের একটি দরজায় জোরে ধাক্কা দিলে ভালুককটি বাইরে বেরিয়ে যায়। তবে কিছুক্ষণ আবার ঘরে ঢোকার চেষ্টা করে। তখন ভালুকটি পেছনের দুই পায়ে দাঁড়িয়ে দরজা দিয়ে ঢুকতে চাইলে ওই ব্যক্তি প্রায় ৩০ সেকেন্ড ধরে স্লাইডিং দরজাটি বন্ধ করে রাখার জন্য লড়াই করেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী, ভাল্লুকটির উচ্চতা ছিল প্রায় ১.৬৫ মিটার (৫ ফুট ৫ ইঞ্চি)।

পরের সন্ধ্যায় এক নারী তার রান্নাঘরে একটি ভালুককে খাবার খুঁজতে দেখেন। এরপর একটি জাপানি মিষ্টির দোকানে ঢুকে ফ্রিজ থেকে ডোনাট নিয়ে যায়। মিষ্টি খাবারের প্রতি ভালুকটির বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। কারণ, একটি বাড়িতে পাঁচবার ঢুকে কুকিজ, চিনি এবং কারিন্তো নামের জাপানি মিষ্টি খেয়েছে ভালুকটি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানে ভাল্লুকের হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাপানে সাম্প্রতিক সময়ে ভালুকের আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এ ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

দেশটির পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে ভালুকের হামলায় রেকর্ড ১৩ জন নিহত হয়েছিলেন। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে, অর্থাৎ ১ এপ্রিলের পর থেকে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত সবাই উত্তর-পূর্ব জাপানের তোহোকু অঞ্চলের বাসিন্দা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামাঞ্চলে জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় ভালুকগুলো মানুষের বসতিতে ঢুকতে আগের তুলনায় কম ভয় পাচ্ছে। অনেক ভালুক মানুষের প্রতি তাদের স্বাভাবিক ভয়ও হারিয়ে ফেলেছে, ফলে শহর ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় তাদের উপস্থিতি বাড়ছে।
 

এফবিআইয়ের জালে ভারতীয় গ্যাংস্টার কৌশল

অনলাইন ডেস্ক
এফবিআইয়ের জালে ভারতীয় গ্যাংস্টার কৌশল

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) ভারতীয় বংশোদ্ভূত আন্তর্জাতিক গ্যাংস্টার নীতিশ কৌশলকে গ্রেপ্তার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে জমা পড়া নথি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) কানাডা সীমান্তের ভার্মন্ট এলাকা থেকে এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় থাকা কৌশলকে গ্রেপ্তার করা হয়। বেশ কয়েকদিন ধরে নীতিশ নানা কৌশলে এফবিআইয়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল।

লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংসহ ভারতের বেশ কয়েকটি অপরাধী চক্র যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের নানা দেশে খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক, অর্থ, অস্ত্র, মানবপাচারসহ নানান অপকর্ম করে বেড়াচ্ছিল। আন্তর্জাতিক চক্রটিকে নিশ্চিহ্ন করতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশ ‍মিলে ‘অপারেশন হার্ড বল’ নামে বিরল যৌথ অভিযান শুরু করে। দীর্ঘদিন গোপনে এসব গ্যাংয়ের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গত ৭ জুলাই মার্কিন বিচার বিভাগ লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালত থেকে তিনটি বিশাল চার্জশিট প্রকাশ করে, যেখানে মোট ৩৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগনামা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে একযোগে ৫০টিরও বেশি স্থানে এক বিশাল ক্র্যাকডাউন চালানো হয়। অভিযানে ভারত-ভিত্তিক গ্যাংগুলোর ২৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়. জব্দ করা বিপুল নগদ অর্থ, অস্ত্র ও মাদক।

অভিযুক্ত ৩৭ জনের অন্যতম বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার হওয়া নীতিশ কৌশল। তিনি 'জগ্গু ভগবানপুরিয়া অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপ'-এর সদস্য। কৌশল সমাজের জন্য বিপজ্জনক এবং যে কোনো সময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারে, এ যুক্তিতে ফেডারেল প্রসিকিউটররা তাকে বিচার শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত কারাগারে আটকে রাখার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

আটকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, লস অ্যাঞ্জেলেস আদালতের অভিযোগনামাটি প্রকাশ্যে আসার পর কৌশল তার মোবাইল ফোনটি ফেলে দিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়, যা তদন্তকারীরা আদালতের অনুমতি নিয়ে ট্র্যাক করছিলেন। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে শুধু মোবাইল ফেলে দেয়াই নয়, কৌশল অন্য একজনের ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করছিলেন। নাম পাল্টে নিজেকে তিনি ’লালা’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিলেন।

প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ১৬ জুলাই কানাডা সীমান্ত থেকে মাত্র কয়েক ফুট দূরে একটি গাড়ি ফেলে যাওয়ার পর, সীমান্ত থেকে এক মাইলেরও কম দূরত্বের মধ্যে কৌশলকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, ভার্মন্টের এক বাসিন্দা তার বাড়ির সিকিউরিটি ক্যামেরায় এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে একটি গাড়ির ভেতর উঁকি দিতে এবং একটি খামারে প্রবেশ করতে দেখেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, পরবর্তীতে মার্কিন সীমান্ত টহল এজেন্টরা যখন কৌশলের মুখোমুখি হয়, তখন সে অন্য এক ব্যক্তির নাম সংবলিত নিউ জার্সির একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখায়। কিন্তু আঙুলের ছাপ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার আসল পরিচয় নিশ্চিত করা হয় এবং কৌশল নিজেও স্বীকার করে যে লাইসেন্সটি তার নয়। এর পাশাপাশি প্রসিকিউটররা কিছু ছবিও জমা দিয়েছেন, যেখানে তদন্ত চলাকালীন নথিবদ্ধ করা একটি বিশেষ সিংহ ট্যাটুর সঙ্গে তার গ্রেফতারের পর দৃশ্যমান ট্যাটুর মিল ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

ভারতের পাঞ্জাবে জগ্গু ভগবানপুরিয়ার নেতৃত্বে 'জগ্গু ভগবানপুরিয়া অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপ'এর জন্ম। জগ্গু একসময় কারাবন্দি গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সহযোগী ছিলেন, পরে তিনি নিজে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী অপরাধ চক্র গড়ে তোলেন। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, এ সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তাদের অপরাধের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করে। বিশ্বজুড়ে এর সদস্য ও সহযোগীর সংখ্যা হাজারেরও বেশি, যার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই সক্রিয় আছেন অন্তত একশ জন। কৌশলের বিরুদ্ধে নির্দিষ্টভাবে এই সংগঠনের পক্ষে সহিংস কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

কৌশলের বিরুদ্ধে আনা প্রধান অভিযোগগুলোর একটি ২০২৪ সালের ১০ জুলাইয়ের একটি ঘটনা। অভিযোগনামা অনুযায়ী, সংগঠনের সদস্যরা বিশ্বাস করত যে এক ব্যক্তি তাদের গ্যাংয়ের একটি মাদকের চালান চুরি করেছে। চক্রের এক সহযোগী ওই ভুক্তভোগীকে ক্যালিফোর্নিয়ার ম্যানটেকার একটি বাড়িতে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে আসে, যেখানে নীতিশ কৌশল, অমৃতপাল সিং বাল, হর্ষপ্রীত সিং এবং অমরবীর সিং তাকে আটকে রাখে। অভিযোগনামায় আরও বলা হয়েছে যে, কৌশল এবং হর্ষপ্রীত সিং ভুক্তভোগীকে মারধর করে। এরপর কৌশল, বাল এবং অমরবীর সিং তাকে ফ্রেস্নোর একটি অ্যাপার্টমেন্টে নিয়ে যায়। প্রসিকিউটররা জানান, চুরি হওয়া মাদকের চালানের ক্ষতিপূরণ হিসেবে গ্যাং সদস্যরা তার কাছে ৫০ হাজার ডলার দাবি করে এবং টাকা না দেওয়া পর্যন্ত তাকে আটকে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, পরে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে জগ্গু ভগবানপুরিয়া নিজে ওই ভুক্তভোগীকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

আদালতের নথিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই সংগঠনটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে বড় আকারে কোকেন এবং মেথামফেটামিন পাচারের রুট পরিচালনা করত। তারা দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া থেকে পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মার্কিন-কানাডা সীমান্তে একশ কেজি বা তার বেশি ওজনের মাদকের চালান পাঠাত।

নতুন জমা দেওয়া এই আটকের আবেদনে কৌশলের অতীত জীবন সম্পর্কে বলা হয়, ২০২২ সালে অ্যারিজোনার ইউমা হয়ে অবৈধভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিল কৌশল। ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, ষড়যন্ত্র এবং অস্ত্র আইনের অপরাধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সে একটি অস্ত্র মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয় এবং তাকে ৬০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। নথিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, ২০২৬ সালে তার বিরুদ্ধে মাদকের একটি মামলাও ছিল।

এফবিআইয়ের জালে ভারতীয় গ্যাংস্টার কৌশল

অনলাইন ডেস্ক
এফবিআইয়ের জালে ভারতীয় গ্যাংস্টার কৌশল

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) ভারতীয় বংশোদ্ভূত আন্তর্জাতিক গ্যাংস্টার নীতিশ কৌশলকে গ্রেপ্তার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে জমা পড়া নথি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) কানাডা সীমান্তের ভার্মন্ট এলাকা থেকে এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় থাকা কৌশলকে গ্রেপ্তার করা হয়। বেশ কয়েকদিন ধরে নীতিশ নানা কৌশলে এফবিআইয়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল।

লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংসহ ভারতের বেশ কয়েকটি অপরাধী চক্র যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের নানা দেশে খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক, অর্থ, অস্ত্র, মানবপাচারসহ নানান অপকর্ম করে বেড়াচ্ছিল। আন্তর্জাতিক চক্রটিকে নিশ্চিহ্ন করতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশ ‍মিলে ‘অপারেশন হার্ড বল’ নামে বিরল যৌথ অভিযান শুরু করে। দীর্ঘদিন গোপনে এসব গ্যাংয়ের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গত ৭ জুলাই মার্কিন বিচার বিভাগ লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালত থেকে তিনটি বিশাল চার্জশিট প্রকাশ করে, যেখানে মোট ৩৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগনামা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে একযোগে ৫০টিরও বেশি স্থানে এক বিশাল ক্র্যাকডাউন চালানো হয়। অভিযানে ভারত-ভিত্তিক গ্যাংগুলোর ২৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়. জব্দ করা বিপুল নগদ অর্থ, অস্ত্র ও মাদক।

অভিযুক্ত ৩৭ জনের অন্যতম বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার হওয়া নীতিশ কৌশল। তিনি 'জগ্গু ভগবানপুরিয়া অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপ'-এর সদস্য। কৌশল সমাজের জন্য বিপজ্জনক এবং যে কোনো সময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারে, এ যুক্তিতে ফেডারেল প্রসিকিউটররা তাকে বিচার শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত কারাগারে আটকে রাখার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

আটকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, লস অ্যাঞ্জেলেস আদালতের অভিযোগনামাটি প্রকাশ্যে আসার পর কৌশল তার মোবাইল ফোনটি ফেলে দিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়, যা তদন্তকারীরা আদালতের অনুমতি নিয়ে ট্র্যাক করছিলেন। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে শুধু মোবাইল ফেলে দেয়াই নয়, কৌশল অন্য একজনের ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করছিলেন। নাম পাল্টে নিজেকে তিনি ’লালা’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিলেন।

প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ১৬ জুলাই কানাডা সীমান্ত থেকে মাত্র কয়েক ফুট দূরে একটি গাড়ি ফেলে যাওয়ার পর, সীমান্ত থেকে এক মাইলেরও কম দূরত্বের মধ্যে কৌশলকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, ভার্মন্টের এক বাসিন্দা তার বাড়ির সিকিউরিটি ক্যামেরায় এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে একটি গাড়ির ভেতর উঁকি দিতে এবং একটি খামারে প্রবেশ করতে দেখেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, পরবর্তীতে মার্কিন সীমান্ত টহল এজেন্টরা যখন কৌশলের মুখোমুখি হয়, তখন সে অন্য এক ব্যক্তির নাম সংবলিত নিউ জার্সির একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখায়। কিন্তু আঙুলের ছাপ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার আসল পরিচয় নিশ্চিত করা হয় এবং কৌশল নিজেও স্বীকার করে যে লাইসেন্সটি তার নয়। এর পাশাপাশি প্রসিকিউটররা কিছু ছবিও জমা দিয়েছেন, যেখানে তদন্ত চলাকালীন নথিবদ্ধ করা একটি বিশেষ সিংহ ট্যাটুর সঙ্গে তার গ্রেফতারের পর দৃশ্যমান ট্যাটুর মিল ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

ভারতের পাঞ্জাবে জগ্গু ভগবানপুরিয়ার নেতৃত্বে 'জগ্গু ভগবানপুরিয়া অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপ'এর জন্ম। জগ্গু একসময় কারাবন্দি গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সহযোগী ছিলেন, পরে তিনি নিজে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী অপরাধ চক্র গড়ে তোলেন। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, এ সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তাদের অপরাধের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করে। বিশ্বজুড়ে এর সদস্য ও সহযোগীর সংখ্যা হাজারেরও বেশি, যার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই সক্রিয় আছেন অন্তত একশ জন। কৌশলের বিরুদ্ধে নির্দিষ্টভাবে এই সংগঠনের পক্ষে সহিংস কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

কৌশলের বিরুদ্ধে আনা প্রধান অভিযোগগুলোর একটি ২০২৪ সালের ১০ জুলাইয়ের একটি ঘটনা। অভিযোগনামা অনুযায়ী, সংগঠনের সদস্যরা বিশ্বাস করত যে এক ব্যক্তি তাদের গ্যাংয়ের একটি মাদকের চালান চুরি করেছে। চক্রের এক সহযোগী ওই ভুক্তভোগীকে ক্যালিফোর্নিয়ার ম্যানটেকার একটি বাড়িতে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে আসে, যেখানে নীতিশ কৌশল, অমৃতপাল সিং বাল, হর্ষপ্রীত সিং এবং অমরবীর সিং তাকে আটকে রাখে। অভিযোগনামায় আরও বলা হয়েছে যে, কৌশল এবং হর্ষপ্রীত সিং ভুক্তভোগীকে মারধর করে। এরপর কৌশল, বাল এবং অমরবীর সিং তাকে ফ্রেস্নোর একটি অ্যাপার্টমেন্টে নিয়ে যায়। প্রসিকিউটররা জানান, চুরি হওয়া মাদকের চালানের ক্ষতিপূরণ হিসেবে গ্যাং সদস্যরা তার কাছে ৫০ হাজার ডলার দাবি করে এবং টাকা না দেওয়া পর্যন্ত তাকে আটকে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, পরে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে জগ্গু ভগবানপুরিয়া নিজে ওই ভুক্তভোগীকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

আদালতের নথিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই সংগঠনটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে বড় আকারে কোকেন এবং মেথামফেটামিন পাচারের রুট পরিচালনা করত। তারা দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া থেকে পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মার্কিন-কানাডা সীমান্তে একশ কেজি বা তার বেশি ওজনের মাদকের চালান পাঠাত।

নতুন জমা দেওয়া এই আটকের আবেদনে কৌশলের অতীত জীবন সম্পর্কে বলা হয়, ২০২২ সালে অ্যারিজোনার ইউমা হয়ে অবৈধভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিল কৌশল। ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, ষড়যন্ত্র এবং অস্ত্র আইনের অপরাধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সে একটি অস্ত্র মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয় এবং তাকে ৬০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। নথিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, ২০২৬ সালে তার বিরুদ্ধে মাদকের একটি মামলাও ছিল।

জাপান

নতুন আইনেও উঠল না নারীদের সিংহাসনে বসার নিষেধাজ্ঞা

নতুন আইনেও উঠল না নারীদের সিংহাসনে বসার নিষেধাজ্ঞা

অনলাইন ডেস্ক
নতুন আইনেও উঠল না নারীদের সিংহাসনে বসার নিষেধাজ্ঞা
সংগৃহীত ছবি

জাপানের রাজপরিবারের সদস্য সংখ্যা দিন দিন কমে যাওয়ার উদ্বেগের মধ্যে রাজউত্তরাধিকারের নিয়ম শিথিল করে নতুন বিল অনুমোদন করেছে দেশটির সংসদ।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সংসদের উচ্চকক্ষে পাস হওয়া এই বিলটি ১৯৪৯ সালের পর জাপানের রাজতন্ত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। তবে সাধারণ মানুষের ব্যাপক জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও, নারীদের সিংহাসনে বসার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, নতুন আইনে তা পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে বর্তমান সম্রাটের একমাত্র সন্তান রাজকুমারী আইকো এখনও সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হওয়ার যোগ্য নন।

নতুন এই বিলের মাধ্যমে রাজপরিবারের সংকট কাটাতে দুইটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে রাজপরিবার ১৫ বছরের বেশি বয়সী দূর সম্পর্কের পুরুষ আত্মীয়দের দত্তক নিতে পারবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যে ১১টি রাজবংশীয় শাখাকে পরিবার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, মূলত তাদের পুরুষ বংশধরদের পরিবারে ফিরিয়ে আনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এর মাধ্যমে। পাশাপাশি, রাজপরিবারের নারী সদস্যরা সাধারণ পরিবারের কাউকে বিয়ে করলেও এখন থেকে তাদের রাজকীয় মর্যাদা বজায় রাখতে পারবেন। আগের আইন অনুযায়ী, সাধারণ মানুষকে বিয়ে করলে নারীদের রাজকীয় উপাধি ত্যাগ করে পরিবার ছেড়ে চলে যেতে হতো। ২০২১ সালে রাজকুমারী মাকো তার কলেজ জীবনের প্রেমিককে বিয়ে করার সময় ঠিক এই নিয়মের কারণেই রাজপদ হারিয়েছিলেন।

২৬০০ বছরেরও বেশি পুরোনো ঐতিহ্যের জাপানি রাজতন্ত্রে বর্তমানে সিংহাসনের যোগ্য পুরুষ উত্তরাধিকারী আছেন মাত্র তিনজন। বর্তমান সম্রাটের পর প্রথম সারিতে আছেন তার ছোট ভাই ৬০ বছর বয়সী ফুমিহিতো। দ্বিতীয় সারিতে আছেন ফুমিহিতোর ১৯ বছর বয়সী পুত্র যুবরাজ হিসাহিতো এবং সর্বশেষ প্রার্থী হলেন সম্রাটের ৯০ বছর বয়সী চাচা। নতুন আইনে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষকে বিয়ে করা রাজকীয় নারীদের সন্তানেরা সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হতে পারবে না। ফলে যুবরাজ হিসাহিতোর কোনো পুত্রসন্তান না হলে এই রাজবংশের ধারা ভবিষ্যতে শেষ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

জাপানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং অন্যান্য রক্ষণশীল রাজনৈতিক নেতারা রাজতন্ত্রের ঐতিহ্য ধরে রাখতে শুধুমাত্র পুরুষ উত্তরাধিকার নীতির পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। কিন্তু দেশটির সাধারণ মানুষের মনোভাব সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৭০ থেকে ৮৩ শতাংশ সাধারণ মানুষ একজন নারী সম্রাট থাকার পক্ষে মত দিয়েছেন। নতুন এই আইনের ফলে রাজপরিবারের সদস্য সংখ্যা বাড়ার কারণে রাজদরবারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বগুলো পালন করা সহজ হলেও, সিংহাসনের ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকার নিয়ে মূল বিতর্ক ও উদ্বেগ রয়েই গেল।