• ই-পেপার

হকি ফেডারেশনের নতুন সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক সাদেক

বিশ্বকাপ জিতলেই অবসরে যাব— ২৭ বছরের তারকার চমকে দেওয়া ঘোষণা

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ জিতলেই অবসরে যাব— ২৭ বছরের তারকার চমকে দেওয়া ঘোষণা
ছবি : রয়টার্স

মাঠের দাপুটে ফুটবলে প্রতিপক্ষকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে স্পেন। আগামী রবিবার মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের এই লড়াইয়ে তাদের মুখোমুখি লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। মেগা ফাইনাল ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রে মেসি ও লামিনে ইয়ামালের দ্বৈরথ থাকলেও, স্পেনের এই স্বপ্নযাত্রার নেপথ্যের অন্যতম কারিগর ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেইয়া।

পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে স্প্যানিশ রক্ষণে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছেন কুকুরেইয়া। তবে ফাইনালে মাঠে নামার আগে মাঠের বাইরের এক মন্তব্যে দলটির ফুটবলার ও সমর্থকদের রীতিমতো চমকে দিয়েছেন চেলসির এই লেফট-ব্যাক। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থাতেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাবেন তিনি!

এর আগে রসিকতা করে কুকুরেইয়া বলেছিলেন, স্পেন বিশ্বকাপ জিতলে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের মুখের ট্যাটু করাবেন শরীরে। তবে এবার আরও বড় এবং চমকপ্রদ ঘোষণা দিলেন তিনি। 

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মভিস্টারপ্লাস’-এ প্রকাশিত এক ভিডিওতে কুকুরেইয়া বলেন, ‘স্পেন যদি বিশ্বকাপ জেতে, তবে তার পরদিনই লুইস দে লা ফুয়েন্তেকে ফোন করে জাতীয় দল থেকে অবসরের কথা জানিয়ে দেব। ইউরো আর বিশ্বকাপ দুটোই যখন জেতা হয়ে যাবে, তখন আর চাওয়ার কী-ই বা বাকি থাকে!’

মাত্র ২৭ বছর বয়সে এমন ঘোষণা স্বাভাবিকভাবেই বিষ্ময়ের জন্ম দিয়েছে ফুটবল মহলে। কারণ, একজন ডিফেন্ডারের জন্য এই বয়সটাকেই ধরা হয় ক্যারিয়ারের সেরা সময়। তাছাড়া জার্মানির মাটিতে ইউরো ২০২৪ জয়ের পর থেকেই স্পেনের রক্ষণের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছেন তিনি।

চলমান বিশ্বকাপেও নিজের সেই অতিমানবীয় ফর্ম ধরে রেখেছেন কুকুরেইয়া। স্পেনের ফাইনালের টিকিট কাটার পথে সাতটি ম্যাচের প্রতিটিতেই শুরুর একাদশে ছিলেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে তাকে এক মিনিটের জন্যও মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি কোচ। আর এই নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডারের উপস্থিতিতে টুর্নামেন্টের সাত ম্যাচে স্পেনের জমাট রক্ষণ ভেঙে প্রতিপক্ষরা গোল করতে পেরেছে মাত্র একটি। 

স্পেন যদি আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়, তাহলে কুকুরেইয়া সত্যিই নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকবেন কি না, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। অথবা নেহায়েত মজা করেই এমন মন্তব্য করেছেন কিনা, সেটিও জানা যাবে ফাইনালের পর। 

ইয়ামালকে নিয়ে ফাইনালের আগে যা বললেন মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক
ইয়ামালকে নিয়ে ফাইনালের আগে যা বললেন মেসি

বার্সেলোনার একটি দাতব্য ফটোশুটে ২০০৭ সালে মাত্র পাঁচ মাস বয়সী লামিন ইয়ামালকে গোসল করাতে সাহায্য করেছিলেন মহাতারকা লিওনেল মেসি। প্রায় দুই দশক পর সেই ছবিই আবার আলোচনায়। কারণ, এবার বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথমবারের মতো মাঠে প্রতিপক্ষ হতে যাচ্ছেন তারা। 

৩৯ বছর বয়সী মেসির সামনে আর্জেন্টিনার হয়ে আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ। অন্যদিকে ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল স্পেনকে শিরোপা জেতানোর স্বপ্ন দেখছেন। এই ম্যাচের আগে নিউইয়র্কে সেই ঐতিহাসিক ছবি নিয়ে কথা বলেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। 

মেসি বলেন, ‘সত্যি বলতে, ছবিটা একদম পাগলামির মতো। তখন ও শিশু ছিল, আমরা একসঙ্গে একটি ছবি তুলেছিলাম। আর আজ আমরা বিশ্বকাপের ফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি। এটাই তো জীবন।’

ইয়ামালকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘লামিন অসাধারণ প্রতিভাবান। আমি ওকে খুব কাছ থেকে অনুসরণ করি, কারণ ও এমন একটি ক্লাবে খেলে যাকে আমি ভালোবাসি। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হয়ে উঠেছে। ওর সামনে ইতিহাস গড়ার দারুণ সুযোগ রয়েছে। তবে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, যেন এবার সেটা ও করতে না পারে। আমি শুধু ওর জন্য শুভকামনা জানাতে পারি।’ 

মেসি আরো বলেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই, এই মুহূর্তে ও বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। ওর সাফল্য কামনা করি, কারণ ওর ভালো হওয়া মানেই বার্সেলোনার ভালো হওয়া। আর সত্যি বলতে, ওই ছবিটা আসলেই অবিশ্বাস্য—জীবন কত অদ্ভুত!’ 

২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ চলাকালে ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিগুলো প্রকাশ করলে তা নতুন করে আলোচনায় আসে। 

ছবিগুলোর আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ট জানান, ইউনিসেফ ও স্থানীয় সংবাদপত্র দিয়ারিও স্পোর্ট-এর যৌথ উদ্যোগে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য ছবিগুলো তোলা হয়েছিল। 

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নামার আগে রেফারিকে কড়া সতর্কবার্তা স্পেন কোচের

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নামার আগে রেফারিকে কড়া সতর্কবার্তা স্পেন কোচের
ছবি : রয়টার্স

চলতি বিশ্বকাপে মাঠের ফুটবলে আর্জেন্টিনার দাপট যেমন দেখা গেছে, তেমনি রেফারিদের কাছ থেকে আলবিসেলেস্তেদের ‘বিশেষ সুবিধা’ পাওয়ার অভিযোগ ঘিরে বিতর্কও কম হয়নি। বিশেষ করে শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর মিসরের কোচ হোসাম হাসান ও ফরোয়ার্ড মোস্তাফা জিকো রেফারির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই পক্ষপাতের তির ছোঁড়েন। এমনকি বিষয়টি নিয়ে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক নালিশও জানায় মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

সেই বিতর্কের রেশ ধরেই হয়তো এবার মহাদেবলের আগে রেফারিং নিয়ে আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে রাখলেন স্পেনের মাস্টারমাইন্ড লুইস দে লা ফুয়েন্তে। আগামী রবিবার রাতে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বজয়ের ফাইনাল লড়াইয়ে নামছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচের পরিচালনার দায়িত্বে থাকছেন স্লোভেনিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ। স্প্যানিশ কোচের সাফ কথা, ম্যাচে নিয়মের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে এই রেফারিকে।

স্প্যানিশ নারি দৈনিক ‘স্পোর্ত’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘রেফারি কোনোভাবেই শিথিলতা দেখাতে পারেন না কিংবা নিয়ম ভাঙার সুযোগ দিতে পারেন না। ফুটবলের বৈধতার যে সীমারেখা আছে, তা কোনোভাবেই অতিক্রম করা উচিত নয়।’ 

তবে রেফারিদের প্রতি নিজের সম্পূর্ণ আস্থার কথাও জানাতে ভুলেননি তিনি, ‘রেফারিদের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে। একই সঙ্গে আমাদেরও পরিষ্কারভাবে জানা আছে, এমন বড় ম্যাচে কিভাবে খেলতে হয়।’

মজার ব্যাপার হলো, আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের বর্তমান ডিরেক্টর বা কোচিং কোর্সে লিওনেল স্কালোনির প্রশিক্ষক ছিলেন এই লুইস দে লা ফুয়েন্তে। সেই পুরনো সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে স্পেনের এই ইউরোজয়ী কোচ জানান, ফাইনালে আর্জেন্টিনার কৌশল যা-ই হোক না কেন, স্পেনের মূল লক্ষ্য থাকবে নিজেদের চেনা ছন্দে খেলা।

তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনা তাদের নিজস্ব ঘরানায় খেলবে। কিন্তু আমাদের মনোযোগ থাকতে হবে শুধু নিজেদের খেলায়। নিজেদের ফুটবলকে আরো শক্তিশালী করা এবং সেটিকে আরো নিখুঁত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

একই সঙ্গে স্প্যানিশ ফুটবলারদের মাঠের ভেতরের উসকানি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে গুরু ফুয়েন্তে বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের ফুটবল দর্শন ও খেলার ধরন থেকে বিচ্যুত হই, তবে আমাদের ভুগতে হবে। আমরা ফুটবলটা ফুটবলের মতোই খেলতে পছন্দ করি। নিজেদের ভাবনায় অটল থাকতে চাই, কোনো ধরনের উসকানিতে পা দিতে চাই না। অবশ্য এর মানে এই নয় যে আর্জেন্টিনা এমন কিছু করবে।’ 

‘রোনালদো সৌদি ক্লাবে খেলতে পারে, বিশ্বকাপে খেলার সামর্থ নেই’

ক্রীড়া ডেস্ক
‘রোনালদো সৌদি ক্লাবে খেলতে পারে, বিশ্বকাপে খেলার সামর্থ নেই’
ছবি : রয়টার্স

আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে যখন পুরো ফুটবল বিশ্ব বুঁদ, ঠিক তখনই এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার ও বিশ্বকাপজয়ী তারকা রোনালদো নাজারিও। পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন তিনি। ‘ফেনোমেনন’ খ্যাত এই ব্রাজিলিয়ানের মতে, সিআরসেভেনের বর্তমান যে শারীরিক অবস্থা, তা আর বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ পর্যায়ের তীব্র প্রতিযোগিতায় খেলার উপযোগী নয়।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের তাবড় তাবড় ফুটবলারদেরও যে শারীরিক সক্ষমতা ফুরিয়ে আসে, সেটি মনে করিয়ে দিয়ে রোনালদো ফেনোমেনন বলেন, বয়সের অমোঘ প্রভাব মাঠের পারফরম্যান্সে স্পষ্ট ধরা পড়ে। 

তিনি বলেন, ‘একটা সময় আপনার শরীরই আপনাকে বলে দেবে যে আর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আমার মনে হয়, ক্রিস্তিয়ানো ও নেইমার—দুজনই এখন তাদের ক্যারিয়ারের এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে শরীরের বিরুদ্ধে লড়াই করে জেতাটা ভীষণ কঠিন।’

পর্তুগিজ সম্রাটকে নিয়ে কিংবদন্তি আরো বলেন, ‘হয়তো সৌদি আরবের লিগে খেলার মতো মান এখনও ওর আছে। কিন্তু বিশ্বকাপে খেলাটা সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং অনেক বেশি কঠিন। কারণ সেখানকার প্রতিযোগিতার মান থাকে আকাশচুম্বী। ফুটবলের প্রতি আপনার যতই ভালোবাসা, আবেগ বা খেলার তীব্র ইচ্ছা থাকুক না কেন, শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটা নেয় আপনার শরীরই। আমি নিজেও তো আর খেলি না, কারণ আমার মস্তিষ্ক যেভাবে খেলার পরিকল্পনা করে, শরীর সেভাবে সাড়া দিতে পারে না।’ 

চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় পর্তুগাল। আর সেই স্বপ্নভঙ্গের ম্যাচের মধ্য দিয়েই এবারের বিশ্বমঞ্চে শেষ হয় ৪১ বছর বয়সী রোনালদোর অভিযান। তবে আসর থেকে ছিটকে গেলেও আল-নাসরের এই ফরোয়ার্ড এখনও জাতীয় দল থেকে অবসরের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি। ফলে ফুটবল মহলে জোর জল্পনা চলছে, ২০২৮ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপেও হয়তো পর্তুগালের জার্সিতে দেখা যেতে পারে এই গোলমেশিনকে।

এবারের বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে তিনটি গোল করেছেন ক্রিস্টিয়ানো। যার মধ্যে দুটি ছিল গ্রুপ পর্বে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে এবং পেনাল্টি থেকে বাকি একটি করেন শেষ ৩২-এর ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে। বুট জোড়া তুলে রাখার নির্দিষ্ট কোনো সময় এখনও ঠিক না করলেও, ক্রিস্তিয়ানোর চোখ এখন পেশাদার ক্যারিয়ারে ১ হাজার গোলের অবিশ্বাস্য মাইলফলক স্পর্শ করার দিকে।