• ই-পেপার

বায়ু দূষণের অভিযোগে কানাডার ওপর নতুন চাপ ট্রাম্পের

নির্ঘুম রাতে অনলাইনে লটারি খেলে দেড় লাখ ডলার জিতলেন এক নারী

অনলাইন ডেস্ক
নির্ঘুম রাতে অনলাইনে লটারি খেলে দেড় লাখ ডলার জিতলেন এক নারী
সংগৃহীত ছবি

নির্ঘুম এক রাতই বদলে দিল যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলাইনার এক নারীর জীবন। ঘুম না আসায় সময় কাটানোর জন্য অনলাইনে লটারি খেলতে বসেছিলেন তিনি। আর সেই খেলাতেই জিতে নিয়েছেন ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বড় পুরস্কার।

মুরসভিল শহরের বাসিন্দা সু রাউলি লটারি কর্মকর্তাদের জানান, গত ৮ জুলাই রাতে তার ঘুম আসছিল না। সময় কাটানোর জন্য তিনি নিজের স্মার্টফোন হাতে নেন। এরপর শুরু করেন ডিজিটাল ইনস্ট্যান্ট লটারির একটি গেম খেলা। কিছুক্ষণ পরই সাধারণ বিনোদনের সেই মুহূর্ত বদলে যায় বড় এক চমকে। নতুন চালু হওয়া ‘টাম্বলিং ট্রেজারস’ নামের ডিজিটাল লটারিতে ৩০ ডলারের একটি টিকিট কিনে তিনি জিতে নেন ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পুরস্কার। লটারি কর্মকর্তারা জানান, এই গেমে এত বড় পুরস্কার জেতার সম্ভাবনা ছিল খুবই কম। তাদের হিসাব অনুযায়ী, রাউলির মতো বড় পুরস্কার জেতার সুযোগ ছিল ২০ লাখে মাত্র একটি। 

রাউলি বলেন, মোবাইলের পর্দায় ফলাফল দেখে প্রথমে তিনি বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। কারণ এত বড় অঙ্কের অর্থ জেতার কথা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি। তিনি বলেন, ‘রাত অনেক হয়ে গিয়েছিল। আমি শুধু সময় কাটানোর জন্য খেলছিলাম। তখনই এই ঘটনা ঘটে।’ রাউলি আরো বলেন, ‘সেই মুহূর্তে আমি একেবারেই বিশ্বাস করতে পারিনি। কারণ এমন ঘটনা সাধারণত ঘটে না।’ গত সোমবার (১৩ জুলাই) র‍্যালি শহরের লটারি সদর দপ্তর থেকে নিজের পুরস্কারের অর্থ গ্রহণ করেন রাউলি। তবে কর কাটার পর পুরো অর্থ হাতে পাননি তিনি। ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের কর কেটে নেওয়ার পর তিনি পান ১ লাখ ৮ হাজার ২৩ ডলার। রাউলি বলেন, ‘আমরা খুবই আনন্দিত।’ তিনি জানান, লটারিতে পাওয়া অর্থের একটি অংশ দিয়ে নিজের বাড়ির কিছু সংস্কারের কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। একটি সাধারণ নির্ঘুম রাত এবং সময় কাটানোর জন্য খেলা একটি অনলাইন লটারি শেষ পর্যন্ত রাউলির জীবনে বড় আর্থিক পরিবর্তন এনে দিয়েছে।

এর আগে গত মাসে মালয়েশিয়ায় এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ব্যাংকের লাকি ড্রয়ে অংশ নিয়ে এক রাতেই কোটিপতি হয়ে যান। ৭৩ বছর বয়সী চান চাই সিয়াং আগে একটি কারখানায় কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি একটি নির্জন আশ্রমে বসবাস করছেন। তিনি ব্যাংক সিম্পানান ন্যাশনালের লাকি ড্র থেকে ১০ লাখ রিঙ্গিত পুরস্কার জেতেন। চান চাই সিয়াং বলেন, এই পুরস্কার কোনো অলৌকিক ঘটনার ফল নয়। এটি তার কর্মফলের অংশ। তার ভাষায়, এই অর্থ আগের জীবনের কাজের ফল, কোনো বিশেষ আশীর্বাদ নয়। তিনি আরো বলেন, টাকা পাওয়ার আশায় তিনি কখনো কোনো মানত করেননি বা বিশেষ কোনো প্রার্থনাও করেননি।

২ সপ্তাহে ১৪ বার চুরি, এশীয় এক কালো ভালুকের খোঁজে জাপানের পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক
২ সপ্তাহে ১৪ বার চুরি, এশীয় এক কালো ভালুকের খোঁজে জাপানের পুলিশ
ছবি : রয়টার্স

জাপানের পুলিশ এশীয় এক কালো ভালুকের খোঁজ করছে। দেশটির একটি শহরে এক বৃদ্ধ দম্পতির বাড়িতে ঢুকে ফ্রিজের খাবার খেয়ে ফেলেছে সেই ভালুক। কর্তৃপক্ষের ধারণা, গত দুই সপ্তাহে শহরের ১৪টি চুরির ঘটনাগুলোর পেছনে এই একই ভালুক থাকতে পারে।

সোমবার সন্ধ্যায় ৮৭ বছর বয়সী মিৎসুও মাতসুবারা রান্নাঘর থেকে শব্দ শুনে দেখতে গেলে সেখানে একটি বড় এশীয় কালো ভালুক দেখতে পান। ভালুকটি তার বাড়িতে ঢুকে ফ্রিজ খুলে ফেলেছিল এবং খাবারদাবার মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। পরে তার স্ত্রী পুলিশকে খবর দেন। উত্তর-পূর্ব জাপানের শিজুকুইশি শহরে এ পর্যন্ত পাঁচটি বাড়িতে ভালুকের অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, একই ভালুক বারবার এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। 

ভালুকটিকে ধরতে কর্তৃপক্ষ ফাঁদ বসিয়েছে, বারবার লক্ষ্যবস্তু হওয়া বাড়িগুলোর চারপাশে বৈদ্যুতিক বেড়া দেওয়া হয়েছে এবং এলাকাবাসীকে সতর্ক করতে টহল জোরদার করেছে। এসব ঘটনার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। 

গত শুক্রবার আরেক বাসিন্দা বাজার থেকে বাড়ি ফিরে দেখেন, তার বৃদ্ধ বাবা যে ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন তার কাছেই একটি ভালুক বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়েছে। তিনি পাশের একটি দরজায় জোরে ধাক্কা দিলে ভালুককটি বাইরে বেরিয়ে যায়। তবে কিছুক্ষণ আবার ঘরে ঢোকার চেষ্টা করে। তখন ভালুকটি পেছনের দুই পায়ে দাঁড়িয়ে দরজা দিয়ে ঢুকতে চাইলে ওই ব্যক্তি প্রায় ৩০ সেকেন্ড ধরে স্লাইডিং দরজাটি বন্ধ করে রাখার জন্য লড়াই করেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী, ভাল্লুকটির উচ্চতা ছিল প্রায় ১.৬৫ মিটার (৫ ফুট ৫ ইঞ্চি)।

পরের সন্ধ্যায় এক নারী তার রান্নাঘরে একটি ভালুককে খাবার খুঁজতে দেখেন। এরপর একটি জাপানি মিষ্টির দোকানে ঢুকে ফ্রিজ থেকে ডোনাট নিয়ে যায়। মিষ্টি খাবারের প্রতি ভালুকটির বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। কারণ, একটি বাড়িতে পাঁচবার ঢুকে কুকিজ, চিনি এবং কারিন্তো নামের জাপানি মিষ্টি খেয়েছে ভালুকটি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানে ভাল্লুকের হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাপানে সাম্প্রতিক সময়ে ভালুকের আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এ ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

দেশটির পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে ভালুকের হামলায় রেকর্ড ১৩ জন নিহত হয়েছিলেন। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে, অর্থাৎ ১ এপ্রিলের পর থেকে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত সবাই উত্তর-পূর্ব জাপানের তোহোকু অঞ্চলের বাসিন্দা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামাঞ্চলে জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় ভালুকগুলো মানুষের বসতিতে ঢুকতে আগের তুলনায় কম ভয় পাচ্ছে। অনেক ভালুক মানুষের প্রতি তাদের স্বাভাবিক ভয়ও হারিয়ে ফেলেছে, ফলে শহর ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় তাদের উপস্থিতি বাড়ছে।
 

এফবিআইয়ের জালে ভারতীয় গ্যাংস্টার কৌশল

অনলাইন ডেস্ক
এফবিআইয়ের জালে ভারতীয় গ্যাংস্টার কৌশল

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) ভারতীয় বংশোদ্ভূত আন্তর্জাতিক গ্যাংস্টার নীতিশ কৌশলকে গ্রেপ্তার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে জমা পড়া নথি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) কানাডা সীমান্তের ভার্মন্ট এলাকা থেকে এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় থাকা কৌশলকে গ্রেপ্তার করা হয়। বেশ কয়েকদিন ধরে নীতিশ নানা কৌশলে এফবিআইয়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল।

লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংসহ ভারতের বেশ কয়েকটি অপরাধী চক্র যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের নানা দেশে খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক, অর্থ, অস্ত্র, মানবপাচারসহ নানান অপকর্ম করে বেড়াচ্ছিল। আন্তর্জাতিক চক্রটিকে নিশ্চিহ্ন করতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশ ‍মিলে ‘অপারেশন হার্ড বল’ নামে বিরল যৌথ অভিযান শুরু করে। দীর্ঘদিন গোপনে এসব গ্যাংয়ের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গত ৭ জুলাই মার্কিন বিচার বিভাগ লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালত থেকে তিনটি বিশাল চার্জশিট প্রকাশ করে, যেখানে মোট ৩৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগনামা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে একযোগে ৫০টিরও বেশি স্থানে এক বিশাল ক্র্যাকডাউন চালানো হয়। অভিযানে ভারত-ভিত্তিক গ্যাংগুলোর ২৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়. জব্দ করা বিপুল নগদ অর্থ, অস্ত্র ও মাদক।

অভিযুক্ত ৩৭ জনের অন্যতম বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার হওয়া নীতিশ কৌশল। তিনি 'জগ্গু ভগবানপুরিয়া অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপ'-এর সদস্য। কৌশল সমাজের জন্য বিপজ্জনক এবং যে কোনো সময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারে, এ যুক্তিতে ফেডারেল প্রসিকিউটররা তাকে বিচার শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত কারাগারে আটকে রাখার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

আটকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, লস অ্যাঞ্জেলেস আদালতের অভিযোগনামাটি প্রকাশ্যে আসার পর কৌশল তার মোবাইল ফোনটি ফেলে দিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়, যা তদন্তকারীরা আদালতের অনুমতি নিয়ে ট্র্যাক করছিলেন। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে শুধু মোবাইল ফেলে দেয়াই নয়, কৌশল অন্য একজনের ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করছিলেন। নাম পাল্টে নিজেকে তিনি ’লালা’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিলেন।

প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ১৬ জুলাই কানাডা সীমান্ত থেকে মাত্র কয়েক ফুট দূরে একটি গাড়ি ফেলে যাওয়ার পর, সীমান্ত থেকে এক মাইলেরও কম দূরত্বের মধ্যে কৌশলকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, ভার্মন্টের এক বাসিন্দা তার বাড়ির সিকিউরিটি ক্যামেরায় এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে একটি গাড়ির ভেতর উঁকি দিতে এবং একটি খামারে প্রবেশ করতে দেখেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, পরবর্তীতে মার্কিন সীমান্ত টহল এজেন্টরা যখন কৌশলের মুখোমুখি হয়, তখন সে অন্য এক ব্যক্তির নাম সংবলিত নিউ জার্সির একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখায়। কিন্তু আঙুলের ছাপ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার আসল পরিচয় নিশ্চিত করা হয় এবং কৌশল নিজেও স্বীকার করে যে লাইসেন্সটি তার নয়। এর পাশাপাশি প্রসিকিউটররা কিছু ছবিও জমা দিয়েছেন, যেখানে তদন্ত চলাকালীন নথিবদ্ধ করা একটি বিশেষ সিংহ ট্যাটুর সঙ্গে তার গ্রেফতারের পর দৃশ্যমান ট্যাটুর মিল ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

ভারতের পাঞ্জাবে জগ্গু ভগবানপুরিয়ার নেতৃত্বে 'জগ্গু ভগবানপুরিয়া অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপ'এর জন্ম। জগ্গু একসময় কারাবন্দি গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সহযোগী ছিলেন, পরে তিনি নিজে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী অপরাধ চক্র গড়ে তোলেন। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, এ সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তাদের অপরাধের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করে। বিশ্বজুড়ে এর সদস্য ও সহযোগীর সংখ্যা হাজারেরও বেশি, যার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই সক্রিয় আছেন অন্তত একশ জন। কৌশলের বিরুদ্ধে নির্দিষ্টভাবে এই সংগঠনের পক্ষে সহিংস কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

কৌশলের বিরুদ্ধে আনা প্রধান অভিযোগগুলোর একটি ২০২৪ সালের ১০ জুলাইয়ের একটি ঘটনা। অভিযোগনামা অনুযায়ী, সংগঠনের সদস্যরা বিশ্বাস করত যে এক ব্যক্তি তাদের গ্যাংয়ের একটি মাদকের চালান চুরি করেছে। চক্রের এক সহযোগী ওই ভুক্তভোগীকে ক্যালিফোর্নিয়ার ম্যানটেকার একটি বাড়িতে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে আসে, যেখানে নীতিশ কৌশল, অমৃতপাল সিং বাল, হর্ষপ্রীত সিং এবং অমরবীর সিং তাকে আটকে রাখে। অভিযোগনামায় আরও বলা হয়েছে যে, কৌশল এবং হর্ষপ্রীত সিং ভুক্তভোগীকে মারধর করে। এরপর কৌশল, বাল এবং অমরবীর সিং তাকে ফ্রেস্নোর একটি অ্যাপার্টমেন্টে নিয়ে যায়। প্রসিকিউটররা জানান, চুরি হওয়া মাদকের চালানের ক্ষতিপূরণ হিসেবে গ্যাং সদস্যরা তার কাছে ৫০ হাজার ডলার দাবি করে এবং টাকা না দেওয়া পর্যন্ত তাকে আটকে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, পরে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে জগ্গু ভগবানপুরিয়া নিজে ওই ভুক্তভোগীকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

আদালতের নথিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই সংগঠনটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে বড় আকারে কোকেন এবং মেথামফেটামিন পাচারের রুট পরিচালনা করত। তারা দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া থেকে পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মার্কিন-কানাডা সীমান্তে একশ কেজি বা তার বেশি ওজনের মাদকের চালান পাঠাত।

নতুন জমা দেওয়া এই আটকের আবেদনে কৌশলের অতীত জীবন সম্পর্কে বলা হয়, ২০২২ সালে অ্যারিজোনার ইউমা হয়ে অবৈধভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিল কৌশল। ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, ষড়যন্ত্র এবং অস্ত্র আইনের অপরাধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সে একটি অস্ত্র মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয় এবং তাকে ৬০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। নথিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, ২০২৬ সালে তার বিরুদ্ধে মাদকের একটি মামলাও ছিল।

হাসপাতালে কেমন আছেন সোনম ওয়াংচুক

অনলাইন ডেস্ক
হাসপাতালে কেমন আছেন সোনম ওয়াংচুক
সংগৃহীত ছবি

আমরণ অনশনের ২১তম দিনে অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার খুব সকালে পুলিশ দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তাকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি সচেতন রয়েছেন ও তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির ধারাবাহিক আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে গত ২৮ জুন থেকে যন্তর-মন্তরে আমরণ অনশন শুরু করেন লাদাখের বিখ্যাত প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, শিক্ষাসংস্কারক এবং পরিবেশবাদী সোনম ওয়াংচুক। এই সময়ে অনেকেই তাকে অনশন ভাঙ্গার আহ্বান জানালেও তিনি তাতে সম্মত হননি। আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী ২০ জুলাই সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে ককরোচ জনতা পার্টি ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দুদিন আগে এক ভিডিও বার্তায় সোনম ওয়াংচুক সে কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যায় অংশগ্রহণের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির দুদিন আগে ওয়াংচুককে আন্দোলনস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো।

শনিবার ভোরে সাদা পোশাকে পুলিশ যন্তর-মন্তরে আসে। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা সোনম ওয়াংচুকের অনশনস্থল চাদর দিয়ে ঢেকে ফেলে এবং কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় তার সঙ্গের কর্মীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দেয়। তবে পুলিশ কৌশলে শান্তিপূর্ণভাবেই সোনমকে সরিয়ে নেয়। এ সময় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় হাইকোর্টের নির্দেশ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুলিশি বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মাননীয় হাইকোর্টের আদেশ পালন করার সময় আন্দোলনকারীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন, যার ফলে সামান্য উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশ সর্বোচ্চ সংযম দেখিয়ে নিরাপদে এই কাজ সম্পন্ন করেছে। আমরা যন্তর-মন্তরে থাকা আন্দোলনকারীদের যত দ্রুত সম্ভব শান্তিপূর্ণভাবে জায়গাটি খালি করার অনুরোধ করছি।’ দুদিন আগে দিল্লি হাইকোর্ট সোনম ওয়াংচুকের জীবন রক্ষায় সম্ভাব্য সব কিছু করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল। গতকাল শুক্রবার ওয়াংচুককে পরীক্ষা করা চিকিৎসকরা তার অবস্থাকে জরুরি বলে বর্ণনা করেছিলেন এবং তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। দৈনিক মেডিক্যাল বুলেটিনগুলোতেও সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। দুদিন আগের একটি মেডিক্যাল আপডেটে বলা হয়েছিল, এই সমাজকর্মী ৮ কেজিরও বেশি ওজন হারিয়েছেন এবং তার স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে।

গত কয়েক দিনে বিরোধী দলগুলোর বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদ ওয়াংচুকের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাতে এবং অনশন ভাঙার অনুরোধ করতে প্রতিবাদস্থলে যান। কংগ্রেসের পবন খেরা, সমাজবাদী পার্টির সংসদ সদস্য ডিম্পল যাদব এবং আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ অন্যান্য নেতারা গত দুদিনে ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করেন এবং তার স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে অনশন শেষ করার আহ্বান জানান। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ পার্টি আন্দোলন করছে। তবে শিক্ষামন্ত্রী তাদের দাবি উড়িয়ে দিয়ে সিজেপি এবং তার সমর্থকদের ‘বিঘ্ন সৃষ্টিকারী উপাদানগুলোর বি-টিম’ বলে অভিহিত করেছেন। আন্দোলনকারীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যাদের দেশের অগ্রগতির ওপর কোনো আস্থা নেই।’