• ই-পেপার

সাড়ে ৮ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের পর অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে ফেরা

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শোকযাত্রায় অংশগ্রহণকারীসহ নিহত ১৪

অনলাইন ডেস্ক
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শোকযাত্রায় অংশগ্রহণকারীসহ নিহত ১৪
ছবি: রয়টার্স

গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলের একাধিক হামলায় অন্তত ১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো অনেক মানুষ। নিহতদের মধ্যে আটজন একটি জানাজা শেষে দাফনের উদ্দেশ্যে বের হওয়া শোকযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন। তাদের ওপর ড্রোন হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য ও উদ্ধার কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থা এবং আল-আওদা হাসপাতাল জানিয়েছে, হামলায় আটজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একই এলাকায় এর আগে আরেকটি হামলায় নিহত এক ফিলিস্তিনির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে দাফনের জন্য শোকযাত্রা বের হওয়ার অপেক্ষায় আহমদ ইয়াসিন মসজিদের বাইরে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। ঠিক সেই সময় একটি ইসরায়েলি ড্রোন সেখানে হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন।

গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক হানি মাহমুদ বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে প্রতিদিনই হামলা চলছে। তার ভাষায়, মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া মানুষের ওপর ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এই হামলার কথা স্বীকার করেছে। তবে সেনাবাহিনীর দাবি, তারা মধ্য গাজায় একটি 'সন্ত্রাসী' দলের সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে তারা বলেছে, হামলায় সাধারণ মানুষ হতাহত হওয়ার অভিযোগ তাদের নজরে এসেছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে হামাস অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে সেই চুক্তি লঙ্ঘন করছে। তাদের দাবি, নিরীহ মানুষকে হত্যা এবং আতঙ্ক সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মধ্যস্থতাকারীরা সবকিছু দেখলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।

শুধু নুসেইরাত নয়, শুক্রবার গাজার আরো কয়েকটি এলাকায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া শহরে আবু তাম্মাম স্কুলের কাছে একটি ইসরায়েলি ড্রোন থেকে বোমা ফেলা হয়। এতে ৫২ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। মধ্য গাজার আজ-জাওয়াইদা এলাকায় সাধারণ মানুষের একটি জড়ো হওয়া স্থানে আরেকটি হামলায় একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হন। নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের পশ্চিমে আল-সাওয়ারহা এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত একটি স্থাপনায় হামলায় আরো একজন নিহত হন। এ ছাড়া গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় একজন ফিলিস্তিনি নিহত হন। এতে শিশুদেরসহ আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের দক্ষিণ-পশ্চিমে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে আহত এক নারী পরে মারা যান।

গত বছরের অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা, ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা (এসিএলইডি)' বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মে মাসের পর থেকে গাজায় ইসরায়েলের হামলার সংখ্যা আরো বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে গাজায় ৪০টির বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এক মাসে এটিই সর্বোচ্চ হামলার সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে কি না এবং গাজায় সহিংসতা আদৌ শেষ হবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদক হানি মাহমুদ বলেন, এখন গাজার আকাশজুড়ে প্রায় সব সময়ই ড্রোন উড়তে দেখা যায়। তার ভাষায়, চারদিকে ড্রোনের যান্ত্রিক শব্দ শোনা যায়। একই সঙ্গে ইসরায়েল গাজায় টিকে থাকা অবকাঠামোগুলোও ধ্বংস করে চলেছে। এদিকে শুক্রবার ইসরায়েলি সংবাদপত্র 'হারেৎজ' জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ২৭৪ জন শিশু নিহত হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, এই সময়ে গড়ে প্রতিদিন একজন করে শিশু প্রাণ হারিয়েছে।


 

মহাকাশে ‘ট্যাক্সি সেবা’ দিতে প্রস্তুত ভারতের প্রথম বেসরকারি রকেট

অনলাইন ডেস্ক
মহাকাশে ‘ট্যাক্সি সেবা’ দিতে প্রস্তুত ভারতের প্রথম বেসরকারি রকেট
ছবি : রয়টার্স

ট্যাক্সি বা উবার ডাকার মতোই সহজে এবার মহাকাশে পাঠানো যাবে স্যাটেলাইট। এই লক্ষ্য নিয়ে শনিবার (১৭ জুলাই) ভারতের শ্রীহরিকোটা থেকে নিজেদের প্রথম রকেট ‘বিক্রম-১’ উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছে দেশটির প্রথম স্পেস-টেক ইউনিকর্ন ‘স্কাইরুট এরোস্পেস’। এই ঐতিহাসিক মিশনটি সফল হলে, আমেরিকা ও চীনের পর ভারত হবে বিশ্বের তৃতীয় দেশ, যেখানে কোনো বেসরকারি সংস্থা কক্ষপথে রকেট পাঠাতে সক্ষম হলো।

সাধারণত বড় বড় রকেটে স্যাটেলাইট পাঠাতে হলে কম্পানিগুলোকে মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। ‘স্কাইরুট’ এই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে চায়। তাদের ৭ তলা বিশিষ্ট ছোট রকেট ‘বিক্রম-১’ গ্রাহকদের প্রয়োজন ও সময় অনুযায়ী যেকোনো নির্দিষ্ট কক্ষপথে স্যাটেলাইট পৌঁছে দেবে। ট্রেনের জন্য অপেক্ষা না করে যেমন মানুষ উবার বা ট্যাক্সি বুক করে, এটিও ঠিক তেমনই এক ‘ক্যাব পরিষেবা’। ৩৫০ কেজি পর্যন্ত ওজন বহনে সক্ষম এই রকেটটি মাত্র ১৬ মিনিটের ফ্লাইটে ২৮০ মাইল দূরের নিম্ন ভূ-কক্ষপথে পৌঁছাবে।

‘আগমন’ নামের এই পরীক্ষামূলক অভিযানে মোট ছয়টি বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি বা পেলোড মহাকাশে পাঠানো হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মহাকাশের আবর্জনা সরানোর রোবোটিক আর্ম, জার্মানির তৈরি একটি স্যাটেলাইট ও পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী ক্যামেরা। তবে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে দুইটি বিশেষ প্রতীকী জিনিস। একটি হলো ল্যাবরেটরিতে তৈরি হীরা দিয়ে বানানো পদ্মফুল এবং অন্যটি একটি ছোট্ট সোনার রকেট। এই সোনার রকেটের ভেতর ধানের দানার চেয়েও ছোট আকারে খোদাই করা হয়েছে ভারতের তিন মহান বিজ্ঞানী—বিক্রম সারাভাই, সি ভি রমন ও এপিজে আবদুল কালামের ভাস্কর্য।

২০১৮ সালে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো)-র দুই সাবেক বিজ্ঞানী পবন কুমার চন্দনা ও নাগা ভারত ডাকা চাকরি ছেড়ে এই স্টার্টআপটি শুরু করেন। ২০২০ সালে ভারত সরকার বেসরকারি খাতের জন্য মহাকাশ উন্মুক্ত করার পর স্কাইরুট দ্রুত উন্নতি করে এবং বর্তমানে কম্পানিটির বাজার মূল্য ১.১ বিলিয়ন ডলার। ২০২২ সালে ভারতের প্রথম বেসরকারি সাব-অরবিটাল রকেট উৎক্ষেপণ করে তারা ইতিহাস গড়েছিল। হায়দ্রাবাদে অবস্থিত তাদের কারখানায় প্রতি মাসে একটি করে রকেট তৈরির সক্ষমতা রয়েছে। স্কাইরুটের সিইও পবন কুমার চন্দনা জানান, আজকের এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের পর আগামী বছর থেকেই তারা বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করবেন। যদিও তারা ইসরোর মহাকাশ অভিযানেও যুক্ত হতে পারে, তবে তাদের মূল লক্ষ্য বিশ্ববাজার।

যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষি, মৎস্য চাষ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জাতীয় নিরাপত্তার মতো দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত বৈশ্বিক স্যাটেলাইটগুলোর ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বাজার ধরাই তাদের মূল লক্ষ্য। ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মহাকাশ বাজারে ভারতের অংশ ২% থেকে বাড়িয়ে ১০% করার যে স্বপ্ন সরকার দেখছে, স্কাইরুটের এই মিশন তাতে বড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

চীনের ভূমিধসে নিহত অন্তত ৮, নিখোঁজ ৩৪

অনলাইন ডেস্ক
চীনের ভূমিধসে নিহত অন্তত ৮, নিখোঁজ ৩৪
ছবি : রয়টার্স

দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের চংকিং শহরের উপকণ্ঠে শুক্রবার ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত আটজন নিহত এবং ৩৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন। ভূমিধসে একাধিক বাড়িঘর চাপা পড়েছে এবং এক হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৮ মিনিটে চংকিং পৌরসভার পেংশুই কাউন্টিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পাহাড় থেকে বিপুল পরিমাণ মাটি ও পাথর ধসে নিচে নেমে এসে ১০টিরও বেশি আবাসিক ভবন চাপা দেয়। পেংশুই কাউন্টির মেয়র রেন শুজিয়াং জানান, উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দুর্ঘটনার কারণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং উদ্ধারকাজ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। স্থানীয় পরিকল্পনা ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের প্রধান ওয়াং চুয়ানজুন জানান, ভূমিধসে প্রায় ১৮ হাজার ঘনমিটার পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পাথরটির আয়তন ছিল প্রায় ৩ হাজার ঘনমিটার।

তিনি আরো সতর্ক করে বলেন, ভারি বৃষ্টিপাত বা দীর্ঘ সময়ের গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে এলাকায় নতুন করে ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরিদর্শনে পাহাড়ের চূড়া ও ঢালের বিভিন্ন স্থানে এখনও অস্থিতিশীল পাথরের স্তূপ দেখা গেছে।

ভূমিধসের পর আরো দুর্ঘটনা এড়াতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণকাজে ৮০০ জনের বেশি কর্মী অংশ নিচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পর্যবেক্ষণ ও পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাহাড় থেকে ছোট ছোট পাথর গড়িয়ে পড়া এবং অস্বাভাবিক শব্দ শোনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা দ্রুত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন।

স্থানীয় সংবাদপত্র চংকিং ডেইলি জানায়, সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলাকালীনই বড় ধরনের ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পাশের আবাসিক এলাকার ওপর পড়ছে।

ধসের স্থানটির আশপাশে বেশ কয়েকটি ভবন ছিল এবং উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। তবে অস্থিতিশীল ভূখণ্ড এবং নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কার কারণে উদ্ধার অভিযান বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে সিসিটিভি জানিয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, কমলা রঙের পোশাক পরা উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরাতে খননযন্ত্র ব্যবহার করছেন। এক পর্যায়ে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একজন ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। ভূমিধসের ফলে পাহাড় থেকে বিশাল পাথরের খণ্ড নিচের একটি জলপথে গিয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলের পাশে থাকা প্রায় পাঁচ ও পনেরো তলা উচ্চতার দুটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ধসে পড়েনি।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনাস্থলটি উজিয়াং নদীর একটি অংশের কাছে, যা ছোট ছোট শহর ও ধাপযুক্ত কৃষিজমির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় চীনা কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ১৩ হাজারের বেশি ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তাঁবু, ভাঁজ করা বিছানা এবং জরুরি পারিবারিক সহায়তা কিট। পেংশুই কাউন্টি চংকিংয়ের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। এটি হুবেই ও গুইঝৌ প্রদেশের সীমান্তঘেঁষা একটি এলাকা।

মার্কিন কম্পানির সঙ্গে ৬০ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি চুক্তি সই ইরাকের

অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন কম্পানির সঙ্গে ৬০ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি চুক্তি সই ইরাকের
ছবি: রয়টার্স

পশ্চিমা জ্বালানি কম্পানিগুলোর সঙ্গে তেল, গ্যাস এবং পাইপলাইন খাতে কয়েক ডজন চুক্তি করেছে ইরাক। শুক্রবার ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরাক ব্যবসায়িক সম্মেলনে এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে সই হয়।

ইরাকি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন কোম্পানি ৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের 'বাধ্যতামূলক নয়'- এমন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে সই করেছে। ইরাক সরকার বলছে, তারা বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে এবং বিশ্বের বড় কম্পানিগুলোর জন্য দেশটিকে আরো উন্মুক্ত করতে চায়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েও কাজ করছে। সম্মেলনে দোভাষীর মাধ্যমে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি বলেন, তাদের সরকার সবার জন্য 'দরজা খোলা রাখার নীতি' অনুসরণ করছে।

তিনি বলেন, যেকোনো কোম্পানি বা বিনিয়োগকারী নতুন প্রকল্প নিয়ে ইরাকের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে। সরকার বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি করবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন। ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের চেম্বার অব কমার্সে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে ইরাকের সরকারি প্রতিনিধিদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশ নেন। ইরাকের এই উদ্যোগ এমন সময় এসেছে, যখন দেশটি বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস রপ্তানির নতুন পথ খুঁজছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প রপ্তানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বাগদাদ।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত টম ব্যারাক বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধ একদিকে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা তৈরি করেছে। অন্যদিকে, ইরাক এখন যুক্তরাষ্ট্র ও তার অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে নতুন কৌশলগত নিরাপত্তা সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।

সম্মেলনের আগে বৃহস্পতিবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি প্রতিষ্ঠান শেভরনের সদর দপ্তর পরিদর্শন করেন। এরপর ইরাকের কর্মকর্তারা শেভরনের সঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই করেন। এসব চুক্তির মাধ্যমে ইরাকের পশ্চিম কুরনা-২ এবং নাসিরিয়া তেলক্ষেত্রে কম্পানিটির সম্ভাব্য কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সম্মেলনে শেভরনের করপোরেট ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের সভাপতি জেক স্পিয়ারিং জানান, তাদের কম্পানি এমন একটি নতুন পাইপলাইন প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, যা হরমুজ প্রণালি ব্যবহার না করেই ইরাকের তেল রপ্তানির সুযোগ তৈরি করবে।

তিনি বলেন, এই পাইপলাইন চালু হলে ইরাক নতুন একটি রপ্তানি পথ পাবে। এর মাধ্যমে দেশটির তেল ভূমধ্যসাগর উপকূলে সিরিয়ার পশ্চিম উপকূলে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহের বিকল্প পথ তৈরি হবে।