• ই-পেপার

ইরানের সামুদ্রিক নজরদারি টাওয়ার ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

বিদেশি শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের জন্য ভিসা নীতি কঠোর করছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
বিদেশি শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের জন্য ভিসা নীতি কঠোর করছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: রয়টার্স

বিদেশি শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী এবং বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন আনছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এসব ভিসার মেয়াদ কমিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তন এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান নিয়েও নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করছে দেশটি। 

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) এ-সংক্রান্ত একটি চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশ করেছে। ফেডারেল নিবন্ধনে প্রকাশের ৬০ দিন পর এটি কার্যকর হবে। তবে তার আগে কংগ্রেসের পর্যালোচনার সুযোগ থাকবে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এফ (এফ-১) ভিসা, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির জে ভিসা এবং বিদেশি সাংবাদিকদের আই ভিসা সাধারণত সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি বা চাকরির পুরো সময় পর্যন্ত বৈধ থাকে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এই ব্যবস্থা বদলে যাবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীদের ভিসার সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে চার বছর।

অন্যদিকে বিদেশি সাংবাদিকদের আই ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৪০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে চীনের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই ভিসার মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ৯০ দিন। ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান নেন। অবৈধ অভিবাসনের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রেও নজরদারি বাড়ানো হয়। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েক লাখ অভিবাসীর বৈধ অবস্থানও বাতিল করেছে প্রশাসন। সর্বশেষ এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী এবং বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও অবস্থান আরো কঠিন হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ভিসাধারীরা চাইলে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ।

নতুন নিয়মে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত যোগ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা আর তাদের শিক্ষার লক্ষ্য বা কোর্স পরিবর্তন করতে পারবেন না। অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ভর্তি হওয়া যাবে না। এ ছাড়া পড়াশোনা বা প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর বর্তমানে শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার জন্য ৬০ দিন সময় পান। নতুন নিয়মে সেই সময় কমিয়ে ৩০ দিন করা হচ্ছে। অর্থাৎ পড়াশোনা শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যে হয় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে, নয়তো বৈধভাবে থাকার জন্য অন্য কোনো অনুমতি বা ভিসার ব্যবস্থা করতে হবে। নতুন এই নিয়মের সমালোচনা করেছেন অভিবাসন ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা ডাগ র‌্যান্ড বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানো এবং অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নতুন এই নিয়ম ঠিক উল্টো প্রভাব ফেলবে। অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাটো ইনস্টিটিউটের অভিবাসন গবেষণা বিভাগের পরিচালক ডেভিড জে. বিয়ার বলেন, পড়াশোনার বিষয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আনা হয়েছে, তার কোনো স্পষ্ট আইনি ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর চাকরিদাতার মাধ্যমে নতুন ভিসার ব্যবস্থা করার জন্য তাদের হাতে মাত্র ৩০ দিন থাকবে। এই সময়ের মধ্যে তা সম্ভব না হলে তারা অবৈধ অভিবাসীতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে চীন। শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন ভিসা নীতিকে 'বৈষম্যমূলক' বলে আখ্যা দেয়। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনকে চীনা সাংবাদিকদের জন্য নতুন নিয়ম অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, এই সিদ্ধান্ত ২০২১ সালে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গণমাধ্যমবিষয়ক তিন দফা সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে। পাশাপাশি এটি যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত চীনা সংবাদমাধ্যমের স্বাভাবিক কাজকেও বাধাগ্রস্ত করবে। তিনি আরো বলেন, প্রয়োজন হলে চীনও একই ধরনের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে।

স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী এবং বিদেশি সাংবাদিকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করা আগের তুলনায় কঠিন হয়ে পড়েছে। বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে শিক্ষার্থী ভিসায় ১৮ লাখের বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন। যা আগের বছরের তুলনায় ১১ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া ২০২৪ অর্থবছরে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির ভিসা পেয়েছেন। একই সময়ে ৩৭ হাজার ৩০০ জন বিদেশি সাংবাদিককে আই ভিসা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৪ অর্থবছর শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর।

স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ আরো জানিয়েছে, তাদের কাছে এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে যেখানে শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির ভিসাধারীরা নির্ধারিত সময়ের অনেক বেশি, এমনকি কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে চাইলে ভিসাধারীদের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের কাছে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হবে। অন্যথায় তাদের যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে বা অন্য কোনো দেশে গিয়ে নতুন করে ভিসা নিয়ে আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে।


 

সাড়ে ৮ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের পর অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে ফেরা

অনলাইন ডেস্ক
সাড়ে ৮ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের পর অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে ফেরা
সংগৃহীত ছবি

লখনউয়ের কিং জর্জ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির (কেজিএমইউ) ট্রমা সেন্টারে একদল চিকিৎসক সাড়ে আট ঘণ্টার এক অস্ত্রোপচারের পর ২৩ বছর বয়সী এক নির্মাণ শ্রমিকের জীবন বাঁচিয়েছেন। উমেশ নামের ওই যুবকের বুক ও পেট ভেদ করে চারটি লোহার রড ঢুকে গিয়েছিল, যার ফলে তার শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসকদের নিখুঁত পরিকল্পনা ও দ্রুত সিদ্ধান্তের কারণে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন ওই যুবক।

উত্তর প্রদেশের ফারুখাবাদ জেলার বাসিন্দা উমেশ ১৩ জুলাই (সোমবার) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে লখউয়ের বাদশাহনগর এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় ভারসাম্য হারিয়ে নিচে থাকা উন্মুক্ত লোহার রডের ওপর পড়ে যান। আঘাতটি এতটাই মারাত্মক ছিল যে চারটি রড তার শরীরের বাঁ পাশ দিয়ে ঢুকে পেট ও বুক ভেদ করে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। এর মধ্যে তিনটি রড তার ডান কাঁধ ও গলা পর্যন্ত চলে গিয়েছিল। তবে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে রডগুলো টেনে বের করার চেষ্টা না করে, নির্মাণস্থলেই রডগুলো কেটে ফেলেন এবং রডবিদ্ধ অবস্থায়ই উমেশকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকেরা দেখেন, উমেশের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তার মূত্রাশয়, ক্ষুদ্রান্ত্র, পাকস্থলী, প্লীহা ও ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। চিকিৎসকদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল রডগুলো বের করার সময় যেন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ না হয়। কারণ, রডগুলো শরীরের ভেতরে ক্ষত তৈরি করলেও সেগুলো নিজেই রক্তনালিগুলোকে চেপে ধরে রক্তপাত সাময়িকভাবে বন্ধ রাখছিল, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ট্যাম্পোনেড এফেক্ট’ বলা হয়। সামান্য ভুল হলেই কয়েক মিনিটের মধ্যে রক্তক্ষরণে রোগীর মৃত্যু হতে পারত।

পরবর্তী সময়ে সার্জনদের একটি দল অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বুক ও পেটের সম্মিলিত অস্ত্রোপচার শুরু করেন। তারা এক এক করে রডগুলো বের করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুস, পাকস্থলী, মূত্রাশয় ও রক্তনালিগুলো মেরামত করতে থাকেন। দীর্ঘ সাড়ে আট ঘণ্টার এই জটিল প্রক্রিয়ায় রোগীকে কয়েক ইউনিট রক্ত ও প্লাজমা দেওয়া হয়। সফল অস্ত্রোপচার শেষে উমেশকে বর্তমানে আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল। 

এই ঘটনার পর ট্রমা বিশেষজ্ঞরা জনসাধারণের উদ্দেশে একটি জরুরি নিরাপত্তা বার্তা দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, যেকোনো দুর্ঘটনায় কারো শরীরে লোহার রড বা ধারালো কিছু ঢুকে গেলে, তা যেন কখনোই হাসপাতালে নেওয়ার পথে টেনে বের করার চেষ্টা করা না হয়। কারণ, এগুলো বের করে ফেললে সঙ্গে সঙ্গে মারাত্মক অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ শুরু হয়ে রোগীর মৃত্যু হতে পারে। এ ধরনের বস্তু শুধু হাসপাতাল বা অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানেই অপসারণ করা নিরাপদ।

কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রে, শুল্ক বাড়ানোর হুমকি ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক
কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রে, শুল্ক বাড়ানোর হুমকি ট্রাম্পের
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া দাবানলের ধোঁয়ার জন্য কানাডাকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, এই দূষণের কারণে হওয়া অতিরিক্ত ব্যয় কানাডার পণ্যের ওপর বিদ্যমান শুল্কের সঙ্গে যোগ করা হবে।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কানাডার শত শত দাবানল থেকে সৃষ্ট ঘন ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ঢেকে ফেলে। এ কারণে অনেক এলাকায় বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার সতর্কতা জারি করা হয়।

ট্রাম্প আরো বলেন, এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় কানাডা কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা জানতে তিনি প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে কথা বলবেন। তার ভাষায়, এটি একটি ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ পরিস্থিতি। তিনি ট্রুথ সোশ্যালের একটি পোস্টে বলেছেন, ‘ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘কানাডা তাদের বনভূমির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করছে না।’ তার অভিযোগ, এর ফলে নোংরা, দূষিত ও অস্বাস্থ্যকর বাতাস অকারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে। এ কারণে দাবানলের ধোঁয়াজনিত দূষণের জন্য কানাডাই দায়ী।

ট্রাম্প দাবি করেন, এটি কানাডার ইচ্ছাকৃত অবহেলার ফল এবং প্রতিবছর এমন ঘটনা ঘটায় যুক্তরাষ্ট্রের শত শত কোটি ডলারের ক্ষতি হচ্ছে। তিনি বলেন, দাবানলের ধোঁয়া থেকে সৃষ্ট দূষণ মোকাবেলার ব্যয় কানাডার পণ্যের ওপর বিদ্যমান শুল্কের সঙ্গে যোগ করা উচিত। তবে জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের এই দাবির সঙ্গে একমত নন। 

তাদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বনভূমি আরো শুষ্ক হয়ে পড়ছে। ফলে দাবানলের ঘটনা ও এর বিস্তারও বাড়ছে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার থম্পসন রিভার্স ইউনিভার্সিটির বনভূমির দাবানল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মাইক ফ্ল্যানিগান বলেন, জলবায়ু যত উষ্ণ হচ্ছে, ততই গরম, শুষ্ক, ঝোড়ো ও চরম আবহাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে দাবানলের ঘটনাও আরো বৃদ্ধি পাবে।

২০২৫ সালে ক্ষমতায় আসার কিছুদিনের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানি করা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেন। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির দপ্তর তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

কার্নি বৃহস্পতিবার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। রবিবার নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে ট্রাম্প ও কার্নির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে কানাডার অধিকাংশ দাবানল অন্টারিও প্রদেশের দুর্গম উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। স্বল্প জনবসতিপূর্ণ এই এলাকাগুলোতে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম বিমান। বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার একর (২৬৩০ বর্গকিলোমিটার) এলাকা আগুনে পুড়ছে, যা গত বছরের একই সময়ে পুড়ে যাওয়া ৬ লাখ একর এলাকার চেয়েও বেশি। দাবানলের কারণে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

কিছুই অবশিষ্ট নেই

উত্তর-পশ্চিম অন্টারিওর আদিবাসী সম্প্রদায় নামাইগুসিসাগাগুন ফার্স্ট নেশন (কলিন্স ফার্স্ট নেশন) ভয়াবহ দাবানলে প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। সম্প্রদায়টির বাসিন্দারা নৌকায় করে এলাকা ছেড়ে থান্ডার বে শহরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান ইনসিডেন্ট কমান্ডার ম্যাথিউ হোপ।

হোপ বলেন, ‘সেখানে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আমাদের সম্প্রদায়ের সদস্যরা ভেঙে পড়েছেন, শোকাহত ও হতবিহ্বল হয়ে আছেন।’ টরন্টো থেকে প্রায় এক হাজার ৩০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত থান্ডার বে শহরটি বর্তমানে দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। শহরের মেয়র কেন বশকফ জানান, বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয় দিতে গিয়ে শহরটির সক্ষমতা প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে।

এদিকে অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড শুক্রবার ঘোষণা দিয়েছেন, দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানল মোকাবেলায় প্রদেশটি ১১টি নতুন বিমান কিনবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযানকে অপর্যাপ্ত বলে সমালোচনা করা কিছু মার্কিন রাজনীতিকের বক্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেন। শুধু কানাডাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রেও এ বছর দাবানলের প্রকোপ বেড়েছে। 

ন্যাশনাল ইন্টারএজেন্সি ফায়ার সেন্টার-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ৩৭ লাখ একর জমি পুড়ে গেছে। গত ১০ বছরের একই সময়ের গড় ছিল ২৭ লাখ একর।

জ্বালানি ও বিনিয়োগের বিনিময়ে কুয়েতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির আলোচনায় পাকিস্তান

অনলাইন ডেস্ক
জ্বালানি ও বিনিয়োগের বিনিময়ে কুয়েতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির আলোচনায় পাকিস্তান
ছবি : রয়টার্স

জ্বালানি নিরাপত্তা সহযোগিতা ও বড় অঙ্কের বিনিয়োগের বিনিময়ে কুয়েতের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে পাকিস্তান। এই চুক্তির আওতায় কুয়েতকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিপরীতে তাদের কাছ থেকে জ্বালানি তেল ও বড় অঙ্কের অর্থনৈতিক বিনিয়োগ চায় পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে। তবে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে এই আলোচনা কিছুটা জটিল হয়ে উঠতে পারে।

২০২৩ সাল থেকে পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যে ছোট পরিসরে একটি সামরিক চুক্তি রয়েছে, যার আওতায় দুই দেশ মিলে যৌথ মহড়া ও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। কিন্তু এখন কুয়েত চাচ্ছে পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের যেমন চুক্তি আছে, ঠিক তেমন একটি বড় চুক্তি করতে। কুয়েতের চাহিদা হলো—পাকিস্তানি সৈন্য, যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কুয়েতে মোতায়েন করা হোক। তবে পাকিস্তান এখনই কুয়েতে সৈন্য পাঠাতে রাজি নয় বলে এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

পাকিস্তান এই চুক্তিকে তাদের দেশের অর্থনৈতিক সংকট দূর করার একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে। চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান কুয়েতের কাছ থেকে জ্বালানি তেলের নিশ্চয়তা চায়, যাতে দেশে তেলের মজুদ বাড়ানো যায়। কুয়েতও পাকিস্তানে তেল সংরক্ষণের একটি বড় ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা ভাবছে। পাকিস্তান মনে করছে, কুয়েতের কাছ থেকে এই সুবিধাগুলো পাওয়া গেলে চুক্তিটি করা তাদের জন্য লাভজনক হবে।

নিরাপত্তার বিষয়ে আমেরিকার ওপর উপসাগরীয় দেশগুলোর ভরসা দিন দিন কমছে। তাই তারা বিকল্প হিসেবে পাকিস্তানের বিশাল সামরিক বাহিনীকে বেছে নিতে চাইছে। কুয়েত ছাড়াও বাহরাইন পাকিস্তানের সঙ্গে এমন চুক্তি করতে আগ্রহী এবং জর্দান অস্ত্র ও প্রশিক্ষণের বিষয়ে কথা বলছে। এমনকি তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব মিলে আরেকটি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির খসড়াও তৈরি করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে অন্য দেশের জন্য পাকিস্তানের এই অতিরিক্ত সামরিক দায়িত্ব নেওয়াটা ঝুঁকিপূর্ণও হতে পারে।