• ই-পেপার

৫৫ বছর পর বাংলাদেশের গণতন্ত্র  সফল হয়েছে : হুইপ দুলু

সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলে সিএমপির ৫ নির্দেশনা

অনলাইন ডেস্ক
সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলে সিএমপির ৫ নির্দেশনা
ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম নগরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরানো ও যানজট নিরসনে পাঁচটি নির্দেশনা জারি করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। গতকাল শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে নগরীর বিভিন্ন সড়কের পাশে, টুলবক্সে ও ওভারব্রিজে ব্যানার-ফেস্টুন টাঙিয়ে এসব নির্দেশনা প্রচার করতে দেখা যায় ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের।

সিএমপির পাঁচ নির্দেশনা:

পুলিশের নাম ব্যবহার করে কোনো সিএনজিচালিত অটোরিকশায় টোকেন বিক্রি করা যাবে না। টোকেন বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের টোকেন প্রদর্শন করা হলে গাড়ি আটক করা হবে।

সড়কে চলাচলের জন্য টাকার বিনিময়ে কোনো ধরনের টোকেন গ্রহণ না করতে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের অনুরোধ করা হয়েছে। অটোরিকশায় টোকেন প্রদানের সঙ্গে পুলিশের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

যাত্রী ওঠানামার জন্য নির্ধারিত স্থান ছাড়া যেখানে-সেখানে সিএনজিচালিত অটোরিকশা পার্কিং করে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে গাড়ি আটক করা হবে।

গ্রাম সিএনজি অটোরিকশা ও ‘অনটেস্ট’ সিএনজি অটোরিকশা মেট্রোপলিটন এলাকায় চলাচল করতে পারবে না। প্রয়োজনীয় হালনাগাদ কাগজপত্র প্রদর্শনে ব্যর্থ হলে গাড়ি আটক করা হবে।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মূল সড়কে প্রবেশ করলে, উল্টো পথে চলাচল করলে কিংবা সেতুতে ওঠার চেষ্টা করলে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গাড়ি আটক করা হবে।

সিএমপির ট্রাফিক-বন্দর বিভাগ জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা অমান্য বা নিয়ম ভঙ্গ করলে গাড়ি আটকসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিলেটে হাম উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
সিলেটে হাম উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

হাম উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এ নিয়ে সিলেট বিভাগে হামে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৯ জনে।

মারা শিশুদের বয়স ১০ মাসের নিচে। তারা হলো—কামরুল, কৃষ্ণা ও নিহাদ।

এদিকে বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৯৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নতুন করে কেউ শনাক্ত হয়নি। তবে এ সময়ে ৬৬ জন সন্দেহভাজন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আজ ১৮ জুলাই পর্যন্ত এই বিভাগে মোট ৫৩৪ জন ল্যাব-নিশ্চিত (কনফার্মড) হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে।

পাবনায় পুলিশ মারধরের ঘটনায় আ. লীগ নেতাদের নামে দুই মামলা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পাবনা
পাবনায় পুলিশ মারধরের ঘটনায় আ. লীগ নেতাদের নামে দুই মামলা

পাবনার সুজানগরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে মারধর ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপজেলা ও জেলা শাখার সহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নামে দুটি মামলা করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাতে সুজানগর থানায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়। দুটি মামলাতেই সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাবকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া একই কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহিনুজ্জামান শাহিন ও নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের উপজেলা শাখার সভাপতি আমিরুল ইসলামসহ অনেককেই মামলা দুটিতে এজহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। নাশকতা পরিকল্পনা ও এতে সহযোগিতার অভিযোগে একটি মামলায় জেলা আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল আহাদ বাবুকেও আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুজানগর থানার ওসি (তদন্ত) মো. লালবুর রহমান।

পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোরে অভিযানে গেলে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে গাড়ি ভাঙচুর এবং মারধর করা হয়। এঘটনায় সরকারি কাজে বাধা, গাড়ি ভাঙচুর ও হত্যার উদ্দেশে পুলিশকে মারধরের অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সুজানগর উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুল ওহাবকে প্রধান আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এই মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুজ্জামান শাহিন, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের উপজেলা শাখার সভাপতি আমিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক এসএম সোহাগসহ ৫৫ জনকে এজহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে।

এদিকে একইদিনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাদের নামে আরেকটি মামলা করেছে পুলিশ। এতেও প্রধান আসামি আব্দুল ওহাব। এতে আরো আসামি করা হয়েছে দলটির জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল আহাদ বাবু ও নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সুজানগর উপজেলা শাখার সভাপতি আমিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক এসএম সোহাগসহ এজহারভুক্ত ৫৭ জনকে। দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পরিকল্পনা ও এসব কাজে সহযোগিতার অভিযোগ এনে এ মামলা করা হয়েছে। উভয় মামলাতেই ২৫০-৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।

এ ব্যাপারে সুজানগর থানার ওসি (তদন্ত) মো. লালবুর রহমান বলেন, পুলিশের ওপর হামলা করে মারধর ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় দুটি মামলা করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করেছে। দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ঘটনারদিন পুলিশ জানায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সুজানগর উপজেলা শাখাসহ এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিল বা নাশকতার একটি পরিকল্পনা ছিল বলে বুধবার রাতে পুলিশ গোপন সংবাদ পায়। এ খবর পেয়ে দুটি গাড়িতে পুলিশের একটি সাধারণ টহল টিম মথুরাপুরের দোপপাড়া এলাকায় গেলে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ওই দলের কয়েকশ’ কর্মী সমর্থক পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং ওসি সহ দুজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

ওসির সামনে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা
ওসির সামনে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা

ঝিনাইদহের কালিগঞ্জে থানার সামনে শাহারিয়ার আলম সোহাগ ও মিশন আলী নামের দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।  শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থলে কালিগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। 

আহতদের মধ্যে শাহারিয়ার আলম সোহাগ দীপ্ত টিভির ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি ও দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার কালিগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি এবং মিশন আলী নাগরিক টিভির জেলা প্রতিনিধি  

সাংবাদিক মিশন আলী বলেন, তিনদিন আগে শহরের আড়পাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে মিলন হোসেন নামে এক যুবককে মারধর করে অজ্ঞাত কয়েকজন যুবক। এ ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে আড়পাড়া এলাকার মিঠু ও ইয়াসিন নামের দুই যুবককে থানায় নিয়ে আসেন পুলিশ।

এরপর রাত সাড়ে ৮টার দিকে এলাকাবাসী থানায় আসে পুলিশের সঙ্গে কথা বলার জন্য। এ সময় ওসি জেল্লাল হোসেন কৃষকদলের বহিষ্কৃত নেতা জালাল উদ্দিন ও শাহিন লস্করকে ফোন দিয়ে থানায় ডেকে আনেন। 

এমন সংবাদ পেয়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কালীগঞ্জ থানার সামনে যার। সে সময় যুবদল ও কৃষকদলের কয়েকজন নেতাকর্মী থানায় আসা নারীদের ওপর হামলা করে। এ হামলার ভিডিও ধারণ করতে গেলে উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন ভিডিও করতে নিষেধ করেন। 

ভুক্তভোগী এ সাংবাদিক আরও বলেন, কৃষকদল নেতা জালাল উদ্দিন বিএনপিদের কোনো ভিডিও করা যাবে না বলে হুমকি দেওয়ার পর তার নেতৃত্বে হাসান, টিটো এবং রবিউল আমাকে মারধর করে।

হামলায় শিকার অপর সাংবাদিক শাহরিয়ার আলম সোহাগ বলেন, ‘হামলার পর ওসি তাকে গ্রেফতার না করে সেফ এক্সিট দিয়েছে। ওসি জালাল, শাহীন লস্করসহ কয়েকজনকে ডেকে এনে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন। 

এ বিষয়ে কৃষকদল নেতা জালাল উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, পৌর এলাকার আড়পাড়া গ্রাম থেকে মাদক মামলার আসামি আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। খবর পেয়ে ওই গ্রামের নারী ও পুরুষরা থানা ঘেরাও করার চেষ্টা করে।