ক্যাডার বঞ্চিতের অভিযোগ তুলে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীদের টানা ১২ দিনের আন্দোলনের পর ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে সংশোধন এনেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। এতে লাইভস্টক ক্যাডারে নতুন করে ১৪ প্রার্থীকে সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জনই শেকৃবি এনিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএসভিএম) অনুষদের শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার পিএসসির প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
সংশোধিত ফলাফলে দেখা যায়, লাইভস্টক ক্যাডারে মেধাতালিকার প্রথম দশজনের মধ্যে তিনজনই শেকৃবির শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে আহসান হাবিব সজিব প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। এ ছাড়া শেকৃবির আরো দুই শিক্ষার্থী চতুর্থ ও দশম স্থান অধিকার করেছেন। একই সঙ্গে ১৫তম স্থানেও রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির এক শিক্ষার্থী।
এর আগে ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর এএসভিএম অনুষদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৮ জন শিক্ষার্থীর একজনও লাইভস্টক ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হননি। অথচ ওই বিসিএসে লাইভস্টক ক্যাডারে শূন্যপদের সংখ্যা ছিল ৭১টি। এমন ফলাফলকে অস্বাভাবিক উল্লেখ করে শুরু থেকেই শিক্ষার্থীরা এটিকে কারিগরি ত্রুটি বা কোড-সংক্রান্ত জটিলতার ফল বলে দাবি করে আসছিলেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফলাফল পুনর্মূল্যায়ন ও তদন্তের দাবি জানান শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরবর্তী সময়ে ফলাফল সংশোধনের দাবিতে চার দফা দাবিতে গত ৫ জুলাই থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে টানা আন্দোলন শুরু করেন এএসভিএম অনুষদের শিক্ষার্থীরা।
অবশেষে পিএসসির সংশোধিত ফলাফলে নতুন করে ১৪ জনকে লাইভস্টক ক্যাডারে সুপারিশ করা হয়, যার মধ্যে ১৩ জনই শেকৃবির শিক্ষার্থী। সংশোধিত এ ফলাফলকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের দীর্ঘদিনের দাবির যৌক্তিকতার স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন।





