জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ও ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) পৃথকভাবে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগ দোয়া মাহফিলের অনুষ্ঠিত হয়। পরে সৈয়দ নজরুল ইসলাম কনফারেন্স হলে স্মরণসভার আয়োজন করে শাখা ছাত্রদল।
ছাত্রশিবিরের আয়োজিত দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও শাখা শিবিরের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মঈন। এ ছাড়া শাখা শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমাম।
এ সময় শাখা শিবিরের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মঈন বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবে প্রায় ১ হাজার ৪০০ শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছরে গড়ে ওঠা ফ্যাসিবাদী কাঠামোর বিরুদ্ধে বুক পেতে তারা শহীদ হয়েছেন। স্বাধীনতার চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন। জুলাই আমাদের নতুন এক স্বাধীনতার পথ দেখিয়েছে। এখন সেই স্বাধীনতা রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ভবিষ্যতে যেন কোনো সরকার মানুষের ওপর জুলুম করতে না পারে এবং আর কোনো ফ্যাসিবাদের উত্থান না ঘটে, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
অন্যদিকে ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণসভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান। সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব মো. শফিকুল ইসলাম এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এ. এম. শোয়াইব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম সর্দার, বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সোনালী দলের সভাপতি ড. আলি রেজা ফারুক, সাধারণ সম্পাদক ড. আহমেদ খায়রুল হাসান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম এবং সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. সোনিয়া সেহেলী।
স্মরণসভায় বক্তারা জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিহতদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তারা বলেন, ‘শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও ন্যায়বিচারের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে শহীদদের আদর্শ ও আত্মত্যাগকে জাতীয় জীবনে যথাযথ মর্যাদায় ধারণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। অনুষ্ঠানের শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।’
সভাপতির বক্তব্যে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান বলেন, ‘এই অনুষ্টানে সকলে একত্র করতে আমার এবং আমার সহযোগীদের কতটা কষ্ট করতে হয়েছে এটা হয়তো বলে প্রকাশ করা সম্ভব হবে না। আমার শুধু আমাদের প্রশাসনের কাছে একটাই চাওয়া আপনারা আমাদের ভালো নাই বাসতে পারেন কিন্তু একটু জানতে চাবেন যে আমরা ভালো আছি কিনা। আমাদের সমর্থকেরা ভালো আছে কিনা, যাদের আশ্রয়ে আমরা স্বৈরাচার আমলে ছিলাম তারা ভালো আছে কিনা। ছাত্রদলের যে মেধাবী শিক্ষার্থী ৭ শতাংশের মধ্যে জায়গা করে নেয় সে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হচ্ছে কি না। এসকল বিষয়ে তদারকি করবেন আমরা আশা করি।’




