• ই-পেপার

নতুন ভোটার হওয়ার সুযোগ, সময় ১৫ দিন

মব সহিংসতায় ছয়মাসে নিহত ১৩৩

অনলাইন ডেস্ক
মব সহিংসতায় ছয়মাসে নিহত ১৩৩

ছয় মাসে সারা দেশে মব সহিংসতায় ১৩৩ জন নিহত ও ২৫৬ জন আহত হয়েছেন। এসময় এ ধরনের ২৬১টি ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৫ জুলাই) হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

দেশের মূলধারার ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, এইচআরএসএসের সংগৃহীত তথ্য ও ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টের ভিত্তিতে ছয় মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এসব তথ্য সংকলন করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাগ্‌বিতণ্ডা, আধিপত্য বিস্তার, ধর্মীয় অবমাননাসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে এসব গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের একই সময়ে এ ধরনের ১৪১টি ঘটনায় অন্তত ৬৭ জন নিহত ও ১১৯ জন আহত হয়েছিলেন।

এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা, মব সহিংসতা, কারাগার ও হেফাজতে মৃত্যু, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাংবাদিক ও শ্রমিক নির্যাতন, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ সমাধান করা না হলে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।’

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিগত ছয় মাসে সারা দেশে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় দলীয় কোন্দল ও অন্তর্কোন্দলে ৫৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৫ হাজার ২৪৬ জনের বেশি নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত এবং হামলার শিকার হয়েছেন।

রাজনৈতিক পরিচয় হিসাবে নিহত ৫৬ জনের মধ্যে বিএনপির ৩৭ জন, শতকরা হিসাবে যা প্রায় ৬৬ শতাংশ, জামায়াতে ইসলামীর ছয়জন, যা ১১ শতাংশ এবং আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) তিনজন।

এছাড়া ৮৩০টি সহিংসতার ঘটনার ৬৭৩টিই ঘটেছে বিএনপির অন্তর্কোন্দল ও বিএনপির সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে; যা শতকরা হিসাবে ৮১ শতাংশ। প্রতিবেদনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার তথ্যে বলা হয়, গত ছয় মাসে নির্বাচনকেন্দ্রিক ৩৯৬টি সহিংসতার ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ২ হাজার ৫৭৮ জন আহত হয়েছেন।

এ ছাড়া নির্বাচনপূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ৬০০টির বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ও নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

রাজনৈতিক মামলা ও আটকের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ছয় মাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) এবং বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যকার সহিংসতায় এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ধারায় কমপক্ষে ১৪৪টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৩ হাজার ২৬৮ জনের নাম উল্লেখ করে ও ২৪ হাজার ৫১৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ছয় মাসে ১ হাজার ৬২১ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে ১ হাজার ৪২ জন ছিল। অর্থাৎ, নির্যাতনের ঘটনা প্রায় ৫৬ শতাংশ বেড়েছে। এ বছর নির্যাতনের শিকার ১ হাজার ৬২১ জন নারী ও কন্যাশিশুর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৪০৪ জন; যাদের মধ্যে ২৩৮ জন (৫৯ শতাংশ) ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোরী। ৮৮ জন (২৭ শতাংশ) নারী ও কন্যাশিশু দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৭ জনকে।

যৌতুকের জন্য নির্যাতনের ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৯ জন ও আহত আটজন এবং তিনজন নারী আত্মহত্যা করেছেন। পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন ৩২০ জন, আহত হয়েছেন ২১১ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ১৪৭ জন নারী।

মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ছয় মাসে ৪০টি সভা ও সমাবেশ আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বাধা দেয়। এতে ৩১১ জন ব্যক্তি আহত ও ৩৮ জন আটক হন, যাঁদের মধ্যে রাজনৈতিক কর্মী, শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও সাধারণ পথচারীও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এই সময়ে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর বিভিন্ন ধারার অধীনে পৃথক ৩০টি মামলায় ৮১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৪ জনকে।

সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনার তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ছয় মাসে ২০০টি হামলার ঘটনায় ৩৮৩ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৩৪ জন, লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন ৬০ জন ও হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন ৪৯ জন সাংবাদিক এবং ১১ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে।

সংখ্যালঘু নির্যাতন ও হামলার ঘটনার উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছয় মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৫০টি হামলার ঘটনায় ৫৬ জন আহত হয়েছেন এবং ১৯টি মন্দির, ১৫টি প্রতিমা ও ৪৩টি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

সীমান্তে হতাহত ও আটকের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ছয় মাসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ৩২টি হামলার ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হামলায় ৯ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়েছেন, এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ ১৪ জন। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ২০টি সহিংসতার ঘটনায় একজন নিহত, পাঁচজন আহত ও পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন।

এ বিষয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজত, নির্যাতন, গুলিবর্ষণ ও কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রথম ছয় মাসে সারা দেশে কারাগারে কমপক্ষে ৫৮ জন আসামি মারা গেছেন। এর মধ্যে ১৫ জন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের এবং একজন বিএনপির ও ৪২ জন সাধারণ কয়েদি।

জুলাইয়ের প্রথম ১৪ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৫৪ কোটি ২০ লাখ ডলার

অনলাইন ডেস্ক
জুলাইয়ের প্রথম ১৪ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৫৪ কোটি ২০ লাখ ডলার

জুলাইয়ের প্রথম ১৪ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৫৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের একই সময় দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১২৬ কোটি ৬০ লাখ (১ দশমিক ২৬৬ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, শুধু ১৪ জুলাই একদিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১১ কোটি ৫০ লাখ (১১৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার।

দুপুরের মধ্যে ৮ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
দুপুরের মধ্যে ৮ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা

দেশের আট জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া সতর্কবার্তায় এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

সতর্কবার্তায় এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

পে-স্কেলের প্রতীক্ষা আরো বাড়ল

অনলাইন ডেস্ক
পে-স্কেলের প্রতীক্ষা আরো বাড়ল

নবম জাতীয় পে-স্কেলের পূর্ণ বাস্তবায়নের প্রতীক্ষা আরও বাড়ল। পে-স্কেল বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সুপারিশমালা এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি সচিব কমিটি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গতকালও এ সংক্রান্ত একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে। গতকালও বাস্তবায়ন সুপারিশমালা চূড়ান্ত করতে পারেনি সচিব কমিটি। 

এদিকে আর্থিক সংকট ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নতুন পে-স্কেল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আইএমএফ। নতুন পে-স্কেল পয়লা জুলাই বাস্তবায়ন দেখানো হলেও গেজেট প্রকাশের জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে। প্রথম ধাপে বেসিক এবং পরের দুই ধাপে অন্যান্য সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন ২১ লাখ সরকারি চাকরিজীবী। অর্থবিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে জানা যায়, গতকালের বৈঠকে পে-স্কেল বাস্তবায়নের নানা প্রতিবন্ধকতা, সরকারের মধ্যকার আর্থিক সংকট, বাস্তবায়নের ধাপসহ খুঁটিনাটি নানা প্রসঙ্গে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এ কমিটি সরকারকে একটি সুপারিশমালা দেবে। সেই সুপারিশ অনুসরণ করেই মূলত নতুন এ পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়তন করা হবে। কিন্তু গতকালের বৈঠকেও তা চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। এর জন্য পরের সপ্তাহে আবারও বৈঠকে বসবে সচিব কমিটি। 

এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধিদল ১২ জুলাই থেকে ঢাকা সফর করছে। দলটি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেছে। সেখানে চলমান আর্থিক সংকটের মধ্যে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিরোধিতা করেছে প্রতিনিধিদলটি। এতে একটি গোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতা আরও বাড়বে। যার ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ কমিয়ে আনা আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করে আইএমএফ।

সূত্র জানায়, গতকালের সভায় পে-কমিশনের সুপারিশকৃত নতুন পে-স্কেলে স্থান পাওয়া ২০টি গ্রেড নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে গ্রেডের সংখ্যা কম-বেশি করা যায় কি না সে বিষয়েও মতামত উঠে এসেছে। সুপারিশ অনুযায়ী ২০তম গ্রেডের বেতন হবে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা। এবং প্রথম গ্রেডের বেতন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা (নির্ধারিত)।

এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, কত সময় নেবে বা কয়টা বৈঠক করবে সেটা তো তাদের স্বাধীনতা। এটা নিয়ে তারা কাজ করছেন। তাদের সুপারিশ পেলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। এর জন্য আরও কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। 

অর্থ বিভাগের সূত্রগুলো বলছে, নতুন পে-স্কেল অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা করে গেলেও বর্তমান বিএনপি সরকার তা বাস্তবায়নে বেশ আন্তরিক। এজন্য সদ্য শুরু হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন, গ্র্যাচুইটিসহ মোট বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। নতুন পে-স্কেলের আংশিক বাস্তবায়ন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সুবিধা এবং পেনশনভোগীদের সমন্বিত সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত আর্থিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সূত্র জানায়, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও আর্থিক সংকটের কারণে এত উচ্চ হারের বেতন কাঠামো এই মুহূর্তে বাস্তবায়নের জন্য সরকারের হাতে যথেষ্ট আয়ের সংস্থান আছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আইএমএফ। সংস্থাটি মনে করে অর্থের সংস্থানের উৎস ঠিক না করে এই বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে গেলে সংকট আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি চাপ আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

এদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় পে-স্কেলের মূল বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসংক্রান্ত হিসাব কষতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে নির্বাচিত বিএনপি সরকার! এজন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি বারবার বৈঠক করেও বাস্তবায়নসংক্রান্ত সুপারিশ চূড়ান্ত করতে পারছে না। অনেকটা বাধ্য হয়েই কিছু কাটছাঁট করবে। এ জন্য সুপারিশ করা গ্রেডগুলোতে মূল বেতন ও অন্যান্য সুযোগসুবিধা এবং ভাতাদিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত পে-স্কেল বাস্তবায়ন তিন ধাপে করা হতে পারে। যদিও এতে প্রযুক্তিগত কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। সেসব অসুবিধা কাটিয়ে তিন ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করবে সচিব কমিটি। প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ানো হবে। পরে অন্যান্য সুবিধা কার্যকর করবে সরকার। তবে ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন দেখিয়ে সে হিসেবে বেতন-ভাতাদি প্রাপ্য হবেন সরকারি চাকুরেরা।

জানা গেছে, ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। সে অনুযায়ী, সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে পরিবর্তিত অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বর্তমান সরকার সেই সুপারিশ হুবহু গ্রহণ করেনি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি দেশের রাজস্ব, মূল্যস্ফীতি, বাজেট ঘাটতি, সরকারি ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন খসড়া তৈরি করেছে। বর্তমানে সেই খসড়ার ভিত্তিতেই গেজেট চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।