কর্মী ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত সফটওয়্যার ব্যবহার করে পক্ষপাতমূলকভাবে প্রতিবন্ধী ও চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকা কর্মীদের টার্গেট করার অভিযোগ উঠেছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে ওকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে মেটার ২৬ জন কর্মী একটি যৌথ মামলা দায়ের করেছেন। কর্মী ছাঁটাইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এটাই প্রথম মামলা।
ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্কসহ ছয়টি অঙ্গরাজ্যের ওই ২৬ জন কর্মী পরিচয় গোপন রেখে সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, চলতি বছরের শুরুতে মেটা যখন হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করে, তখন তারা কর্মীদের পারফরম্যান্স যাচাইয়ে মানুষের বদলে এআই সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর করেছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, মেটা কর্মীদের কাজের মূল্যায়ন করতে ‘মেটামেট’ নামক লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল এবং ‘সেকেন্ড ব্রেন’ নামের অভ্যন্তরীণ ট্র্যাকিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে। এই সফটওয়্যারগুলো কর্মীদের কি-বোর্ড চাপার হার (কীস্ট্রোক), স্ক্রিনের স্ক্রল করার তথ্য, ইমেইল ও ব্রাউজার হিস্ট্রি স্ক্যান করে একটি উৎপাদনশীলতার (প্রোডাক্টিভিটি) স্কোর তৈরি করত।যেহেতু গর্ভবতী, প্রতিবন্ধী বা অসুস্থ কর্মীরা শারীরিক জটিলতা বা পরিবারের সদস্যদের দেখাশোনার কারণে কাজে কিছুটা কম সময় দিয়েছেন, তাই এআই সিস্টেমে তাদের স্কোর কম এসেছে এবং তারাই ছাঁটাইয়ের তালিকায় পড়েছেন। কর্মীদের দাবি, এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক সিটির এআই পক্ষপাতিত্ব বিরোধী আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
বাদীদের আগামী ২২ জুলাইয়ের মধ্যে চাকরি থেকে বিদায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মেটার সাথে চুক্তি অনুযায়ী এই বিরোধ সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা হওয়ার কথা থাকলেও, কর্মীরা এই বৈষম্যমূলক ছাঁটাই প্রক্রিয়া এখনই সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে আদালতের কাছে প্রাথমিক রায় চেয়েছেন। অন্যদিকে, মেটা প্ল্যাটফর্মস এই দাবিগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) কম্পানির এক মুখপাত্র জানান, কর্মী ব্যবস্থাপনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত অতীতেও মানুষই নিয়েছে এবং এখনো মানুষই নেয়, কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেটা সম্প্রতি তাদের মোট কর্মীবাহিনীর ১০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ মেটাকে একটি এআই-কেন্দ্রিক কম্পানি হিসেবে রূপান্তরের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই এই সংস্কার প্রক্রিয়া চলছে। তবে জাকারবার্গ আশ্বস্ত করেছেন যে, চলতি বছরে আর নতুন করে কোনো ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা তাদের নেই।








