ব্রিটেনের সাবেক সরকারি মন্ত্রী অ্যান উইডিকম্বকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ। গত সপ্তাহে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীরা এখন হত্যার উদ্দেশ্য এবং হামলার পেছনে কোনো বড় পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ব্রিটেনের সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের প্রধান সহকারী কমিশনার লরেন্স টেইলর বলেন, প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি পরিকল্পিত হামলা বলে স্পষ্ট হয়েছে। তবে হামলার আগে কত দিন ধরে পরিকল্পনা করা হয়েছিল বা কীভাবে এটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে, তা এখনো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, তদন্তকারীরা হামলার পেছনের উদ্দেশ্যও জানার চেষ্টা করছেন। তবে তদন্তের এই পর্যায়ে হামলাকারীর উদ্দেশ্য বা তার কোনো নির্দিষ্ট মতাদর্শ ছিল কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি টেইলর। তার ভাষায়, এটি একটি জটিল তদন্ত। তাই সব তথ্য-প্রমাণ যাচাই না করে হামলাকারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
এ ঘটনার জেরে শনিবার গভীর রাতে এক শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করে স্থানীয় পুলিশ। প্রথমে তাকে উইডিকম্বকে হত্যার সন্দেহে আটক করা হয়। পরে সোমবার সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকে আবার গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এবার তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা, তার প্রস্তুতি নেওয়া বা এমন কর্মকাণ্ডে উসকানি দেওয়ার সন্দেহে তদন্ত চলছে। লরেন্স টেইলর বলেন, অ্যান উইডিকম্ব হত্যার তদন্ত এবং সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত তদন্ত- দুটি বিষয়ই একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
আরো পড়ুন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তদারকিতে নতুন সরকারি দপ্তর গড়ছে অস্ট্রেলিয়া
৭৮ বছর বয়সী অ্যান উইডিকম্ব ব্রিটিশ রাজনীতিতে পরিচিত মুখ ছিলেন। তিনি নাইজেল ফারাজের জনতাবাদী দল রিফর্ম ইউকের সদস্য ছিলেন। এর আগে তিনি দীর্ঘ সময় ব্রিটিশ রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং ২০১০ সালে পার্লামেন্ট থেকে অবসর নেন। গত বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গ্রামীণ এলাকায় নিজের বাড়িতে তার মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশের ভাষ্য, তার শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল, যা হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত দেয়। এই ঘটনার পর আবারও ব্রিটেনে রাজনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। গত এক দশকে দায়িত্ব পালনরত দুইজন ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য হত্যার শিকার হওয়ার পর থেকেই দেশটিতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা বড় একটি ইস্যু হয়ে রয়েছে।
সাংবাদিকরা জানতে চান, সন্দেহভাজন ব্যক্তি রিফর্ম ইউকের অন্য কোনো রাজনীতিককেও লক্ষ্য করেছিলেন কি না। তবে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি লরেন্স টেইলর। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনার তদন্তে পুলিশের অন্যতম দায়িত্ব হলো বর্তমানে জননিরাপত্তা বা অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য নতুন করে হুমকি রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া। একই সঙ্গে জনগণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশ্বস্ত করাও তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। টেইলর আরো বলেন, তদন্তের একটি আলাদা অংশে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়েও কাজ করা হবে। যদি নতুন কোনো হুমকির তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এই মুহূর্তে তিনি নিশ্চিত করে বলতে চাননি, বর্তমানে কোনো হুমকি রয়েছে কি না।