• ই-পেপার

দূষণের শীর্ষে কিনশাসা, ঢাকার বাতাসের খবর কী?

আইন ও বিচার বিভাগে ১২ জেলা রেজিস্ট্রারের পদোন্নতি

অনলাইন ডেস্ক
আইন ও বিচার বিভাগে ১২ জেলা রেজিস্ট্রারের পদোন্নতি

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ ১২ জন জেলা রেজিস্ট্রারকে পদোন্নতি দিয়ে নিবন্ধন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন (এআইজিআর) পদে পদায়ন করেছে।

সম্প্রতি আইন ও বিচার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪০,০০০-৫৩,১৭০ টাকা বেতন স্কেলের ষষ্ঠ গ্রেডে নিবন্ধন ক্যাডারভুক্ত সহকারী পরিদর্শক (আইআরঅ্যান্ডএস) পদ থেকে সহকারী মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন (এআইজিআর) পদে তাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন, মো. মোহছেন মিয়া (বরিশাল), মো. খন্দকার জামীলুর রহমান (চট্টগ্রাম), দীপক কুমার সরকার (পাবনা), মো. হেলাল উদ্দিন (ঠাকুরগাঁও), মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (টাঙ্গাইল), মুনসী মোখলেছুর রহমান (ঢাকা), মো. আবদুল মালেক (নেত্রকোণা), মুহাম্মদ আবু তালেব (যশোর), মহসীন আলম (ঝালকাঠি), মোহা: আবদুল হাফিজ (নারায়ণগঞ্জ), মো. মিজানুর রহমান (খুলনা) এবং মো. আব্দুল বারী (জয়পুরহাট)।

সাইবার সুরক্ষা আইনে কী কী পরিবর্তন এলো?

অনলাইন ডেস্ক
সাইবার সুরক্ষা আইনে কী কী পরিবর্তন এলো?
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশে সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত করা, সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধ শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ, দমন ও অপরাধের বিচারের জন্য জাতীয় সংসদে সম্প্রতি সাইবার সুরক্ষা আইন পাশ হয়েছে। গত ৩০ জুন এ সম্পর্কিত বিলটি সংসদে পাশ হয়েছে।

মূলত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালে যে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল সেটিই কিছু পরিমার্জনের পর বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা হয়েছিল। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা সাইবার নিরাপত্তা আইন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় সংগীত বা জাতীয় পতাকা সম্পর্কে বিদ্বেষসহ বিতর্কিত নয়টি ধারা বাতিল করে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার।

কিন্তু এই অধ্যাদেশেই সাইবার স্পেসে জুয়াখেলার অপরাধ ও দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এতে বলা হয়েছিল, জুয়াখেলার জন্য কোনো অ্যাপ, ডিভাইস তৈরি বা খেলায় অংশগ্রহণ বা সহায়তা করলে এবং উৎসাহ দিতে বিজ্ঞাপনে অংশ নিলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। তবে গত ৩০ জুন জাতীয় সংসদে সাইবার সুরক্ষায় যে আইন পাশ হয়েছে তাতে অধ্যাদেশের জুয়া বিষয়ক এই অংশটি পুরোপুরি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

তখন আইনটির ওপর সংসদে আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, ‘‘জুয়া প্রতিরোধ আইন পাস হওয়ায় সাইবার সুরক্ষা আইনে জুয়া সংক্রান্ত ধারা রাখার আর প্রয়োজন নেই। শুধু এই সেকশনটা সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬ থেকে বাদ হবে। এইটুকুই হচ্ছে আইন।’’

প্রসঙ্গত, ওই একই দিন অর্থাৎ ৩০ জুন তারিখেই সংসদে ডিজিটাল যুগের অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সি-ভিত্তিক জুয়া রুখতে সর্বসম্মতিতে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ পাশ করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ইতিমধ্যেই আইনে কার্যকর হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য প্রযুক্তি ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. বি এম মইনুল হোসেন বলছেন, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ থেকে সাইবার সুরক্ষা আইনে পরিণত হওয়ার মাধ্যমে অনেক পরিবর্তন এসেছে কিন্তু এতে আরো উন্নতির সুযোগ আছে, যেগুলো নজর দেওয়া উচিত।

তিনি আরো বলেন, ‘আগে এ সম্পর্কিত আইনের নিবর্তনমূলক ধারাগুলো এখন নেই। কয়েকটি ধারা ছাড়া অজামিনযোগ্য কিছু এখন আর নেই যা স্বস্তিকর। কিন্তু সরকারের কাছে নাগরিকের সুরক্ষা নিশ্চিতে ঘাটতি আছে। সরকারের জবাবদিহিতা কিভাবে হবে সেটা এই আইনে নেই। সরকারের কোনো সংস্থা নাগরিকের সাইবার অধিকার লঙ্ঘন করলে কি হবে সেই জবাবদিহিতার বিষয়টি আইনে নেই।’

সাইবার সুরক্ষায় নতুন কী এসেছে
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একজন প্রসিকিউটর এবং সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলছেন, নতুন সাইবার সুরক্ষা আইনকে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি বলে মনে করছেন।

তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর ডিপফেইক, ভুয়া তথ্য এবং ক্ষতিকর ডিজিটাল কনটেন্ট মোকাবেলায় আইনটি আগের তুলনায় আরো যুগোপযোগী হয়েছে। তবে এর শতভাগ কার্যকারিতা নির্ভর করবে অপরাধের দক্ষ ও দ্রুত তদন্ত, আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা ও আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের ওপর।’

বিশেষজ্ঞ ও আইনজ্ঞদের মতে, নতুন আইনে এআই দিয়ে তৈরি (ডিপ ফেইক) কনটেন্টকে স্পষ্টভাবে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। ফলে এখন থেকে এআই ব্যবহার করে ভুয়া ছবি, ভিডিও বা অডিও তৈরি করে কারো ক্ষতি করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। একই সঙ্গে ভুয়া তথ্য ও মানহানিকর কনটেন্ট এর সংজ্ঞা হালনাগাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে নতুন ধরনের বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট মোকাবেলার জন্য সংজ্ঞাগুলো সংশোধন করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইন প্ল্যাটফরমকে দ্রুত কনটেন্ট অপসারণের নির্দেশ দিতে পারবে।

তানভীর হাসান জোহা বলেন, ‘কিছু অপরাধের শাস্তি আরো কঠোর করা হয়েছে। বিশেষ করে এআই ব্যবহার করে প্রতারণা, ভুয়া তথ্য প্রচার বা মানহানির ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান জোরদার করা হয়েছে। সাইবার অপরাধ তদন্তের আইনি কাঠামো আরো স্পষ্ট করা হয়েছে।’

নতুন আইনের আওতায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং সরকার কর্তৃক অনুমোদিত অন্যান্য সংস্থাকে আপত্তিকর কনটেন্ট ব্লক করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা সফটওয়্যার ডেভেলপার বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা টুলস ব্যবহারকারী ইচ্ছা করে বা জেনে শুনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোতে বেআইনি প্রবেশ বা হ্যাকিং এ জড়িত হলে বা এর মাধ্যমে কোনো ক্ষতি করলে কমপক্ষে ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক কোটি টাকার অর্থদণ্ডও হতে পারে।

সাইবার স্পেসে জালিয়াতি কিংবা সাইবার স্পেস ব্যবহার করে প্রতারণা করলে ৫ বছরের জেল বা অনধিক৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডও হতে পারে।

এছাড়া সাইবার সন্ত্রাসী কার্য সংঘটন, আইনানুগ কর্তৃত্ব বহির্ভূত ই-ট্রানজিকশন এবং যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিং বা অশ্লীল বিষয়বস্তু প্রকাশ ছাড়াও ধর্মীয় ও জাতিগত বিষয়ে সহিংসতা, ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক তথ্য প্রকাশকে দণ্ডনীয় অপরাধ করা হয়েছে। এসব অপরাধের জন্য বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন আইনে সাইবার স্পেসে যৌন হয়রানি, কোনো ব্যক্তির অন্তরঙ্গ বা ব্যক্তিগত ছবি ভিডিও সংরক্ষণ বা সংরক্ষণে দাবি করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা বা হুমকি এবং রিভেঞ্জ পর্ণ শাস্তির আওতায় এসেছে।

আইনে বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালের বিচারক এই আইনের অধীন কোনো মামলার অভিযোগ গঠনের তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করবেন। সেটি না করা গেলে এ সময়সীমা সর্বোচ্চ ৯০ দিন বাড়ানো যাবে।

বিতর্কিত ৫৭ ধারা ও নিবর্তনের সুযোগ
বাংলাদেশে দীর্ঘ সামরিক শাসনের পর ১৯৯১ সালে রাজনৈতিক দলের শাসন চালুর পর দেশে বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং এর ফলে আইনকাঠামোগুলোতেও পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

এর ধারাবাহিকতায় ২০০১ সালে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন করা হয় এবং পরে ২০০৬ সালে বহুল সমালোচিত ৫৭ ধারা যুক্ত করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন তৈরি হয়।

ওই ধারায় বলা হয়েছিল ‘কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে মিথ্যা ও অশ্লীল কিছু প্রকাশ করলে, অন্যের মানহানি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ এবং কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানিকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে এর জন্য সর্বোচ্চ ১৪ বছরের ও সর্বনিম্ন সাত বছরের কারাদণ্ড কিংবা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকার অর্থদণ্ডের বিধান করা হয়েছিল।

এই ধারার আওতায় তখন অনেক সংবাদকর্মী, মানবাধিকার কর্মী ও রাজনৈতিক কর্মীকে মামলা দিয়ে কারাগারে নিক্ষেপের অভিযোগ উঠার পর আইনটি বাতিলের দাবিতে অনেকেই সোচ্চার হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু ২০১৩ সালে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা সংশোধন করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ করা হয়, যা আরও নিবর্তনমূলক বলে দেশে বিদেশে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনা কুড়িয়েছিল।

এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৩ সালে সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ করলেও তাতেও নিবর্তনমূলক ধারাগুলো বহাল রাখার অভিযোগ ওঠে। ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে ২০২৪ সালের অগাস্টে অন্তর্বর্তী সরকার ওই আইন বাতিল করে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ প্রণয়ন করে।

অধ্যাদেশটির পর্যালোচনা করে তখন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবি বলেছিল, এই অধ্যাদেশে নাগরিকদের ইন্টারনেট প্রাপ্তির অধিকারকে সাইবার সুরক্ষার ধারনার সংজ্ঞায় আনাটা তাৎপর্যপূর্ণ।

তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সাইবার স্পেসে নারীদের নিরাপত্তার দাবিটি আরো জোরালো হয়ে ওঠে। জুনের শুরুতে সংসদে একজন সদস্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি, বট নেটওয়ার্ক, এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া কনটেন্ট, নারী ও শিশুদের অনলাইনে হয়রানির বিষয়টি উত্থাপন করেন।

তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তৃতায় নিজেই উল্লেখ করেছিলেন যে, ‘‘কিছুদিন ধরে আমরা লক্ষ্য করছি, বাংলাদেশের সরকারের প্রধান তার স্ত্রী, তার কন্যা, আমার স্ত্রী কন্যা এবং অনেকের স্ত্রী ও কন্যা এবং সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অথবা প্রতিপক্ষ বিবেচনায় যে সমস্ত কন্টেন্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ভার্চুয়াল মিডিয়ায় প্রকাশিত হচ্ছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘স্বাধীনতার নামে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে যেসব কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে, সেটা আসলেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কি না, সেটা পুনরায় সংজ্ঞায়িত করা দরকার।’’

পরে ৩০ জুন সংসদে তিনি বলেন, ‘‘ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে চরিত্রহনন, অপতথ্য, গুজব, মানহানিকর কন্টেন্ট তৈরি এবং সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার বিষয়ে সরকার আলাদা উদ্যোগ নিচ্ছে। এসব বিষয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে, বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাই-বাছাই চলছে। পরে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনী বা বিল আনা হবে।’’

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো সংস্কারে সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণের তাগিদ বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর

বাসস
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো সংস্কারে সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণের তাগিদ বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত–ছবি : সংগৃহীত

পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত বন্যাকবলিত মানুষের অবস্থার উন্নতি এবং অবকাঠামোগত সংস্কার শুরু করতে সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার বান্দরবান পার্বত্য জেলায় অতিবৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় সংশ্লিষ্টদের তিনি এ তাগিদ দেন।

সভায় জেলার সার্বিক পরিস্থিতি, উন্নয়ন কার্যক্রম, জনদুর্ভোগ, অবকাঠামোগত সমস্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবার মতামত ও পর্যবেক্ষণ মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সমস্যা সমাধানে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, সংরক্ষিত নারী আসনের তিন পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাধবী মার্মা, বান্দরবানের ডিসি মো. সানিউল ফেরদৌস, পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি এবং জনপ্রতিনিধিরা।

মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার এ মানুষগুলোর দুঃখ-দুর্দশা নিরসণ, সদর হতে উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নসহ পার্বত্য এলাকার ক্ষয়-ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কাজ করতে হবে।

সবার প্রতি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকের কাছে নিজ নিজ দপ্তরের আওতাধীন প্রতিটি কাজের তথ্য-উপাত্ত যথাযথ ভাবে সংরক্ষণ করতে হবে যেন পুনর্বাসনের সময় কেউ বাদ না যায়।

উল্লেখ্য, গত ১০ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক বিশেষ সরকারি গেজেটের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিভাগে সাম্প্রতিক বন্যাজনিত দুর্যোগ মোকাবেলায় উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরো গতিশীল এবং সুসমন্বিত করার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়ার পরের দিন সকালে তিনি চট্টগ্রাম পৌঁছান। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ এবং সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে রাঙামাটি ও কক্সবাজারের বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও বিভিন্ন দপ্তরের দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রতিমন্ত্রী।

দেশকে আরো সবুজ করে গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাসস
দেশকে আরো সবুজ করে গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে আরও সবুজ করে গড়ে তুলতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি শিশুদের প্রতি বছর অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর অনুরোধ করেছেন।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানের আগে প্রধানমন্ত্রী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে সারা দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা হিসেবে তিনি একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে আজ দেশজুড়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একযোগে প্রায় ২ লাখ চারা রোপণ করা হচ্ছে।

উপস্থিত শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা চেষ্টা করবে প্রতি বছর একটি করে গাছ রোপণ করতে। সেটি তোমাদের স্কুলে হোক বা বাসার আশপাশে। যেখানে মনে করবে সেখানেই একটি করে গাছ রোপণ করবে।’

তিনি বলেন, ‘গাছটি কি পরিমাণ অক্সিজেন উৎপাদন করে, ওই গাছটি মানুষের কী কী উপকারে আসে এই বিষয়গুলো তোমরা ইন্টারনেট ঘেটে বিভিন্নভাবে রিসার্চ করবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘এভাবে প্রতি বছর তোমরা একটি করে গাছ সম্পর্কে নতুন কিছু জানতে পারবে। স্কুলে লাগানো গাছ বড় হলে সেটি তোমাদের ছায়া দেবে। ক্লান্ত হলে তোমরা সেই গাছের নিচে বিশ্রাম নিতে পারবে।’

তিনি বলেন, একইভাবে বাসায় যদি গাছ রোপণ করো, গাছটা যখন বড় হবে, সুন্দর বাতাস বইবে। ঘরে বসে তুমি বাতাস উপভোগ করতে পারবে। আবার পরিবেশটা অনেক ঠান্ডা হবে।

আজকের দিনটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ একটি স্মরণীয় দিন। আজ আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশের মাটিতে একসঙ্গে অনেকগুলো গাছ রোপণ করলাম।’

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী প্রাণ-প্রকৃতি বিষয়ক শিশু শিক্ষার্থীদের তৈরি বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে ঘুরে দেখেন।

এ সময় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।