• ই-পেপার

ম্যারাডোনার হাত দিয়ে করা সেই গোল কেন বাতিল হয়নি?

রাতে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল, কখন কিভাবে দেখবেন

ক্রীড়া ডেস্ক
রাতে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল, কখন কিভাবে দেখবেন
ছবি : রয়টার্স

ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের উন্মাদনা ও উত্তেজনার কোনো সীমা নেই। আর যদি হয় আর্জেন্টিনার ম্যাচ, তবে তো ভক্তদের আগ্রহের কোনো কমতি থাকে না। সেমিফাইনালে আজ রাত ১ টায় ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে আলবিসেলেস্তেরা।

ঘরে বসেই টিভিতে দেশের তিনটি চ্যানেলে দেখা যাবে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনার খেলা। রাষ্ট্রীয় চ্যানেল বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ছাড়াও এই ফুটবল মহাযজ্ঞের ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস ও সময় টেলিভিশন।

এছাড়া মোবাইল ফোন কিংবা ল্যাপটপ থেকেও ম্যাচগুলো উপভোগ করতে পারবেন দর্শকরা। তবে সেক্ষেত্রে সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে হবে।

নির্দিষ্ট সাবস্ক্রিপশন ফি দিয়ে মোবাইল ফোন ও স্মার্ট ডিভাইসে মাই রবি অ্যাপ, বাংলালিংকের টফি ও গ্রামীণফোনের বায়োস্কোপে ঘরে বসেই ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ উপভোগ করতে পারবেন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা। এ ছাড়া পাড়া-মহল্লার বিভিন্ন জায়গায় বড় পর্দায় দেখানো হচ্ছে বিশ্বকাপ।

ফাইনালে যাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে চান স্কালোনির ‘গুরু’ স্পেন কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
ফাইনালে যাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে চান স্কালোনির ‘গুরু’ স্পেন কোচ
সংগৃহীত ছবি

মাঠজুড়ে নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ আর চোখধাঁধানো ছন্দের প্রদর্শনীতে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে স্পেন। কিলিয়ান এমবাপ্পে-উসমান দেম্বেলেদের বিশ্বসেরা আক্রমণভাগকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রেখেছে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ফ্রান্স-বাধা পেরিয়ে শিরোপার মঞ্চে ওঠা স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে এখন অপেক্ষা করছেন ফাইনালের প্রতিপক্ষের। তবে মনে মনে স্প্যানিশ এই মাস্টারমাইন্ড ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে চাচ্ছেন আর্জেন্টিনাকে। কারণটা আর কিছু নয়, ডাগআউটে গুরু-শিষ্যের এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের আকাঙ্ক্ষা।

আর্জেন্টিনার ডাগআউটে থাকা লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে স্প্যানিশ কোচ লা ফুয়েন্তের সম্পর্কটা দীর্ঘদিনের ও বেশ গভীর। রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) কোচিং কোর্সে স্কালোনি যখন ছাত্র, তখন তার শিক্ষক বা ট্রেইনার ছিলেন এই লা ফুয়েন্তেই। ফলে স্কালোনির ফুটবল দর্শনের অনেকটাই গড়ে উঠেছে এই স্প্যানিশ গুরুর হাত ধরে।

আজ বুধবার দিবাগত রাতে আটালান্টায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। এই ম্যাচের জয়ী দলই ফাইনালে লড়বে স্পেনের বিপক্ষে। দুই প্রতিপক্ষকে নিয়েই সমীহ ঝরেছে লা ফুয়েন্তের কণ্ঠে। তার মতে, এবারের সেমিফাইনাল দুটি ছিল আসলে ‘আগাম ফাইনাল’।

তবে প্রিয় শিষ্যের সঙ্গে শিরোপার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে পারলে যে বাড়তি আনন্দ পাবেন, তা লুকাতে চাননি স্প্যানিশ কোচ, ‘স্কালোনির সঙ্গে আমার বন্ধুত্বের কারণে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে পারলে দারুণ লাগবে। তবে ইংল্যান্ডও অত্যন্ত কঠিন প্রতিপক্ষ। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দলের সবাই এবার সেমিফাইনালে উঠেছে, যা এই লড়াইয়ের গভীরতা প্রমাণ করে।’

এদিকে গুরুর এমন আকাঙ্ক্ষার জবাবে কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা ঝরেছে আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনির কণ্ঠেও। ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘লুইসের (লা ফুয়েন্তে) জন্য আমি খুবই খুশি। তিনি এই সাফল্যের পুরোপুরি যোগ্য। লুইস অসাধারণ একজন মানুষ এবং ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি সব সময় আমাকে সাহায্য করেছেন।’

ফাইনালে দেখা হলে তো কথাই নেই, তবে ম্যাচ শেষে গুরুকে ফোন করার ব্যাপারে মজার এক সমীকরণ দিয়েছেন কাতার বিশ্বকাপজয়ী এই কোচ, ‘(সেমিফাইনালে) যদি আমরা জিতি, তাহলে হয়তো ফাইনালের আগে তাকে ফোন করব না। আর যদি হেরে যাই, তবে হয়তো তার সাহায্য চাইব। তবে আমার আশা, ফাইনাল শেষ হওয়ার আগে তাকে ফোন করার প্রয়োজন হবে না।’

হারের দায় নিজের কাঁধে নিয়ে যা বললেন এমবাপ্পে

ক্রীড়া ডেস্ক
হারের দায় নিজের কাঁধে নিয়ে যা বললেন এমবাপ্পে
ছবি : রয়টার্স

টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন নিয়ে টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে মাঠে নেমেছিল দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে স্প্যানিশ ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল ফরাসিদের সেই স্বপ্ন। স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হলো গতবারের রানার্স আপদের। ম্যাচ শেষে দল হেরে যাওয়ার সব দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। একই সঙ্গে দলের দুর্বল রণকৌশল ও মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিতেও দ্বিধা করেননি রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড।

ডালাসের সেমিফাইনালে শুরু থেকেই মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের পকেটে পুরে নিয়েছিল স্পেন। রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজের নিখুঁত পাসিং আর গতি নিয়ন্ত্রণের সামনে ফ্রান্সের মাঝমাঠ ছিল পুরোপুরি দিশাহারা।

ম্যাচ শেষে নিজের হতাশা ও কৌশলগত ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে এমবাপ্পে বলেন, ‘মাঝমাঠে আমরা ছিলাম তিনজন, অথচ ওরা ছিল দুজন। কিন্তু রদ্রি ও ফাবিয়ান এতটাই সময় ও জায়গা পেয়েছে যে খুব সহজেই খেলা নিয়ন্ত্রণ করেছে। আমাদের প্রেসিংয়ে যোগাযোগের বড় অভাব ছিল। আমার মনে হয়, ম্যান-টু-ম্যান প্রেসিং করা উচিত ছিল আমাদের।’

চলতি বিশ্বকাপে প্রথম ছয় ম্যাচে ১৬ গোল করা ফ্রান্সের বিধ্বংসী আক্রমণভাগ স্পেনের রক্ষণদুর্গে এসে পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়ে। ম্যাচের ২২ মিনিটে ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিগনের ভুল ফাউল থেকে পেনাল্টি পায় স্পেন। ঠাণ্ডা মাথায় স্পট কিক থেকে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন মিকেল ওয়ারজাবাল। এরপর দ্বিতীয় অর্ধের শুরুতেই স্প্যানিশ রাইট-ব্যাক পেদ্রো পোরোর দারুণ এক গোল ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফ্রান্সের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয়।

দলের ব্যর্থতা নিয়ে এমবাপ্পে আরো যোগ করেন, ‘কৌশলগত বা মাঠের খেলা—কোনো দিক থেকেই আমরা আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারিনি। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো মঞ্চে যা করা দরকার, তা করতে না পারলে, জেতার কোনো সুযোগ থাকে না। বল পায়ে আমরা খুবই এলোমেলো ছিলাম। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ওদের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করতে পারিনি।’

দ্বিতীয়ার্ধে খেলায় ফিরতে মরিয়া ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম অভিজ্ঞ আদ্রিয়ান রাবিওকে তুলে নিয়ে মাঠে নামান তরুণ দেজিরে দুয়ে ও রায়ান চেরকিকে। কিন্তু স্পেনের জমাট রক্ষণ ও গোছানো ফুটবলের সামনে সেই জুয়াও কোনো কাজে আসেনি। পুরো টুর্নামেন্টে ৮টি গোল করা এমবাপ্পেকে এই ম্যাচে বোতলবন্দি করে রাখেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডাররা।

অধিনায়ক হিসেবে এই হারের গ্লানি মেনে নিয়ে এমবাপ্পে বলেন, ‘দলের অধিনায়ক হিসেবে এই হারের সব দায় আমি নিজের কাঁধেই নিচ্ছি, এতে আমার কোনো দ্বিধা নেই। আমরা ফাইনালে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি।’

বিশ্বকাপের স্বপ্ন ভাঙলেও এমবাপ্পের সামনে এখনো সুযোগ থাকছে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের মতো এবারও ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ গোলদাতার ‘গোল্ডেন বুট’ নিজের করে নেওয়ার। বর্তমানে ৮টি গোল নিয়ে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন তিনি।

আগামী শনিবার রাতে মায়ামি গার্ডেন্সে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নামবে ফ্রান্স। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে আজ রাতের আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের পরাজিত দলটি।
 

মেসি-এমবাপ্পের গোল সমান হলে কে জিতবেন গোল্ডেন বুট?

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসি-এমবাপ্পের গোল সমান হলে কে জিতবেন গোল্ডেন বুট?
ছবি : রয়টার্স

শেষের পথে এসে পৌঁছেছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ মহোৎসব। ফ্রান্সের স্বপ্ন ভেঙে ইতিমধ্যে ফাইনালে পা রেখেছে স্পেন। তবে ফরাসিদের বিশ্বকাপ মিশন ট্র্যাজেডিতে শেষ হলেও দলটির অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের সামনে এখনো সুযোগ থাকছে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ গৌরব ‘গোল্ডেন বুট’ নিজের করে নেওয়ার। আগামী ১৮ জুলাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নামবে ফ্রান্স। আর এই ম্যাচটিই এমবাপ্পেকে লিওনেল মেসির সঙ্গে গোল্ডেন বুটের দ্বৈরথে একধাপ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।

বর্তমানে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ৮টি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন মেসি ও এমবাপ্পে। তবে আর্জেন্টিনা অধিনায়কের সামনে সুযোগটা একটু বেশি। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আলবিসেলেস্তেরা। অর্থাৎ, মেসি নিশ্চিতভাবেই আরো দুটি ম্যাচ (সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল অথবা তৃতীয় স্থান নির্ধারণী) খেলার সুযোগ পাচ্ছেন।

কিন্তু প্রশ্ন হলো—টুর্নামেন্ট শেষে যদি মেসি ও এমবাপ্পে উভয়ের গোলসংখ্যা সমান থাকে, তবে গোল্ডেন বুট কার হাতে উঠবে? ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, এই পুরস্কার যৌথভাবে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিজয়ী নির্ধারণে ব্যবহার করা হবে সূক্ষ্ম কিছু টাইব্রেকার মানদণ্ডে। 

গোল সমান হলে সবার আগে দেখা হবে অ্যাসিস্ট বা গোল করানোর সংখ্যা। এই জায়গায় বর্তমানে মেসির চেয়ে এগিয়ে আছেন এমবাপ্পে। ফরাসি তারকার অ্যাসিস্ট ৩টি, অন্যদিকে মেসির অ্যাসিস্ট ২টি। ফলে গোলসংখ্যা অপরিবর্তিত থাকলে বাজিমাত করবেন এমবাপ্পেই।

অ্যাসিস্টের সংখ্যাও যদি সমান হয়ে যায়, তবে দেখা হবে কে কত কম সময় মাঠে খেলেছেন। যিনি তুলনামূলক কম মিনিট খেলে সমান গোল ও অ্যাসিস্ট করেছেন, তিনিই পাবেন গোল্ডেন বুট।

সবকিছুতেই টাই হলে শেষ পর্যন্ত দেখা হবে পেনাল্টি ছাড়া মাঠের স্বাভাবিক খেলা (ওপেন প্লে) থেকে কার গোল বেশি। এই মানদণ্ডে আবার সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন লিওনেল মেসি। চলতি বিশ্বকাপে মেসি দুটি পেনাল্টি পেলেও অস্ট্রিয়া ও মিসরের গোলরক্ষকের নৈপুণ্যে তা জালে জড়াতে পারেননি। অর্থাৎ, তার ৮টি গোলের সবকটিই এসেছে ওপেন প্লে থেকে। বিপরীতে, এমবাপ্পে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে একটি গোল করেছেন। ফলে এই মানদণ্ড পর্যন্ত হিসাব গড়ালে ট্রফি যাবে মেসির শোকেসে।

মেসি-এমবাপ্পের রাজত্বে হানা দেওয়ার অপেক্ষায় আছেন আরো কয়েকজন তারকা। ৬টি করে গোল নিয়ে তাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম। সেমিফাইনাল ও পরবর্তী ম্যাচের পারফরম্যান্স তাদেরও বসিয়ে দিতে পারে সিংহাসনে। এ ছাড়া ৫টি করে গোল করা উসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স) ও মিকেল ওয়ারসাবালের (স্পেন) সামনেও রয়েছে ব্যবধান ঘুচানোর সুযোগ।

তবে দুর্ভাগ্য আর্লিং হালান্ডের। ৭টি গোল করে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও তার দল নরওয়ে টুর্নামেন্ট থেকে আগেই ছিটকে যাওয়ায় গোল্ডেন বুটের দৌড় থেকে ছিটকে গেছেন এই ম্যান সিটি তারকা।