• ই-পেপার

পে স্কেলে বদলাচ্ছে ইনক্রিমেন্ট নীতি, কোন গ্রেডে কত?

শেষ হলো জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক
শেষ হলো জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন
সংগৃহীত ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শেষ হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশন সমাপনী-সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ঘোষণা পাঠের মাধ্যমে দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

এ অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস হয়। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিত বর্তমান বিএনপি সরকারের এটি প্রথম বাজেট।

গত ৭ জুন বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১১ জুন জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন।

গত ৭ জুন শুরু হওয়া অধিবেশন ২৬ কার্যদিবস চলার পর আজ ১৫ জুলাই শেষ হয়। বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা ১৪ কার্যদিবসে মোট ৪৮ ঘণ্টা ৫১ মিনিট স্থায়ী হয়। এতে ৩১৬ জন সংসদ-সদস্য অংশ নেন। এ ছাড়া ১০টি সরকারি বিল পাস হয়েছে।

কার্যপ্রণালি-বিধির ৭১ বিধি অনুযায়ী ৭১৫টি নোটিশ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২৪টি গৃহীত হয় এবং ২২টি নোটিশের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ৭১(ক) বিধি অনুযায়ী ১২৫টি দুই মিনিটের নোটিশ আলোচিত হয়েছে। ১৩১ বিধি অনুযায়ী চারটি সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ওপর আলোচনা ও নিষ্পত্তি হয়েছে।

এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উত্তরদানের জন্য ২৭৮টি প্রশ্ন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৫টি প্রশ্নের উত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের জন্য ৫ হাজার ৩১টি প্রশ্ন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৭৪টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। এ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিসহ মোট ১১টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া কার্য উপদেষ্টা কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।

শিগগিরই ১০ হাজার পুলিশ নিয়োগ

অনলাইন ডেস্ক
শিগগিরই ১০ হাজার পুলিশ নিয়োগ
সংগৃহীত ছবি

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো উন্নত করতে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে একটি পেশাদার বাহিনীতে পরিণত করা। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগেই আমরা উল্লেখ করেছি, আমরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে চাই এবং সেটিরই অংশ হিসেবে বর্তমান সরকার ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সরকার কোনোর ধরনের চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না।’

আইন-শৃঙ্খলার পাশাপাশি দুর্নীতি দমনের বিষয়েও সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতি দমন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের অগ্রাধিকার। বর্তমান সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি স্বৈরাচারের সময় কিভাবে প্রতিবছর এই দেশ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার করে দেওয়া হয়েছে। এই দুর্নীতিকে যেকোনোভাবেই হোক, সেটি হাত বেঁধেই হোক, টুঁটি চেপেই হোক, যেকোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।’

সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে সরকারের প্রধান দায়িত্ব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষের অন্যতম চাওয়া হচ্ছে একটি নিরাপদ পরিবেশ। একজন কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ছোট ব্যবসায়ী—যে-ই হোক না কেন, প্রত্যেক মানুষ চায় দিনশেষে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে এবং পরিবার নিয়ে নিরাপদে চলাফেরা করতে।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই আমরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে আরো পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’

সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের সরকার। বর্তমান সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার। আমরা জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করি এবং সম্মান করি।’

তিনি আরো বলেন, ‘জনগণের জীবন এবং সম্পদ সুরক্ষা সরকারের পবিত্র আমানত। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে রাষ্ট্র ও সরকার হবে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক আর নাগরিকের জীবন হবে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সম্ভাবনাময়।’

সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে চালু হবে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’

অনলাইন ডেস্ক
সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে চালু হবে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’
সংগৃহীত ছবি

ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানি কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা ও আর্থিক সুবিধা পর্যায়ক্রমে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ডে’ একীভূত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য হলো বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য চালু থাকা সব ধরনের সুবিধা একটি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা, যাতে নাগরিকরা সহজে রাষ্ট্রীয় সেবা পান।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার বাংলাদেশের জনগণ দ্বারা নির্বাচিত একটি সরকার। অবশ্যই এই সরকারের লক্ষ্য একটি—জনগণ, জনগণ এবং বাংলাদেশের জনগণ।’

তিনি বলেন, ‘জনগণকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের সম্মানি দেওয়ার যে বিষয়গুলো আমরা উল্লেখ করেছিলাম, প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেই কাজগুলো আমরা শুরু করেছি।’

সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিটি সেক্টরের মানুষের কাছে আর্থিক সুবিধাসংবলিত বিভিন্ন ধরনের যেই কার্ডগুলো আছে, আমরা সফলভাবে সেগুলো পৌঁছে দেওয়ার কাজ পর্যায়ক্রমিকভাবে শুরু করেছি।’

তিনি আরো বলেন, “কিন্তু এই সবগুলোকে একসময় আমরা একটি কার্ডের মধ্যে নিয়ে আসতে চাই। সে জন্যই আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি পর্যায়ক্রমিকভাবে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, প্রবাসী কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানির কার্ড—সবকিছু আমরা ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ নামে একটি কার্ডের ভেতরেই নিয়ে আসব।”

সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসব সুবিধা নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রের করুণা নয়, বরং এগুলো রাষ্ট্রের দায় জনগণের প্রতি।’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র যদি নাগরিকদের দায় মেটাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণ এবং রাষ্ট্র—উভয়ই দুর্বল হয়ে পড়বে।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার শুধু বিভিন্ন কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা দেবে না, একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপরও জোর দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের অন্যতম মূল লক্ষ্য হচ্ছে এই বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনশক্তির জন্য কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা। বিভিন্ন সেক্টরে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, যার ফলে আমরা পর্যায়ক্রমে কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবো বলে আশা করি।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, তথ্য-প্রযুক্তি, যোগাযোগ ও পরিবহন, ব্লু-ইকোনমি, ইকো-ট্যুরিজমসহ বিভিন্ন খাতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি বিদেশে কর্মসংস্থান সহজ করতে ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণও চালু করা হয়েছে।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী

‘বে টার্মিনাল’ চালু হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে শুভসূচনা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
‘বে টার্মিনাল’ চালু হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে শুভসূচনা হবে

চট্টগ্রামে ‘বে টার্মিনাল’ চালু হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে শুভসূচনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সরওয়ার জামাল নিজামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সংসদ সদস্যের প্রশ্ন ছিল, বিগত সরকার ‘বে টার্মিনাল’ নামে সমুদ্রবন্দর করার নামে কোটি কোটি টাকা অপচয় করে অসমাপ্ত অবস্থায় এটা ফেলে গেছে। এই এই  পরিপ্রেক্ষিতে আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চাচ্ছি, এই বে টার্মিনাল এবং চট্টগ্রাম বন্দরকে আধুনিকীকরণের জন্য বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার কী কী পদক্ষেপ নেবে?

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রশ্নের ডিটেইলটা এই মুহূর্তে আমার কাছে নেই। আপনি নোটিশ দিলে আমি আপনাকে ডিটেইলটা জানাতে সক্ষম হবো। তবে বে টার্মিনাল—এটার বাস্তবায়নের পরিকল্পনা আমরা নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আপনাকে আমি বলতে পারি যে বে টার্মিনালটা চালু হলে পরে অবশ্যই এটার একটা উপকারিতা সামগ্রিকভাবে অর্থনীতি এবং দেশ পাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বে টার্মিনাল চালু হলে বড় আকারের আমাদের মাদার ভেসেল সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়তে পারবে। এখন নাব্যতার জন্য অনেক সময় বড় জাহাজ আসতে পারে না। যখন বড় জাহাজগুলো মাদার ভেসেলগুলো আসবে এর ফলে স্বাভাবিকভাবে ট্রান্স ব্যয় বা খরচ অনেক কমে আসবে। একই সঙ্গে বড় জাহাজগুলো আসার পরে এবং বে টার্মিনাল চালু হলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের গতি বৃদ্ধি পাবে এবং স্বাভাবিকভাবে যেহেতু ব্যবসা-বাণিজ্যে বা আমদানি রপ্তানির গতি বৃদ্ধি পাবে, এটি জাতীয় অর্থনীতিতে একটি বড় ইতিবাচক ভূমিকাও রাখবে।’

‘এখানে দুর্নীতি হলে ব্যবস্থা’

সরওয়ার জামাল নিজামের সম্পূক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাকে জানাতে চাই যে চট্টগ্রাম বন্দরটি দেশের সম্পদ এবং এটি একটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ, জনগণের সম্পদ। এখানে কোনো কাজ করতে গিয়ে যদি দুর্নীতি হয়ে থাকে, সেটি যখনই হয়ে থাকুক না কেন, অবশ্যই দেশের আইন অনুযায়ী যারা এর জন্য রেসপন্সিবল তাদের বিচার হবে।’

তিনি বলেন, ‘একই সঙ্গে আমাদের সরকারের প্রচেষ্টা থাকবে যেকোনো জায়গায় রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় যেন না হয় এবং একই সঙ্গে আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে যে দুর্নীতিমুক্ত একটি পরিবেশ পর্যায়ক্রমিকভাবে গড়ে তোলা।’