• ই-পেপার

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাই মাসের বেতন নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের ২৮ কর্মকর্তাকে বদলি

অনলাইন ডেস্ক
বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের ২৮ কর্মকর্তাকে বদলি

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের ২৮ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জন সহকারী অধ্যাপক ও ১৭ জন প্রভাষক রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগামী ২২ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবমুক্ত না হলে ওই দিন অপরাহ্ণে তাদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য করা হবে। এ ছাড়া প্রত্যেক কর্মকর্তাকে নিজ নিজ পিডিএসে লগইন করে অবমুক্তি ও নতুন কর্মস্থলে যোগদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজস্ব আবেদনের ভিত্তিতে এ বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। ফলে এ বদলির ক্ষেত্রে তারা কোনো ধরনের ভ্রমণ ভাতা (টিএ) বা দৈনিক ভাতা (ডিএ) পাবেন না।

জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঐতিহাসিক ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত

অনলাইন ডেস্ক
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঐতিহাসিক ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত

ঐতিহাসিক ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও কোটা সংস্কার আন্দোলনে শহীদ হওয়া ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান বলেন, ১৬ জুলাই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ২০২৪ সালের এই দিনে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদসহ অসংখ্য তরুণ অন্যায়, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে জীবন উৎসর্গ করেন। এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তাঁদের আত্মত্যাগ জাতিকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণের প্রেরণা জুগিয়েছে এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে আরো শক্তিশালী করেছে। 

তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ কেবল স্মরণ করার বিষয় নয়, বরং তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের প্রস্তুত করা প্রয়োজন। শিক্ষা, গবেষণা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে তিনি জুলাই শহীদদের আদর্শ ও আত্মত্যাগকে ধারণ করে শিক্ষার মানোন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্যে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম এর সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইলিয়াছ ছিদ্দিকী, ট্রেজারার জনাব শাহীনুল ইসলাম, কামিল (স্নাতকোত্তর) শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ডিন প্রফেসর ড. মো. ইদ্রিস আলী, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ফাহাদ আহমদ মোমতাজী, মাদরাসা পরিদর্শক (অ. দা.) প্রফেসর ড. মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী, অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক জনাব মো. আবুবকর সিদ্দিক, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ও প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর মো. নওসের আলী, প্রফেসর ড. এ. কে মুহা. নুরুল ইসলাম, উপ-পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. জিয়াউর রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ।

আলোচনাসভা শেষে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা, আহতদের সুস্থতা এবং দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

বাংলাদেশের দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে মাদরাসা শিক্ষাকে মূলধারায় অন্তর্ভুক্তি জরুরি

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশের দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে মাদরাসা শিক্ষাকে মূলধারায় অন্তর্ভুক্তি জরুরি
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে দেশের সব ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থাকে, বিশেষ করে মাদরাসা শিক্ষাকে, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানমুখী কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, জনসংখ্যাগত সুবিধা (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) কাজে লাগাতে হলে শুধু বিপুলসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠী থাকাই যথেষ্ট নয়; তাদের আধুনিক অর্থনীতির চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার কওমি মাদরাসায় প্রায় ৭০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। পাশাপাশি ৯ হাজারের বেশি আলিয়া মাদরাসায় প্রায় ১৪ লাখ শিক্ষার্থী এবং হাজারো ইবতেদায়ি প্রতিষ্ঠানে আরও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। অর্থাৎ দেশের ভবিষ্যৎ কর্মশক্তির একটি বড় অংশ মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে গড়ে উঠছে।

বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, ভবিষ্যতের যে বাংলাদেশকে শিল্প, প্রযুক্তি ও সেবাভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেই বাস্তবতার জন্য কি এসব শিক্ষার্থীকে যথাযথভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে?

সরকার আগামী দিনে বাংলাদেশকে উৎপাদনশিল্প, প্রযুক্তি ও সেবাখাতের আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। তৈরি পোশাকশিল্পের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইলেকট্রনিক্স, ওষুধশিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, লজিস্টিকস, কৃষিভিত্তিক শিল্পসহ বিভিন্ন উন্নত খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা ঘোষণা করলেই বিদেশি বিনিয়োগ আসে না। বিনিয়োগকারীরা সবার আগে জানতে চান- দেশে পর্যাপ্ত দক্ষ প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ, প্রোগ্রামার, ইলেকট্রিশিয়ান, যন্ত্রচালক, মাননিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা এবং ডিজিটাল দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী রয়েছে কি না। একই সঙ্গে কর্মীদের যোগাযোগ দক্ষতা, দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতাও বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীও স্বীকার করেছেন, কওমি মাদরাসায় বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়নের জন্য এখনও সমন্বিত কোনও জাতীয় নীতিমালা নেই। তবে ধর্মীয় পাঠ্যক্রম অক্ষুণ্ন রেখে ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার সরকারি উদ্যোগকে ইতিবাচক সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের ইসলামি শিক্ষা ও গবেষণার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে আলিয়া মাদরাসা থেকে অসংখ্য আলেম ও গবেষক তৈরি হয়েছেন। ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে একই সঙ্গে বাস্তবতাও হলো, অনেক কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থী উচ্চতর গণিত, বিজ্ঞান, কম্পিউটার শিক্ষা, ব্যবসায় শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং পেশাভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে মেধা ও আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তাদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র সীমিত হয়ে পড়ে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বাংলাদেশ কার্যালয়ের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স তুননের পর্যবেক্ষণও একই বার্তা দেয়। তার মতে, বাংলাদেশের মূল চ্যালেঞ্জ শুধু বেশি মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়া নয়; বরং শিক্ষা ব্যবস্থাকে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। ব্যবসায়ীরা নিয়মিতভাবে যে ঘাটতির কথা তুলে ধরেন, তার মধ্যে রয়েছে যোগাযোগ দক্ষতা, দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা, ডিজিটাল সাক্ষরতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং কর্মক্ষেত্রে দ্রুত নতুন বিষয় শেখার মানসিকতা।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব দক্ষতা এখন আর অতিরিক্ত যোগ্যতা নয়; আধুনিক কর্মক্ষেত্রের মৌলিক চাহিদায় পরিণত হয়েছে। তাই কোটি কোটি তরুণ যদি জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কাঠামোর বাইরে থেকে যায়, তাহলে দক্ষ জনশক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা কঠিন হবে।

মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষাকে সমন্বিত করেছে। তুরস্কে রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ইমাম হাতিপ বিদ্যালয়ে ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, গণিত, ভাষা ও সাধারণ শিক্ষা দেওয়া হয়। সৌদি আরবেও জাতীয় পাঠ্যক্রমের আওতায় ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গণিত ও আধুনিক ভাষা শিক্ষা যুক্ত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশকে অন্য কোনও দেশের মডেল অনুসরণ করতে হবে- এমন নয়। তবে ধর্মীয় শিক্ষা ও আধুনিক শিক্ষা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং পরিপূরক- এই ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের কয়েকটি ধর্মীয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাকিস্তানের কিছু প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষা সহযোগিতা স্বাভাবিক বিষয় হলেও এ ধরনের অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং যথাযথ সরকারি তদারকি থাকা জরুরি। কারণ, এসব সহযোগিতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা, পাঠ্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

তাদের মতে, পাকিস্তান নিজেও শিক্ষা সংস্কার ও ধর্মীয় শিক্ষার আধুনিকীকরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। ফলে যেকোনও আন্তর্জাতিক শিক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, শিক্ষা মানোন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মাদরাসা শিক্ষাকে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থায় গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী- সে মাদরাসা, স্কুল বা অন্য যেকোনও প্রতিষ্ঠানের হোক- আধুনিক কর্মবাজারে প্রতিযোগিতা করার মতো দক্ষতা অর্জন করবে।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, বাংলাদেশের উচ্চ-মধ্যম আয়ের এবং বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে দেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষাখাতগুলোর একটিকে জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের বাইরে রাখা যাবে না। এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে মাদরাসা থেকে পাস করা একজন শিক্ষার্থীও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কারখানা, সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, হাসপাতাল, সরকারি দপ্তর কিংবা প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানে কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন।

তাদের মতে, বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো- দেশ কি লাখো তরুণকে দক্ষতার এই বিপ্লবের বাইরে রেখে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করতে পারবে? একটি উচ্চ-মধ্যম আয়ের, বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়তে আগ্রহী দেশের জন্য উত্তরটি স্বতঃসিদ্ধ হওয়া উচিত।

খুবি

উপাচার্যের মতবিনিময়সভায় অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষক, সমালোচনা

খুবি প্রতিনিধি
উপাচার্যের মতবিনিময়সভায় অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষক, সমালোচনা
সংগৃহীত ছবি

যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দুই বছরের জন্য অব্যাহতি পাওয়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. রুবেল আনছার উপাচার্যের সঙ্গে অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মতবিনিময় সভায় আমন্ত্রণ পেয়েছেন। তবে শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাকে এ সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়। এ নিয়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুলাই বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের চতুর্থ তলার সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর'স অ্যাওয়ার্ড, ইউজিসি অ্যাওয়ার্ড, বিইউএস-ইউএসডিএ অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং চলমান বিইউএস-ইউএসডিএ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নূরুন্নবীসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আমন্ত্রনের বিষয়ে অধ্যাপক ড. রুবেল আনছার বলেন, ‘হ্যাঁ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাকে ইনভাইটেশন দিয়েছে তাই আমি গিয়েছিলাম। এটা অনেক আগের এ্যাওয়ার্ড, সেই সূত্র ধরে হয়তো ডেকেছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা তো ওই বিষয়টি দেখিনি, অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত হিসেবে আমন্ত্রণ করেছি। উনি মিটিংয়ে আলোচনায় আসছে, উনার দক্ষতা আমরা নেওয়ার চেষ্টা করেছি। কোনো কর্মকাণ্ড উনি অংশগ্রহণ করবে না ২ বছর, কিন্তু উনাকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে, যেহেতু উনি অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত। এজন্য উনার মতামত নেওয়ার জন্য, উনার মতামত যদি আমাদের কাজে লাগে তাহলে কেন আসবে না উনি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, অধ্যাপক ড. রুবেল আনছারের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের দুটি অভিযোগের মধ্যে একটি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দুই বছরের জন্য পাঠদান, পরীক্ষা গ্রহণসহ সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অন্য অভিযোগটি প্রমাণিত না হওয়ায় সে অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ২৩৪তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা আরো তীব্র হয়েছে। গত ১৬ জুন এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে একই ডিসিপ্লিনের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীর অভিযোগের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। অভিযোগে বলা হয়, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ও অশালীন বার্তা পাঠিয়েছেন। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।