• ই-পেপার

বঙ্গোপসাগরে ফের লঘুচাপ সৃষ্টি, ভারি বর্ষণ নিয়ে নতুন বার্তা

চার শতাধিক নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব অনুমোদন

প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভা

মাহমুদুল হাসান
চার শতাধিক নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব অনুমোদন

নতুন অর্থবছরের শুরুতেই প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির প্রথম সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পক্ষ থেকে অন্তত ১৩টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। এসব প্রস্তাবের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নতুন পদ সৃষ্টি, বিদ্যমান পদ পুনর্বিন্যাস, নিয়োগবিধিমালা অনুমোদন এবং নতুন প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো নির্ধারণ। সব মিলিয়ে যেসব প্রস্তাবে নির্দিষ্ট সংখ্যক জনবল উল্লেখ রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়িত হলে অন্তত ৪২৭টি নতুন পদ সৃষ্টি হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

তবে সচিব কমিটির সভায় প্রস্তাব উত্থাপন মানেই তা চূড়ান্ত অনুমোদন নয়। প্রতিটি প্রস্তাব এখন অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের অনুমোদনের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করবে। আর্থিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা এবং নীতিগত অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে অনেক প্রস্তাবেই পরিবর্তন আসতে পারে কিংবা কিছু প্রস্তাব স্থগিতও হতে পারে। নতুন অর্থবছরের শুরুতেই অনুষ্ঠিত এই সভা সরকারের প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে গবেষণা, তথ্যব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ মোকাবিলা, শিক্ষা ও সামাজিক সেবায় জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক কাঠামোকেও পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে।

সভায় প্রতিনিধির বদলে সচিবদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক

এবারের সভার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সংশ্লিষ্ট সচিবদের সরাসরি উপস্থিতি নিশ্চিত করা। দীর্ঘদিন ধরে এই কমিটির সভায় সচিবদের পরিবর্তে অতিরিক্ত সচিব বা অন্য প্রতিনিধিরা অংশ নিতেন। কিন্তু এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রস্তাব উপস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হওয়ার অভিযোগ ছিল। এ পরিস্থিতিতে সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নির্দেশনা দিয়েছে, প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় সংশ্লিষ্ট সচিবদেরই উপস্থিত থাকতে হবে। বিশেষ কারণে প্রতিনিধি পাঠাতে হলে আগেই মন্ত্রিপরিষদ সচিবের অনুমতি নিতে হবে এবং তার যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে হবে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য এই পরিবর্তনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তবে মূল প্রশ্ন রয়ে গেছে- এই সম্প্রসারণ কতটা দক্ষ প্রশাসন নিশ্চিত করবে এবং কতটা নতুন আর্থিক বোঝা তৈরি করবে। রাষ্ট্রের সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে প্রতিটি নতুন পদ সৃষ্টির ক্ষেত্রে প্রয়োজন, ফলপ্রসূতা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যয়- এই তিনটি বিষয়কেই সমান গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করতে হবে। শেষ পর্যন্ত সরকারের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কোন কোন প্রস্তাব টিকে থাকে এবং বাস্তবে কতগুলো পদ সৃষ্টি হয়, সেটিই এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়।

সবচেয়ে বড় জনবল সমাজসেবা ও নৌবাহিনীতে

সভায় সবচেয়ে বেশি জনবল সৃষ্টির প্রস্তাব এসেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে ২৫ শয্যাবিশিষ্ট আটটি ‘শান্তি নিবাস’-এর জন্য ৭২টি রাজস্ব খাতের পদ এবং আটজন খণ্ডকালীন চিকিৎসকসহ মোট ৮০টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রবীণ ও অসহায় মানুষের জন্য পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরেই জনবল সংকটের অভিযোগ রয়েছে। সেই ঘাটতি পূরণেই এই উদ্যোগ বলে জানা গেছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সেন্টার ফর নেভাল রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিএনআরডি)-এর জন্য ৫২টি নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর সাংগঠনিক কাঠামোর একটি পদের নাম পরিবর্তনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সামরিক গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নে জনবল বৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সরকারিকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ সরকারিকৃত নয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের আত্তীকরণের লক্ষ্যে ৬০টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারিকরণের পরও অনেক শিক্ষক-কর্মচারীর চাকরির কাঠামোগত অনিশ্চয়তা ছিল। এবার সেই বিষয়টি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হচ্ছে। শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, আত্তীকরণ সম্পন্ন হলে একদিকে শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমও আরও সুসংগঠিত হবে।

রোহিঙ্গা সংকট ও দুর্যোগ মোকাবিলায় নতুন জনবল

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রস্তাব সভায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এর একটি কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা প্রকল্পের আওতায় নির্মিত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের গুদাম ও স্যাটেলাইট ফায়ার স্টেশন পরিচালনার জন্য ৩৯টি নতুন পদ। অন্যটি স্ট্রেনদেনিং অ্যাবিলিটি অব ফায়ার ইমার্জেন্সি রেসপন্স (সেইফার) প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ইমার্জেন্সি রেসপন্স কন্ট্রোল সেন্টার পরিচালনার জন্য আরো ৩০টি পদ সৃষ্টি। আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় নির্মিত এসব অবকাঠামো পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল না থাকলে সরকারি বিনিয়োগের প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া সম্ভব হবে না।

বন্দর, সড়ক ও গণপূর্তেও নতুন নিয়োগের প্রস্তাব

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় ও চালুকৃত স্থলবন্দরগুলোর জন্য ১৫টি নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য চারজন ভারী ও হালকা যানবাহনের চালকের পদ ভূতাপেক্ষ অনুমোদনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ বগুড়া সড়ক জোন এবং নওগাঁ সড়ক সার্কেলের জন্য ৩২টি নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় স্থাপত্য অধিদপ্তরের আটটি আউটসোর্সিংভিত্তিক অফিস সহায়কের পদ রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করতে চায়।

প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আউটসোর্সিংয়ের পরিবর্তে নিয়মিত জনবল কাঠামোয় এসব পদ অন্তর্ভুক্ত হলে প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বাড়বে।

গবেষণা, তথ্যব্যবস্থাপনা ও ব্লু ইকোনমিতে গুরুত্ব

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির (এনএপিডি) আইসিটি শাখার জন্য দুটি নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দিয়েছে। এদিকে, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ তাদের সাংগঠনিক কাঠামোয় ১৭টি নতুন পদ যুক্ত করতে চায়। তথ্যনির্ভর নীতি প্রণয়ন এবং সরকারি পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে আধুনিক করার প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

একই সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অধীন নতুন গঠিত ব্লু-ইকোনমি সেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগবিধিমালা-২০২৬ অনুমোদনের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সভায় উত্থাপিত প্রায় সব প্রস্তাবই রাজস্ব খাতে নতুন পদ সৃষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ এসব পদ অনুমোদিত হলে ভবিষ্যতে বেতন-ভাতা, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা সুবিধা, পেনশনসহ বিভিন্ন আর্থিক দায় সরকারের নিয়মিত ব্যয়ের অংশ হয়ে যাবে। অন্যদিকে প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের যুক্তি, নতুন হাসপাতাল, ফায়ার স্টেশন, গবেষণা কেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা বন্দর নির্মাণ করে প্রয়োজনীয় জনবল না দিলে অবকাঠামো কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। তাই জনবল বৃদ্ধি সব সময় অপচয় নয়; বরং কার্যকর জনসেবা নিশ্চিত করার জন্য এটি অনেক ক্ষেত্রেই অপরিহার্য।

পে স্কেলের গেজেট নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

অনলাইন ডেস্ক
পে স্কেলের গেজেট নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
সংগৃহীত ছবি

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গঠিত সচিব কমিটি আরো দুই থেকে তিনটি সভা শেষে চূড়ান্ত সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেবে। এরপর মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললে আগামী আগস্টের প্রথম সপ্তাহেই নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।

বুধবার (১৫ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা কমিটির ষষ্ঠ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নবম জাতীয় বেতন কমিশনের বিভিন্ন সুপারিশ পর্যালোচনার পাশাপাশি অষ্টম বেতনকাঠামোর সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটিগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় অংশ নেওয়া পর্যালোচনা কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যাতে কোনো ধরনের অসন্তোষ বা বৈষম্যের অভিযোগ না ওঠে, সে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে প্রতিটি সুপারিশ গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ২০১৫ সালে অষ্টম বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের পর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। একই সময়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল না। অতীতের সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার আরো সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে কমিটি।

পর্যালোচনা কমিটির সূত্র জানায়, সদস্যরা নীতিগতভাবে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন মূল বেতন এবং ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বিভিন্ন ভাতা কার্যকর করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে বিষয়টি চূড়ান্ত না করে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

কমিটিতে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বৃদ্ধি না করে নিম্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার পক্ষে অধিকাংশ সদস্য মত দিয়েছেন।

এ ছাড়া বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা পুনর্বিন্যাসের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে মূল বেতন ও ভাতা একসঙ্গে কার্যকর হবে, নাকি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।

সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমছে না
সংগৃহীত ছবি

উপসচিব থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের মাসিক গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ৫০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তা থেকে সরে এসেছে সরকার। ফলে কর্মকর্তাদের গাড়ির মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ আগের মতোই ৫০ হাজার টাকা বহাল থাকছে।

শুধু বেসামরিক সরকারি কর্মকর্তাই নন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রাধিকারভুক্ত কর্মকর্তারাও এই সুবিধা পেয়ে আসছেন।

জানা গেছে, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমানোর বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে গত এক সপ্তাহ ধরে চিঠি চালাচালি হয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনেকের মধ্যেই একধরনের অসন্তোষ দেখা দেয়।

গত ৯ জুলাই গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সেই বিষয়ে কোনো কার্যক্রম গ্রহণ না করার জন্য বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে অর্থ বিভাগ। এর মধ্য দিয়ে এই খরচ ৫০ হাজার টাকাই বহাল রইল।

এদিকে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটায় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে এ বিষয়ে একটি আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে।

প্রাধিকারভুক্ত সরকারি কর্মকর্তারা গাড়ি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা করে সুদমুক্ত ঋণ পেয়ে আসছিলেন। তবে গত ৯ জুলাই এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই ঋণ সুবিধা বন্ধ করে দেয় সরকার। সুদমুক্ত ঋণের টাকায় কেনা গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ প্রতি মাসে কর্মকর্তাদের ৫০ হাজার টাকা দেয় সরকার। এটি কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে গত ১৩ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় অর্থ বিভাগ। তবে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কীভাবে কমানো যায়, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওপরই ছেড়ে দিয়েছিল অর্থ বিভাগ।

ব্যয় কমানোর পক্ষে যুক্তি দিয়ে অর্থ বিভাগের পাঠানো চিঠিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছিল, সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে আনা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের অসন্তোষ ও উদ্ভূত পরিস্থিতির মুখে সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটল সরকার।

উপবৃত্তির নামে ওটিপি চেয়ে প্রতারণা, সতর্ক করল শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট

অনলাইন ডেস্ক
উপবৃত্তির নামে ওটিপি চেয়ে প্রতারণা, সতর্ক করল শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট
সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের আওতায় পরিচালিত সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির স্কিম পরিচালকের পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে ফোন করে ওটিপি ও অন্যান্য তথ্য চেয়ে প্রতারণার চেষ্টা করছে একটি চক্র। এমন অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করে কোনো অবস্থাতেই ওটিপি, পাসওয়ার্ড বা উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তথ্য অপরিচিত কারো কাছে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট।

বুধবার (১৫ জুলাই) ট্রাস্টের সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির উপপরিচালক অধ্যাপক শ. ম. সাইফুল আলমের সই করা এক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতারকচক্র সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির স্কিম পরিচালকের পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ফোন করে ওটিপিসহ অন্যান্য তথ্য জানতে চাইছে। এ ধরনের ফোনকলের ভিত্তিতে কোনো ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে। 

এতে আরো বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে কখনোই ওটিপি জানার জন্য যোগাযোগ করেন না।

বিজ্ঞপ্তিতে সব উপজেলা ও থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং স্কিমভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কোনো অবস্থাতেই ওটিপি, পাসওয়ার্ড বা উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য অন্য কারো কাছে প্রদান বা হস্তান্তর না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টিকে ‘অতীব জরুরি’ উল্লেখ করে ট্রাস্ট জানিয়েছে, উপবৃত্তি কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রতারণা এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।