জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং এই আদেশের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের সংগঠন বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিলের নেতারা।
বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁরা এ দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সংবিধানে সরাসরি গণ-অভ্যুত্থানের কোনো বিধান না থাকলেও ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। যখন নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিবর্তনের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়, তখন জনগণ গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমেই তাদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটায়। এই গণ-অভ্যুত্থান থেকেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের ম্যান্ডেট লাভ করেছে।
তিনি আরো বলেন, সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের আলোকে সুপ্রিম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার থাকলেও, সরকার বৈধ না অবৈধ, সে সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা আদালতের নেই। জনগণ যখন কোনো সরকার গঠন করে, সেটিই হয় ওই সরকারের বৈধতার মূল ভিত্তি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের আইনি ভিত্তি নিয়ে শিশির মনির বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশই ছিল সেই নির্বাচনের একমাত্র আইনি ভিত্তি। এই সনদের মাধ্যমেই রাষ্ট্র সংস্কারের একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশই জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায় প্রকাশের একমাত্র আইনগত মাধ্যম। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের আইনি দলিল ও বর্তমানে কার্যকর আইন। এই আইন মানার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপুসহ প্রমুখ।





