• ই-পেপার

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঐতিহাসিক ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত

বাংলাদেশের দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে মাদরাসা শিক্ষাকে মূলধারায় অন্তর্ভুক্তি জরুরি

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশের দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে মাদরাসা শিক্ষাকে মূলধারায় অন্তর্ভুক্তি জরুরি
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে দেশের সব ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থাকে, বিশেষ করে মাদরাসা শিক্ষাকে, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানমুখী কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, জনসংখ্যাগত সুবিধা (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) কাজে লাগাতে হলে শুধু বিপুলসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠী থাকাই যথেষ্ট নয়; তাদের আধুনিক অর্থনীতির চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার কওমি মাদরাসায় প্রায় ৭০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। পাশাপাশি ৯ হাজারের বেশি আলিয়া মাদরাসায় প্রায় ১৪ লাখ শিক্ষার্থী এবং হাজারো ইবতেদায়ি প্রতিষ্ঠানে আরও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। অর্থাৎ দেশের ভবিষ্যৎ কর্মশক্তির একটি বড় অংশ মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে গড়ে উঠছে।

বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, ভবিষ্যতের যে বাংলাদেশকে শিল্প, প্রযুক্তি ও সেবাভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেই বাস্তবতার জন্য কি এসব শিক্ষার্থীকে যথাযথভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে?

সরকার আগামী দিনে বাংলাদেশকে উৎপাদনশিল্প, প্রযুক্তি ও সেবাখাতের আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। তৈরি পোশাকশিল্পের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইলেকট্রনিক্স, ওষুধশিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, লজিস্টিকস, কৃষিভিত্তিক শিল্পসহ বিভিন্ন উন্নত খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা ঘোষণা করলেই বিদেশি বিনিয়োগ আসে না। বিনিয়োগকারীরা সবার আগে জানতে চান- দেশে পর্যাপ্ত দক্ষ প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ, প্রোগ্রামার, ইলেকট্রিশিয়ান, যন্ত্রচালক, মাননিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা এবং ডিজিটাল দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী রয়েছে কি না। একই সঙ্গে কর্মীদের যোগাযোগ দক্ষতা, দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতাও বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীও স্বীকার করেছেন, কওমি মাদরাসায় বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়নের জন্য এখনও সমন্বিত কোনও জাতীয় নীতিমালা নেই। তবে ধর্মীয় পাঠ্যক্রম অক্ষুণ্ন রেখে ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার সরকারি উদ্যোগকে ইতিবাচক সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের ইসলামি শিক্ষা ও গবেষণার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে আলিয়া মাদরাসা থেকে অসংখ্য আলেম ও গবেষক তৈরি হয়েছেন। ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে একই সঙ্গে বাস্তবতাও হলো, অনেক কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থী উচ্চতর গণিত, বিজ্ঞান, কম্পিউটার শিক্ষা, ব্যবসায় শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং পেশাভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে মেধা ও আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তাদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র সীমিত হয়ে পড়ে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বাংলাদেশ কার্যালয়ের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স তুননের পর্যবেক্ষণও একই বার্তা দেয়। তার মতে, বাংলাদেশের মূল চ্যালেঞ্জ শুধু বেশি মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়া নয়; বরং শিক্ষা ব্যবস্থাকে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। ব্যবসায়ীরা নিয়মিতভাবে যে ঘাটতির কথা তুলে ধরেন, তার মধ্যে রয়েছে যোগাযোগ দক্ষতা, দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা, ডিজিটাল সাক্ষরতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং কর্মক্ষেত্রে দ্রুত নতুন বিষয় শেখার মানসিকতা।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব দক্ষতা এখন আর অতিরিক্ত যোগ্যতা নয়; আধুনিক কর্মক্ষেত্রের মৌলিক চাহিদায় পরিণত হয়েছে। তাই কোটি কোটি তরুণ যদি জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কাঠামোর বাইরে থেকে যায়, তাহলে দক্ষ জনশক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা কঠিন হবে।

মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষাকে সমন্বিত করেছে। তুরস্কে রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ইমাম হাতিপ বিদ্যালয়ে ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, গণিত, ভাষা ও সাধারণ শিক্ষা দেওয়া হয়। সৌদি আরবেও জাতীয় পাঠ্যক্রমের আওতায় ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গণিত ও আধুনিক ভাষা শিক্ষা যুক্ত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশকে অন্য কোনও দেশের মডেল অনুসরণ করতে হবে- এমন নয়। তবে ধর্মীয় শিক্ষা ও আধুনিক শিক্ষা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং পরিপূরক- এই ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের কয়েকটি ধর্মীয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাকিস্তানের কিছু প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষা সহযোগিতা স্বাভাবিক বিষয় হলেও এ ধরনের অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং যথাযথ সরকারি তদারকি থাকা জরুরি। কারণ, এসব সহযোগিতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা, পাঠ্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

তাদের মতে, পাকিস্তান নিজেও শিক্ষা সংস্কার ও ধর্মীয় শিক্ষার আধুনিকীকরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। ফলে যেকোনও আন্তর্জাতিক শিক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, শিক্ষা মানোন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মাদরাসা শিক্ষাকে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থায় গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী- সে মাদরাসা, স্কুল বা অন্য যেকোনও প্রতিষ্ঠানের হোক- আধুনিক কর্মবাজারে প্রতিযোগিতা করার মতো দক্ষতা অর্জন করবে।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, বাংলাদেশের উচ্চ-মধ্যম আয়ের এবং বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে দেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষাখাতগুলোর একটিকে জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের বাইরে রাখা যাবে না। এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে মাদরাসা থেকে পাস করা একজন শিক্ষার্থীও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কারখানা, সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, হাসপাতাল, সরকারি দপ্তর কিংবা প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানে কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন।

তাদের মতে, বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো- দেশ কি লাখো তরুণকে দক্ষতার এই বিপ্লবের বাইরে রেখে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করতে পারবে? একটি উচ্চ-মধ্যম আয়ের, বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়তে আগ্রহী দেশের জন্য উত্তরটি স্বতঃসিদ্ধ হওয়া উচিত।

খুবি

উপাচার্যের মতবিনিময়সভায় অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষক, সমালোচনা

খুবি প্রতিনিধি
উপাচার্যের মতবিনিময়সভায় অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষক, সমালোচনা
সংগৃহীত ছবি

যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দুই বছরের জন্য অব্যাহতি পাওয়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. রুবেল আনছার উপাচার্যের সঙ্গে অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মতবিনিময় সভায় আমন্ত্রণ পেয়েছেন। তবে শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাকে এ সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়। এ নিয়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুলাই বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের চতুর্থ তলার সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর'স অ্যাওয়ার্ড, ইউজিসি অ্যাওয়ার্ড, বিইউএস-ইউএসডিএ অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং চলমান বিইউএস-ইউএসডিএ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নূরুন্নবীসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আমন্ত্রনের বিষয়ে অধ্যাপক ড. রুবেল আনছার বলেন, ‘হ্যাঁ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাকে ইনভাইটেশন দিয়েছে তাই আমি গিয়েছিলাম। এটা অনেক আগের এ্যাওয়ার্ড, সেই সূত্র ধরে হয়তো ডেকেছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা তো ওই বিষয়টি দেখিনি, অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত হিসেবে আমন্ত্রণ করেছি। উনি মিটিংয়ে আলোচনায় আসছে, উনার দক্ষতা আমরা নেওয়ার চেষ্টা করেছি। কোনো কর্মকাণ্ড উনি অংশগ্রহণ করবে না ২ বছর, কিন্তু উনাকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে, যেহেতু উনি অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত। এজন্য উনার মতামত নেওয়ার জন্য, উনার মতামত যদি আমাদের কাজে লাগে তাহলে কেন আসবে না উনি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, অধ্যাপক ড. রুবেল আনছারের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের দুটি অভিযোগের মধ্যে একটি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দুই বছরের জন্য পাঠদান, পরীক্ষা গ্রহণসহ সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অন্য অভিযোগটি প্রমাণিত না হওয়ায় সে অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ২৩৪তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা আরো তীব্র হয়েছে। গত ১৬ জুন এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে একই ডিসিপ্লিনের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীর অভিযোগের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। অভিযোগে বলা হয়, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ও অশালীন বার্তা পাঠিয়েছেন। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সব স্কুল ও কলেজের জন্য জরুরি নির্দেশনা মাউশির

অনলাইন ডেস্ক
সব স্কুল ও কলেজের জন্য জরুরি নির্দেশনা মাউশির
সংগৃহীত ছবি

দেশের সব স্কুল ও কলেজে শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

মাউশি অধিদপ্তরের সাধারণ প্রশাসন শাখার এক আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আদেশে স্ব-স্ব অঞ্চল ও দপ্তরের অধীনস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই তদারকি নিশ্চিত করতে মাউশির মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইংয়ের পরিচালক, দেশের সকল অঞ্চলের পরিচালক ও উপ-পরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা ও থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের মাঠপর্যায়ে এই মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করতে বলা হয়েছে।
 

ক্যাডার বঞ্চিতের অভিযোগ, টানা ১২ দিনের আন্দোলনে শেকৃবি শিক্ষার্থীরা

শেকৃবি প্রতিনিধি
ক্যাডার বঞ্চিতের অভিযোগ, টানা ১২ দিনের আন্দোলনে শেকৃবি শিক্ষার্থীরা
সংগৃহীত ছবি

ডিগ্রি জটিলতা ও ক্যাডার বঞ্চিতের অভিযোগ তুলে ত্দন্তের দাবিতে টানা ১২ দিনের মতো আন্দোলন করছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) এনিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএসভিএম) অনুষদের শিক্ষার্থীরা। ৪৭তম বিসিএসের টেকনিক্যাল ক্যাডারের ফল প্রকাশের পর ডিগ্রি জটিলতার কারণে ক্যাডার বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে গত ৫ জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি পালন করছেন তারা। 

বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীরা মাথায় লাল ফিতা বেঁধে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ, হিউম্যান নেমিং, গ্রাফিতি অঙ্কনসহ বিভিন্ন প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করছেন। টেকনিক্যাল ক্যাডারের ফলাফলে সম্ভাব্য কারিগরি ত্রুটির সুনির্দিষ্ট তদন্ত এবং বৈষম্য নিরসনের উদ্যোগ না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানান তারা।

শিক্ষার্থীদের দাবি, টেকনিক্যাল ক্যাডারের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এএসভিএম অনুষদের প্রায় ১৮ জন পরীক্ষার্থীর কেউই চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হননি। তাঁদের অভিযোগ, আবেদন কোড বা অন্য কোনো কারিগরি জটিলতার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি।


শেকৃবির এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের  ভেটেরিনারি মেডিসিন ও এনিম্যাল সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিবৃতির মাধ্যমে তারা আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান।

১৮ জন ভাইভা দেওয়ার পরেও কেউ সুপারিশপ্রাপ্ত না হওয়ার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৪৭তম বিসিএসে শেকৃবি থেকে প্রায় ৪০ জন বিভিন্ন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তবে এএসভিএম অনুষদের প্রায় ১৮ জন শিক্ষার্থী প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে টেকনিক্যাল ক্যাডারের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিলেও প্রকাশিত ফলাফলে ৭১টি টেকনিক্যাল ক্যাডার পদের একটিতেও তাদের নাম আসেনি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এতসংখ্যক পরীক্ষার্থী চূড়ান্ত মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার পরও একজনও সুপারিশপ্রাপ্ত না হওয়ায় বিষয়টি স্বাভাবিক নয় এবং এটি তদন্তের দাবি রাখে।

আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন সংযোজিত কোড নিয়ে মূলত সমস্যা হয়ে থাকতে পারে এমন অভিযোগ করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ৪৭তম বিসিএসে প্রথমবারের মতো কম্বাইন্ড ডিগ্রিধারীদের জন্য পৃথক আবেদন কোড (৬৪৭) সংযোজন করা হয়। এর আগে ৪৬তম বিসিএস এবং ৪৭তম বিসিএসের প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তিতে এ ধরনের কোনো কোড ছিল না। সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন কোড চালুর ফলে আবেদন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে। শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা, এই পরিবর্তনের সঙ্গে টেকনিক্যাল ক্যাডারের ফলাফলের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

তবে শুধু বিসিএস নয়, কম্বাইন্ড ডিগ্রিধারী শিক্ষাথীদের নিয়োগের বিভিন্ন ক্ষেত্রে  বৈষম্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। এ বিষয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, সমস্যা শুধু ৪৭তম বিসিএসে সীমাবদ্ধ নয়। কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালুর প্রায় দেড় দশক পরও পশুপালন ও ভেটেরিনারি-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি চাকরি এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে তাঁরা কাঙ্ক্ষিত সুযোগ পাননি।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই)সহ বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় ধরে এএসভিএম ডিগ্রিধারীদের নিয়োগ হয়নি। এমনকি বহু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করার সুযোগ থেকেও তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন।

কম্বাইন্ড ডিগ্রিধারী রাকিব নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছি। আমাদের ডিগ্রির সঙ্গে সম্পর্কিত গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশে দীর্ঘদিন একজনকেও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এখন সেই বৈষম্যের তালিকায় পিএসসিও যুক্ত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও স্থায়ী সমাধান চাই।’

আন্দোলন কর্মসূচির ৪ দফা দাবি সম্পর্কে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, টেকনিক্যাল ক্যাডারের ফলাফল পুনর্মূল্যায়ন, সম্ভাব্য কারিগরি ত্রুটি তদন্ত এবং কম্বাইন্ড ডিগ্রিধারীদের নিয়োগ-সংক্রান্ত বৈষম্য স্থায়ীভাবে দূর করতে হবে। দাবি পূরণ না হলে 'লং মার্চ টু পিএসসি' ও 'লং মার্চ টু বিএলআরআই'-সহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে একাধিক দফায় বৈঠক করেছে। উপাচার্যের তত্ত্বাবধানে গঠিত একটি কমিটি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ বলেন,‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। ইতোমধ্যে পিএসসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুসন্ধান এবং ডিগ্রির কোড-সংক্রান্ত সম্ভাব্য সমস্যা পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছে। বিষয়টি সময়সাপেক্ষ হলেও আমরা ইতিবাচক সমাধানের প্রত্যাশা করছি। পাশাপাশি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বরত কর্তৃপক্ষের  কাছেও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।’