যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দুই বছরের জন্য অব্যাহতি পাওয়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. রুবেল আনছার উপাচার্যের সঙ্গে অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মতবিনিময় সভায় আমন্ত্রণ পেয়েছেন। তবে শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাকে এ সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়। এ নিয়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুলাই বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের চতুর্থ তলার সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর'স অ্যাওয়ার্ড, ইউজিসি অ্যাওয়ার্ড, বিইউএস-ইউএসডিএ অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং চলমান বিইউএস-ইউএসডিএ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নূরুন্নবীসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
আমন্ত্রনের বিষয়ে অধ্যাপক ড. রুবেল আনছার বলেন, ‘হ্যাঁ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাকে ইনভাইটেশন দিয়েছে তাই আমি গিয়েছিলাম। এটা অনেক আগের এ্যাওয়ার্ড, সেই সূত্র ধরে হয়তো ডেকেছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা তো ওই বিষয়টি দেখিনি, অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত হিসেবে আমন্ত্রণ করেছি। উনি মিটিংয়ে আলোচনায় আসছে, উনার দক্ষতা আমরা নেওয়ার চেষ্টা করেছি। কোনো কর্মকাণ্ড উনি অংশগ্রহণ করবে না ২ বছর, কিন্তু উনাকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে, যেহেতু উনি অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত। এজন্য উনার মতামত নেওয়ার জন্য, উনার মতামত যদি আমাদের কাজে লাগে তাহলে কেন আসবে না উনি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, অধ্যাপক ড. রুবেল আনছারের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের দুটি অভিযোগের মধ্যে একটি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দুই বছরের জন্য পাঠদান, পরীক্ষা গ্রহণসহ সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অন্য অভিযোগটি প্রমাণিত না হওয়ায় সে অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ২৩৪তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা আরো তীব্র হয়েছে। গত ১৬ জুন এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে একই ডিসিপ্লিনের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীর অভিযোগের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। অভিযোগে বলা হয়, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ও অশালীন বার্তা পাঠিয়েছেন। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।






