• ই-পেপার

ক্যাডার বঞ্চিতের অভিযোগ, টানা ১২ দিনের আন্দোলনে শেকৃবি শিক্ষার্থীরা

খুবি

উপাচার্যের মতবিনিময় সভায় অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষক, সমালোচনা

খুবি প্রতিনিধি
উপাচার্যের মতবিনিময় সভায় অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষক, সমালোচনা
সংগৃহীত ছবি

যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দুই বছরের জন্য অব্যাহতি পাওয়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. রুবেল আনছার উপাচার্যের সঙ্গে অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মতবিনিময় সভায় আমন্ত্রণ পেয়েছেন। তবে শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাকে এ সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়। এ নিয়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুলাই বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের চতুর্থ তলার সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর'স অ্যাওয়ার্ড, ইউজিসি অ্যাওয়ার্ড, বিইউএস-ইউএসডিএ অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং চলমান বিইউএস-ইউএসডিএ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নূরুন্নবীসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আমন্ত্রনের বিষয়ে অধ্যাপক ড. রুবেল আনছার বলেন, ‘হ্যাঁ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাকে ইনভাইটেশন দিয়েছে তাই আমি গিয়েছিলাম। এটা অনেক আগের এ্যাওয়ার্ড, সেই সূত্র ধরে হয়তো ডেকেছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা তো ওই বিষয়টি দেখিনি, অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত হিসেবে আমন্ত্রণ করেছি। উনি মিটিংয়ে আলোচনায় আসছে, উনার দক্ষতা আমরা নেওয়ার চেষ্টা করেছি। কোনো কর্মকাণ্ড উনি অংশগ্রহণ করবে না ২ বছর, কিন্তু উনাকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে, যেহেতু উনি অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত। এজন্য উনার মতামত নেওয়ার জন্য, উনার মতামত যদি আমাদের কাজে লাগে তাহলে কেন আসবে না উনি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, অধ্যাপক ড. রুবেল আনছারের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের দুটি অভিযোগের মধ্যে একটি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দুই বছরের জন্য পাঠদান, পরীক্ষা গ্রহণসহ সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অন্য অভিযোগটি প্রমাণিত না হওয়ায় সে অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ২৩৪তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা আরো তীব্র হয়েছে। গত ১৬ জুন এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে একই ডিসিপ্লিনের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীর অভিযোগের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। অভিযোগে বলা হয়, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ও অশালীন বার্তা পাঠিয়েছেন। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সব স্কুল ও কলেজের জন্য জরুরি নির্দেশনা মাউশির

অনলাইন ডেস্ক
সব স্কুল ও কলেজের জন্য জরুরি নির্দেশনা মাউশির
সংগৃহীত ছবি

দেশের সব স্কুল ও কলেজে শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

মাউশি অধিদপ্তরের সাধারণ প্রশাসন শাখার এক আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আদেশে স্ব-স্ব অঞ্চল ও দপ্তরের অধীনস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই তদারকি নিশ্চিত করতে মাউশির মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইংয়ের পরিচালক, দেশের সকল অঞ্চলের পরিচালক ও উপ-পরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা ও থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের মাঠপর্যায়ে এই মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করতে বলা হয়েছে।
 

সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্য : ইউজিসি চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক
সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্য : ইউজিসি চেয়ারম্যান

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেছেন, ‘আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন বা ডিজিটাল রূপান্তরের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ও দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বিদ্যমান ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।’

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রমের প্রথম ধাপে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরবচ্ছিন্ন উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা হবে। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল ক্লাসরুম, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা অবকাঠামো এবং স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের যেকোনো অঞ্চলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গবেষণা এবং ডিজিটাল জ্ঞানভাণ্ডার ব্যবহারের সমান সুযোগ পাবেন। বিদেশি গবেষণা জার্নাল, ই-বুক, গবেষণা নিবন্ধ এবং অন্যান্য ডিজিটাল রিসোর্সে সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নের পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্ঞানচর্চার সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা বাড়বে।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, দেশকে ডিজিটাল রূপান্তরের পথে এগিয়ে নেওয়া এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেট বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের গ্র্যাজুয়েটদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা বিশ্বের যেকোনো দেশের কর্মবাজারে দক্ষতা ও যোগ্যতার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারেন। এ জন্য শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত, ভাষাগত ও পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে হবে।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি অনুষদের অধীনে ২৫টি বিভাগে প্রায় ১১ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে আউটকাম-বেইজড কারিকুলামের ভিত্তিতে পাঠদান পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে গবেষকদের আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে গবেষণা প্রকাশের পরিধিও ক্রমে বাড়ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে উপাচার্য বেসিক সায়েন্স বিষয়ে নতুন বিভাগ চালু, প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ এবং অবকাঠামো উন্নয়নে ইউজিসির সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

মাভাবিপ্রবিতে প্রথমবারের মতো নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য গ্রুমিং ও কাউন্সেলিং সেশন

মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি
মাভাবিপ্রবিতে প্রথমবারের মতো নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য গ্রুমিং ও কাউন্সেলিং সেশন
ছবি : কালের কণ্ঠ

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ইঞ্জিনিয়ারিং, অনার্স ও বিফার্ম প্রথম বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে পৃথকভাবে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এবারের ওরিয়েন্টেশনে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ। বিভাগের পক্ষ থেকে নবীন শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দিয়ে তাদের বরণ করে নেওয়া হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে এ আয়োজন করা হয়।

আয়োজকরা জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচির অনুপ্রেরণায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই নবীন শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ বি এম শহিদুল ইসলাম। এ সময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. ফজলুল করিম, প্রক্টর প্রফেসর ড. মনির মোর্শেদ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক এবং নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য প্রফেসর ড. এ বি এম শহিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বাত্মকভাবে কাজ করবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে শিক্ষার্থীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরো জানান, প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহযোগিতায় আগামী ১৮ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত চার দিনব্যাপী নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য গ্রুমিং ও কাউন্সেলিং সেশনের আয়োজন করা হয়েছে। এ কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত, একাডেমিক ও পেশাগত বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের অন্যতম শীর্ষ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি বিভাগে স্নাতক (ইঞ্জিনিয়ারিং/অনার্স/বিফার্ম) প্রথম বর্ষে মোট ৯০৯ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন।