• ই-পেপার

ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনা ও বন্দরে হামলার দাবি রাশিয়ার

মানবজাতির সময় কি ফুরিয়ে আসছে?

অনলাইন ডেস্ক
মানবজাতির সময় কি ফুরিয়ে আসছে?
ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

মানবজাতি আর কতদিন পৃথিবীতে টিকে থাকবে—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তৈরি একটি বিতর্কিত গাণিতিক তত্ত্ব আবারও আলোচনায় এসেছে। এর জেরে বিজ্ঞান ও দর্শনের একটি পুরোনো বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। প্রশ্নটি হলো, মানুষের বিলুপ্তি কি আমাদের ধারণার চেয়ে অনেক কাছাকাছি?

সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য মেট্রো' এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। প্রতিবেদনে 'ডুমসডে আর্গুমেন্ট' নামে পরিচিত একটি তত্ত্বের কথা বলা হয়েছে। এটি এমন একটি গাণিতিক ও সম্ভাবনাভিত্তিক ধারণা, যা মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি পরিসংখ্যানগত ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি কোনো নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়। বরং সম্ভাবনার ভিত্তিতে তৈরি একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ। তাই এটি নিয়ে এখনো বিজ্ঞানী ও দার্শনিকদের মধ্যে ব্যাপক মতভেদ রয়েছে। ‘ডুমসডে আর্গুমেন্ট’ তত্ত্বের ভিত্তি হলো 'কোপার্নিকান নীতি'। এই নীতিতে বলা হয়, মহাবিশ্বে বা ইতিহাসে মানুষের অবস্থান বিশেষ বা ব্যতিক্রমী নয়। অর্থাৎ আমরা এমন কোনো অনন্য সময়ে বাস করছি—এমনটা ধরে নেওয়ার কারণ নেই। এই ধারণা প্রথম দেন জ্যোতির্পদার্থবিদ ব্র্যান্ডন কার্টার। পরে মহাবিশ্ববিজ্ঞানী জে. রিচার্ড গট তত্ত্বটিকে আরো বিস্তৃত করেন। তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যদি ধরা হয় অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতে জন্ম নেওয়া সব মানুষের মধ্যে আপনি একজন এলোমেলো ব্যক্তি, তাহলে পরিসংখ্যানগতভাবে ধরে নেওয়া কঠিন হয়ে যায় যে মানবজাতির সামনে এখনো খুব দীর্ঘ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। তবে এই তত্ত্বে কোথাও বলা হয় না যে পৃথিবী কবে ধ্বংস হবে বা কী কারণে মানবজাতির বিলুপ্তি ঘটবে। এটি শুধু সম্ভাবনার ভিত্তিতে একটি হিসাব তুলে ধরে।
 
ডুমসডে আর্গুমেন্ট নিয়ে বিজ্ঞানীরা একমত হতে পারেননি। যারা এই তত্ত্বকে সমর্থন করেন, তাদের মতে এটি ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো ভবিষ্যদ্বাণী নয়। বরং অনিশ্চয়তা ও সম্ভাবনা নিয়ে চিন্তা করার একটি ভিন্নধর্মী গাণিতিক পদ্ধতি। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, এই তত্ত্ব খুব বেশি সরল কিছু ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তাই শুধু এই হিসাব দিয়ে মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তাদের মতে, মানুষের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি, সামাজিক পরিবর্তন এবং নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এই তত্ত্ব বিবেচনায় নেয় না। দ্য মেট্রোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে অস্তিত্বগত ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ, নতুন মহামারির আশঙ্কা এবং পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই কারণেই ডুমসডে আর্গুমেন্ট আবারও মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে এসেছে। অনেকেই এখন প্রশ্ন তুলছেন, মানবজাতি কি এমন এক সময়ে পৌঁছেছে, যখন আগে কখনো দেখা যায়নি—এমন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখোমুখি হতে পারে?

গবেষকদের মতে, বর্তমানে এমন কোনো বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত মডেল নেই, যা নির্দিষ্ট করে বলতে পারে মানবজাতির বিলুপ্তি কবে ঘটবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাণিতিক মডেল ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা করতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু বাস্তব ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না। তাই গবেষকেরা ভবিষ্যৎ নিয়ে অনুমান করার পরিবর্তে বাস্তব ঝুঁকি কমানোর দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এসব ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে নতুন সংক্রামক রোগের বিস্তার, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবেশের অবনতি, পারমাণবিক সংঘাত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডুমসডে আর্গুমেন্ট এখনো বিতর্কিত একটি তত্ত্ব। কারণ এটি বাস্তব প্রমাণের চেয়ে সম্ভাবনার ওপর বেশি নির্ভর করে। কিছু দার্শনিক এটিকে চিন্তার খোরাক জোগানো একটি পরিসংখ্যানভিত্তিক ধারণা হিসেবে দেখেন। আবার অন্যদের মতে, বাস্তবে মানবজাতির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষমতা এই তত্ত্বের খুবই সীমিত। তবে একটি বিষয় নিয়ে প্রায় সবাই একমত। মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো উত্তর নেই। তারপরও ডুমসডে আর্গুমেন্ট বারবার আলোচনায় ফিরে আসে। কারণ এটি মানুষের সবচেয়ে পুরোনো এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি সামনে নিয়ে আসে—মানবজাতির শেষ কি একদিন হবেই? আর যদি হয়, তবে সেই সময় কি আমাদের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি কাছাকাছি?


 

গতি মনিটরিঙে ডিভাইস, গতিতেই গেল প্রাণ

অনলাইন ডেস্ক
গতি মনিটরিঙে ডিভাইস, গতিতেই গেল প্রাণ
সংগৃহীত ছবি

রাস্তায় গাড়ির গতি মনিটরিং করতে ডিভাইস লাগাচ্ছিলেন হেড কনস্টেবল অমিত। তখনই দ্রুতগতির একটি গাড়ি ধাক্কা দেয় তাকে। সহকমীরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিলেও বাঁচাতে পারেননি। 

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সন্ধ্যায় উত্তর দিল্লির সিঙ্ঘু সীমান্তে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে অমিত ট্রাফিক বুথের কাছে দায়িত্বরত অবস্থায় গাড়ির গতি পরিমাপের জন্য একটি ডিভাইস বসাচ্ছিলেন। তখনই দ্রুতগতির গাড়িটি তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। হরিয়ানার সোনিপতের বাসিন্দা অমিতকে তার সহকর্মীরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ’গভীর দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, সিঙ্ঘু সীমান্তে ট্রাফিক ইউনিটে কর্মরত হেড কনস্টেবল অমিত একটি হিট অ্যান্ড রান দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে গেছেন।’

দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া গাড়ি ও চালককে ধরতে একাধিক দল গঠন করে মাঠে নামে দিল্লি পুলিশ। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গাড়ির চালক কুলদীপ ও তার সাথে থাকা নীরজকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং গাড়িটি জব্দ করা হয়। তদন্তকারীরা ঘটনার বিবরণ এবং ঘটনার আগে ও পরে গাড়ির গতিবিধি ট্র্যাক করার জন্য এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা এবং প্রযুক্তিগত ও ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন। এ ঘটনায় দিল্লি পুলিশ আলিপুর থানায় বিপজ্জনক ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে একটি মামলা করেছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডের জন্য ১ লাখ ডলার ফি নেওয়ার পরিকল্পনা

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডের জন্য ১ লাখ ডলার ফি নেওয়ার পরিকল্পনা
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড বা স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করতে আগাম এক লাখ ডলার ফি নেওয়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। কম আয়ের বিদেশিদের অভিবাসনে নিরুৎসাহিত করতেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

প্রস্তাবটি কার্যকর হলে আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার আগ পর্যন্ত এই অর্থ বন্ড হিসেবে জমা রাখতে হবে। সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, কম আয়ের বিদেশিদের অভিবাসন সীমিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগাম এক লাখ ডলার নেওয়ার প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে বলা হয়েছে, স্থায়ী অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে উচ্চমূল্যের একটি বন্ড আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। কয়েকজন কর্মকর্তা এর পরিমাণ এক লাখ ডলার হতে পারে বলে প্রস্তাব দিয়েছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পরীক্ষামূলকভাবে এই নীতি চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে আবেদনকারীকে বন্ডের অর্থ আগাম জমা দিতে হবে। তবে ব্যক্তিভেদে বন্ডের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। পরে তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেলে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে কয়েক বছর।

সূত্রগুলোর মতে, এই বন্ড জামানত হিসেবে কাজ করবে। যদি কোনো গ্রিন কার্ডধারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নিজের আর্থিক ব্যয় বহন করতে সক্ষম না হন, সে ক্ষেত্রে এটি কাজে লাগানো হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ অঙ্কের এই বন্ড মূলত কম আয়ের দেশগুলোর গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের নিরুৎসাহিত করার জন্যই পরিকল্পনা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বেশি আয়ের আশায় যেতে চাওয়া অনেক বিদেশির পক্ষেই এই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব নাও হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সীমিত করার বিষয়ে হোয়াইট হাউস ধারাবাহিকভাবে যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, তার অংশ হিসেবেই এই বন্ড প্রস্তাব এসেছে।

এর আগে গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন ৭৫টি নির্ধারিত দেশের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে। জাতীয়তার ভিত্তিতে ভিসা স্থগিত করার এই নীতি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এ ছাড়া গত জুনে বিদেশি কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাদের ওপর এক লাখ ডলার ফি আরোপের যে উদ্যোগ ট্রাম্প নিয়েছিলেন, সেটিও আদালতে আটকে যায়।

মিয়ানমার উপকূলে ২ নৌকাডুবিতে ৫০০ জনের বেশি নিহতের শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
মিয়ানমার উপকূলে ২ নৌকাডুবিতে ৫০০ জনের বেশি নিহতের শঙ্কা
ছবি : রয়টার্স

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের বহনকারী দুটি নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ৫০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে সংস্থাগুলো জানায়, নৌকা দুটি জুনের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। যাত্রীদের বেশিরভাগই ছিলেন রোহিঙ্গা। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বাংলাদেশের কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির থেকেও যাত্রা করেছিলেন।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম নৌকাটিতে প্রায় ২৫০ জন যাত্রী ছিলেন। যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই নৌকাটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকে এর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ৮ জুলাই মিয়ানমারের আয়েয়ারওয়াদি উপকূলের কাছে ২৮০ জন আরোহী নিয়ে দ্বিতীয় একটি নৌকা ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি, আইওএম ও ইউএনএইচসিআর বলেছে, এই সম্ভাব্য বিপর্যয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উন্নত জীবনের আশায় হাজার হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার ও বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির ছেড়ে সমুদ্রপথে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে বর্ষাকালে উত্তাল সমুদ্রের কারণে এ ধরনের যাত্রা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ভারি বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সমুদ্রযাত্রা আরো বিপজ্জনক হয়ে পড়েছিল।

বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে বসবাস করছেন। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের পর তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হন। এখনো রাখাইন রাজ্যে সংঘাত ও অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকায় অনেক রোহিঙ্গা মালয়েশিয়াসহ অন্য দেশে পৌঁছানোর আশায় ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ বেছে নিচ্ছেন।

আইওএম ও ইউএনএইচসিআর বলেছে, সর্বশেষ এই নৌকাডুবির ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে রোহিঙ্গা সংকটের এখনো কোনো টেকসই সমাধান হয়নি। নিরাপদ প্রত্যাবাসনের সুযোগ না থাকা এবং শরণার্থী শিবিরে কঠিন জীবনযাপনের কারণে অনেক রোহিঙ্গা জীবন ঝুঁকিতে ফেলে সমুদ্রপথে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সংস্থা দুটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য আরো সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে এবং সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা আরো বলেছে, বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী এই সমুদ্রপথে প্রাণহানি কমাতে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান জোরদার, নিরাপদ আশ্রয় ও সুরক্ষার ব্যবস্থা এবং মানবপাচার ও চোরাচালানকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৬,৫০০-এর বেশি রোহিঙ্গা সমুদ্রপথে পালানোর চেষ্টা করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৯০০ জন মারা গেছেন বা নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রযাত্রার ইতিহাসে ২০২৫ সাল সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।