• ই-পেপার

মানবজাতির সময় কি ফুরিয়ে আসছে?

আলজেরিয়ার এতিমখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১১, আহত ১৯

অনলাইন ডেস্ক
আলজেরিয়ার এতিমখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১১, আহত ১৯
ছবি : রয়টার্স

আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সের উপকণ্ঠে একটি এতিমখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১১ জন নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরে পূর্বাঞ্চলীয় শহরতলি মোহাম্মাদিয়া এলাকার একটি এতিমখানায় এ ঘটনা ঘটে।

দেশটির বেসামরিক সুরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে ১০ জন দগ্ধ হয়েছে। উদ্ধারকারী দল এতিমখানা থেকে পাঁচজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ এখনো চলছে। তবে নিহত ও আহতদের পরিচয়, বয়স এবং আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এপিএস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আলজেরিয়া তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে রয়েছে। বেসামরিক সুরক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৮ জুলাই থেকে দেশজুড়ে ৯১৩টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে এনেছে উদ্ধারকারী বাহিনী।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা আঘাত

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা আঘাত
ছবি : রয়টার্স

ইরান প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও রাতভর ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা অব্যাহত রেখেছে। ফলে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো চলমান সংঘাত আরো তীব্র হয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রচেষ্টা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

ইরান জানিয়েছে, তারা কুয়েত, বাহরাইন এবং অঞ্চলের আরো কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে তারা বিভিন্ন স্থানে টানা ছয় ঘণ্টা অভিযান চালিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন, দেশটিকে ভালো আচরণ করতে হবে, অন্যথায় আরো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তিনি বলেছেন, তেহরান আলোচনায় না ফিরলে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানো হতে পারে।

এদিকে ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ বলেছেন, দেশের স্বার্থ রক্ষা না হলে কোনো চুক্তি মেনে চলার কারণ নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযানে ইরানের বিভিন্ন কমান্ড সেন্টার, বিমান প্রতিরক্ষা কেন্দ্র এবং উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এর মধ্যে বন্দরনগরী বান্দার আব্বাস এবং বৃহত্তর তুনব দ্বীপও রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং তেহরানে বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর কুয়েত ও বাহরাইন হামলার খবর দেয়।

কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা একটি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তাদের সর্বশেষ হামলায় জর্দানে অবস্থিত মার্কিন যোগাযোগব্যবস্থা এবং জ্বালানি মজুদ কেন্দ্রগুলোও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবহন হয়। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান সেখানে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ পুনর্বহাল করেছে, যা আগে একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার আওতায় সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছিল।

পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে যখন, যুক্তরাষ্ট্র কুরাকাওয়ের পতাকাবাহী একটি খালি তেলবাহী ট্যাংকারে গুলি চালিয়ে সেটিকে অচল করে দেয়। সেন্টকমের দাবি, জাহাজটি ইরানের একটি অবরুদ্ধ বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে তেল ও গ্যাস রপ্তানির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পথও প্রভাবিত হতে পারে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান বিরোধের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ট্যাংকার চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। তবে সংঘাতের মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগের কিছু ইঙ্গিত দেখা গেছে। ট্রাম্প তেহরানের পক্ষ থেকে আসা একটি সম্ভাব্য শান্তি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

এর অংশ হিসেবে একজন মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, যাকে ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছিল।

বুধবার ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের এই সদিচ্ছার নিদর্শনের প্রশংসা করে।’ তার আইনজীবী জ্যারেড জেনসার জানান, মুক্তিপ্রাপ্ত নারী ডেনা কারারি যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে রয়েছেন।

ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনা ও বন্দরে হামলার দাবি রাশিয়ার

অনলাইন ডেস্ক
ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনা ও বন্দরে হামলার দাবি রাশিয়ার
ছবি: রয়টার্স

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে রাশিয়া একই সঙ্গে কৃষ্ণসাগর উপকূলের ওডেসা ও পিভদেননি বন্দরের অবকাঠামো এবং ইউক্রেনের একটি সমুদ্রগামী জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।

মন্ত্রণালয়ের দাবি, কিয়েভে যেসব স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে, সেগুলোতে ইউক্রেনের মাঝারি ও দীর্ঘপাল্লার ড্রোন তৈরি ও সংরক্ষণ করা হতো। এসব লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। রাশিয়া আরো জানিয়েছে, ওডেসা ও পিভদেননি বন্দরের যেসব অবকাঠামোতে হামলা হয়েছে, সেগুলো সামরিক সরঞ্জাম ও জ্বালানি গ্রহণ, সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোর কাজে ব্যবহৃত হতো। এছাড়া ওডেসা অঞ্চলের বন্দরের দিকে যাওয়ার পথে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সমুদ্রগামী জাহাজ এবং একটি উচ্চগতির নৌযানেও হামলা চালানোর দাবি করেছে মস্কো।

অন্যদিকে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ভোরে রাশিয়ার ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কিয়েভের অন্তত দুটি জেলায় আঘাত হানে। এই হামলায় কয়েকটি স্থানে আগুন লাগে। এতে অন্তত দুইজন নিহত হন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই দেশই সাম্প্রতিক সময়ে একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্থাপনায় হামলা আরো বাড়িয়েছে। ইউক্রেন নিয়মিত রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে তেল সংরক্ষণাগার, জ্বালানি স্থাপনা এবং তেলবাহী জাহাজও রয়েছে। 

অন্যদিকে রাশিয়া গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কৃষ্ণসাগর উপকূলের ইউক্রেনীয় বন্দরগুলোতে হামলার মাত্রা আরো বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ওডেসা ও আশপাশের বন্দরগুলোতে একের পর এক হামলা চালানো হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের পাশাপাশি দুই পক্ষ এখন একে অপরের অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং সামরিক রসদ ব্যবস্থাকে দুর্বল করার কৌশলে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে বন্দর, জ্বালানি স্থাপনা এবং পরিবহন অবকাঠামো এখন এই যুদ্ধের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে।

গতি মনিটরিংয়ে ডিভাইস, গতিতেই গেল প্রাণ

অনলাইন ডেস্ক
গতি মনিটরিংয়ে ডিভাইস, গতিতেই গেল প্রাণ
সংগৃহীত ছবি

রাস্তায় গাড়ির গতি মনিটর করতে ডিভাইস লাগাচ্ছিলেন হেড কনস্টেবল অমিত। তখনই দ্রুতগতির একটি গাড়ি ধাক্কা দেয় তাকে। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিলেও বাঁচাতে পারেননি। 

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সন্ধ্যায় উত্তর দিল্লির সিংগু সীমান্তে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে অমিত ট্রাফিক বুথের কাছে দায়িত্বরত অবস্থায় গাড়ির গতি পরিমাপের জন্য একটি ডিভাইস বসাচ্ছিলেন। তখনই দ্রুতগতির গাড়িটি তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। হরিয়ানার সোনিপতের বাসিন্দা অমিতকে তার সহকর্মীরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘গভীর দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, সিংগু সীমান্তে ট্রাফিক ইউনিটে কর্মরত হেড কনস্টেবল অমিত একটি হিট অ্যান্ড রান দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে গেছেন।’

দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া গাড়ি ও চালককে ধরতে একাধিক দল গঠন করে মাঠে নামে দিল্লি পুলিশ। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গাড়ির চালক কুলদীপ ও তার সঙ্গে থাকা নীরজকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং গাড়িটি জব্দ করা হয়। তদন্তকারীরা ঘটনার বিবরণ এবং ঘটনার আগে ও পরে গাড়ির গতিবিধি ট্র্যাক করার জন্য এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা এবং প্রযুক্তিগত ও ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন। এ ঘটনায় দিল্লি পুলিশ আলীপুর থানায় বিপজ্জনক ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে একটি মামলা করেছে।