• ই-পেপার

জুলাই আন্দোলনের ৫৯ মামলা তদন্ত করছে ডিবি

সারা দেশে ৭৩ হাজার বৃক্ষরোপণ করবে বিজিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
সারা দেশে ৭৩ হাজার বৃক্ষরোপণ করবে বিজিবি
সদর দপ্তরে একটি নারকেলগাছের চারা রোপণ করছেন বিজিবি মহাপরিচালক। ছবি : সংগৃহীত

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এ বছর সদর দপ্তরসহ সারা দেশে ৭৩ হাজার বৃক্ষরোপণ করবে বলে জানিয়েছেন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে পিলখানাস্থ বিজিবি সদর দপ্তরে বৃক্ষরোপণ অভিযানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সদর দপ্তরের বীর উত্তম আনোয়ার হোসেন প্যারেড গ্রাউন্ডের পশ্চিম পাশে একটি নারকেলগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে সপ্তাহব্যাপী এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

বিজিবির প্রতিটি স্থাপনায় উপযুক্ত স্থানে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ এবং নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে এ কর্মসূচিকে সফল করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান বিজিবি মহাপরিচালক।

জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির এবারের প্রতিপাদ্য ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ তুলে ধরে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘বৃক্ষরোপণ শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি একটি মহৎ দায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলার অঙ্গীকার।’

তিনি আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে সারা দেশে বিজিবির প্রতিটি স্থাপনায় পরিকল্পিতভাবে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করা হবে।

বিজিবি মহাপরিচালক প্রতিটি বিজিবি সদস্যকে বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয় না; গাছের যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণের মাধ্যমেই এ উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য নিশ্চিত করা সম্ভব।

নকলমুক্ত ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার আপসহীন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নকলমুক্ত ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার আপসহীন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : কালের কণ্ঠ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জাতীয়ভাবে একটি শিক্ষিত, মেধাভিত্তিক ও শক্তিশালী জাতি গঠনের লক্ষ্যে শিক্ষার মান পুনরুদ্ধারে বর্তমান সরকার আপসহীন। নকলমুক্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিগত সরকারের আমলে চালু হওয়া ‘অটো পাস’ বা ঢালাওভাবে নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার বদ্ধপরিকর।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার মান ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো দাবি বা অপসংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। কিছু স্থানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলেও এর পেছনে সরকারকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যে একটি মহল ইন্ধন দিচ্ছে।’ এমনকি আন্দোলনকারীদের মধ্যে অনেকে প্রকৃত পরীক্ষার্থীও নন বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, ‘দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ত্রুটির অভিযোগ তদন্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত নম্বর (ক্রেডিট) দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।’ এ কারণে প্রকৃত পরীক্ষার্থীরা সরকারের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের যেসব ছবি ও ভিডিও ছড়ানো হয়েছে, সেগুলোকে ‘ডিসইনফরমেশন’ বা অপপ্রচার বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বিদেশে পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে একজন এবং ভারতে তিনজনসহ মোট চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে শহীদ ওসমান শরিফ হাদি হত্যা মামলার আসামিও রয়েছেন। ইউএই সরকারের অনুরোধের পর মাত্র তিন দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি নথি ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপি পাঠানো হয়েছে। ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী সেখানেও আটক আসামিদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয় আদালতেঅনুপ্রবেশের মামলা থাকায় কিছুটা সময় লাগলেও চুক্তি অনুযায়ী তাদের প্রত্যর্পণ সম্ভব বলে জানান তিনি।

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের তালিকা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তৎকালীন পরিস্থিতিতে হাসপাতালের নথিপত্র গায়েব হওয়া, চিকিৎসায় বাধা এবং লাশ গুমের অভিযোগের কারণে প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহতের কথা উল্লেখ থাকলেও সরকারের ধারণা, এই সংখ্যা ২ হাজারের বেশি। বর্তমানে ডিএনএ পরীক্ষা ও গণকবর অনুসন্ধানের মাধ্যমে নিখোঁজদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। এতে নথিভুক্ত শহীদের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।’

তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ১৫ হাজারের বেশি শহীদ ও আহত ব্যক্তির গেজেট ও তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। আহতদের ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’—এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করে চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্ষাকালের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ বৈঠক করে ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার সম্পূর্ণ সচেতন।’

ধর্মের নামে কেউ যেন সুবিধা নিতে না পারে : মির্জা ফখরুল

অনলাইন ডেস্ক
ধর্মের নামে কেউ যেন সুবিধা নিতে না পারে : মির্জা ফখরুল
সংগৃহীত ছবি

ধর্মকে কেন্দ্র করে বিভাজনের রাজনীতি নয়, বরং সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণে উন্নত বাংলাদেশ গড়াই সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আমাদের এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কেউ ধর্মের নামে বিশেষ সুবিধা নিতে না পারে। সবাই যেন সমান মর্যাদা নিয়ে বসবাস করতে পারে।’

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর স্বামীবাগ ইসকন মন্দিরে শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা মহাউৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শ অনুসরণ করেই বর্তমান সরকার সব ধর্মের মানুষের সমঅধিকার ও উন্নয়নে কাজ করছে।

মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, মন্দিরের পুরোহিত, বৌদ্ধবিহারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং চার্চের ধর্মযাজকদের জন্য এ উদ্যোগ ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে জানালেন মন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন বলেও এ সময় মন্তব্য করেন তিনি।

সত্যরঞ্জন ধরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ভারতীয় হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি গুরুকুল ভি কে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মকবুল হোসেন।

৪৫ বছর পর জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪৫ বছর পর জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেন/ফাইল ছবি

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। দীর্ঘ ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হলো।

গ্রেপ্তারের পর তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।

ডিবি সূত্র জানিয়েছে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী মোজাফফর হোসেনকে বুধবার মধ্যরাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কোর্ট মার্শাল সম্পন্ন করার জন্য তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা হামলা চালিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে। এই হত্যাযজ্ঞে সরাসরি অংশ নেওয়া সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মেজর মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন ছিলেন অন্যতম।

বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও মামলাসংক্রান্ত বিবরণ অনুযায়ী, মেজর মোজাফফর হোসেনই প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করে তিনিই চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোন বলেন, ‘দ্য প্রেসিডেন্ট হ্যাজ বিন কিলড’।

হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে মঞ্জুর নিহত হন। ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তখন মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় মেজর মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ সময় ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন।

অবশেষে ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।