• ই-পেপার

শীতলক্ষ্যায় পড়ে নিখোঁজ রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত ডুবুরি

বিয়ের পরদিন মুয়াজ্জিনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, শোকে প্রাণ গেল মামারও

নীলফামারী সংবাদদাতা
বিয়ের পরদিন মুয়াজ্জিনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, শোকে প্রাণ গেল মামারও
মুয়াজ্জিন মো. আব্দুল মালেক। সংগৃহীত ছবি

নীলফামারীর ডিমলায় বিয়ের মাত্র একদিন পর মো. আব্দুল মালেক (২৫) নামের এক মুয়াজ্জিনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মরদেহ দেখে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেছেন তার মামা আহিদুল ইসলামও। একই দিনে ভাগ্নে-মামার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোরে উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের কাকড়া চৌপতি বাজারসংলগ্ন মুনাগাছা বায়তুন নূর জামে মসজিদের ভেতর থেকে আব্দুল মালেকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত আব্দুল মালেক মুনাগাছা গ্রামের মৃত নুরুল হকের ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। বাবা-মা দুজনই আগে মারা গেছেন। তিনি চলমান আলিম পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন এবং গত পাঁচ বছর ধরে ওই মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) একই গ্রামের জিকরুল হোসেনের মেয়ের সঙ্গে আব্দুল মালেকের বিয়ে হয়। বিয়ের একদিন পরই মসজিদের ভেতরে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বুধবার (১৫ জুলাই) এশার নামাজের সময় আব্দুল মালেক মসজিদে আজান দেন এবং মুসল্লিদের সঙ্গে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে সবাই চলে গেলেও তিনি মসজিদেই অবস্থান করছিলেন। পরে রাত প্রায় ১টার দিকে এক মুসল্লি মসজিদের ভেতরে আলো জ্বলতে দেখে জানালার কাছে গিয়ে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে রাত ৩টার দিকে ডিমলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় ভাগ্নের মরদেহ দেখে তার মামা আহিদুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এলাকাবাসীর দাবি, আব্দুল মালেক ধর্মপ্রাণ ও ভদ্র স্বভাবের মানুষ ছিলেন। কারও সঙ্গে তার কোনো বিরোধ ছিল না। মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতের বড় ভাই মো. রাজ্জাকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছোট ভাইয়ের কারো সঙ্গে কোনো শত্রুতা ছিল না। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলত। মসজিদের ভেতরে তার ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া অত্যন্ত রহস্যজনক। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’

ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একরামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বিয়ের মাত্র একদিন পর এমন মর্মান্তিক ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একই সঙ্গে ভাগ্নের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে মামার মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’

এ বিষয়ে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নীলফামারী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

জুলাই ঐক্যে ফাটল ধরলে ক্ষতি হবে সবার : এসপি মাসুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
জুলাই ঐক্যে ফাটল ধরলে ক্ষতি হবে সবার : এসপি মাসুদ
ছবি : কালের কণ্ঠ

জুলাই ঐক্যে ফাটল ধরলে সবার ক্ষতি হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম। তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন ছিল দীর্ঘদিনের জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই একটি নতুন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে।’ 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জুলাই আন্দোলনে শহীদের স্মরণে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। 

এসপি মাসুদ বলেন, ‘এই আন্দোলন কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর নয়, শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের। তাই এর অর্জন রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। এই ঐক্যে ফাটল ধরলে সবার ক্ষতি হবে।’

পুলিশ সুপার বলেন, ‘গত বছরের ১৬ জুলাইয়ের আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কোটা সংস্কার আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। ওই বক্তব্যের পর দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তীব্র প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের স্লোগানও পরিবর্তিত হতে থাকে। ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদ ও চট্টগ্রামে ওয়াসিম আকবর, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও ওমর ফারুক নিহত হওয়ার পর আন্দোলনের গতি আরো বেড়ে যায়।’

মাসুদ আলম বলেন, “শুরুতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন হলেও ধীরে ধীরে বদলে যায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ২৩ জুলাই পর্যন্ত আন্দোলন চললেও এক পর্যায়ে তা সাময়িকভাবে থেমে যায়। পরে আন্দোলন ঢাকার ডিবি কার্যালয়ের ‘ভাতের হোটেল’ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। সেখান থেকে ১ আগস্ট আবারও আন্দোলন রাজপথে ফিরে আসে। এরপর সারা দেশে আন্দোলনে ব্যাপক গতি-প্রকৃতিতেও পরিবর্তন আসে। তখন আন্দোলন আর শুধু কোটা ইস্যুতে সীমাবদ্ধ ছিল না, এটি এক দফার দাবির আন্দোলনে পরিণত হয়।”

প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ। 

প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন তাদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতা যে ঐক্য ও আত্মত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন, তা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা জোগাবে।

বুড়িচংয়ে ১৮০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক

বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
বুড়িচংয়ে ১৮০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক
ছবি : কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ১৮০ পিস ইয়াবাসহ মো. তারা মিয়া (৪১) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বুড়িচং পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আরাগ রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিপা স্টিল দোকানের সামনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করে।

পরে ধাওয়া করে তারা মিয়াকে আটক করা হয়। তার দেহ তল্লাশি করে ১৮০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

আটক তারা মিয়া উপজেলার পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বুড়িচং থানায় মামলা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

শহীদ আবু সাঈদের কবরে ছাত্রদল সভাপতির শ্রদ্ধা

অনলাইন ডেস্ক
শহীদ আবু সাঈদের কবরে ছাত্রদল সভাপতির শ্রদ্ধা
সংগৃহীত ছবি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ক‌রেছেন বাংলাদেশ জাতীয়বাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে রংপুরের পীরগঞ্জে বাবনপুর গ্রামে শায়িত আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন তিনি। 

এর আগে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ছাত্রদল সভাপতি। কবর জিয়ারত শেষে শহীদ আবু সাঈদের বাবা, মা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে খোঁজখবর নেন তিনি। ছাত্রদল সভাপতি আবু সাঈদের পরিবারের বিভিন্ন দাবির কথা শোনেন এবং তা সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে তুলে ধরার আশ্বাস দেন।

এ সময় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি এম এম মুসা, রংপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শরীফ নেওয়াজ জোহাসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।