• ই-পেপার

সোনম ওয়াংচুকের জীবন বাঁচাতে সব কিছু করুন, সরকারকে হাইকোর্টের নির্দেশ

ইরানের হুমকির পর নড়েচড়ে বসেছে উপসাগরীয় দেশগুলো

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের হুমকির পর নড়েচড়ে বসেছে উপসাগরীয় দেশগুলো
সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অনিশ্চয়তা ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করেছে। এই সিদ্ধান্তের কিছু সময় আগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সতর্ক করেছে, ট্রাম্পের হুমকি বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের অবশিষ্ট সমস্ত অবকাঠামো নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হবে।

দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজের এক প্রতিবেদনে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর অপারেশনাল সেন্ট্রাল কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়ার মুখপাত্র ইব্রাহিম যুলফাগারি বলেন,  ‘নির্বোধ শত্রুর জেনে রাখা উচিত, আমাদের জন্য এই মহাকাব্যিক মুহূর্তটি এড়িয়ে যাওয়ার মুহূর্ত নয়। ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলার জবাব সমান মাত্রায় হবে না, বরং আরও শক্তিশালী, বিস্তৃত ও ধ্বংসাত্মক হবে।’

হরমুজ প্রণালিকে ইরানের অলঙ্ঘনীয় রেড লাইন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যদি ফাঁপা ও অন্তঃসারশূন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইরানের অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার সাম্প্রতিক হুমকি কার্যকর করা হয়, তাহলে ইরানের সংযমের কারণে যা কিছু অবশিষ্ট আছে (উপসাগরীয় অঞ্চলের সমস্ত অবকাঠামো) তা ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর আঘাতে এমনভাবে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে যে তার কোনো চিহ্নই অবশিষ্ট থাকবে না। এমনকি মনে হবে, যেন এগুলোর কোনো অস্তিত্বই ছিল না।’

যুলফাগারি আরও সতর্ক করে বলেন, ‘অপরাধী আমেরিকা এই অঞ্চলে তার আইনশৃঙ্খলাহীনতা ও অস্থিতিশীলতা অব্যাহত রেখেছে। কোনো অবস্থাতেই ইরান একটি বিদেশি ও বহিঃআঞ্চলিক শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালিতে হস্তক্ষেপ করতে দেবে না।’

কাতারভিত্তিক সংবাদ মাদ্যম আলজাজিরা বলছে, সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপসাগরীয় দেশগুলো বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী, সামরিক প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা আরও কঠোর করেছে।

নিরাপত্তা জোরদার করা স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে তেল ও গ্যাস স্থাপনা, বিমানবন্দর এবং সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্ট।

এদিকে বাহরাইন জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশও একই ধরনের হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে।

তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, দীর্ঘস্থায়ী বা আরও বিস্তৃত সংঘাত শুরু হলে কোনো বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই দীর্ঘ সময় কার্যকরভাবে সব হামলা ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই নয়, বিশ্ব অর্থনীতিকেও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। এই কারণেই উপসাগরীয় দেশগুলো সংঘাতে জড়িত সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে এনে যুদ্ধের অবসান এবং কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

যুদ্ধকালীন তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী পেল ইউক্রেন

অনলাইন ডেস্ক
যুদ্ধকালীন তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী পেল ইউক্রেন
ছবি : রয়টার্স

ইউক্রেনের বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস প্রতিষ্ঠান নাফতোগাজের প্রধান সের্গেই কোরেৎস্কিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ঘোষিত মন্ত্রিসভার পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে তিনি যুদ্ধকালীন সময়ে ইউক্রেনের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন।

প্রথমবার সরকারি দায়িত্বে

৪৮ বছর বয়সী সের্গেই কোরেৎস্কি পেশায় একজন প্রকৌশলী ও অর্থনীতিবিদ। এর আগে তিনি কখনো সরকারি পদে দায়িত্ব পালন করেননি এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতা নেই।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ হওয়া এবং দক্ষ ব্যবস্থাপক হিসেবে পরিচিতি তার জন্য বড় সুবিধা। ইউক্রেনের পেন্টা থিংক ট্যাংকের পরিচালক ভলোদিমির ফেসেঙ্কোর মতে, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার সমন্বয়ই কোরেৎস্কিকে এই দায়িত্বের জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে।

জ্বালানি খাতে দুই দশকের অভিজ্ঞতা

সের্গেই কোরেৎস্কির জ্বালানি খাতে দুই দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি তেল উৎপাদন, পরিশোধন, খুচরা ও পাইকারি জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নিয়ে কাজ করেছেন।

২০২৫ সালের মে মাস থেকে তিনি ইউক্রেনের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নাফতোগাজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিষ্ঠানটি ইউক্রেনের গ্যাস উৎপাদন, আমদানি ও সরবরাহের বড় অংশ পরিচালনা করে।

এর আগে তিনি ইউক্রেনের বৃহত্তম তেল প্রতিষ্ঠান ইউক্রনাফতার প্রধান ছিলেন। নাফতোগাজ গ্রুপের অংশ।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ওয়েস্টার্ন অয়েল গ্রুপ, কন্টিনিয়াম গ্রুপ এবং ইউক্রেনের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি স্টেশন চেইন ডব্লিউজিওজির প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পশ্চিম ইউক্রেনের লুতস্ক শহরে জন্ম নেওয়া কোরেৎস্কি একটি কফি চেইন ব্যবসাও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

বড় চ্যালেঞ্জ কী?

নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কোরেৎস্কির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে আসন্ন শীতের জন্য ইউক্রেনকে প্রস্তুত করা। গত শীতে রাশিয়ার ব্যাপক হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

একই সময়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থারও ঘাটতি রয়েছে।

এ বিষয়ে বুধবার দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘আসন্ন শীতের প্রস্তুতি নেওয়াই নতুন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হবে।’

প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে অপসারণে জেলেনস্কির বিরুদ্ধে ইউক্রেনজুড়ে বিক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক
প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে অপসারণে জেলেনস্কির বিরুদ্ধে ইউক্রেনজুড়ে বিক্ষোভ
ছবি : রয়টার্স

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে আকস্মিকভাবে বরখাস্ত করেছেন। এর প্রতিবাদে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানী কিয়েভে বিক্ষোভকারীরা ‘ফেদোরভকে বরখাস্ত করা যাবে না’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে সমবেত হন। এ সময় তারা ‘ধিক্কার’ স্লোগানও দেন।

বিবিসিকে ইউক্রেনের এক সৈনিক ওলেক্সান্ডার বলেন, ‘জেলেনস্কি তার পুরো প্রেসিডেন্ট থাকাকালে এটাই সবচেয়ে বড় ভুল করেছেন।’

তিনি মনে করেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে অপসারণের সিদ্ধান্ত সেনাবাহিনী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে। ফেদোরভের বরখাস্তকে ঘিরে ইউক্রেনের বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ও অসন্তোষ বাড়ছে।

বিক্ষোভকারীরা ফেদোরভের অপসারণের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে এর কারণ প্রকাশের দাবি জানান। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এখনো এই সিদ্ধান্তের কারণ প্রকাশ করেননি। তবে এ পদক্ষেপকে ঘিরে রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং সুশীল সমাজের একটি অংশের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

সৈনিক ওলেক্সান্ডার আরো বলেন, ‘ফেডোরভের দলের ওপর আস্থা থাকায় এ বছরের শুরুতে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলাম। আমি এমন কাউকে চিনি না যে, তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে। সেনাবাহিনীতেও না, সমাজেও না।’

তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীতে আমার অনেক বন্ধু আছে। তাদের অনেকেই মারা গেছে। আমি চাই না এটা চলতে থাকুক।’ মধ্য কিয়েভের ইভান ফ্রাঙ্কো স্কোয়ারে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভে ৩১ বছর বয়সী মারিয়া লাভরিনেটস বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা ফেদোরভের কাজের ফলাফল দেখতে পাচ্ছি। আমরা সৈন্যদের মনোবলও দেখছি। আমাদের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো।’

তিনি বলেন, ফেদোরভের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং এ কারণে তার অপসারণের সিদ্ধান্তে অনেক মানুষ হতাশ ও ক্ষুব্ধ।

এই ঘটনাকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন ও জনমনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ৩৫ বছর বয়সী ফেদোরভ চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।

অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে গতি আনেন, দুর্নীতিবিরোধী উদ্যোগে নেতৃত্ব দেন এবং তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে সামরিক কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করেন বলে তাকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়। 

বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের পার্লামেন্টে তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহোর ক্লিমেনকোকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিয়োগের প্রস্তাবের ওপর ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

ফেদোরভের অপসারণ নিয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, তার সঙ্গে ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কির মতবিরোধ এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। আবার অন্যদের মতে, সেনাবাহিনীতে নতুন সদস্য নিয়োগ ও সমাবেশ সংস্কারের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে না পারাও তার অপসারণের একটি কারণ হতে পারে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর মিখাইলো ফেদোরভ মন্ত্রণালয়ের সংস্কার ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেন। ইউক্রেনের অনেকের মতে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দীর্ঘদিন ধরে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও সোভিয়েত আমলের পুরোনো ধ্যানধারণায় আটকে ছিল।

ডিজিটাল রূপান্তর বিষয়ক সাবেক মন্ত্রী হিসেবে ফেদোরভ ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকেই সাইবার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে সাইবার অভিযান চালানোর জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে ‘ইউক্রেনের আইটি আর্মি’ গঠনে সহায়তা করেন।

পরে তিনি ‘আর্মি অব ড্রোনস’ নামে একটি সফল তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন, যার মাধ্যমে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর জন্য ড্রোন সংগ্রহ করা হয়। এ ছাড়া তিনি এমন একটি ব্যবস্থা চালু করেন, যেখানে রুশ লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলার জন্য ইউক্রেনীয় সামরিক ইউনিটগুলোকে বিশেষ স্বীকৃতি ও পুরস্কার দেওয়া হতো।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হওয়ার পরও মিখাইলো ফেদোরভ ড্রোন প্রযুক্তি, আধুনিক যুদ্ধব্যবস্থা এবং সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তার দায়িত্বকালে তিনি স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের কাছে আহ্বান জানান, যাতে রাশিয়া ড্রোন হামলায় স্টারলিংক স্যাটেলাইট ব্যবহার করতে না পারে। ইউক্রেনের দাবি, এ পদক্ষেপ রাশিয়ার সামরিক অভিযানে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছিল।

ফেদোরভের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রণালয় মস্কো-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলাগুলোতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। গত মাসে তিনি মাঝারি পাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে ক্রিমিয়াকে রাশিয়া থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করার অঙ্গীকার করেছিলেন।

বরখাস্ত হওয়ার পর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ফেদোরভ তার বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উদ্ভাবন, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সাংগঠনিক শক্তির মাধ্যমে তিনি শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন।

এদিকে খ্যাতনামা ড্রোন ইউনিট কমান্ডার পাভলো ইয়েলিজারভ ফেদোরভের বরখাস্তের প্রতিবাদে ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডারের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি এই সিদ্ধান্তকে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার জন্য বড় ধরনের ক্ষতি বলে মন্তব্য করেন।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

ধারাবাহিক পাল্টাপাল্টি হামলার ইতি টানতে তৎপর পাকিস্তান

অনলাইন ডেস্ক
ধারাবাহিক পাল্টাপাল্টি হামলার ইতি টানতে তৎপর পাকিস্তান
সংগৃহীত ছবি

আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আরো তীব্র হয়েছে সংঘাত। রাতভর ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নতুন করে হামলার দাবি করেছে তেহরান। এ অবস্থায় চলমান সংঘাত বন্ধ করে উভয় পক্ষকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান।

ইরান জানিয়েছে, জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। সংঘাতের ষষ্ঠ দিনে এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে গত মাসে যুদ্ধ বন্ধে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতা কার্যত আরো দুর্বল হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের হুমকি কমাতে ৬ ঘণ্টাব্যাপী একাধিক হামলা চালানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি এ ঘোষণা দেন বলে জানায় আলজাজিরা। তিনি বলেন, গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও পাকিস্তান সব পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ করে ‘কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা’ পুনরায় শুরুর জন্য উৎসাহিত করবে।

সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন বর্তমানে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তবু পাকিস্তান সব পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ করে আবারও আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানাতে থাকবে।’

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এরপর গত এপ্রিল মাসে ইসলামাবাদে পাকিস্তানের উদ্যোগে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত চার দশকের মধ্যে এটিই ছিল প্রথমবার, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা সরাসরি একই কক্ষে বসে আলোচনা করেন।

এরপর জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হয়, যেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ অংশ নেন।

পরে সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক সম্মেলনে ওই সমঝোতা নিয়ে আরো আলোচনা হয়। তবে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে সেই সমঝোতা এখন গুরুতর চাপে পড়েছে।