• ই-পেপার

আলজেরিয়ার এতিমখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১১, আহত ১৯

যুদ্ধকালীন তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী পেল ইউক্রেন

অনলাইন ডেস্ক
যুদ্ধকালীন তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী পেল ইউক্রেন
ছবি : রয়টার্স

ইউক্রেনের বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস প্রতিষ্ঠান নাফতোগাজের প্রধান সের্গেই কোরেৎস্কিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ঘোষিত মন্ত্রিসভার পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে তিনি যুদ্ধকালীন সময়ে ইউক্রেনের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন।

প্রথমবার সরকারি দায়িত্বে

৪৮ বছর বয়সী সের্গেই কোরেৎস্কি পেশায় একজন প্রকৌশলী ও অর্থনীতিবিদ। এর আগে তিনি কখনও সরকারি পদে দায়িত্ব পালন করেননি এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতা নেই।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ হওয়া এবং দক্ষ ব্যবস্থাপক হিসেবে পরিচিতি তার জন্য বড় সুবিধা। ইউক্রেনের পেন্টা থিংক ট্যাংকের পরিচালক ভলোদিমির ফেসেঙ্কোর মতে, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার সমন্বয়ই কোরেৎস্কিকে এই দায়িত্বের জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে।

জ্বালানি খাতে দুই দশকের অভিজ্ঞতা

সের্গেই কোরেৎস্কির জ্বালানি খাতে দুই দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি তেল উৎপাদন, পরিশোধন, খুচরা ও পাইকারি জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নিয়ে কাজ করেছেন।

২০২৫ সালের মে মাস থেকে তিনি ইউক্রেনের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নাফতোগাজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিষ্ঠানটি ইউক্রেনের গ্যাস উৎপাদন, আমদানি ও সরবরাহের বড় অংশ পরিচালনা করে।

এর আগে তিনি ইউক্রেনের বৃহত্তম তেল প্রতিষ্ঠান ইউক্রনাফতার প্রধান ছিলেন। নাফতোগাজ গ্রুপের অংশ।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ওয়েস্টার্ন অয়েল গ্রুপ, কন্টিনিয়াম গ্রুপ এবং ইউক্রেনের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি স্টেশন চেইন ডব্লিউজিওজি’র প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পশ্চিম ইউক্রেনের লুতস্ক শহরে জন্ম নেওয়া কোরেৎস্কি একটি কফি চেইন ব্যবসাও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

বড় চ্যালেঞ্জ কী?

নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কোরেৎস্কির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে আসন্ন শীতের জন্য ইউক্রেনকে প্রস্তুত করা। গত শীতে রাশিয়ার ব্যাপক হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

একই সময়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থারও ঘাটতি রয়েছে।

এ বিষয়ে বুধবার দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘আসন্ন শীতের প্রস্তুতি নেওয়াই নতুন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হবে।’

জেলেনস্কির সিদ্ধান্তে ক্ষোভ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরখাস্তের প্রতিবাদে ইউক্রেনজুড়ে বিক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক
জেলেনস্কির সিদ্ধান্তে ক্ষোভ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরখাস্তের প্রতিবাদে ইউক্রেনজুড়ে বিক্ষোভ
ছবি : রয়টার্স

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে আকস্মিকভাবে বরখাস্ত করেছেন। এর প্রতিবাদে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানী কিয়েভে বিক্ষোভকারীরা ‘ফেদোরভকে বরখাস্ত করা যাবে না’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে সমবেত হন। এ সময় তারা ‘ধিক্কার’ স্লোগানও দেন।

বিবিসিকে ইউক্রেনের এক সৈনিক ওলেক্সান্ডার বলেন, ‘জেলেনস্কি তার পুরো প্রেসিডেন্ট থাকাকালে এটাই সবচেয়ে বড় ভুল করেছেন।’

তিনি মনে করেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে অপসারণের সিদ্ধান্ত সেনাবাহিনী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে। ফেদোরভের বরখাস্তকে ঘিরে ইউক্রেনের বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ও অসন্তোষ বাড়ছে।

বিক্ষোভকারীরা ফেদোরভের অপসারণের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে এর কারণ প্রকাশের দাবি জানান। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এখনও এই সিদ্ধান্তের কারণ প্রকাশ করেননি। তবে এ পদক্ষেপকে ঘিরে রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং সুশীল সমাজের একটি অংশের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

সৈনিক ওলেক্সান্ডার আরো বলেন, ‘ফেডোরভের দলের ওপর আস্থা থাকায় এ বছরের শুরুতে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলাম। আমি এমন কাউকে চিনি না যে, তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে। সেনাবাহিনীতেও না, সমাজেও না।’

তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীতে আমার অনেক বন্ধু আছে। তাদের অনেকেই মারা গেছে। আমি চাই না এটা চলতে থাকুক।’ মধ্য কিয়েভের ইভান ফ্রাঙ্কো স্কোয়ারে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভে ৩১ বছর বয়সী মারিয়া লাভরিনেটস বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা ফেদোরভের কাজের ফলাফল দেখতে পাচ্ছি।

আমরা সৈন্যদের মনোবলও দেখছি। আমাদের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো।’ তিনি বলেন, ফেদোরভের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং এ কারণে তার অপসারণের সিদ্ধান্তে অনেক মানুষ হতাশ ও ক্ষুব্ধ।

এই ঘটনাকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন ও জনমনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ৩৫ বছর বয়সী ফেদোরভ চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।

অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে গতি আনেন, দুর্নীতিবিরোধী উদ্যোগে নেতৃত্ব দেন এবং তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে সামরিক কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করেন বলে তাকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়। 

বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের পার্লামেন্টে তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহোর ক্লিমেনকোকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিয়োগের প্রস্তাবের ওপর ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

ফেদোরভের অপসারণ নিয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, তার সঙ্গে ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কির মতবিরোধ এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। আবার অন্যদের মতে, সেনাবাহিনীতে নতুন সদস্য নিয়োগ ও সমাবেশ সংস্কারের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে না পারাও তার অপসারণের একটি কারণ হতে পারে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর মিখাইলো ফেদোরভ মন্ত্রণালয়ের সংস্কার ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেন। ইউক্রেনের অনেকের মতে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দীর্ঘদিন ধরে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও সোভিয়েত আমলের পুরোনো ধ্যানধারণায় আটকে ছিল।

ডিজিটাল রূপান্তর বিষয়ক সাবেক মন্ত্রী হিসেবে ফেদোরভ ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকেই সাইবার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে সাইবার অভিযান চালানোর জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে ‘ইউক্রেনের আইটি আর্মি’ গঠনে সহায়তা করেন।

পরে তিনি ‘আর্মি অব ড্রোনস’ নামে একটি সফল তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন, যার মাধ্যমে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর জন্য ড্রোন সংগ্রহ করা হয়। এ ছাড়া তিনি এমন একটি ব্যবস্থা চালু করেন, যেখানে রুশ লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলার জন্য ইউক্রেনীয় সামরিক ইউনিটগুলোকে বিশেষ স্বীকৃতি ও পুরস্কার দেওয়া হতো।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হওয়ার পরও মিখাইলো ফেদোরভ ড্রোন প্রযুক্তি, আধুনিক যুদ্ধব্যবস্থা এবং সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তার দায়িত্বকালে তিনি স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের কাছে আহ্বান জানান, যাতে রাশিয়া ড্রোন হামলায় স্টারলিংক স্যাটেলাইট ব্যবহার করতে না পারে। ইউক্রেনের দাবি, এ পদক্ষেপ রাশিয়ার সামরিক অভিযানে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছিল।

ফেদোরভের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রণালয় মস্কো-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলাগুলোতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। গত মাসে তিনি মাঝারি পাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে ক্রিমিয়াকে রাশিয়া থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করার অঙ্গীকার করেছিলেন।

বরখাস্ত হওয়ার পর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ফেদোরভ তার বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উদ্ভাবন, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সাংগঠনিক শক্তির মাধ্যমে তিনি শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন।

এদিকে, খ্যাতনামা ড্রোন ইউনিট কমান্ডার পাভলো ইয়েলিজারভ ফেদোরভের বরখাস্তের প্রতিবাদে ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডারের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি এই সিদ্ধান্তকে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার জন্য বড় ধরনের ক্ষতি বলে মন্তব্য করেন।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

ধারাবাহিক পাল্টাপাল্টি হামলার ইতি টানতে তৎপর পাকিস্তান

অনলাইন ডেস্ক
ধারাবাহিক পাল্টাপাল্টি হামলার ইতি টানতে তৎপর পাকিস্তান
সংগৃহীত ছবি

আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আরো তীব্র হয়েছে সংঘাত। রাতভর ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নতুন করে হামলার দাবি করেছে তেহরান। এ অবস্থায় চলমান সংঘাত বন্ধ করে উভয় পক্ষকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান।

ইরান জানিয়েছে, জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। সংঘাতের ষষ্ঠ দিনে এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে গত মাসে যুদ্ধ বন্ধে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতা কার্যত আরো দুর্বল হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের হুমকি কমাতে ৬ ঘণ্টাব্যাপী একাধিক হামলা চালানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি এ ঘোষণা দেন বলে জানায় আলজাজিরা। তিনি বলেন, গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও পাকিস্তান সব পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ করে ‘কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা’ পুনরায় শুরুর জন্য উৎসাহিত করবে।

সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন বর্তমানে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তবু পাকিস্তান সব পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ করে আবারও আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানাতে থাকবে।’

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এরপর গত এপ্রিল মাসে ইসলামাবাদে পাকিস্তানের উদ্যোগে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত চার দশকের মধ্যে এটিই ছিল প্রথমবার, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা সরাসরি একই কক্ষে বসে আলোচনা করেন।

এরপর জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হয়, যেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ অংশ নেন।

পরে সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক সম্মেলনে ওই সমঝোতা নিয়ে আরো আলোচনা হয়। তবে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে সেই সমঝোতা এখন গুরুতর চাপে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা আঘাত

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা আঘাত
ছবি : রয়টার্স

ইরান প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও রাতভর ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা অব্যাহত রেখেছে। ফলে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো চলমান সংঘাত আরো তীব্র হয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রচেষ্টা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

ইরান জানিয়েছে, তারা কুয়েত, বাহরাইন এবং অঞ্চলের আরো কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে তারা বিভিন্ন স্থানে টানা ছয় ঘণ্টা অভিযান চালিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন, দেশটিকে ভালো আচরণ করতে হবে, অন্যথায় আরো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তিনি বলেছেন, তেহরান আলোচনায় না ফিরলে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানো হতে পারে।

এদিকে ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ বলেছেন, দেশের স্বার্থ রক্ষা না হলে কোনো চুক্তি মেনে চলার কারণ নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযানে ইরানের বিভিন্ন কমান্ড সেন্টার, বিমান প্রতিরক্ষা কেন্দ্র এবং উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এর মধ্যে বন্দরনগরী বান্দার আব্বাস এবং বৃহত্তর তুনব দ্বীপও রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং তেহরানে বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর কুয়েত ও বাহরাইন হামলার খবর দেয়।

কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা একটি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তাদের সর্বশেষ হামলায় জর্দানে অবস্থিত মার্কিন যোগাযোগব্যবস্থা এবং জ্বালানি মজুদ কেন্দ্রগুলোও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবহন হয়। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান সেখানে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ পুনর্বহাল করেছে, যা আগে একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার আওতায় সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছিল।

পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে যখন, যুক্তরাষ্ট্র কুরাকাওয়ের পতাকাবাহী একটি খালি তেলবাহী ট্যাংকারে গুলি চালিয়ে সেটিকে অচল করে দেয়। সেন্টকমের দাবি, জাহাজটি ইরানের একটি অবরুদ্ধ বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে তেল ও গ্যাস রপ্তানির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পথও প্রভাবিত হতে পারে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান বিরোধের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ট্যাংকার চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। তবে সংঘাতের মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগের কিছু ইঙ্গিত দেখা গেছে। ট্রাম্প তেহরানের পক্ষ থেকে আসা একটি সম্ভাব্য শান্তি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

এর অংশ হিসেবে একজন মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, যাকে ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছিল।

বুধবার ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের এই সদিচ্ছার নিদর্শনের প্রশংসা করে।’ তার আইনজীবী জ্যারেড জেনসার জানান, মুক্তিপ্রাপ্ত নারী ডেনা কারারি যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে রয়েছেন।