• ই-পেপার

‘প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিতে মেসির ৫ সেকেন্ডই যথেষ্ট’

বিশ্বকাপের এক হৃদয়বিদারক মুহূর্তের মুখোমুখি ইংলিশ কিংবদন্তি

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের এক হৃদয়বিদারক মুহূর্তের মুখোমুখি ইংলিশ কিংবদন্তি
ছবি : ফুটবল নিউজ ক্লাব

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে ফাইনালের স্বপ্ন ভঙ্গ ইংল্যান্ডের। ইংলিশদের এমন বিদায়ে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত একটি আবেগঘন চিত্রের অবতরন হয়েছে। আমেরিকান ফুটবল ক্লাব ইন্টার মায়ামির সহ-মালিক ডেভিড বেকহ্যামের জন্য এই মুহূর্তটি ছিল চরম এক মনস্তাত্ত্বিক ও দ্বন্দ্বের। কারণ এক দিকে দেশ, অন্যদিকে নিজের ক্লাবের আর্জেন্টাইন মহাতারকা মেসির দলের কাছে হার। তাতেও দেশের পক্ষেই গেছে তার সমর্থন। হারে  বিষন্ন দেখা দেখে এই ইংলিশ তারকাকে।

ইংল্যান্ডের বিদায়ের পর ডেভিড বেকহ্যাম তার সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে মনের কষ্ট ও খেলোয়াড়দের প্রতি গর্ব প্রকাশ করে লেখেন, ‘আমাদের সবার জন্যই এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি মুহূর্ত, তবে এই স্মৃতিগুলো আমাদের সব সময় অনুপ্রাণিত করবে এবং চিরকাল বেঁচে থাকবে।’

1

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল বেকহ্যামের প্রিয় জন্মভূমি ইংল্যান্ড এবং তার ক্লাবের সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। ম্যাচটিতে ইংল্যান্ড ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়।

ম্যাচটিতে মেসি নিজে কোনো গোল না করলেও আর্জেন্টিনার করা দুটি গোলেই তিনি দুটি অসাধারণ অ্যাসিস্ট করেন। তার এই জাদুকরী পারফরম্যান্সের কারণেই ইংল্যান্ডের সোনালি প্রজন্মের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। গ্যালারিতে বসে থাকা সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক বেকহ্যামকে একদিকে তার দেশের বিদায়ে স্তব্ধ হয়ে যেতে দেখা যায়, অন্যদিকে তার নিজের রিক্রুট করা খেলোয়াড়ের শ্রেষ্ঠত্বও মেনে নিতে হয়।

মেসিকে ২০২৩ সালে বেকহ্যাম বহু কাঠখড় পুড়িয়ে, বিশ্বকে চমকে দিয়ে ইন্টার মায়ামিতে নিয়ে এসেছিলেন। সেই মেসিই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বেকহ্যামের দেশের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়ালেন। বেকহ্যাম মায়ামির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ক্লাবটির ব্র্যান্ড ভ্যালু ১.২ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে গেছেন মূলত মেসির ওপর ভর করেই। কিন্তু দেশের জার্সিতে সেই ‘প্রিয় ছেলেই’ তাকে কাঁদাল।

ফুটবল মাঠের এই বৈপরীত্যই খেলাটিকে এত সুন্দর করে তোলে। যে মানুষটি মায়ামির ড্রেসিংরুমে মেসির প্রতিটি গোলে আনন্দে লাফিয়ে ওঠেন, তাকেই বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির জাদুতে মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়তে হলো।

বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ফুটবলার মেসি—কেইন

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ফুটবলার মেসি—কেইন
ম্যাচ শেষে হাত মেলাচ্ছেন মেসি-কেইন। ছবি : রয়টার্স

ফুটবল তো অনেকেই খেলেন কিন্তু কজনই পারেন প্রতিপক্ষের কাছ থেকে প্রশংসা কাড়তে। হয়তো হাতে গোনা কয়েকজন। আর ধারাবাহিকতার কথা উঠলে তালিকাটা আরোন সংক্ষিপ্ত হবে।

সেই তালিকায় নিশ্চিতভাবেই ওপরের দিকের একজন হবেন লিওনেল মেসি। যিনি কিনা অবলীলায় কাজটা সুনিপুণভাবে করতে পারেন। আটলান্টায় গতকাল সেই কাজটাই আরেকবার করলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ের ম্যাচে কোনো গোল না পেলেও, তার অ্যাসিস্টেই আর্জেন্টিনার মুখে হাসি ফুটিয়েছেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ।

ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে অ্যাসিস্ট দুটি করেন মেসি। ৮৫ মিনিটের বিপরীতে জয়সূচক গোলটিতে সহায়তা করেন যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে। আর তাতেই ম্যাচে ৮৪ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থাকা ইংল্যান্ডের হৃদয় ভেঙে বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট পায় আর্জেন্টিনা।

নিজেদের হৃদয় ভাঙার কারিগর মেসি হলেও তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হ্যারি কেইন। ইংল্যান্ডের অধিনায়কের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ফুটবলার মেসি। ম্যাচ শেষে বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার বলেছেন, ‘লিও এখনো ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরের পারফর্মার। ম্যাচের একটা বড় সময়জুড়ে তাকে বেশ ভালোভাবেই আটকে রাখতে পেরেছিলাম আমরা। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে যা হয়—যখনই ফাইনাল থার্ডে বল তাদের পায়ে যায়, তারা ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। আজ ও (মেসি) ঠিক সেটাই করেছে। ও যে ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়, এমনি এমনি তো আর নয়।’

ম্যাচ হারায় নিজেদের ব্যর্থতাও দেখছেন কেইন। ৩২ বছর বয়সী স্ট্রাইকার বলেছেন, ‘আগেও বলেছি, শেষ ২০ মিনিট আমরা যে পরিমাণ জায়গা ছেড়েছি, তা হতাশাজনক। এই সুযোগটা শুধু তাকে (মেসি) নয়, অন্য খেলোয়াড়দেরও ম্যাচে ফিরে আসার এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছিল। যার ফলে তারা বলকে বিপজ্জনক সব জায়গায় পৌঁছে দিতে পেরেছিল। শেষ পর্যন্ত, তাদের থামানো আমাদের জন্য খুব কঠিন হয়ে পড়ে।’

ইংলিশ গোলরক্ষকের বোতলের ‘গোপন চিরকুট’ পড়লেন মেসিরা, কী লেখা ছিল

ক্রীড়া ডেস্ক
ইংলিশ গোলরক্ষকের বোতলের ‘গোপন চিরকুট’ পড়লেন মেসিরা, কী লেখা ছিল
সংগৃহীত ছবি

২০২৬ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার বাঁধভাঙা উল্লাসে মাতোয়ারা আলবিসেলেস্তেরা। তবে আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বুধবারের সেই রোমাঞ্চকর ম্যাচ শেষের উদযাপনের মাঝেই ঘটল এক মজার ঘটনা। মাঠের ভেতরের সব আলো যখন ফাইনাল নিশ্চিতের উদযাপনে, তখন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির চোখ অন্য একটি জিনিসে, যা ফুটবল ম্যাচকেও ছাপিয়ে রীতিমতো বিনোদনের খোরাক জুগিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ম্যাচ শেষের পর আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবং তার সতীর্থরা মাঠের ভেতরেই বেশ মনোযোগ দিয়ে কিছু একটা পড়ছেন। অনুসন্ধিৎসু চোখে মেসি আসলে দেখছিলেন ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের পানির বোতলে সেঁটে রাখা পেনাল্টির ‘গোপন নোট’ বা চিরকুট!

আধুনিক ফুটবলে প্রতিপক্ষের পেনাল্টি নেওয়ার কৌশল বোতলে লিখে রাখা গোলরক্ষকদের জন্য বেশ পরিচিত দৃশ্য হলেও ইংল্যান্ডের এত নিখুঁত ও চুলচেরা প্রস্তুতি দেখে বেশ কৌতূহলী ও আমোদিত দেখাল মেসিকে। সতীর্থ নিকো গঞ্জালেস বোতলটি মেসির সামনে উঁচিয়ে ধরেছিলেন, আর ট্রফি জয়ের নায়ক মেসি হাসিমুখে সেই চিরকুট পড়ার চেষ্টা করছিলেন। মেসির পড়ার সুবিধার্থে নোটটিতে স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল— পেনাল্টি শুটআউটের সময় পিকফোর্ডকে কোন শটের ক্ষেত্রে কোথায় ডাইভ দিতে হবে।

ম্যাচটি নির্ধারিত সময়েই ২-১ ব্যবধানে আর্জেন্টিনার পক্ষে শেষ হওয়ায় পেনাল্টির সেই নোট শেষ পর্যন্ত পিকফোর্ডের কোনো কাজে আসেনি। তবে হৃদয়ভঙ্গ হলেও ম্যাচ শেষে ফুটবলের মহাতারকা মেসিকে প্রশংসায় ভাসাতে ভুল করেননি ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন।

মেসির অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের স্তুতি গেয়ে কেইন বলেন, ‘লিও এখনো ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরে পারফর্ম করে চলেছে। ম্যাচের একটা বড় সময়জুড়ে আমরা তাকে বেশ ভালোভাবেই আটকে রাখতে পেরেছিলাম। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে যা হয়— যখনই ফাইনাল থার্ডে বল তাদের পায়ে যায়, তারা ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। আজ ও (মেসি) ঠিক সেটাই করেছে। ও যে ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়, তা এমনি এমনি নয়।’

নকআউট পর্বের রাউন্ড অব সিক্সটিনে মিসরের বিপক্ষে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ঠিক আট দিন পর, আটলান্টার মাটিতে আবারও নিজের চিরচেনা জাদুকরি রূপ দেখালেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে যখন ইংল্যান্ড এগিয়ে যায়, তখন থ্রি-লায়ন্সরা হয়তো ছয় দশক পর তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি ছোঁয়ার কাছে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল।

কিন্তু নীল-সাদা জার্সিধারীরা যে কখনো হাল ছাড়ে না, তা তারা আবারও প্রমাণ করল। ৮৫ মিনিটে যখন জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে রক্ষণ সামলাচ্ছিল ইংল্যান্ড, ঠিক তখনই মেসির সেই ক্ষুরধার মস্তিষ্ক সচল হয়ে ওঠে। একটি শর্ট কর্নার নিয়ে ফিরতি পাস পেতেই ২৫ গজ দূরে দাঁড়িয়ে থাকা এনজো ফার্নান্দেজকে নিখুঁত পাস বাড়ান মেসি। সেখান থেকে ফার্নান্দেজের বাঁকানো শট পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে জালে জড়ালে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। এরপর ইনজুরি টাইমে লাউতারোর গোলে জয় নিশ্চিত হওয়া যেন ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র।

আগামী রোববার নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে স্বপ্নের ফাইনালে লড়বে আর্জেন্টিনা। ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে টানা দুবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সেই বিরল কীর্তির সামনে এখন দাঁড়িয়ে লিওনেল মেসির দল।

বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়নরা

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়নরা

জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এলো চূরান্ত এক সুখবর। ভাগ্যবিধাতা যেন নিজ হাতেই লিখে রেখেছিলেন অন্য এক রূপকথা! কোপা আমেরিকা ও ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের রাজমুকুট মাথায় তোলা বিশ্বসেরা দুই পরাশক্তি নিজেদের শক্তি যাচাইয়ের চূড়ান্ত লড়াইয়ে নামতে যাচ্ছে। আর সেই মোক্ষম সুযোগটি করে দিচ্ছে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মঞ্চ—২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল।

আগামী ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বজয়ের সোনালী ট্রফির লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন।

আগামী চার বছরের জন্য ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ হবে এই ম্যাচ দিয়েই।

বিশ্বকাপের এই ফাইনাল ম্যাচের মূল আকর্ষণ অবশ্য মাঠের রণকৌশলকেও ছাড়িয়ে এক অনন্য মনস্তাত্ত্বিক রূপকথায় রূপ নিয়েছে। একদিকে আধুনিক ফুটবলের অবিসংবাদিত রাজা, আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসি, যিনি ৩৯ বছর বয়সেও আলবিসেলেস্তেদের ফাইনালে তোলার মূল কারিগর। অন্যদিকে, বার্সেলোনার একাডেমি ‘লা মাসিয়া’ থেকে উঠে আসা এবং মেসিরই যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়ানো স্পেনের বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল।

গুরু মেসির সাথে শিষ্য ইয়ামালের সেই দ্বৈরথ শেষ পর্যন্ত যে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চ অর্থাৎ বিশ্বকাপ ফাইনাল দিয়েই যাচাই করা যাচ্ছে, তাতেই এখন রোমাঞ্চিত সারা বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবল অনুরাগী। আগামী ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্কের মহাকাব্যিক লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবেন তা সময়ই বলে দেবে।