আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সহকারী কোচ ও টেকনিক্যাল অ্যানালিস্ট ওয়াল্টার স্যামুয়েল নেপথ্যে থেকে দলটির সেট-পিস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন। খেলোয়াড়ি জীবনে রক্ষণভাগের ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তার জন্য যিনি ‘দ্য ওয়াল’ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনিই এখন লিওনেল স্কালোনির কোচিং স্টাফের অন্যতম প্রধান মাস্টারমাইন্ড।
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলটি ছিল ওয়াল্টার স্যামুয়েলের নিখুঁত পরিকল্পনার ফসল।
স্যামুয়েল ম্যাচ শুরুর আগেই মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে প্রতিপক্ষের নিয়ার-পোস্টে আক্রমণ করার জন্য বিশেষভাবে নির্দেশ দেন।
অধিনায়ক লিওনেল মেসি কর্নার থেকে ঠিক স্যামুয়েলের নির্দেশিত স্থানেই নিখুঁত ক্রস বাড়ান। ম্যাক অ্যালিস্টার সেখানে অবস্থান নিয়ে দারুণ হেডে লক্ষ্যভেদ করেন। গোলটি হওয়ার পরপরই প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি ডাগআউটে স্যামুয়েলকে জড়িয়ে ধরে এই দুর্দান্ত কৌশলের জন্য উদযাপন করেন।
স্যামুয়েলের এই সেট-পিস চিন্তা মূলত তার নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের এক সোনালী স্মৃতির প্রতিফলন। ২০০৯/১০ মৌসুমে জোসে মরিনহোর ইন্টার মিলানের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ডায়নামো কিভের বিপক্ষে ওয়েসলি স্নাইডারের কর্নার থেকে স্যামুয়েল ঠিক একইভাবে নিয়ার-পোস্টে হেড করে একটি সমতাসূচক গুরুত্বপূর্ণ গোল করেছিলেন। ১৭ বছর পর আর্জেন্টিনা দলের কোচ হিসেবে তিনি নিজের সেই চতুর মুভমেন্ট বর্তমান প্রজন্মের খেলোয়াড়দের মাঝে সফলভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
গড়ে ১.৭৯ মিটার উচ্চতা নিয়ে আর্জেন্টিনা চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম খাটো দল হওয়া সত্ত্বেও তারা অন্যতম সেরা এরিয়াল থ্রেটে পরিণত হয়েছে। এই অবিশ্বাস্য পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে স্যামুয়েলের জাদুকরী প্রশিক্ষণ।
স্যামুয়েলের জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনা শারীরিক শক্তিতে অনগ্রসর হলেও নিখুঁত মনঃসংযোগ, আগ্রাসন, সঠিক যোগাযোগ এবং গোলরক্ষকের দক্ষতার মাধ্যমে সেট-পিসে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করছে। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ইতিমধ্যেই সেট-পিস থেকে ৫টি গোল করেছে। যা ১৯৬৬ সালের পর যেকোনো একক বিশ্বকাপে দলটির সর্বোচ্চ রেকর্ড।
খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে এবং ট্রফি ধরে রাখার তাড়না তৈরিতে তার ড্রেসিংরুমের বক্তব্যও বেশ প্রভাব ফেলে। আর্জেন্টিনা দলের এই ‘নীরব কারিগর’ স্পটলাইটের আড়ালে থেকে আলবিসেলেস্তেদের প্রতিটি বড় মুহূর্তের ভিত গড়ে দিচ্ছেন।





