বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বন্যার পানি নেমে গেলেও অনেক মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, নষ্ট হয়েছে খাদ্যসংগ্রহ, বন্ধ হয়ে গেছে জীবিকার পথ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন একাকী, প্রবীণ ও নিম্নআয়ের মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে বন্যাকবলিত আরো প্রায় অর্ধশত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ বান্দরবান জেলা শাখা।
বুধবার (১৫ জুলাই) বান্দরবান সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিক্রিছড়ামুখ তঞ্চঙ্গ্যা পাড়া, কোলক্ষ্য হেডম্যান পাড়া ও বিক্রিছড়া এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে একাকী ও অসহায় প্রবীণ মংচাখয় মারমাকে দেওয়া হয় নগদ আর্থিক সহায়তা।
৭৬ বছর বয়সী মংচাখয় মারমা দীর্ঘদিন ধরে একাই বসবাস করছেন। তার দেখাশোনার মতো কোনো নিকটাত্মীয় নেই। সাম্প্রতিক বন্যায় তার বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জীবিকার অবলম্বনও নষ্ট হয়ে যায়। খবর পেয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা তার বাড়িতে গিয়ে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ তুলে দেন। সংগঠনের সদস্যদের এই উপস্থিতি প্রবীণ মানুষটির জন্য ছিল দুর্যোগের সময় এক বড় ধরনের মানসিক সাহসও।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পাহাড়ি এলাকার অনেক পরিবার এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। দুর্গম হওয়ায় অনেক স্থানে সহায়তা পৌঁছাতে সময় লাগছে। বিশেষ করে প্রবীণ, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষের সংকট আরো প্রকট হয়ে উঠেছে। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
ত্রাণসামগ্রীর প্রতিটি প্যাকেটে চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, সয়াবিন তেল, লবণ এবং একটি ফ্যামিলি প্যাক বিস্কুট দেওয়া হয়, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অন্তত কয়েক দিনের খাদ্যসংকট মোকাবিলা করতে পারে।
বিক্রিছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বসন্ত কুমার চাকমা বলেন, বন্যার কারণে দুর্গম এলাকার মানুষের দুর্ভোগ অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে অসহায় ও প্রবীণ মানুষদের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। বসুন্ধরা শুভসংঘের এই মানবিক উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার এবং সমাজের অন্যদের জন্যও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
বসুন্ধরা শুভসংঘ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল সমন্বয়ক ও বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি উয়ই সিং মার্মা বলেন, মানুষের দুঃসময়ে পাশে থাকাই বসুন্ধরা শুভসংঘের অঙ্গীকার। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করার লক্ষ্যেই আমরা এই ত্রাণসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছি। বিশেষ করে পরিবারহীন ও অসহায় প্রবীণ মংচাখয় মারমার মতো মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও দুর্গম এলাকার অসহায় ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এর আগে একই মানবিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বসুন্ধরা শুভসংঘ বান্দরবান জেলা শাখা বন্যাকবলিত এলাকায় ৬০টি পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছিল। ধারাবাহিক সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এবার আরও প্রায় অর্ধশত পরিবারের কাছে খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেওয়া হলো।
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল সমন্বয়ক ও বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি উয়ই সিং মার্মা, জেলা শাখার সদস্য ওয়াইমং মারমা, সুলতানুল আরেফিন, মহিউদ্দিন হোসেন, উবাসাইং মারমা, কোহই খুমীসহ সংগঠনের শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
ত্রাণসামগ্রী ও সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের আশা, দুর্গত মানুষের পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন একইভাবে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবে।








