• ই-পেপার

টি-টোয়েন্টিতে এমন রেকর্ড প্রথমবার দেখল বিশ্ব

বিশ্বকাপজুড়ে বিতর্কে ফিফা সভাপতি

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপজুড়ে বিতর্কে ফিফা সভাপতি

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো। ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু আগ থেকেই নানা বিতর্ক যার নিত্যসঙ্গী। তার ফিফা সভাপতি নির্বাচন এখনো প্রশ্নের মুখে। বারবার তার বিরুদ্ধে ওঠে আর্থিক দুর্নীতি-পক্ষপাতের অভিযোগ। তবে এসবের মাঝেও তিনি নিজের জায়গায় অনড়। সফলভাবে ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজন করেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপও শেষের দিকে। যদিও এই বিশ্বকাপে নানা বিতর্কে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন তিনি।

যেভাবে আমেরিকার বিভিন্ন বিদ্বেষমূলক আচরণ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের একগুয়েমি চোখ বুজে সহ্য করে গিয়েছেন তিনি। যা আলোড়ণ তুলেছে বিশ্বজুড়ে। কখনো ফুটবলারদের সঙ্গে বাজে আচরণ। ইরান ফুটবলারদের আমেরিকায় বেশিক্ষণ থাকতে না দেওয়া। রেফারিকে ঢুকতে না দেওয়া, এমন নানা অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে রয়েছে রেফারিং এবং ভিএআর বিতর্ক।

চলতি বিশ্বকাপে ফিফা সভাপতির সবচেয়ে দৃষ্টিকটু বিতর্কটা ছিল আমেরিকার ফুটবলার বালোগুনের লাল কার্ড বাতিল। অভিযোগ সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে আমেরিকার ওই স্ট্রাইকারের লাল কার্ড বাতিল করেছেন ফিফা সভাপতি। ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের জেরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে তদন্তও চেয়েছে। যদিও ফিফার সাফ দাবি, ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফার বিচার বিভাগ। সেটার সঙ্গে সভাপতির কোনো সম্পর্ক নেই।

অবশ্য বিতর্ক শুধু বিশ্বকাপে নয়। ফিফা সভাপতি হওয়া নিয়েও ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। প্রাক্তন উয়েফা সভাপতি মিশেল প্লাতিনি অভিযোগ করেছেন, ২০১৬ সালে তাঁকে ফিফা সভাপতি হতে অনৈতিকভাবে বাধা দেওয়া হয়েছিল। ইনফান্তিনোসহ পাঁচ ফুটবল কর্তার বিরুদ্ধে জোড়া মামলা করেছেন প্রাক্তন কিংবদন্তি ফুটবলার।

সেপ ব্লাটারের পরবর্তী ফিফা সভাপতি হিসেবে প্লাতিনিকেই এগিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু ব্লাটারের একটি আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে প্লাতিনির নাম জড়িয়ে তাঁকে ২০১৬ সালে ফিফা সভাপতি হতে বাধা দেওয়া হয়। ২০১৫ সালে ফিফার এথিক্স কমিটি প্লাতিনিকে আট বছরের জন্য নির্বাসনে পাঠায়। ফলে তাঁর ফিফা সভাপতি হওয়া হয়ে ওঠেনি। প্লাতিনি মনে করছেন তাঁকে বাধা দেওয়ার মানুষকে কৌশলে নেতৃত্ব দিয়েছেন বর্তমান ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো।

জিয়ানি ইনফান্তিনোর মূল বার্ষিক বেতন ২৬ লাখ সুইস ফ্রাঁতে অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে ২০২৫ সালে তাঁর বার্ষিক বোনাস এক ধাক্কায় ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। আগে যা ছিল ১৬.৫ লক্ষ সুইস ফ্রাঁ, এখন তা দাঁড়িয়েছে ২২ লক্ষে। অর্থাৎ শুধু বোনাস বাবদই বৃদ্ধি পেয়েছে ৫.৫ লক্ষ সুইস ফ্রাঁ। এ ছাড়া তিনি ২৪ হাজার সুইস ফ্রা অনুদান হিসাবে পান।

ফিফা সভাপতির বেতন বাড়ল কেন? আসলে গত বছর ক্লাব বিশ্বকাপে দারুন সাফল্য পেয়েছে ফিফা। সে কারণেই বেতন বৃদ্ধি ইনফান্তিনোর। আসলে ক্লাব বিশ্বকাপ এবং আমেরিকার মাটিতে চলতি বিশ্বকাপে বিরাট রোজগার বেড়েছে ফিফার। সে কারণেই ইনফান্তিনোর বেতন ৩৩ শতাংশ বেড়েছে বলে খবর।

স্পেনকে খুব ভালো করেই চিনি—ফাইনাল নিয়ে মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক
স্পেনকে খুব ভালো করেই চিনি—ফাইনাল নিয়ে মেসি
ম্যাচ শেষে দর্শকদের উদ্দেশে মেসি। ছবি : রয়টার্স

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দেখায় বাজিমাত করেছেন লিওনেল মেসি। সেমিফাইনালে ২-১ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয়ে। নিজে গোল না পেলেও সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন দুটিই।

আটলান্টায় অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখা আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের পথে এবার বাধা স্পেন। ফাইনালে প্রতিপক্ষকে হারাতে পারলেই টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতবে আলবিসেলেস্তারা। তবে কাজটা সহজ হবে না লিওনেল মেসিদের। প্রতিপক্ষ স্পেন দুর্দান্ত ছন্দে আছে। 

তবে ইউরো ও নেশন্স কাপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের মেসির ভালো করেই চেনা। ক্যারিয়ারের পুরো সময় কাটিয়েছেন স্পেনের বার্সেলোনায়। আবার স্পেনের দলটিতে সর্বোচ্চ খেলোয়াড় কাতালান ক্লাবটির। স্পেনকে তাই ভালো করেই চেনা বলে জানান মেসি।

 

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর মেসি বলেছেন, ‘অসাধারণ সব খেলোয়াড় দিয়ে গড়া দুর্দান্ত এক দর স্পেন। এমন এক দল যাদের আমি খুব ভালো করেই চিনি। বছরের পর বছর একটা নির্দিষ্ট ফুটবল দর্শনে খেলে আসছে।’

স্পেনের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ৩ ম্যাচ খেলেছেন মেসি। গোল করেছেন ২টি। এবারের ফাইনাল দুর্দান্ত হবে জানিয়ে ইন্টার মায়ামির স্ট্রাইকার বলেছেন, ‘ওদের খেলোয়াড়দেরও চিনি। তাদের অনেকের বিপক্ষেই খেলেছি এবং এখনও তাদের খেলায় নজর রাখি। তাদের বেশ কজন বার্সেলোনায় খেলে—যে ক্লাবটিকে আমি মনে-প্রাণে ভালোবাসি এবং এখনও নিয়মিত খোঁজ খবর রাখি। 

তাই এটি একটি বিশেষ ম্যাচ হতে যাচ্ছে। আবার বিশ্বকাপের ফাইনালও। আশা করছি ম্যাচটি অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।’

আগামী ১৯ জুলাই ফাইনাল ফাইনাল ম্যাচ হবে। রাত ১টায় ম্যাচটি হবে নিউ ইয়র্ক/নিউ জার্সিতে।

‘আর্জেন্টিনার চতুর্থ নয়, দ্বিতীয় শিরোপা জিতবে স্পেন’

ক্রীড়া ডেস্ক
‘আর্জেন্টিনার চতুর্থ নয়, দ্বিতীয় শিরোপা জিতবে স্পেন’
স্পেনের একমাত্র বিশ্বকাপজয়ী ট্রফি হাতে ক্যাসিয়াস। ছবি : এক্স থেকে

একের পর এক কামব্যাকের গল্প লিখে বিশ্বকাপে ছুটছে আর্জেন্টিনা। এবার তুলির শেষ আঁচড় দেওয়ার পালা। তাদের প্রত্যাবর্তন দেখে তাই অনেকেই মনে করছেন চতুর্থ বিশ্বকাপটা আলবিসেলেস্তাদের নামেই খোদাই হতে যাচ্ছে।

এ জন্য আগামী ১৯ জুলাই প্রতিপক্ষ স্পেনকে হারাতে হবে আর্জেন্টিনাকে। তবে নিউ ইয়র্ক/নিউ জার্সিতে আর্জেন্টিনা নয় স্পেন বিজয়োল্লাস করবে বলে মনে করছেন ইকার ক্যাসিয়াস। স্পেন কিংবদন্তির মতে, আর্জেন্টিনার চতুর্থ নয়, স্পেনের দ্বিতীয় শিরোপা হতে যাচ্ছে।

ফাইনালের লড়াইয়ের আগে এভাবেই মাঠ গরম করে রাখলেন ক্যাসিয়াস। সামাজিক মাধ্যমে কয়েকটি পোস্ট দিয়ে স্পেনের সাবেক গোলরক্ষক লিখেছেন, ‘আর্জেন্টিনা, তোমাদের চতুর্থ তারকা (শিরোপা) পাওয়া হচ্ছে না! আমরা দ্বিতীয় শিরোপার দিকে এগোচ্ছি!! এগিয়ে চলো স্পেন!’

 

শুধু বিশ্বকাপ নয়, ফিনালিসিমাও স্পেন জিতবে বলে ক্যাসিয়াসের বিশ্বাস। তাই ফিফাকে দুটি শিরোপাই প্রস্তুত রাখতে বলা রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক গোলরক্ষক লিখেছেন, ‘এই রোববার ফিনালিসিমা এবং বিশ্বকাপ, দুটোই আমাদের! দুটো ট্রফিই প্রস্তুত রাখো ফিফা!’

৮৪ মিনিট পর্যন্ত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে এগিয়ে থাকা ইংল্যান্ড শেষে ২-১ গোলে হারায় কোচ টমাস টুখেলের সমালোচনাও করেছেন ক্যাসিয়াস। তিনি লিখেছেন, ‘নিজেদের ভুল কৌশলের কারণেই ম্যাচ হেরেছে ইংল্যান্ড। ওরা শেষ ৩০ মিনিট আর্জেন্টিনাকে যা খুশি তাই করার সুযোগ দিয়েছে। এটা হতে পারে না। আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল অবিশ্বাস্য হতে যাচ্ছে।’

 

ইংল্যান্ড গোল পাওয়ার পর নিজেদের বক্সে চলে যাওয়াকে ভীরুতা বলে জানান ক্যাসিয়াস। ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী স্পেন গোলরক্ষক লিখেছেন, ‘ইংল্যান্ড গোল করার পরেই পিছিয়ে যায়। এটা ভীরুতার পরিচয়। নিজেদের বক্স ছেড়ে বের হতে না চাওয়ায় একের পর এক আক্রমণের সুযোগ পেয়েছে আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত যা হওয়ার তাই হয়েছে।’

স্পেন ফাইনালে উঠতেই ভাইরাল পেদ্রির পুরনো পোস্ট

ক্রীড়া ডেস্ক
স্পেন ফাইনালে উঠতেই ভাইরাল পেদ্রির পুরনো পোস্ট

১৩ মাস আগে উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে পর্তুগালের কাছে হার মানতে হয়েছিল স্পেনকে। তখনই যেন লক্ষ্য স্থির হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কথায় আছে, কখনও কখনও জয়ের চেয়ে পরাজয় ঘুরে দাঁড়াতে শেখায়। ঠিক সেভাবেই রোনালদোর দেশের কাছে হেরে ভবিষ্যতের স্বপ্ন এঁকে রেখেছিলেন পেদ্রি। বার্সেলোনার এই মিডফিল্ডার লামিনে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসের সঙ্গে ছবি পোস্ট করেছিলেন। যার ক্যাপশনে লেখা ছিল বিশেষ তারিখ – ১৯.০৭.২৬। এই তারিখেই আগামী রোববার বিশ্বকাপের ফাইনাল। টানা তৃতীয়বার ফ্রান্সকে নকআউটে হারিয়ে সেদিন ফাইনাল খেলবে ‘লা রোজা’রা।

তখন অনেকেই পেদ্রির এই পোস্টকে হয়তো বিশেষ গুরুত্ব দেননি। কারণ সেই সময় পথ অনেক বাকি ছিল। স্পেনকে পার হতে হবে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্ব। সর্বোপরি মূলপর্বের কঠিন লড়াই। পরে ইয়ামালও সেই পোস্ট ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করেন। তাতেই স্পষ্ট, স্প্যানিশ আর্মাডার নতুন প্রজন্ম অনেক আগেই লক্ষ্য স্থির করে ফেলেছিল। ১৩ মাস পর আবার সেই পোস্ট ভাইরাল। কারণ ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে এসেছে স্পেন। যে তারিখ একসময় ছিল স্বপ্ন, সেটিই এখন বাস্তব।

 

২০২৪-এ ইউরো জয়ের পর থেকেই দুরন্ত ছন্দে রয়েছে স্পেন। নেশনস লিগের ফাইনালে হারলেও আত্মবিশ্বাসে ভাটা পড়েনি। গোটা বিশ্বকাপে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে স্প্যানিশ আর্মাডা। টুর্নামেন্টের শুরুতে মিডফিল্ডে ভরসা জুগিয়েছেন পেদ্রি। মাঝমাঠ থেকে খেলা নিয়ন্ত্রণ রেখেছেন তিনি। কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ফাইনাল থার্ডে সবচেয়ে বেশি পাস দেওয়ার রেকর্ডও ছিল তাঁর দখলে। যদিও নকআউট পর্বের শেষ দিকে ফাবিয়ান রুইজ প্রথম একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন। তবু কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের পরিকল্পনায় বেশ ভালোভাবেই রয়েছেন তিনি।

ফাইনালে উঠে ১৯ বছরের স্প্যানিশ তারকা ইয়ামাল বলছেন, দেখিয়ে দিলাম আমরাই বিশ্বসেরা দল।

উল্লেখ্য, ফরাসিদের হারিয়ে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত স্পেন ইতালির অনন্য নজিরে ভাগ বসিয়েছে। একই সঙ্গে প্রথম ইউরোপীয় দল হিসাবে ইউরো এবং বিশ্বকাপ মিলিয়ে টানা ৮টি নকআউট ম্যাচ জিতেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তে দল। তারা যে ১৬ বছর আগে সোনালি রাত ফিরিয়ে আনতে চাইবে, তা আলাদা করে বলার দরকার পড়ে না।