• ই-পেপার

বিশ্বকাপজুড়ে বিতর্কে ফিফা সভাপতি

যে পরিসংখ্যানে কিংবদন্তি পেলে ছাড়িয়ে গেলেন মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক
যে পরিসংখ্যানে কিংবদন্তি পেলে ছাড়িয়ে গেলেন মেসি
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপে একের পর এক অতিমানবীয় পারফরম্যান্স করে যাচ্ছে আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও হার না মানা লড়াকু সৈনিকের মত লড়ে যাচ্ছেন দলের জন্য। চলমান বিশ্বকাপে লিখে চলেছেন একর পর এক কামব্যাকের ইতিহাস। তাতে ভেঙ্গে নতুন করে গড়ছেন একের পর এক রেকর্ড।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার পথে লিওনেল মেসির রেকর্ড-ব্রেকিং পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি পরিসংখ্যানে বিশ্বকাপ ইতিহাসের বড় বড় কিংবদন্তিদের সাথে মেসির শ্রেষ্ঠত্বের তুলনা প্রকাশ করেছে ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম  ইএমপিএন।

‘বাই দ্য নাম্বার্স’য়ে  প্রকাশিত ডেটা অনুযায়ী, লিওনেল মেসি তাঁর ক্যারিয়ারের ৩৩টি বিশ্বকাপ ম্যাচে মোট ৩৩টি গোলে সরাসরি অবদান (২১টি গোল এবং ১২টি অ্যাসিস্ট) রেখেছেন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ।

কিলিয়ান এমবাপে তাঁর বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে মোট ২৫টি গোলে সরাসির অবদান রেখে এই তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন।

অন্যদিকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ম্যাচগুলোতে মোট ১০টি অ্যাসিস্ট করে অনন্য রেকর্ড গড়েছেন মহাতারকা মেসি। ফুটবল সম্রাট পেলে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মোট ৪টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন।

স্পেনকে খুব ভালো করেই চিনি—ফাইনাল নিয়ে মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক
স্পেনকে খুব ভালো করেই চিনি—ফাইনাল নিয়ে মেসি
ম্যাচ শেষে দর্শকদের উদ্দেশে মেসি। ছবি : রয়টার্স

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দেখায় বাজিমাত করেছেন লিওনেল মেসি। সেমিফাইনালে ২-১ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয়ে। নিজে গোল না পেলেও সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন দুটিই।

আটলান্টায় অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখা আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের পথে এবার বাধা স্পেন। ফাইনালে প্রতিপক্ষকে হারাতে পারলেই টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতবে আলবিসেলেস্তারা। তবে কাজটা সহজ হবে না লিওনেল মেসিদের। প্রতিপক্ষ স্পেন দুর্দান্ত ছন্দে আছে। 

তবে ইউরো ও নেশন্স কাপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের মেসির ভালো করেই চেনা। ক্যারিয়ারের পুরো সময় কাটিয়েছেন স্পেনের বার্সেলোনায়। আবার স্পেনের দলটিতে সর্বোচ্চ খেলোয়াড় কাতালান ক্লাবটির। স্পেনকে তাই ভালো করেই চেনা বলে জানান মেসি।

 

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর মেসি বলেছেন, ‘অসাধারণ সব খেলোয়াড় দিয়ে গড়া দুর্দান্ত এক দর স্পেন। এমন এক দল যাদের আমি খুব ভালো করেই চিনি। বছরের পর বছর একটা নির্দিষ্ট ফুটবল দর্শনে খেলে আসছে।’

স্পেনের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ৩ ম্যাচ খেলেছেন মেসি। গোল করেছেন ২টি। এবারের ফাইনাল দুর্দান্ত হবে জানিয়ে ইন্টার মায়ামির স্ট্রাইকার বলেছেন, ‘ওদের খেলোয়াড়দেরও চিনি। তাদের অনেকের বিপক্ষেই খেলেছি এবং এখনও তাদের খেলায় নজর রাখি। তাদের বেশ কজন বার্সেলোনায় খেলে—যে ক্লাবটিকে আমি মনে-প্রাণে ভালোবাসি এবং এখনও নিয়মিত খোঁজ খবর রাখি। 

তাই এটি একটি বিশেষ ম্যাচ হতে যাচ্ছে। আবার বিশ্বকাপের ফাইনালও। আশা করছি ম্যাচটি অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।’

আগামী ১৯ জুলাই ফাইনাল ফাইনাল ম্যাচ হবে। রাত ১টায় ম্যাচটি হবে নিউ ইয়র্ক/নিউ জার্সিতে।

টি-টোয়েন্টিতে এমন রেকর্ড প্রথমবার দেখল বিশ্ব

ক্রীড়া ডেস্ক
টি-টোয়েন্টিতে এমন রেকর্ড প্রথমবার দেখল বিশ্ব
ছবি : ক্রিকইনফো

আমেরিকার মেজর লিগ ক্রিকেট দেখল এক অতিমানবীয় এক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই ম্যাচে তিনজন ব্যাটসম্যানের শতকের ম্যাচে রেকর্ড ৫১টি ছক্কা দেখেছে বিশ্ব। এলিমিনেটরের ম্যাচে এমআই নিউ ইয়র্কের ব্যাটার পুরানের রেকর্ড দ্রুততম সেঞ্চুরিতে পাহাড়সম লক্ষ্য দেয় ওয়াশিংটন ফ্রিডমকে। আন্দ্রিস গাউস ও স্টিভেন স্মিথের নৈপুণ্য শেষ পর্যন্ত নিকোলাস পুরানের ৩১ বলে করা শতককে (যা এমএলসির দ্রুততম) ছাপিয়ে যায়। ফলে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রান তাড়া করে জয় তুলে নেয় ওয়াশিংটন।

ওকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে কোলাইসিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে নিকোলাস পুরানের বিধ্বংসী শতরানে ২৬৬ রান তোলে নিউ ইয়র্ক। জবাবে স্টিভ স্মিথ এবং অ্যান্ড্রিজ গাউসের জোড়া সেঞ্চুরিতে ভর করে ৮ বল বাকি থাকতেই ৪ উইকেটে ২৭০ রান সংগ্রহ করে রেকর্ড জয় নিশ্চিত করে ফ্রিডম।

টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে  নিউ ইয়র্ক দ্বিতীয় ওভারে ওপেনার মোনাঙ্ক প্যাটেলকে হারায় রান আউটে। দ্বিতীয় উইকেটে ৪২ বলে ১১৮ রানের জুটি গড়েন কুইন্টন ডি কক ও পুরান।

২৪ বলে ৫১ রান করে আউট হন ডি কক। পুরান ফিফটি করেন ১৪ বলে, শতরানে পা রাখেন ৩১ বলে। দুটিই মেজর লিগ ক্রিকেটে দ্রুততম। শেষ পর্যন্ত আউট হন ১৩ ছক্কায় ৩৩ বলে ১০৬ রান করে।

এরপর ৮ ছক্কায় ২৫ বলে ৬৪ রানের ইনিংস খেলেন পোলার্ড। ক্রিস গেইলের পর টি-টোয়েন্টিতে হাজার ছক্কার মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি।

সাকিব আউট হয়ে যান ৫ বলে ৪ রান করে। শেষ দিকে ট্রেন্ট বোল্ট করেন ১০ বলে ২২। রানের জোয়ারের মধ্যেও অষ্টম বোলার হিসেবে আক্রমণে এসে ৪ ওভারে ২৯ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন রাচিন রাভিন্দ্রা।

২০ ওভারে ২৬৬ রান এমএলসির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ২৬৯ রানের রেকর্ড স্যান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসের। গত বছর সেই ম্যাচটি তারা জিতেছিল ১২৩ রানে। কিন্তু এবার নিউ ইয়র্কের হলো উল্টো অভিজ্ঞতা।

বোলিংয়ে তাদের শুরুটা যদিও ছিল চমৎকার। নতুন বল হাতে ইনিংসের প্রথম ওভারেই আগ্রাসী ব্যাটসম্যান মিচেল ওয়েনকে আর্ম ডেলিভারিতে বোল্ড করে দেন সাকিব। বাংলাদেশের অলরাউন্ডার পরের ওভারে বিদায় করে দেন রাভিন্দ্রাকেও।

১০ রানে ২ উইকেট হারানো ওয়াশিংটন এরপর মেলে ধরে পাল্টা আক্রমণের চোখধাঁধানো প্রদর্শনী। সাকিবের ওই ওভারেই ছক্কা মেরে স্মিথ বুঝিয়ে দেন তাদের মনোভাব। এরপর চার-ছক্কার বন্যা বয়ে যায়। ১৯ বলে ফিফটি করেন স্মিথ।

হাউসের ফিফটি আসে ২৯ বলে। এরপর স্রেফ তাণ্ডব চালিয়ে পরের পঞ্চাশ করে ফেলেন তিনি স্রেফ ১১ বলেই! এমএলসিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ব্যাটসম্যানের প্রথম সেঞ্চুরি এটিই। হাউসের মতো ঠিক ৪০ বলে শতরান পূরণ করেন স্মিথও। অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি এটি, তার সবচেয়ে দ্রুতগতির শতরানও।

লক্ষ্য বিশাল বলে এমন ঝড়ের পরও সংশয় ছিল জয় নিয়ে। ১২ ওভার শেষে রান ছিল ১৪৪। তখনও ৮ ওভারে লাগে ১২৩ রান। অবিশ্বাস্যভাবে পরের তিন ওভারে ৮১ রান তুলে স্মিথ ও হাউস দলকে এগিয়ে নেন জয়ের পথে।

ত্রয়োদশ ওভারে রোমারিও শেফার্ডের বলে টানা চার ছক্কার পর বাউন্ডারি মারেন হাউস। ওভার থেকে আসে ২৯ রান। পরের ওভারে পোলার্ডকে দুটি ছক্কা মারেন স্মিথ, একটি হাউস। ওভার থেকে আসে ২১ রান।

এরপর তাজিন্দার সিংয়ের বোলিংয়ে তিন ছক্কা ও এক চার মারেন হাউস, একটি ছক্কা স্মিথ। ওই ওভার থেকে আসে ৩১ রান। তিন ওভারেই সমীকরণ চলে আসে নাগালে।

দলকে জয়ের খুব কাছে নিয়ে আউট হন হাউস। ৫১ বলে ১৩২ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে ১২ ছক্কা ও ১০টি চার মারেন ৩২ বছর বয়সী মার্কিন ব্যাটসম্যান। ৮৯ বলে ২৪১ রানে থামে জুটি।

তৃতীয় উইকেটে এটিই বিশ্বরেকর্ড। আগের রেকর্ড ছিল ২০১৯ সালে সিকিমের পিক্ষে মুম্বাইয়ের শ্রেয়াস আইয়ার ও সুরিয়াকুমার ইয়াদাভের ২১৩।

সব জুটি মিলিয়ে এর চেয়ে বড় বন্ধন আছে কেবল একটিই। ২০২৪ সালে চীনের বিপক্ষে জাপানের দুই ওপেনার কেন্ডেল কাডোওয়াকি-ফ্লেমিং ও লাচলান ইয়োমোতো-লেইক পুরো ২০ ওভার অপরাজিত থেকে রান তোলেন ২৫৮।

হাউসের বিদায়ের পর অস্ট্রেলিয়ান নিখিল চৌধুরি আউট হন ২ রানে। দুই অস্ট্রেলিয়ান স্মিথ ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ফেরেন জয়কে সঙ্গী করে।

৯ ছক্কায় ৪৮ বলে ১১০ রানে অপরাজিত থাকেন স্মিথ। ম্যাক্সওয়েলের ছক্কায় শেষ হয় ম্যাচ। ৪ উইকেটে ২৭০ রান, মেজর লিগ ক্রিকেটে দলীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। ৪ ওভারে ৩৪ রানে ২ উইকেট নেন সাকিব।

এর আগে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ডটি ছিল আইপিএলে। এবারের আইপিএলে দিল্লির ২৬৪ রান তাড়া করে জয় তুলে নেয় কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। 

এতে এলিমিনেটর ২-এ ওয়াশিংটন মুখোমুখি হবে সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসের। সেই ম্যাচের বিজয়ী দল এমএলসির ফাইনালে এলএ নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে খেলবে।

‘আর্জেন্টিনার চতুর্থ নয়, দ্বিতীয় শিরোপা জিতবে স্পেন’

ক্রীড়া ডেস্ক
‘আর্জেন্টিনার চতুর্থ নয়, দ্বিতীয় শিরোপা জিতবে স্পেন’
স্পেনের একমাত্র বিশ্বকাপজয়ী ট্রফি হাতে ক্যাসিয়াস। ছবি : এক্স থেকে

একের পর এক কামব্যাকের গল্প লিখে বিশ্বকাপে ছুটছে আর্জেন্টিনা। এবার তুলির শেষ আঁচড় দেওয়ার পালা। তাদের প্রত্যাবর্তন দেখে তাই অনেকেই মনে করছেন চতুর্থ বিশ্বকাপটা আলবিসেলেস্তাদের নামেই খোদাই হতে যাচ্ছে।

এ জন্য আগামী ১৯ জুলাই প্রতিপক্ষ স্পেনকে হারাতে হবে আর্জেন্টিনাকে। তবে নিউ ইয়র্ক/নিউ জার্সিতে আর্জেন্টিনা নয় স্পেন বিজয়োল্লাস করবে বলে মনে করছেন ইকার ক্যাসিয়াস। স্পেন কিংবদন্তির মতে, আর্জেন্টিনার চতুর্থ নয়, স্পেনের দ্বিতীয় শিরোপা হতে যাচ্ছে।

ফাইনালের লড়াইয়ের আগে এভাবেই মাঠ গরম করে রাখলেন ক্যাসিয়াস। সামাজিক মাধ্যমে কয়েকটি পোস্ট দিয়ে স্পেনের সাবেক গোলরক্ষক লিখেছেন, ‘আর্জেন্টিনা, তোমাদের চতুর্থ তারকা (শিরোপা) পাওয়া হচ্ছে না! আমরা দ্বিতীয় শিরোপার দিকে এগোচ্ছি!! এগিয়ে চলো স্পেন!’

 

শুধু বিশ্বকাপ নয়, ফিনালিসিমাও স্পেন জিতবে বলে ক্যাসিয়াসের বিশ্বাস। তাই ফিফাকে দুটি শিরোপাই প্রস্তুত রাখতে বলা রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক গোলরক্ষক লিখেছেন, ‘এই রোববার ফিনালিসিমা এবং বিশ্বকাপ, দুটোই আমাদের! দুটো ট্রফিই প্রস্তুত রাখো ফিফা!’

৮৪ মিনিট পর্যন্ত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে এগিয়ে থাকা ইংল্যান্ড শেষে ২-১ গোলে হারায় কোচ টমাস টুখেলের সমালোচনাও করেছেন ক্যাসিয়াস। তিনি লিখেছেন, ‘নিজেদের ভুল কৌশলের কারণেই ম্যাচ হেরেছে ইংল্যান্ড। ওরা শেষ ৩০ মিনিট আর্জেন্টিনাকে যা খুশি তাই করার সুযোগ দিয়েছে। এটা হতে পারে না। আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল অবিশ্বাস্য হতে যাচ্ছে।’

 

ইংল্যান্ড গোল পাওয়ার পর নিজেদের বক্সে চলে যাওয়াকে ভীরুতা বলে জানান ক্যাসিয়াস। ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী স্পেন গোলরক্ষক লিখেছেন, ‘ইংল্যান্ড গোল করার পরেই পিছিয়ে যায়। এটা ভীরুতার পরিচয়। নিজেদের বক্স ছেড়ে বের হতে না চাওয়ায় একের পর এক আক্রমণের সুযোগ পেয়েছে আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত যা হওয়ার তাই হয়েছে।’