আমেরিকার মেজর লিগ ক্রিকেট দেখল এক অতিমানবীয় এক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই ম্যাচে তিনজন ব্যাটসম্যানের শতকের ম্যাচে রেকর্ড ৫১টি ছক্কা দেখেছে বিশ্ব। এলিমিনেটরের ম্যাচে এমআই নিউ ইয়র্কের ব্যাটার পুরানের রেকর্ড দ্রুততম সেঞ্চুরিতে পাহাড়সম লক্ষ্য দেয় ওয়াশিংটন ফ্রিডমকে। আন্দ্রিস গাউস ও স্টিভেন স্মিথের নৈপুণ্য শেষ পর্যন্ত নিকোলাস পুরানের ৩১ বলে করা শতককে (যা এমএলসির দ্রুততম) ছাপিয়ে যায়। ফলে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রান তাড়া করে জয় তুলে নেয় ওয়াশিংটন।
ওকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে কোলাইসিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে নিকোলাস পুরানের বিধ্বংসী শতরানে ২৬৬ রান তোলে নিউ ইয়র্ক। জবাবে স্টিভ স্মিথ এবং অ্যান্ড্রিজ গাউসের জোড়া সেঞ্চুরিতে ভর করে ৮ বল বাকি থাকতেই ৪ উইকেটে ২৭০ রান সংগ্রহ করে রেকর্ড জয় নিশ্চিত করে ফ্রিডম।
টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নিউ ইয়র্ক দ্বিতীয় ওভারে ওপেনার মোনাঙ্ক প্যাটেলকে হারায় রান আউটে। দ্বিতীয় উইকেটে ৪২ বলে ১১৮ রানের জুটি গড়েন কুইন্টন ডি কক ও পুরান।
২৪ বলে ৫১ রান করে আউট হন ডি কক। পুরান ফিফটি করেন ১৪ বলে, শতরানে পা রাখেন ৩১ বলে। দুটিই মেজর লিগ ক্রিকেটে দ্রুততম। শেষ পর্যন্ত আউট হন ১৩ ছক্কায় ৩৩ বলে ১০৬ রান করে।
এরপর ৮ ছক্কায় ২৫ বলে ৬৪ রানের ইনিংস খেলেন পোলার্ড। ক্রিস গেইলের পর টি-টোয়েন্টিতে হাজার ছক্কার মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি।
সাকিব আউট হয়ে যান ৫ বলে ৪ রান করে। শেষ দিকে ট্রেন্ট বোল্ট করেন ১০ বলে ২২। রানের জোয়ারের মধ্যেও অষ্টম বোলার হিসেবে আক্রমণে এসে ৪ ওভারে ২৯ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন রাচিন রাভিন্দ্রা।
২০ ওভারে ২৬৬ রান এমএলসির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ২৬৯ রানের রেকর্ড স্যান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসের। গত বছর সেই ম্যাচটি তারা জিতেছিল ১২৩ রানে। কিন্তু এবার নিউ ইয়র্কের হলো উল্টো অভিজ্ঞতা।
বোলিংয়ে তাদের শুরুটা যদিও ছিল চমৎকার। নতুন বল হাতে ইনিংসের প্রথম ওভারেই আগ্রাসী ব্যাটসম্যান মিচেল ওয়েনকে আর্ম ডেলিভারিতে বোল্ড করে দেন সাকিব। বাংলাদেশের অলরাউন্ডার পরের ওভারে বিদায় করে দেন রাভিন্দ্রাকেও।
১০ রানে ২ উইকেট হারানো ওয়াশিংটন এরপর মেলে ধরে পাল্টা আক্রমণের চোখধাঁধানো প্রদর্শনী। সাকিবের ওই ওভারেই ছক্কা মেরে স্মিথ বুঝিয়ে দেন তাদের মনোভাব। এরপর চার-ছক্কার বন্যা বয়ে যায়। ১৯ বলে ফিফটি করেন স্মিথ।
হাউসের ফিফটি আসে ২৯ বলে। এরপর স্রেফ তাণ্ডব চালিয়ে পরের পঞ্চাশ করে ফেলেন তিনি স্রেফ ১১ বলেই! এমএলসিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ব্যাটসম্যানের প্রথম সেঞ্চুরি এটিই। হাউসের মতো ঠিক ৪০ বলে শতরান পূরণ করেন স্মিথও। অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি এটি, তার সবচেয়ে দ্রুতগতির শতরানও।
লক্ষ্য বিশাল বলে এমন ঝড়ের পরও সংশয় ছিল জয় নিয়ে। ১২ ওভার শেষে রান ছিল ১৪৪। তখনও ৮ ওভারে লাগে ১২৩ রান। অবিশ্বাস্যভাবে পরের তিন ওভারে ৮১ রান তুলে স্মিথ ও হাউস দলকে এগিয়ে নেন জয়ের পথে।
ত্রয়োদশ ওভারে রোমারিও শেফার্ডের বলে টানা চার ছক্কার পর বাউন্ডারি মারেন হাউস। ওভার থেকে আসে ২৯ রান। পরের ওভারে পোলার্ডকে দুটি ছক্কা মারেন স্মিথ, একটি হাউস। ওভার থেকে আসে ২১ রান।
এরপর তাজিন্দার সিংয়ের বোলিংয়ে তিন ছক্কা ও এক চার মারেন হাউস, একটি ছক্কা স্মিথ। ওই ওভার থেকে আসে ৩১ রান। তিন ওভারেই সমীকরণ চলে আসে নাগালে।
দলকে জয়ের খুব কাছে নিয়ে আউট হন হাউস। ৫১ বলে ১৩২ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে ১২ ছক্কা ও ১০টি চার মারেন ৩২ বছর বয়সী মার্কিন ব্যাটসম্যান। ৮৯ বলে ২৪১ রানে থামে জুটি।
তৃতীয় উইকেটে এটিই বিশ্বরেকর্ড। আগের রেকর্ড ছিল ২০১৯ সালে সিকিমের পিক্ষে মুম্বাইয়ের শ্রেয়াস আইয়ার ও সুরিয়াকুমার ইয়াদাভের ২১৩।
সব জুটি মিলিয়ে এর চেয়ে বড় বন্ধন আছে কেবল একটিই। ২০২৪ সালে চীনের বিপক্ষে জাপানের দুই ওপেনার কেন্ডেল কাডোওয়াকি-ফ্লেমিং ও লাচলান ইয়োমোতো-লেইক পুরো ২০ ওভার অপরাজিত থেকে রান তোলেন ২৫৮।
হাউসের বিদায়ের পর অস্ট্রেলিয়ান নিখিল চৌধুরি আউট হন ২ রানে। দুই অস্ট্রেলিয়ান স্মিথ ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ফেরেন জয়কে সঙ্গী করে।
৯ ছক্কায় ৪৮ বলে ১১০ রানে অপরাজিত থাকেন স্মিথ। ম্যাক্সওয়েলের ছক্কায় শেষ হয় ম্যাচ। ৪ উইকেটে ২৭০ রান, মেজর লিগ ক্রিকেটে দলীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। ৪ ওভারে ৩৪ রানে ২ উইকেট নেন সাকিব।
এর আগে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ডটি ছিল আইপিএলে। এবারের আইপিএলে দিল্লির ২৬৪ রান তাড়া করে জয় তুলে নেয় কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব।
এতে এলিমিনেটর ২-এ ওয়াশিংটন মুখোমুখি হবে সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসের। সেই ম্যাচের বিজয়ী দল এমএলসির ফাইনালে এলএ নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে খেলবে।