• ই-পেপার

‘আর্জেন্টিনার চতুর্থ নয়, দ্বিতীয় শিরোপা জিতবে স্পেন’

স্পেন ফাইনালে উঠতেই ভাইরাল পেদ্রির পুরনো পোস্ট

ক্রীড়া ডেস্ক
স্পেন ফাইনালে উঠতেই ভাইরাল পেদ্রির পুরনো পোস্ট

১৩ মাস আগে উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে পর্তুগালের কাছে হার মানতে হয়েছিল স্পেনকে। তখনই যেন লক্ষ্য স্থির হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কথায় আছে, কখনও কখনও জয়ের চেয়ে পরাজয় ঘুরে দাঁড়াতে শেখায়। ঠিক সেভাবেই রোনালদোর দেশের কাছে হেরে ভবিষ্যতের স্বপ্ন এঁকে রেখেছিলেন পেদ্রি। বার্সেলোনার এই মিডফিল্ডার লামিনে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসের সঙ্গে ছবি পোস্ট করেছিলেন। যার ক্যাপশনে লেখা ছিল বিশেষ তারিখ – ১৯.০৭.২৬। এই তারিখেই আগামী রোববার বিশ্বকাপের ফাইনাল। টানা তৃতীয়বার ফ্রান্সকে নকআউটে হারিয়ে সেদিন ফাইনাল খেলবে ‘লা রোজা’রা।

তখন অনেকেই পেদ্রির এই পোস্টকে হয়তো বিশেষ গুরুত্ব দেননি। কারণ সেই সময় পথ অনেক বাকি ছিল। স্পেনকে পার হতে হবে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্ব। সর্বোপরি মূলপর্বের কঠিন লড়াই। পরে ইয়ামালও সেই পোস্ট ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করেন। তাতেই স্পষ্ট, স্প্যানিশ আর্মাডার নতুন প্রজন্ম অনেক আগেই লক্ষ্য স্থির করে ফেলেছিল। ১৩ মাস পর আবার সেই পোস্ট ভাইরাল। কারণ ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে এসেছে স্পেন। যে তারিখ একসময় ছিল স্বপ্ন, সেটিই এখন বাস্তব।

 

২০২৪-এ ইউরো জয়ের পর থেকেই দুরন্ত ছন্দে রয়েছে স্পেন। নেশনস লিগের ফাইনালে হারলেও আত্মবিশ্বাসে ভাটা পড়েনি। গোটা বিশ্বকাপে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে স্প্যানিশ আর্মাডা। টুর্নামেন্টের শুরুতে মিডফিল্ডে ভরসা জুগিয়েছেন পেদ্রি। মাঝমাঠ থেকে খেলা নিয়ন্ত্রণ রেখেছেন তিনি। কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ফাইনাল থার্ডে সবচেয়ে বেশি পাস দেওয়ার রেকর্ডও ছিল তাঁর দখলে। যদিও নকআউট পর্বের শেষ দিকে ফাবিয়ান রুইজ প্রথম একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন। তবু কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের পরিকল্পনায় বেশ ভালোভাবেই রয়েছেন তিনি।

ফাইনালে উঠে ১৯ বছরের স্প্যানিশ তারকা ইয়ামাল বলছেন, দেখিয়ে দিলাম আমরাই বিশ্বসেরা দল।

উল্লেখ্য, ফরাসিদের হারিয়ে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত স্পেন ইতালির অনন্য নজিরে ভাগ বসিয়েছে। একই সঙ্গে প্রথম ইউরোপীয় দল হিসাবে ইউরো এবং বিশ্বকাপ মিলিয়ে টানা ৮টি নকআউট ম্যাচ জিতেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তে দল। তারা যে ১৬ বছর আগে সোনালি রাত ফিরিয়ে আনতে চাইবে, তা আলাদা করে বলার দরকার পড়ে না। 

ওয়াল্টার স্যামুয়েল : আর্জেন্টিনার সেট-পিস আধিপত্যের নেপথ্যের নীরব কারিগর

ক্রীড়া ডেস্ক
ওয়াল্টার স্যামুয়েল : আর্জেন্টিনার সেট-পিস আধিপত্যের নেপথ্যের নীরব কারিগর
ছবি : ওয়েবরাডিও

আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সহকারী কোচ ও টেকনিক্যাল অ্যানালিস্ট ওয়াল্টার স্যামুয়েল নেপথ্যে থেকে দলটির সেট-পিস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন। খেলোয়াড়ি জীবনে রক্ষণভাগের ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তার জন্য যিনি ‘দ্য ওয়াল’ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনিই এখন লিওনেল স্কালোনির কোচিং স্টাফের অন্যতম প্রধান মাস্টারমাইন্ড।

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলটি ছিল ওয়াল্টার স্যামুয়েলের নিখুঁত পরিকল্পনার ফসল।

স্যামুয়েল ম্যাচ শুরুর আগেই মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে প্রতিপক্ষের নিয়ার-পোস্টে আক্রমণ করার জন্য বিশেষভাবে নির্দেশ দেন।

অধিনায়ক লিওনেল মেসি কর্নার থেকে ঠিক স্যামুয়েলের নির্দেশিত স্থানেই নিখুঁত ক্রস বাড়ান। ম্যাক অ্যালিস্টার সেখানে অবস্থান নিয়ে দারুণ হেডে লক্ষ্যভেদ করেন। গোলটি হওয়ার পরপরই প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি ডাগআউটে স্যামুয়েলকে জড়িয়ে ধরে এই দুর্দান্ত কৌশলের জন্য উদযাপন করেন।

স্যামুয়েলের এই সেট-পিস চিন্তা মূলত তার নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের এক সোনালী স্মৃতির প্রতিফলন। ২০০৯/১০ মৌসুমে জোসে মরিনহোর ইন্টার মিলানের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ডায়নামো কিভের বিপক্ষে ওয়েসলি স্নাইডারের কর্নার থেকে স্যামুয়েল ঠিক একইভাবে নিয়ার-পোস্টে হেড করে একটি সমতাসূচক গুরুত্বপূর্ণ গোল করেছিলেন। ১৭ বছর পর আর্জেন্টিনা দলের কোচ হিসেবে তিনি নিজের সেই চতুর মুভমেন্ট বর্তমান প্রজন্মের খেলোয়াড়দের মাঝে সফলভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

গড়ে ১.৭৯ মিটার উচ্চতা নিয়ে আর্জেন্টিনা চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম খাটো দল হওয়া সত্ত্বেও তারা অন্যতম সেরা এরিয়াল থ্রেটে  পরিণত হয়েছে। এই অবিশ্বাস্য পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে স্যামুয়েলের জাদুকরী প্রশিক্ষণ।

স্যামুয়েলের জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনা শারীরিক শক্তিতে অনগ্রসর হলেও নিখুঁত মনঃসংযোগ, আগ্রাসন, সঠিক যোগাযোগ এবং গোলরক্ষকের দক্ষতার মাধ্যমে সেট-পিসে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করছে। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ইতিমধ্যেই সেট-পিস থেকে ৫টি গোল করেছে। যা ১৯৬৬ সালের পর যেকোনো একক বিশ্বকাপে দলটির সর্বোচ্চ রেকর্ড।

খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে এবং ট্রফি ধরে রাখার তাড়না তৈরিতে তার ড্রেসিংরুমের বক্তব্যও বেশ প্রভাব ফেলে। আর্জেন্টিনা দলের এই  ‘নীরব কারিগর’ স্পটলাইটের আড়ালে থেকে আলবিসেলেস্তেদের প্রতিটি বড় মুহূর্তের ভিত গড়ে দিচ্ছেন।

বিশ্বকাপের এক হৃদয়বিদারক মুহূর্তের মুখোমুখি ইংলিশ কিংবদন্তি

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের এক হৃদয়বিদারক মুহূর্তের মুখোমুখি ইংলিশ কিংবদন্তি
ছবি : ফুটবল নিউজ ক্লাব

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে ফাইনালের স্বপ্ন ভঙ্গ ইংল্যান্ডের। ইংলিশদের এমন বিদায়ে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত একটি আবেগঘন চিত্রের অবতরন হয়েছে। আমেরিকান ফুটবল ক্লাব ইন্টার মায়ামির সহ-মালিক ডেভিড বেকহ্যামের জন্য এই মুহূর্তটি ছিল চরম এক মনস্তাত্ত্বিক ও দ্বন্দ্বের। কারণ এক দিকে দেশ, অন্যদিকে নিজের ক্লাবের আর্জেন্টাইন মহাতারকা মেসির দলের কাছে হার। তাতেও দেশের পক্ষেই গেছে তার সমর্থন। হারে  বিষন্ন দেখা দেখে এই ইংলিশ তারকাকে।

ইংল্যান্ডের বিদায়ের পর ডেভিড বেকহ্যাম তার সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে মনের কষ্ট ও খেলোয়াড়দের প্রতি গর্ব প্রকাশ করে লেখেন, ‘আমাদের সবার জন্যই এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি মুহূর্ত, তবে এই স্মৃতিগুলো আমাদের সব সময় অনুপ্রাণিত করবে এবং চিরকাল বেঁচে থাকবে।’

1

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল বেকহ্যামের প্রিয় জন্মভূমি ইংল্যান্ড এবং তার ক্লাবের সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। ম্যাচটিতে ইংল্যান্ড ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়।

ম্যাচটিতে মেসি নিজে কোনো গোল না করলেও আর্জেন্টিনার করা দুটি গোলেই তিনি দুটি অসাধারণ অ্যাসিস্ট করেন। তার এই জাদুকরী পারফরম্যান্সের কারণেই ইংল্যান্ডের সোনালি প্রজন্মের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। গ্যালারিতে বসে থাকা সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক বেকহ্যামকে একদিকে তার দেশের বিদায়ে স্তব্ধ হয়ে যেতে দেখা যায়, অন্যদিকে তার নিজের রিক্রুট করা খেলোয়াড়ের শ্রেষ্ঠত্বও মেনে নিতে হয়।

মেসিকে ২০২৩ সালে বেকহ্যাম বহু কাঠখড় পুড়িয়ে, বিশ্বকে চমকে দিয়ে ইন্টার মায়ামিতে নিয়ে এসেছিলেন। সেই মেসিই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বেকহ্যামের দেশের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়ালেন। বেকহ্যাম মায়ামির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ক্লাবটির ব্র্যান্ড ভ্যালু ১.২ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে গেছেন মূলত মেসির ওপর ভর করেই। কিন্তু দেশের জার্সিতে সেই ‘প্রিয় ছেলেই’ তাকে কাঁদাল।

ফুটবল মাঠের এই বৈপরীত্যই খেলাটিকে এত সুন্দর করে তোলে। যে মানুষটি মায়ামির ড্রেসিংরুমে মেসির প্রতিটি গোলে আনন্দে লাফিয়ে ওঠেন, তাকেই বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির জাদুতে মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়তে হলো।

বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ফুটবলার মেসি—কেইন

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ফুটবলার মেসি—কেইন
ম্যাচ শেষে হাত মেলাচ্ছেন মেসি-কেইন। ছবি : রয়টার্স

ফুটবল তো অনেকেই খেলেন কিন্তু কজনই পারেন প্রতিপক্ষের কাছ থেকে প্রশংসা কাড়তে। হয়তো হাতে গোনা কয়েকজন। আর ধারাবাহিকতার কথা উঠলে তালিকাটা আরোন সংক্ষিপ্ত হবে।

সেই তালিকায় নিশ্চিতভাবেই ওপরের দিকের একজন হবেন লিওনেল মেসি। যিনি কিনা অবলীলায় কাজটা সুনিপুণভাবে করতে পারেন। আটলান্টায় গতকাল সেই কাজটাই আরেকবার করলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ের ম্যাচে কোনো গোল না পেলেও, তার অ্যাসিস্টেই আর্জেন্টিনার মুখে হাসি ফুটিয়েছেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ।

ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে অ্যাসিস্ট দুটি করেন মেসি। ৮৫ মিনিটের বিপরীতে জয়সূচক গোলটিতে সহায়তা করেন যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে। আর তাতেই ম্যাচে ৮৪ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থাকা ইংল্যান্ডের হৃদয় ভেঙে বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট পায় আর্জেন্টিনা।

নিজেদের হৃদয় ভাঙার কারিগর মেসি হলেও তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হ্যারি কেইন। ইংল্যান্ডের অধিনায়কের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ফুটবলার মেসি। ম্যাচ শেষে বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার বলেছেন, ‘লিও এখনো ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরের পারফর্মার। ম্যাচের একটা বড় সময়জুড়ে তাকে বেশ ভালোভাবেই আটকে রাখতে পেরেছিলাম আমরা। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে যা হয়—যখনই ফাইনাল থার্ডে বল তাদের পায়ে যায়, তারা ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। আজ ও (মেসি) ঠিক সেটাই করেছে। ও যে ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়, এমনি এমনি তো আর নয়।’

ম্যাচ হারায় নিজেদের ব্যর্থতাও দেখছেন কেইন। ৩২ বছর বয়সী স্ট্রাইকার বলেছেন, ‘আগেও বলেছি, শেষ ২০ মিনিট আমরা যে পরিমাণ জায়গা ছেড়েছি, তা হতাশাজনক। এই সুযোগটা শুধু তাকে (মেসি) নয়, অন্য খেলোয়াড়দেরও ম্যাচে ফিরে আসার এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছিল। যার ফলে তারা বলকে বিপজ্জনক সব জায়গায় পৌঁছে দিতে পেরেছিল। শেষ পর্যন্ত, তাদের থামানো আমাদের জন্য খুব কঠিন হয়ে পড়ে।’