• ই-পেপার

বিশ্বকাপে কিংবদন্তি পেলেকে ছাড়িয়ে গেলেন মেসি

বিশ্বকাপের ৬০ বছরের ইতিহাসে এক অনন্য রেকর্ড মেসির দখলে, দ্বিতীয় ম্যারাডোনা

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের ৬০ বছরের ইতিহাসে এক অনন্য রেকর্ড মেসির দখলে, দ্বিতীয় ম্যারাডোনা
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল একটি ব্লকবাস্টার থ্রিলারের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। যেখানে আর্জেন্টিনা শেষ মুহূর্তের দুই গোলে ২-১ ব্যবধানে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক জয় পায়। লিওনেল মেসির অ্যাসিস্ট থেকে গোল দুটি করেন এনজো ফার্নান্দেজ এবং লাউতারো মার্টিনেজ। এই জয়ের মাধ্যমে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ১৯ জুলাই স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে মুখোমুখি হবে।

ফাইনালে ওঠার পথে আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল মেসির রেকর্ড-ব্রেকিং পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। এতে বিশ্বকাপ ইতিহাসের বড় বড় কিংবদন্তিদের সাথে মেসির শ্রেষ্ঠত্বের তুলনা প্রকাশ করেছে ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম  ইএমপিএন।

‘বাই দ্য নাম্বার্স’য়ে  প্রকাশিত ডেটা অনুযায়ী, বিশ্বকাপের ৬০ বছরের ইতিহাসে মেসি তাঁর সতীর্থদের জন্য সর্বোচ্চ ৯৯টি গোল করার সুযোগ তৈরি করেছেন। আর ১টি সুযোগ তৈরি করলেই ১০০-র মাইলফলক স্পর্শ করবেন তিনি। 

আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ডিয়েগো মারাদোনা বিশ্বকাপে ৭১টি সুযোগ তৈরি করে এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। 

সমালোচনার মুখে ফার্নান্দেজের গোল উদযাপনের পোস্ট ডিলিট চেলসির

ক্রীড়া ডেস্ক
সমালোচনার মুখে ফার্নান্দেজের গোল উদযাপনের পোস্ট ডিলিট চেলসির
গোলের পর এনজো ফার্নান্দেজের উদযাপন। ছবি : রয়টার্স

ঘড়ির কাঁটার টিকটিক শব্দে ম্যাচের সময় তখন শেষ হওয়ার পথে। কিন্তু ম্যাচে ফেরা হচ্ছিল না আর্জেন্টিনার। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আর মাত্র ৫ মিনিটই যে বাকি ছিল। ঠিক তখনই ২৫ গজ দূর থেকে দূরপাল্লার এক অবিশ্বাস্য শটে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ। পরে লাউতারো মার্তিনেজের গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিটও পায় আর্জেন্টিনা।

আটলান্টায় বল জালে জড়াতেই উদযাপনে ডুবে গেলেন ফার্নান্দেজ। দুই হাত কানের কাছে রেখে উল্লাসে মাতেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার। ফার্নান্দেজ ক্লাব পর্যায়ে নিজেদের হয়ে খেলায় তার গোল উদযাপনে সঙ্গী হয় চেলসিও। ২৫ বছর বয়সী মিডফিল্ডার গোল করতেই নিজের সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দেয় ইংলিশ ক্লাবটি। তার ছবিটি দিয়ে ক্যাপশনে লেখে, ‘এনজো ফার্নান্দেজ।’ সঙ্গে আগুনের ইমোজি।

 

চেলসি এমন পোস্ট করতেই ইমোজির মতোই যেন ভেতরে ভেতরে জ্বলতে থাকেন ইংল্যান্ডের সমর্থকরা। জ্বলার কারণটাও স্পষ্ট। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যে গোলটা করেছেন ফার্নান্দেজ। ইংলিশ ক্লাব হওয়ায় কিভাবে এমন পোস্ট করতে পারে চেলসি। তাই মুহূর্তের মধ্যেই পশ্চিম লন্ডনের ক্লাবটির পোস্ট ঘিরে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বুঝতে পেরে দ্রুতই পোস্ট ডিলিট করতে বাধ্য হয় চেলসি।

তবে পোস্ট মুছেও তোপের মুখ থেকে বাঁচতে পারছে না চেলসি। ক্ষুব্ধ সমর্থকরা ক্লাবের বিরুদ্ধে দিয়েছেন পোস্ট। সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক সমর্থক লিখেছেন, ‘ইংলিশ ক্লাবটির পক্ষ থেকে এমন পোস্ট দেখা চরম লজ্জার! অবশ্য এই ক্লাবের কাছে এর চেয়ে ভালো কিছু আশাও করা যায় না।’

আরেকজন রসিকতার সুরে লিখেছেন, ‘এই পোস্টের পর চেলসির সামাজিক মাধ্যমের অ্যাডমিনের চাকরিটা বোধ হয় আর থাকছে না!’

বিশ্বকাপজুড়ে বিতর্কে ফিফা সভাপতি

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপজুড়ে বিতর্কে ফিফা সভাপতি

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো। ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু আগ থেকেই নানা বিতর্ক যার নিত্যসঙ্গী। তার ফিফা সভাপতি নির্বাচন এখনো প্রশ্নের মুখে। বারবার তার বিরুদ্ধে ওঠে আর্থিক দুর্নীতি-পক্ষপাতের অভিযোগ। তবে এসবের মাঝেও তিনি নিজের জায়গায় অনড়। সফলভাবে ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজন করেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপও শেষের দিকে। যদিও এই বিশ্বকাপে নানা বিতর্কে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন তিনি।

যেভাবে আমেরিকার বিভিন্ন বিদ্বেষমূলক আচরণ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের একগুয়েমি চোখ বুজে সহ্য করে গিয়েছেন তিনি। যা আলোড়ণ তুলেছে বিশ্বজুড়ে। কখনো ফুটবলারদের সঙ্গে বাজে আচরণ। ইরান ফুটবলারদের আমেরিকায় বেশিক্ষণ থাকতে না দেওয়া। রেফারিকে ঢুকতে না দেওয়া, এমন নানা অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে রয়েছে রেফারিং এবং ভিএআর বিতর্ক।

চলতি বিশ্বকাপে ফিফা সভাপতির সবচেয়ে দৃষ্টিকটু বিতর্কটা ছিল আমেরিকার ফুটবলার বালোগুনের লাল কার্ড বাতিল। অভিযোগ সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে আমেরিকার ওই স্ট্রাইকারের লাল কার্ড বাতিল করেছেন ফিফা সভাপতি। ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের জেরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে তদন্তও চেয়েছে। যদিও ফিফার সাফ দাবি, ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফার বিচার বিভাগ। সেটার সঙ্গে সভাপতির কোনো সম্পর্ক নেই।

অবশ্য বিতর্ক শুধু বিশ্বকাপে নয়। ফিফা সভাপতি হওয়া নিয়েও ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। প্রাক্তন উয়েফা সভাপতি মিশেল প্লাতিনি অভিযোগ করেছেন, ২০১৬ সালে তাঁকে ফিফা সভাপতি হতে অনৈতিকভাবে বাধা দেওয়া হয়েছিল। ইনফান্তিনোসহ পাঁচ ফুটবল কর্তার বিরুদ্ধে জোড়া মামলা করেছেন প্রাক্তন কিংবদন্তি ফুটবলার।

সেপ ব্লাটারের পরবর্তী ফিফা সভাপতি হিসেবে প্লাতিনিকেই এগিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু ব্লাটারের একটি আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে প্লাতিনির নাম জড়িয়ে তাঁকে ২০১৬ সালে ফিফা সভাপতি হতে বাধা দেওয়া হয়। ২০১৫ সালে ফিফার এথিক্স কমিটি প্লাতিনিকে আট বছরের জন্য নির্বাসনে পাঠায়। ফলে তাঁর ফিফা সভাপতি হওয়া হয়ে ওঠেনি। প্লাতিনি মনে করছেন তাঁকে বাধা দেওয়ার মানুষকে কৌশলে নেতৃত্ব দিয়েছেন বর্তমান ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো।

জিয়ানি ইনফান্তিনোর মূল বার্ষিক বেতন ২৬ লাখ সুইস ফ্রাঁতে অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে ২০২৫ সালে তাঁর বার্ষিক বোনাস এক ধাক্কায় ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। আগে যা ছিল ১৬.৫ লক্ষ সুইস ফ্রাঁ, এখন তা দাঁড়িয়েছে ২২ লক্ষে। অর্থাৎ শুধু বোনাস বাবদই বৃদ্ধি পেয়েছে ৫.৫ লক্ষ সুইস ফ্রাঁ। এ ছাড়া তিনি ২৪ হাজার সুইস ফ্রা অনুদান হিসাবে পান।

ফিফা সভাপতির বেতন বাড়ল কেন? আসলে গত বছর ক্লাব বিশ্বকাপে দারুন সাফল্য পেয়েছে ফিফা। সে কারণেই বেতন বৃদ্ধি ইনফান্তিনোর। আসলে ক্লাব বিশ্বকাপ এবং আমেরিকার মাটিতে চলতি বিশ্বকাপে বিরাট রোজগার বেড়েছে ফিফার। সে কারণেই ইনফান্তিনোর বেতন ৩৩ শতাংশ বেড়েছে বলে খবর।

স্পেনকে খুব ভালো করেই চিনি—ফাইনাল নিয়ে মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক
স্পেনকে খুব ভালো করেই চিনি—ফাইনাল নিয়ে মেসি
ম্যাচ শেষে দর্শকদের উদ্দেশে মেসি। ছবি : রয়টার্স

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দেখায় বাজিমাত করেছেন লিওনেল মেসি। সেমিফাইনালে ২-১ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয়ে। নিজে গোল না পেলেও সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন দুটিই।

আটলান্টায় অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখা আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের পথে এবার বাধা স্পেন। ফাইনালে প্রতিপক্ষকে হারাতে পারলেই টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতবে আলবিসেলেস্তারা। তবে কাজটা সহজ হবে না লিওনেল মেসিদের। প্রতিপক্ষ স্পেন দুর্দান্ত ছন্দে আছে। 

তবে ইউরো ও নেশন্স কাপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের মেসির ভালো করেই চেনা। ক্যারিয়ারের পুরো সময় কাটিয়েছেন স্পেনের বার্সেলোনায়। আবার স্পেনের দলটিতে সর্বোচ্চ খেলোয়াড় কাতালান ক্লাবটির। স্পেনকে তাই ভালো করেই চেনা বলে জানান মেসি।

 

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর মেসি বলেছেন, ‘অসাধারণ সব খেলোয়াড় দিয়ে গড়া দুর্দান্ত এক দর স্পেন। এমন এক দল যাদের আমি খুব ভালো করেই চিনি। বছরের পর বছর একটা নির্দিষ্ট ফুটবল দর্শনে খেলে আসছে।’

স্পেনের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ৩ ম্যাচ খেলেছেন মেসি। গোল করেছেন ২টি। এবারের ফাইনাল দুর্দান্ত হবে জানিয়ে ইন্টার মায়ামির স্ট্রাইকার বলেছেন, ‘ওদের খেলোয়াড়দেরও চিনি। তাদের অনেকের বিপক্ষেই খেলেছি এবং এখনও তাদের খেলায় নজর রাখি। তাদের বেশ কজন বার্সেলোনায় খেলে—যে ক্লাবটিকে আমি মনে-প্রাণে ভালোবাসি এবং এখনও নিয়মিত খোঁজ খবর রাখি। 

তাই এটি একটি বিশেষ ম্যাচ হতে যাচ্ছে। আবার বিশ্বকাপের ফাইনালও। আশা করছি ম্যাচটি অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।’

আগামী ১৯ জুলাই ফাইনাল ফাইনাল ম্যাচ হবে। রাত ১টায় ম্যাচটি হবে নিউ ইয়র্ক/নিউ জার্সিতে।