• ই-পেপার

কুলাউড়ায় মনু নদীর তীর রক্ষা প্রকল্প

সাড়ে ৩ বছর ধরে বিএসএফের বাধায় কাজ বন্ধ, বন্যা আতঙ্কে মনুপারের লাখো মানুষ

বোয়ালখালীতে লবণ কারখানায় আগুনের ঘটনায় ২ শ্রমিক নিহত

বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
বোয়ালখালীতে লবণ কারখানায় আগুনের ঘটনায় ২ শ্রমিক নিহত
দিদারুল আলম ও মোহাম্মদ নুরুল আলম (বাঁ দিক থেকে)। সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে লবণ কারখানায় আগুনে দগ্ধ হয়েছেন ১১ জন শ্রমিক। পরে তাদের মধ্যে দশ জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন চমেক ফাঁড়ির দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন মজুমদার।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ ‍জুলাই) সকাল ১০টার দিকে বোয়ালখালী পৌরসভার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকার কনফিডেন্স লবণ কারখানায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

টঙ্গীর ‘শীর্ষ মাদকসম্রাজ্ঞী’ কারিমা গ্রেপ্তার

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর
টঙ্গীর ‘শীর্ষ মাদকসম্রাজ্ঞী’ কারিমা গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

গাজীপুরের টঙ্গীর কেরানীরটেক বস্তির মাদকের ডিলার ও ‘শীর্ষ মাদকসম্রাজ্ঞী’ হিসেবে পরিচিত কারিমা বেগমকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার কারিমা বেগম কেরানীর টেক এলাকার বাসিন্দা ও জামাল মিয়ার স্ত্রী।

পুলিশ জানায়, কেরানীরটেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে কারিমাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক ও পুলিশের ওপর হামলাসহ এক ডজনের বেশি মামলা রয়েছে।

পুলিশের দাবি, কারিমা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযানের সময় তার নেতৃত্বে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

টঙ্গী পূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তুহীন বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে কারিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

সীমান্তে চোরাকারবারির সাম্রাজ্য গড়তে ব্যবহার করতেন ভারতীয় সিম, বিয়েও করেছেন সে দেশে

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
সীমান্তে চোরাকারবারির সাম্রাজ্য গড়তে ব্যবহার করতেন ভারতীয় সিম, বিয়েও করেছেন সে দেশে
সংগৃহীত ছবি

ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তে চোরাচালানের সাম্রাজ্য নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সে দেশেই বিয়ে করেছেন এবং নিয়মিত ভারতীয় সিম ব্যবহার করেন কামাল উদ্দিন। মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে অবৈধ ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের এই মূল হোতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। 

বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ অলিনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার কামাল উদ্দিন একই ইউনিয়নের আমলীঘাট এলাকার আমান উল্লাহর ছেলে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে করেরহাট ইউনিয়নের অলিনগর এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবৈধ ভারতীয় পণ্য বেচাকেনার সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন কামাল। বাংলাদেশের নাগরিক হলেও যোগাযোগের জন্য তিনি ভারতীয় নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন। জোরারগঞ্জ থানায় ভারতীয় পণ্য আটকের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ২৭ ও ২৯ নম্বর দুটি মামলা রয়েছে।

করেরহাট এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানের মূল হোতা কামাল উদ্দিন। তার সঙ্গে এই সিন্ডিকেটে জড়িত রয়েছেন ইমন, জানু মিয়া, সেলিম উদ্দিন এবং ফারুক। তাদের নেতৃত্বে মিরসরাই উপজেলার পূর্ব সীমান্তে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে থাকা ১৬ থেকে ১৮ কিলোমিটারের পাহাড়ি এলাকা দিয়ে পণ্য পাচার হয়। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অবাধে আসছে ভারতীয় চিনি, ফেনসিডিল, কাপড়, থ্রি পিস, গরু, হরলিক্স ও নানা রকম চকোলেট। এর আগে গত ২৪ জুন প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য উদ্ধার করে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। এরপর ২৮ জুন ১৮০ পিস ভারতীয় শাড়ি এবং ৩০ জুন ১৯টি ভারতীয় গরু উদ্ধার করা হয়।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, কামাল উদ্দিন সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার কামালকে বৃহস্পতিবার বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরো জানান, কামাল ভারতীয় সিম ব্যবহার করেন এবং তিনি ভারতে বিয়ে করেছেন। তার সিন্ডিকেটে থাকা একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ধামরাইয়ে ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা-মেলা শুরু

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি
ধামরাইয়ে ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা-মেলা শুরু
সংগৃহীত ছবি

ঢাকার ধামরাইয়ে প্রায় ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী যশোমাধবের রথযাত্রা উৎসব ও মেলা শুরু হয়েছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, বর্ণিল আয়োজন এবং হাজারো ভক্ত-দর্শনার্থীর অংশগ্রহণে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভক্ত, দর্শনার্থী ও পর্যটকরা এই ঐতিহাসিক আয়োজন উপভোগ করতে ধামরাইয়ে এসেছেন।

রবিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে ৯ দিনব্যাপী এ উৎসবের সূচনা করা হয়। প্রধান অতিথি সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি প্রতীকী রশি টেনে রথযাত্রা উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এর আগে সকাল ১০টায় ধামরাই পৌর এলাকার কায়েতপাড়ায় মাধব মন্দিরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষ হয়। 

নূরুল ইসলাম মনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে এ দেশের মানুষের অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে চলতে চাই। এ দেশে কোনো সংখ্যালঘু নেই। এ দেশে কোনো মৌলবাদ নেই। বিএনপি মৌলবাদে বিশ্বাস করে না, এ দেশ অসাম্প্রদায়িক। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে উন্নয়ন করতে চাই।

উৎসবের আঙিনায় যেকোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে র‌্যাব ও পুলিশের পাশাপাশি পরিচালনা কমিটি এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে।

যশোমাধব মন্দির পরিচালনা কমিটি ও রথযাত্রা উৎসবের সভাপতি মেজর জেনারেল জীবন কানাই দাসের (অব.) সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মোরাদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল মামুন, ধামরাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সামছুল ইসলাম, ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান অভি প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ইতিহাসবিদদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলা ১০৭৯ সাল থেকে ধামরাইয়ে শ্রীশ্রী যশোমাধব দেবের রথযাত্রা ও রথের মেলার প্রচলন শুরু হয়। সময়ের পরিক্রমায় এটি ধর্মীয় উৎসবের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ লোকজ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে লাখো মানুষের মিলনমেলা বসে।