দীর্ঘদিনের দাবির পর সিলেট-ঢাকা রুটে ‘টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস’ নামে নতুন একটি বিরতিহীন ট্রেন চালুর অনুমোদন দিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এ তথ্য জানান।
রেলমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঢাকা-সিলেট-ঢাকা রুটে ‘টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস’ নামে এক জোড়া নতুন বিরতিহীন ট্রেন চালুর অনুমোদন দিয়েছেন। তবে বর্তমানে ইঞ্জিন ও কোচের সংকট থাকায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহের পরই ট্রেনটি চালু করা হবে।
তিনি জানান, ২০০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহের জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) অর্থায়নে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহের জন্য পৃথক একটি ডিপিপির অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় কোচ ও ইঞ্জিন হাতে পেলেই নতুন ট্রেনটি চালু করা হবে।
তবে ট্রেনটি চালু হওয়ার আগেই যাত্রীদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—এটি আদৌ বিরতিহীন থাকবে, নাকি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রাবিরতি যুক্ত হয়ে লোকাল ট্রেনে পরিণত হবে।
সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সহ-ক্রীড়া ও সমাজবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দেবব্রত চৌধুরী লিটন বলেন, ‘সিলেট-ঢাকা রুটে একটি সত্যিকার বিরতিহীন ট্রেন জরুরি। সরকার নতুন একটি বিরতিহীন রেল অনুমোদন করেছেন। কিন্তু সেটি কি আদৌ বিরতিহীন থাকবে? কারণ কালনি এক্সপ্রেস যখন চালু হয় তখন সেটি বিরতিহীন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটি একটি করে এখন সেটি সব স্টেশনে থেমে থেমে যায়।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিরতিহীন মানে বিরতিহীন পথে কোথাও থামবে না। কারণ এক স্টেশনে থামলেই দেখা যায় মন্ত্রী, এমপির প্রভাব খাটিয়ে আরেকটি স্টেশনে থামানো হয়। পরে একে একে সব স্টেশনে থামাতে বাধ্য হয়। বিষয়টি শুরু থেকে নজর দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।’
একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংগঠন সিলেট কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এহছানুল হক তাহের। তিনি বলেন, ‘বলা হচ্ছে বিরতিহীন ট্রেন হবে টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস। কিন্তু বাস্তবে আদৌ হবে কি? কারণ শুরুতে এমন বলা হয়। পরে দেখা যায় এক-দুইটি স্টেশনে থামে। পরে মন্ত্রী-এমপিরা প্রতিযোগিতা করে নিজেদের এলাকায় থামাতে গিয়ে একটিকে লোকাল ট্রেন বানিয়ে ফেলেন। তাই আমাদের দাবি, শুরু থেকেই সরকার যেন এ বিষয়ে কঠোর থাকেন।’
বর্তমানে সিলেট-ঢাকা রুটে যাত্রীসংখ্যার তুলনায় টিকিটের সংকট, দীর্ঘ ভ্রমণ সময় এবং বিভিন্ন স্টেশনে অতিরিক্ত যাত্রাবিরতির কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি দীর্ঘদিনের। এ অবস্থায় নতুন ট্রেনটি সত্যিকার অর্থে বিরতিহীনভাবে চালু হলে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




