• ই-পেপার

প্রেমিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রেমিকের মামলা, আটক ৬

ফরিদপুরে নিখোঁজের ২ দিন পর পাটক্ষেত থেকে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে নিখোঁজের ২ দিন পর পাটক্ষেত থেকে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুর জেলা সদরের চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের মমিনখার হাট এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী ইউসুফ ফকির (৪৫) নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর পাটক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৮ জুলাই) উপজেলার মমিনখার হাটসংলগ্ন একটি পাটক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের মমিনখার হাট এলাকার সহির উদ্দিন ফকিরের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ছিলেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, অপহরণের পর মুক্তিপণ হিসেবে ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

জানা গেছে, শনিবার সকাল ১০টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার মমিনখার হাটসংলগ্ন একটি পাটক্ষেতে ইউসুফ ফকিরকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় মমিনখার হাট এলাকা থেকে একটি অটোরিকশায় বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন ইউসুফ ফকির। পরিবারের দাবি, বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছানোর পর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। এরপর আত্মীয়স্বজন ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিহতের বড় ভাই গিয়াসউদ্দিন জানান, নিখোঁজ হওয়ার পরেরদিন শুক্রবার (১৭ জুলাই) তার মোবাইল ফোনে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি কল করে ইউসুফকে ছাড়িয়ে নিতে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরিবারের অভিযোগ, ওই টাকা না দেওয়ায় দুর্বৃত্তরা ইউসুফকে হত্যা করেছে।

কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ এলাকার রাস্তা যেন মরণফাঁদ

ডালিম হোসাইন, ​সোনারগাঁ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ এলাকার রাস্তা যেন মরণফাঁদ
সংগৃহীত ছবি

বর্ষার টানা বৃষ্টি আর সংস্কারহীনতায় বেহাল হয়ে পড়েছে দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ এলাকার রাস্তা। মহাসড়কের কাঁচপুর সেতুর পূর্ব প্রান্ত থেকে মেঘনা সেতুর টোল প্লাজা পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার রাস্তার যেন এখন মৃত্যুফাঁদ। রাস্তা সংস্কার নয় স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন গাড়িচালক ও স্থানীয়রা।

গত কয়েক দিনের বৃষ্টি আর প্রতিদিন গড়ে ৫০ হাজার ভারি ও মাঝারি যানবাহন চলাচলের চাপে সড়কের পিচ-পাথর উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় বুক কাঁপছে চালক ও যাত্রীদের।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর সেতুর ঢালু থেকে জাংগাল, মল্লিকপাড়া, চেঙ্গাইন, মদনপুর, কেওঢালা, মালিবাগ, লাঙ্গলবন্দ, দড়িকান্দি, টিপুর্দী, ছোট সাদিপুর ,মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এবং মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার অংশে মহাসড়কের দুপাশের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে কার্পেটিং উঠে গেছে। ফলে মহাসড়কে ছোট-বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুতগতির যানবাহনের চালকদের জন্য এটি মরণফাঁদে পরিনত হয়েছে। যে ফাঁদে পড়ে দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে দূরপাল্লার যানবাহনসহ পথচারীরা।

 

মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী দূরপাল্লার একাধিক চালকরা  অসহায়ত্ব নিয়ে অভিযোগ করে জানান, বৃষ্টির পানিতে গর্তের গভীরতা আন্দাজ করা যায় না। দ্রুতগতির কোনো গাড়ি যখন হঠাৎ ব্রেক কষে, পেছনের গাড়ি এসে সজোরে ধাক্কা দেয়। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ছে মোটরসাইকেল ও ছোট থ্রি-হুইলারগুলো। 

শ্যামলী পরিবহনের বাসচালক হাসান মিয়া বলেন, ‘কাঁচপুর পার হইলেই স্টিয়ারিং শক্ত কইরা ধরা লাগে। কখোন যে গাড়ি গর্তে পইড়া এক্সেল ভাইঙা যায় ঠিক নাই। গাড়ি তো নষ্ট হয়ই, সাথে জানের ঝুঁকি তো আছেই। আমরা এর একটা স্থায়ী সমাধান চাই।’ 

গৌরীপুর থেকে আসা হানিফ পরিবহনের যাত্রী হান্নান মিয়া বলেন, ‘ইদানিং মহাসড়কে ছোট বড় অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। দিনের বেলায় গর্তগুলো দেখা গেলেও রাতে গাড়ি চালানো ও চলাচল করা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। খানাখন্দের কারণে দূর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে নিয়ে চলাচল করতে হয়। এছাড়া এই এলাকাটি মহাসড়কের হটস্পটথ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় রাতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গাড়ি আটকে থাকলে ছিনতাইয়ের প্রবল ভয় কাজ করে।’

প্রাইভেটকার চালক ইমরান বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে গর্তের সংখ্যা ও গভীরতা অনেক বেড়েছে। গাড়ির চাকা গর্তে পড়লেই নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এ যেনো সড়ক নয় মরণফাঁদ।’

মহাসড়কের বেহাল দশা সম্পর্কে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, ‘টানা বৃষ্টির কারণেই মহাসড়কে নতুন করে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া মহাসড়কের পাশের ঘাস ও ঝোপঝাড়ের কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় রাস্তা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এরই মধ্যে সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে কাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে ‘ 

প্রকৌশলী আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে  এক সপ্তাহের মধ্যেই সড়কটি চলাচলের জন্য ঝুঁকিমুক্ত করা সম্ভব হবে।’

সুনামগঞ্জ কারাগারে হাজতির মৃত্যু

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ কারাগারে হাজতির মৃত্যু

সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে আক্কাস আলী (৪৮) নামের এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত পৌনে ১২টায় জেলা সদর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। 

আক্কাস আলী সদর উপজেলার ইবরাহিমপুর গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে।

সুনামগঞ্জের জেল সুপার মো. মাইন উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, ‘রাতে পৌনে ১১টায় আক্কাস আলী হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌনে ১২টায় তার মৃত্যু হয়।’

তিনি আরো জানান, ২৩ মে আক্কাস আলী প্রতারণার একটি মামলায় জেলে আসেন। শুক্রবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তার পোস্টমর্টেম সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

নীলফামারীতে বর-কনে নিয়ে খাদে মাইক্রোবাস, নিহত ২

অনলাইন ডেস্ক
নীলফামারীতে বর-কনে নিয়ে খাদে মাইক্রোবাস, নিহত ২

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে কনে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বর-কনেসহ অন্তত ১২জন।

গতকাল শুক্রবার রাত ৩টার দিকে নীলফামারী-রংপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক কিশোরগঞ্জ থেকে টেংগনামারী সড়কের শাল্টিবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন–নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটা ইউনিয়নের বন্দরপাড়া এলাকার জিকরুল ইসলামের ৭ মাস বয়সি ছেলে জীবন ইসলাম ও একই এলাকার মোজা মিয়ার ছেলে রিয়াদ ইসলাম (২০)। তিনি এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার কচুকাটা বন্দরপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মোরছালিনের সঙ্গে কিশোরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেশবা গ্রামের শরিফ মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া আক্তারের বিয়ে হয়। সেই বিয়েতে বরযাত্রী হিসেবে বরসহ প্রায় ১৫ জন এসেছিলেন। পরে বিয়ে শেষে বরযাত্রী কনেকে নিয়ে মাইক্রোবাসে বাড়ি ফেরার পথে রাত ৩টার দিকে শাল্টিবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এ সময়ে মাইক্রোবাসে থাকা বর-কনেসহ অন্তত ১৪ জন গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ১২ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীল রতন দেব বলেন, রাতে ১৪ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে আসার পরে দুইজন মারা যান। এছাড়া ১২ জনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গফুর বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুইজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।