• ই-পেপার

হবিগঞ্জে তিন মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩

বীরগঞ্জে ভাড়া বাসা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
বীরগঞ্জে ভাড়া বাসা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হরিবাসরপাড়াসংলগ্ন একটি ভাড়াবাসা থেকে অরুণ চন্দ্র সেন (২৬) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত অরুণ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর এলাকার জ্যোতিষ চন্দ্র সেনের ছেলে। তিনি বীরগঞ্জে মো. আশরাফুল আলমের (৩৬) বাসায় ভাড়া থাকতেন।

বাসার মালিক মো. আশরাফুল আলম জানান, একটি কম্পানিতে চাকরি করার কথা বলে অরুণ প্রায় ১০-১২ দিন আগে বাসাটি ভাড়া নেন। তিনি একাই সেখানে বসবাস করতেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত আনুমানিক ৯টার পর থেকে তার কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে এবং ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে দরজা ভেঙে গভীর রাতে মরদেহ উদ্ধার করেন। তিনি জানান, ঘরের ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগানো ছিল এবং সেখানে বিষ জাতীয় গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল।

নিহতের বড় ভাই নিরঞ্জন সেন দিলু জানান, গভীর রাতে স্থানীয় এক সাবেক চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তারা ঘটনাটি জানতে পারেন। অরুণ বীরগঞ্জে অবস্থান করছিলেন, বিষয়টি পরিবারের কেউ জানতেন না। প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস আগে তার স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক বিচ্ছেদ (ডিভোর্স) হয়। এরপর থেকে তিনি অনিয়মিতভাবে বাড়িতে থাকতেন। তিনি চানাচুর তৈরির একটি ছোট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, অরুণ কিছু দিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ঘটনার বিষয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই বলে জানান তিনি।

বীরগঞ্জ থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মাধবপুরে ১৭ দিনে ৪ জনের আত্মহত্যা, বাড়ছে উদ্বেগ

আবুল হাসান ফায়েজ, মাধবপুর
মাধবপুরে ১৭ দিনে ৪ জনের আত্মহত্যা, বাড়ছে উদ্বেগ
প্রতীকী ছবি

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় হঠাৎ করেই আত্মহত্যার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১১ দিনের ব্যবধানে তিন নারী ও এক পুরুষসহ চারজনের আত্মহত্যার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক, পারিবারিক ও অর্থনৈতিক সংকটকে এসব ঘটনার সম্ভাব্য পটভূমি হিসেবে উল্লেখ করছেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

সর্বশেষ বুধবার (১৫ জুলাই) উপজেলার হাড়িয়া গ্রামের একটি ভাড়াবাসা থেকে আনিতা বেগম (১৯) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা এবং তার স্বামী বুলবুল আহমেদ স্থানীয় একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত ৬ জুলাই নোয়াপাড়া চা বাগানের চা-শ্রমিক প্রকাশ রেলী (২৬) আত্মহত্যা করেন। পরিবারের দাবি, সুদখোর মহাজনের ঋণের চাপ ও মানসিক দুশ্চিন্তা সহ্য করতে না পেরেই তিনি এই চরম পথ বেছে নেন।

এর দুদিন আগে, গত ৪ জুলাই জগদীশপুর চা বাগানের শ্রমিক সবিতা বাউরী (৩০) আত্মহত্যা করেন। তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পরিবারের সদস্যরা প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। একই দিনে উপজেলার খাটুরা গ্রামে সুমা সরকার (২০) নামে আরো এক তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।

স্বল্প সময়ে একের পর এক আত্মহত্যার ঘটনায় মাধবপুরে সাধারণ মানুষের মধ্যে মানসিক ও সামাজিক অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রেম বা দাম্পত্য সম্পর্কের টানাপোড়ন, পারিবারিক কলহ, ঋণের চাপ, বেকারত্ব, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, একাকীত্ব এবং স্থানীয় পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগ মানুষকে চরম হতাশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বিজয় কুমার দত্ত বলেন, ‘আত্মহত্যা সাধারণত কোনো একক কারণে ঘটে না। মানসিক, পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নানা চাপ একসঙ্গে কাজ করে একজন মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। তাই প্রতিটি ঘটনাকে সংবেদনশীলভাবে দেখতে হবে এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।’

তিনি আরো যোগ করেন, ‘পরিবারে কেউ দীর্ঘদিন বিষন্নতায় ভুগলে, অতিরিক্ত হতাশা প্রকাশ করলে বা নিজেকে গুটিয়ে নিলে তা গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে এবং দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও পরিবারের সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে।’

মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা জানান, প্রতিটি ঘটনার আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যথাযথ তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার পাশাপাশি আত্মহত্যার মতো সামাজিক ব্যাধি রোধ করতে হলে সমাজে সর্বস্তরে সচেতনতা সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় সামান্য ভুল বোঝাবুঝি বা আবেগের বশে মানুষ এই ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। তাই পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক মূল্যবোধ জোরদার করতে হবে। আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে যেকোনো সংকটকালীন সহায়তার জন্য তৎপর রয়েছি এবং এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’

কালীগঞ্জে ইয়াবা সেবনের দায়ে ৬ জনের কারাদণ্ড

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর
কালীগঞ্জে ইয়াবা সেবনের দায়ে ৬ জনের কারাদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

গাজীপুরের কালীগঞ্জে ইয়াবা সেবনের দায়ে ছয় নারী ও পুরুষককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার (১৭ জুলাই) কালীগঞ্জের সাওরাইদ বাজার ও বালীগাও এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এই দণ্ড দেওয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও কালীগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সরওয়ার লিমা কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

আদালত সূত্র জানায়, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে কালীগঞ্জের সাওরাইদ বাজার ও বালীগাও থেকে ইয়াবা সেবনের দায়ে ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি মামলা করার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত তিনজনকে তিন মাস করে ও বাকি তিন জনকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়।

কুড়িগ্রামে বিভিন্ন মাদকসহ আটক ৩

আঞ্চ‌লিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামে বিভিন্ন মাদকসহ আটক ৩
সংগৃহীত ছবি

কুড়িগ্রামে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় গাঁজা, ইয়াবা ট্যাবলেট এবং বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানি পণ্যসহ তিনজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার (১৭ জুলাই) কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়নের অধীন সোনাহাট ও ধলডাঙ্গা বিওপির টহলদল দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তিন চোরা কারবা‌রিকে আটক করে। এসময় তাদের কাছ থেকে ভারতীয় গাঁজা ও ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

এছাড়া ব্যাটালিয়নের অধীন অন্যান্য বিওপির সদস্যরা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় জিরা, গবাদিপশু এবং বিভিন্ন ধরনের অবৈধ চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেন। জব্দ করা সব পণ্যের মোট সিজার মূল্য ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৪৫০ টাকা।

কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক বলেন, ‘দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ দমনে বিজিবির ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।’