• ই-পেপার

বীরগঞ্জে ভাড়া বাসা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা মহাসড়কে বাসে ডাকাতি, টাকা-মোবাইল লুট

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা মহাসড়কে বাসে ডাকাতি, টাকা-মোবাইল লুট
সংগৃহীত ছবি

চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা মহাসড়কের দামুড়হুদা উপজেলা সদরের ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজের অদূরে ইটভাটা সংলগ্ন এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে সংঘবদ্ধ একদল ডাকাত পূর্বাশা পরিবহনের একটি বাসসহ কয়েকটি যানবাহনে ডাকাতি চালায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৮ থেকে ১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে প্রথমে তারা দামুড়হুদা দশমী গ্রামের নস্কর আলীর ছেলে ভ্যানচালক জুব্বারের পথরোধ করে তার কাছ থেকে নগদ ৩৪০ টাকা ও একটি বাটন মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে ডাকাতরা পূর্বাশা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা লুট করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডাকাতরা মহাসড়কে আতঙ্ক সৃষ্টি করে লুটপাট চালায়। এসময় দামুড়হুদা মডেল থানার এসআই উত্তম ওই এলাকায় টহলরত ছিলেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতদল দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি শেখ মেসবাহ উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ডাকাতির ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

চট্টগ্রাম

স্যাটেলাইট নগর পরিকল্পনায় যুক্ত হচ্ছে পটিয়াসহ ৫ উপজেলা

কাউছার আলম, পটিয়া (চট্টগ্রাম)
স্যাটেলাইট নগর পরিকল্পনায় যুক্ত হচ্ছে পটিয়াসহ ৫ উপজেলা

চট্টগ্রাম মহানগরীর ক্রমবর্ধমান জনচাপ, আবাসন সংকট, যানজট এবং অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণের চাপ কমাতে শহরের বাইরে পরিকল্পিত স্যাটেলাইট নগর গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এ পরিকল্পনায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা পটিয়াসহ আনোয়ারা, কর্ণফুলী, বোয়ালখালী ও হাটহাজারীকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

গত (৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) বোর্ড সভায় এ বিষয়ে প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সিডিএর বোর্ড সদস্য নজরুল ইসলাম।

এদিকে, এই উদ্যোগকে ঘিরে এরই মধ্যে দক্ষিণ চট্টগ্রামে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, চট্টগ্রাম শহরের কেন্দ্রিক উন্নয়নচাপ ভাগ করে নিতে হলে শুধু নগরসীমার ভেতরে প্রকল্প নিলেই হবে না আশপাশের সম্ভাবনাময় উপজেলাগুলোকে পরিকল্পিত আবাসন, শিল্প, বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ অবকাঠামোসহ আধুনিক উপশহর হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সেই বাস্তবতায় পটিয়ার নাম উঠে আসা নিঃসন্দেহে বড় তাৎপর্যপূর্ণ।

সিডিএ বোর্ড সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম শহরের ওপর ক্রমাগত বাড়তে থাকা চাপ কমাতে স্যাটেলাইট শহর গঠনের বিষয়টি এখন সময়ের দাবি। ওয়ান সিটি টু টাউন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ পাঁচটি উপজেলাকে সিডিএ'র আওতায় আনা হবে। বৃহস্পতিবারের বোর্ড সভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে এবং চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পটিয়া, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, বোয়ালখালী ও হাটহাজারীকে পরিকল্পনার আওতায় বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম নগরের সম্প্রসারণ এখন আর শুধু নগরকেন্দ্রিক ভাবনায় আটকে রাখলে চলবে না। নগরের সঙ্গে যোগাযোগ, আবাসন, শিল্প ও নাগরিক সেবাকে সমন্বয় করে আশপাশের উপজেলাগুলোকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে। স্যাটেলাইট নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে নগরের জনচাপ যেমন কমবে, তেমনি নতুন অর্থনৈতিক কেন্দ্রও গড়ে উঠবে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যান (২০২৫-২০৫০) শীর্ষক ২৫ বছর মেয়াদি এই পরিকল্পনায় এ ৫ উপজেলায় বিশেষায়িত শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনাটি প্রণয়ন করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এর মাধ্যমে বন্দর নগরীকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তৈরি করা হয়েছে এই দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত রূপরেখা।

অপরদিকে, দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত পটিয়া দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক, শিক্ষাগত ও যোগাযোগগত গুরুত্ব বহন করে আসছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত এই উপজেলা একদিকে নগরের খুব কাছাকাছি, অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তৃত জনপদের কেন্দ্রবিন্দু। ফলে পরিকল্পিত নগর সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে পটিয়া ভৌগোলিকভাবেই একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।

পটিয়ায় এরই মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, ব্যবসা-বাণিজ্য, আবাসন, ব্যাংকিং, বাজার ব্যবস্থা ও আঞ্চলিক প্রশাসনিক কার্যক্রমের বিস্তার ঘটেছে। সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে এই উপজেলাকে আবাসননির্ভর উপশহর হিসেবে সমন্বিত পরিকল্পিত নগর কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।

নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রাম শহর এখন জনসংখ্যা, যানবাহন, বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্য, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অতিরিক্ত চাপ বহন করছে। নগরের কেন্দ্রভাগে বসবাস ও ব্যবসা-বাণিজ্যের চাপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে; অথচ সড়ক, ড্রেনেজ, পার্কিং, আবাসন ও গণপরিবহন অবকাঠামো সেই তুলনায় প্রসারিত হয়নি। ফলে শহরের চাপ কমাতে বিকল্প পরিকল্পিত নগরায়ণ এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং বাস্তব প্রয়োজন।

এই বাস্তবতায় চট্টগ্রামের চারপাশে স্যাটেলাইট নগর গড়ে তোলা গেলে নগরের আবাসনচাপ কমবে, নতুন শিল্প ও সেবাখাত গড়ে উঠবে, পাশাপাশি নাগরিক সুবিধাও ছড়িয়ে পড়বে শহরের বাইরে। এর ফলে কেন্দ্রভিত্তিক উন্নয়নের পরিবর্তে বহুকেন্দ্রিক নগর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হবে।

সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, পরিকল্পিতভাবে নতুন উপশহর গড়ে তোলা গেলে মূল নগরের ওপর জনসংখ্যা, আবাসন ও যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এতে চট্টগ্রামের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নগরায়ণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তিনি আরো বলেন, পরিকল্পিতভাবে নতুন উপশহর গড়ে তোলা গেলে মূল নগরের ওপর জনসংখ্যা, আবাসন ও যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এতে চট্টগ্রামের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নগরায়ণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পটিয়াকে স্যাটেলাইট নগরের আওতায় আনা হলে কয়েকটি বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে- পরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প, আধুনিক সড়ক ও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ নেটওয়ার্ক, পানি নিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য অবকাঠামোর সম্প্রসারণ, বাণিজ্যিক জোন, আইটি বা সার্ভিস হাব, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পাঞ্চল, বিনিয়োগবান্ধব অবকাঠামো এবং আধুনিক নাগরিক সেবা। একইসঙ্গে পটিয়াকে ঘিরে নতুন আবাসিক এলাকা, বহুতল বাণিজ্যিক স্থাপনা, পরিবহন টার্মিনাল, গুদামজাতকরণ সুবিধা, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান ও পরিবেশবান্ধব নগর অবকাঠামো গড়ে তোলার সুযোগও তৈরি হতে পারে। ফলে এটি শুধু আবাসনের বিকল্প হিসেবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের জন্য একটি নতুন অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, পটিয়াকে স্যাটেলাইট নগরের অন্তর্ভুক্ত করা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক, তবে এটি কেবল ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকলে প্রত্যাশা পূরণ হবে না। প্রয়োজন হবে ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা, পরিবেশগত প্রভাব যাচাই, সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, গণপরিবহন নেটওয়ার্ক, পানি-বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য-শিক্ষা অবকাঠামো এবং শিল্প-বাণিজ্যিক জোনিং সবকিছুকে একসঙ্গে বিবেচনায় এনে একটি দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন।

অন্যদিকে, পটিয়াবাসীর প্রত্যাশা, সিডিএর এই উদ্যোগ যেন কেবল সভার আলোচনায় সীমাবদ্ধ না থাকে। খুব দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রাথমিক নকশা, জমি ব্যবহারের কাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের ধাপভিত্তিক রোডম্যাপ প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজ, ভূমি বিশেষজ্ঞ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের মতামত নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য পরিকল্পনা তৈরি করা প্রয়োজন।

পরিকল্পিতভাবে এগোতে পারলে পটিয়া শুধু চট্টগ্রাম শহরের চাপ কমানোর অংশীদারই হবে তা নয়, দক্ষিণ চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ আধুনিক নগর বিকাশের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।

দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরেও থামছে না যমুনার ভাঙন

আতিক রহমান, বগুড়া
দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরেও থামছে না যমুনার ভাঙন
বগুড়ার ধুনট উপজেলার শহরাবাড়ি এলাকায় যমুনা নদীর ভাঙনরোধে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

দীর্ঘ ১৯ বছরে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেও থামছে না বগুড়া অঞ্চলে যমুনা নদীর ভাঙন। ভাঙনরোধে আবারও নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। বিগত সরকারের সময়ে এসব প্রকল্প থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি টাকায় শতভাগ কাজ না হওয়ায় যমুনার করালগ্রাসী থাবায় বিলীন হয়েছে বসতভিটা ও ফসলি জমি। নিঃস্ব হয়েছে হাজারো পরিবার।

বগুড়া অংশে যমুনা নদী ৪৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অতিবাহিত হলেও ডানতীর রক্ষায় কাজ হয়েছে ১৯ কিলোমিটার। বাকি ২৬ কিলোমিটার নদী এখন পর্যন্ত অরক্ষিত থাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। শুধু ডানতীর নয় নদীর দুই পাড়ও ভাঙছে সমানতালে। নদীভাঙনরোধে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড ৬টি স্পার, একটি গ্রোঁয়েন বাঁধ ও দুটি হার্ডপয়েন্ট নির্মাণ করেছে। এছাড়া ৬টি ক্রসবার ও একটি ফিসপাস নির্মাণ করা হয়েছে। 

এদিকে, বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, ভাঙনরোধে প্রায় সাড়ে ৯ কিলোমিটার নদীতীর প্রতিরক্ষার জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে নতুন করে বগুড়া জেলার যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ ও পুনর্বাসন নামে একটি প্রকল্পের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে যমুনা নদীর ডানতীর ভাঙন কমানো সম্ভব হবে।

জানা গেছে, প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার যমুনা চীনের তিব্বতের হিমালয় পর্বতমালায় উৎপন্ন হয়ে ব্রহ্মপুত্র নামে ভারত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে যমুনা নাম ধারণ করে বাংলাদেশে। এরপর এটি কুড়িগ্রামের নুনখাওয়া থেকে ২২০কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল পার হয়ে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের কাছে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়।

বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া যমুনা নদীটি বগুড়া অংশে ৪৫ কিলোমিটার জুড়ে প্রবাহিত হয়েছে। নদীর শুরু থেকে ডানতীরে ভাঙন সবচেয়ে বেশি হলেও এখন বাম তীরও ভাঙছে। বগুড়া অংশে ৪৫ কিলোমিটারের মধ্যে ১৯ কিলোমিটার নদীর স্থায়ী নদীতীর প্রতিরক্ষার কাজ সম্পন্ন করেছে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০০ সাল থেকে শুরু করে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১৯ বছরে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নদীভাঙনরোধে ৬টি স্পার নির্মাণ, একটি গ্রোঁয়েন বাঁধ, দুটি হার্ডপয়েন্ট নির্মাণ করা হয়েছে। নদীভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পেতে সারিয়াকান্দির হাটশেরপুর ইউনিয়নে হাসনাপাড়া বাজারের সামনে ৫৫৮ মিটার স্পার নির্মাণ করা হয় ২০০২ সালে। এ ইউনিয়নের নিজবলাইল বাজারের সামনেও একইসাথে একই ধরনের আরো একটি স্পার নির্মাণ করা হয় ওই বছরে।

এছাড়া ধুনট সীমানা হতে সারিয়াকান্দির হাটশেরপুর ইউনিয়নের হাসনাপাড়া বাজার পর্যন্ত ২০০৮ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত যমুনা নদীর ডানতীর সংরক্ষণের কাজ করা হয়। এর মধ্যে ২০০৬ সালে কালিতলা গ্রোয়েনবাঁধ থেকে পারতিত পরল পর্যন্ত ২ হাজার মিটার এবং দেবডাঙা পয়েন্টে ১ হাজার ২০০ মিটার তীর সংরক্ষণ কাজ হয়েছে। ২০১৬ সালে রৌহাদহ হতে মথুরাপাড়া পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ কাজ হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড উপ-বিভাগ-২ বাপাউবো বগুড়ার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. হুমায়ন কবির জানান, ভাঙনরোধে ইতিমধ্যে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড ৬টি ক্রসবার ও একটি ফিসপাস নির্মাণ করেছে। বাকি ২৬ কিলোমিটার নদী এখন পর্যন্ত অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। যেখানে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-সোনাতলা উপজেলার পাকুল্ল্যা, সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ও ধুনট উপজেলার শহরাবাড়ি এবং ভান্ডারবাড়ি এলাকা। বর্তমানে উজান থেকে নেমা আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃর্ষ্টিতে এসব এলাকার বসতবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এসব এলাকায় ভাঙনরোধে সাড়ে ৯ কিলোমিটার নদীতীর প্রতিরক্ষার জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে নতুন করে বগুড়া জেলার যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ ও পুনর্বাসন নামে একটি প্রকল্পের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। 

সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল আজিজ প্রামানিক ঠান্ডু জানান, বিগত সময়ে যমুনা নদীর ডানতীর রক্ষায় যে সকল প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সেগুলোর বেশিরভাগই লুটপাট করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বন্যা শুরু হলেই জরুরি কাজের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এক শ্রেণির ঠিকাদার স্বল্প পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করে এখন তারা কোটিপতি বনে গেছেন।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, নতুন প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২২০০ কোটি টাকা। প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাল ধরা হয়েছে চলতি বছরের জুলাই হতে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পটির মধ্যে রয়েছে-যমুনা নদীর ডানতীরে বিভিন্ন স্থানে প্রায় সাড়ে ৯ কিলোমিটার তীর প্রতিরক্ষার কাজ। ২ কিলোমিটার তীর প্রতিরক্ষা কাজের মেরামত ও পুনর্বাসন। ধুনট উপজেলার শহরাবাড়ি ও বানিয়াজান স্পার পুনর্বাসন। সাড়ে ৩ কিলোমিটার যমুনা নদীর ড্রেজিং ও বগুড়া অংশে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পুনর্বাসন ও বাঁধ মেরামত।

প্রকল্পটির বিস্তারিত সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনের সুপারিশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়া কর্তৃক আয়োজিত গণশুনানি এর সুপারিশসমূহ, জেলা পানি সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে পুনঃগঠিত ডিপিপি’র উপর চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বোর্ডে যাচাই সভা অনুষ্ঠিত হয়। যাচাই সভার সিদ্ধান্তে পুনঃগঠিত ডিপিপি ১৪ মে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নদী ভাঙন প্রতিরোধের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা, জনবসতি এবং কৃষি জমি রক্ষা করা সম্ভব হবে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, নতুন প্রকল্প অনুমোদন ও যমুনা নদীর ডানতীর রক্ষায় বাঁধ পুনর্বাসন কাজ বাস্তাবায়নের মাধ্যমে বগুড়া জেলার সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনট এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।

তিনি আরো জানান, বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ভাঙনকবলিত এলাকায় বালুভর্তি জিও ব্যগ ফেলা হচ্ছে। নতুন প্রকল্পটি অনুমোদন হলে ভাঙনরোধে স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হবে। নদীরক্ষার কাজের কোনো দুর্নীতির খবর বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের জানা নেই। যদি কেউ দুর্নীতির চেষ্টা করেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

মাধবপুরে ১৭ দিনে ৪ জনের আত্মহত্যা, বাড়ছে উদ্বেগ

আবুল হাসান ফায়েজ, মাধবপুর
মাধবপুরে ১৭ দিনে ৪ জনের আত্মহত্যা, বাড়ছে উদ্বেগ
প্রতীকী ছবি

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় হঠাৎ করেই আত্মহত্যার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১১ দিনের ব্যবধানে তিন নারী ও এক পুরুষসহ চারজনের আত্মহত্যার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক, পারিবারিক ও অর্থনৈতিক সংকটকে এসব ঘটনার সম্ভাব্য পটভূমি হিসেবে উল্লেখ করছেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

সর্বশেষ বুধবার (১৫ জুলাই) উপজেলার হাড়িয়া গ্রামের একটি ভাড়াবাসা থেকে আনিতা বেগম (১৯) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা এবং তার স্বামী বুলবুল আহমেদ স্থানীয় একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত ৬ জুলাই নোয়াপাড়া চা বাগানের চা-শ্রমিক প্রকাশ রেলী (২৬) আত্মহত্যা করেন। পরিবারের দাবি, সুদখোর মহাজনের ঋণের চাপ ও মানসিক দুশ্চিন্তা সহ্য করতে না পেরেই তিনি এই চরম পথ বেছে নেন।

এর দুদিন আগে, গত ৪ জুলাই জগদীশপুর চা বাগানের শ্রমিক সবিতা বাউরী (৩০) আত্মহত্যা করেন। তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পরিবারের সদস্যরা প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। একই দিনে উপজেলার খাটুরা গ্রামে সুমা সরকার (২০) নামে আরো এক তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।

স্বল্প সময়ে একের পর এক আত্মহত্যার ঘটনায় মাধবপুরে সাধারণ মানুষের মধ্যে মানসিক ও সামাজিক অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রেম বা দাম্পত্য সম্পর্কের টানাপোড়ন, পারিবারিক কলহ, ঋণের চাপ, বেকারত্ব, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, একাকীত্ব এবং স্থানীয় পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগ মানুষকে চরম হতাশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বিজয় কুমার দত্ত বলেন, ‘আত্মহত্যা সাধারণত কোনো একক কারণে ঘটে না। মানসিক, পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নানা চাপ একসঙ্গে কাজ করে একজন মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। তাই প্রতিটি ঘটনাকে সংবেদনশীলভাবে দেখতে হবে এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।’

তিনি আরো যোগ করেন, ‘পরিবারে কেউ দীর্ঘদিন বিষন্নতায় ভুগলে, অতিরিক্ত হতাশা প্রকাশ করলে বা নিজেকে গুটিয়ে নিলে তা গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে এবং দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও পরিবারের সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে।’

মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা জানান, প্রতিটি ঘটনার আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যথাযথ তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার পাশাপাশি আত্মহত্যার মতো সামাজিক ব্যাধি রোধ করতে হলে সমাজে সর্বস্তরে সচেতনতা সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় সামান্য ভুল বোঝাবুঝি বা আবেগের বশে মানুষ এই ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। তাই পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক মূল্যবোধ জোরদার করতে হবে। আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে যেকোনো সংকটকালীন সহায়তার জন্য তৎপর রয়েছি এবং এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’