• ই-পেপার

চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা মহাসড়কে বাসে ডাকাতি, টাকা-মোবাইল লুট

জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক চম্পা

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক চম্পা
সংগৃহীত ছবি

প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা-২০২৬ এ জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক (মহিলা) নির্বাচিত হয়ে প্রশংসায় ভাসছেন ফরিদপুরের ভাঙ্গার শিক্ষক চম্পা আক্তার। তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার  ১ নম্বর ভাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত রয়েছেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত  অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে সম্মাননা স্মারক নিয়েছেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রী আ. ন. ম. এহসানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

এর আগে চম্পা আক্তার উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের সবগুলো ধাপ পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন এবং তার অনন্য কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ  দেশসেরা কাব শিক্ষক নির্বাচিত হন।

বিজয়ী শিক্ষক চম্পা আক্তার নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ে এই স্বীকৃতি আমার জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এই অর্জন আমার বিদ্যালয়, সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের সবার। ভবিষ্যতেও শিশুদের সুশিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও কাব কার্যক্রমের উন্নয়নে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যেতে চাই।’

সিসা দূষণ বন্ধে রংপুরে পদযাত্রা, শিশুদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
সিসা দূষণ বন্ধে রংপুরে পদযাত্রা, শিশুদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

শিশুদের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সিসা দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে রংপুরে সচেতনতামূলক পদযাত্রা ও প্রচারণা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বক্তারা সতর্ক করে বলেছেন, অনিয়ন্ত্রিত সিসা অ্যাসিড ব্যাটারি রিসাইক্লিংসহ বিভিন্ন উৎস থেকে ছড়িয়ে পড়া সিসা শিশুদের স্বাস্থ্য, মেধার বিকাশ ও দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সিসা ও বিষাক্ত দূষণ মোকাবেলায় কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা পিওর আর্থ-এর সহযোগিতায় এবং ইয়ুথনেট গ্লোবালের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

‘সিসা দূষণ বন্ধ করি, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নগরীর চন্দ্রার মোড় থেকে পদযাত্রাটি শুরু হয়। পরে এটি আবু সাঈদ চত্বরসহ শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে গিয়ে শেষ হয়।

পদযাত্রায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পরিবেশকর্মী, সরকারি প্রতিনিধি ও তরুণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা সিসা দূষণবিরোধী বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, অপরিকল্পিত সিসা অ্যাসিড ব্যাটারি ভাঙা ও রিসাইক্লিংয়ের ফলে মাটি, পানি ও বাতাসে বিষাক্ত সিসা ছড়িয়ে পড়ছে, যা শ্রমিক, শিশু এবং আশপাশের জনগোষ্ঠীর জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

র‍্যালি থেকে সিসাকে ‘বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য’ হিসেবে ঘোষণা করে সমন্বিত জাতীয় কৌশল প্রণয়ন, শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর রক্তে সিসার মাত্রা পর্যবেক্ষণে নিয়মিত ব্যবস্থা চালু, অনিরাপদ ব্যাটারি রিসাইক্লিং বন্ধে এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপনসিবিলিটি (ইপিআর) কার্যকর করা, ব্যবহৃত ব্যাটারির নিরাপদ সংগ্রহ ও পরিবেশবান্ধব পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ নিশ্চিত করা এবং সিসা দূষণবিষয়ক গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়।

বিবিএস ও সংশ্লিষ্ট গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, শিশুদের সিসা দূষণের বোঝার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। দেশে সাড়ে তিন কোটিরও বেশি শিশু সিসার ক্ষতিকর প্রভাবের ঝুঁকিতে রয়েছে।

তারা জানান, পাঁচ বছরের কম বয়সী ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি। বিভাগভিত্তিক তথ্যে ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামে শিশুদের রক্তে উচ্চমাত্রার সিসা শনাক্তের হার যথাক্রমে ৬৫ শতাংশ, ৪৬ দশমিক ৭ শতাংশ ও ৪২ দশমিক ১ শতাংশ।

বক্তারা বলেন, শিশুদের সিসা দূষণ থেকে সুরক্ষায় সরকার, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ ও তরুণদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অপরিহার্য।

ইয়ুথনেট গ্লোবালের রংপুর বিভাগীয় সমন্বয়কারী জিলহজ্জ সরকার বলেন, ‘সিসা দূষণ শিশুদের অধিকার, জনস্বাস্থ্য এবং সুবিচারের প্রশ্ন। শিশুদের সুরক্ষায় স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক নজরদারি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।’

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আবু রেজা মো. তৌফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সিসা একটি নীরব বিষ, যা ধীরে ধীরে পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ ও সচেতনতাই পারে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই অদৃশ্য হুমকি থেকে রক্ষা করতে।’

ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়ক সোহানুর রহমান বলেন, ‘অপরিকল্পিত সিসা অ্যাসিড ব্যাটারি রিসাইক্লিং শুধু শ্রমিকদের পাশাপাশি আশপাশের পুরো জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। সিসা দূষণ একটি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত সুবিচারের বিষয়। এটি মোকাবেলায় কঠোর নীতিমালা, কার্যকর নজরদারি এবং তরুণদের সম্পৃক্ততা জরুরি।’

তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করলে এই সংকট মোকাবেলা করা কঠিন হবে।

ইয়ুথনেট গ্লোবালের রংপুর জেলা প্রতিনিধি ও সলিউশন বাংলাদেশের সদস্য সোহাগ কুমার বলেন, ‘সিসা কোনো সাধারণ বর্জ্য নয়, এটি একটি নীরব ঘাতক, যা আমাদের অজান্তেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সরকার, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সিসা দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘কোনো শিশুর ভবিষ্যৎ বিষাক্ত দূষণের কাছে জিম্মি হতে পারে না। নিরাপদ পরিবেশ, সুস্থ জীবন ও সিসামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

পিওর আর্থ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিতালী দাস বলেন, শিশুদের খেলনা থেকে শুরু করে রান্নার বাসনপত্রসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে সিসার উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে। তাই সরকারি পর্যায়ে কঠোর নজরদারি, ব্যবহৃত সিসা অ্যাসিড ব্যাটারির নিরাপদ রিসাইক্লিং এবং ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

ইয়ুথনেট গ্লোবালের পরিবেশগত সুবিচার ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক সমন্বয়ক মোহাইমিনুল ইসলাম জিপাত বলেন, শিশুদের জন্য নিরাপদ ও সিসামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সিসা দূষণ প্রতিরোধ শুধু সরকারের পাশাপাশি এটি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব।

ধর্মীয় সম্প্রীতির ক্ষেত্রে সিলেট উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত : মন্ত্রী আরিফুল

অনলাইন ডেস্ক
ধর্মীয় সম্প্রীতির ক্ষেত্রে সিলেট উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত : মন্ত্রী আরিফুল
ফাইল ছবি

ধর্মীয় সম্প্রীতির ক্ষেত্রে সিলেট একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি জানান, সম্প্রীতি বজায় রাখতে সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। 
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে সিলেটের চালিবন্দর মহাশ্মশান কমপ্লেক্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি তরুণদের মাদকমুক্ত রাখতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভূমিকা রাখতে আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘ধর্মীয় রীতিনীতি, আচার-অনুষ্ঠান এবং ধর্মীয় গুরুদের দিকনির্দেশনার মাধ্যমে যুবসমাজকে নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। যাতে তারা বিপথগামী না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, ভারতের সহকারী হাইকমিশনারসহ শ্মশান কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম

স্যাটেলাইট নগর পরিকল্পনায় যুক্ত হচ্ছে পটিয়াসহ ৫ উপজেলা

কাউছার আলম, পটিয়া (চট্টগ্রাম)
স্যাটেলাইট নগর পরিকল্পনায় যুক্ত হচ্ছে পটিয়াসহ ৫ উপজেলা

চট্টগ্রাম মহানগরীর ক্রমবর্ধমান জনচাপ, আবাসন সংকট, যানজট এবং অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণের চাপ কমাতে শহরের বাইরে পরিকল্পিত স্যাটেলাইট নগর গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এ পরিকল্পনায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা পটিয়াসহ আনোয়ারা, কর্ণফুলী, বোয়ালখালী ও হাটহাজারীকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

গত (৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) বোর্ড সভায় এ বিষয়ে প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সিডিএর বোর্ড সদস্য নজরুল ইসলাম।

এদিকে, এই উদ্যোগকে ঘিরে এরই মধ্যে দক্ষিণ চট্টগ্রামে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, চট্টগ্রাম শহরকেন্দ্রিক উন্নয়নচাপ ভাগ করে নিতে হলে শুধু নগরসীমার ভেতরে প্রকল্প নিলেই হবে না আশপাশের সম্ভাবনাময় উপজেলাগুলোকে পরিকল্পিত আবাসন, শিল্প, বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ অবকাঠামোসহ আধুনিক উপশহর হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সেই বাস্তবতায় পটিয়ার নাম উঠে আসা নিঃসন্দেহে বড় তাৎপর্যপূর্ণ।

সিডিএ বোর্ড সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম শহরের ওপর ক্রমাগত বাড়তে থাকা চাপ কমাতে স্যাটেলাইট শহর গঠনের বিষয়টি এখন সময়ের দাবি। ওয়ান সিটি টু টাউন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ পাঁচটি উপজেলাকে সিডিএ’র আওতায় আনা হবে। বৃহস্পতিবারের বোর্ড সভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে এবং চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পটিয়া, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, বোয়ালখালী ও হাটহাজারীকে পরিকল্পনার আওতায় বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম নগরের সম্প্রসারণ এখন আর শুধু নগরকেন্দ্রিক ভাবনায় আটকিয়ে রাখলে চলবে না। নগরের সঙ্গে যোগাযোগ, আবাসন, শিল্প ও নাগরিকসেবাকে সমন্বয় করে আশপাশের উপজেলাগুলোকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে। স্যাটেলাইট নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে নগরের জনচাপ যেমন কমবে, তেমনি নতুন অর্থনৈতিক কেন্দ্রও গড়ে উঠবে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যান (২০২৫-২০৫০) শীর্ষক ২৫ বছরমেয়াদি এই পরিকল্পনায় এ ৫ উপজেলায় বিশেষায়িত শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনাটি প্রণয়ন করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এর মাধ্যমে বন্দর নগরীকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তৈরি করা হয়েছে এই দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত রূপরেখা।

অপর দিকে, দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত পটিয়া দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক, শিক্ষাগত ও যোগাযোগগত গুরুত্ব বহন করে আসছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত এই উপজেলা একদিকে নগরের খুব কাছাকাছি, অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তৃত জনপদের কেন্দ্রবিন্দু। ফলে পরিকল্পিত নগর সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে পটিয়া ভৌগোলিকভাবেই একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।

পটিয়ায় এরই মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, ব্যবসা-বাণিজ্য, আবাসন, ব্যাংকিং, বাজারব্যবস্থা ও আঞ্চলিক প্রশাসনিক কার্যক্রমের বিস্তার ঘটেছে। সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে এই উপজেলাকে আবাসননির্ভর উপশহর হিসেবে সমন্বিত পরিকল্পিত নগরকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।

নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রাম শহর এখন জনসংখ্যা, যানবাহন, বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্য, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অতিরিক্ত চাপ বহন করছে। নগরের কেন্দ্রভাগে বসবাস ও ব্যবসা-বাণিজ্যের চাপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে; অথচ সড়ক, ড্রেনেজ, পার্কিং, আবাসন ও গণপরিবহন অবকাঠামো সেই তুলনায় প্রসারিত হয়নি। ফলে শহরের চাপ কমাতে বিকল্প পরিকল্পিত নগরায়ণ এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং বাস্তব প্রয়োজন।

এই বাস্তবতায় চট্টগ্রামের চারপাশে স্যাটেলাইট নগর গড়ে তোলা গেলে নগরের আবাসনচাপ কমবে, নতুন শিল্প ও সেবা খাত গড়ে উঠবে, পাশাপাশি নাগরিক সুবিধাও ছড়িয়ে পড়বে শহরের বাইরে। এর ফলে কেন্দ্রভিত্তিক উন্নয়নের পরিবর্তে বহুকেন্দ্রিক নগর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হবে।

সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, পরিকল্পিতভাবে নতুন উপশহর গড়ে তোলা গেলে মূল নগরের ওপর জনসংখ্যা, আবাসন ও যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এতে চট্টগ্রামের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নগরায়ণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পটিয়াকে স্যাটেলাইট নগরের আওতায় আনা হলে কয়েকটি বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—পরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প, আধুনিক সড়ক ও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ নেটওয়ার্ক, পানি নিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য অবকাঠামোর সম্প্রসারণ, বাণিজ্যিক জোন, আইটি বা সার্ভিস হাব, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পাঞ্চল, বিনিয়োগবান্ধব অবকাঠামো এবং আধুনিক নাগরিক সেবা। একই সঙ্গে পটিয়াকে ঘিরে নতুন আবাসিক এলাকা, বহুতল বাণিজ্যিক স্থাপনা, পরিবহন টার্মিনাল, গুদামজাতকরণ সুবিধা, স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান ও পরিবেশবান্ধব নগর অবকাঠামো গড়ে তোলার সুযোগও তৈরি হতে পারে। ফলে এটি শুধু আবাসনের বিকল্প হিসেবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের জন্য একটি নতুন অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিককেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, পটিয়াকে স্যাটেলাইট নগরের অন্তর্ভুক্ত করা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক, তবে এটি কেবল ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকলে প্রত্যাশা পূরণ হবে না। প্রয়োজন হবে ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা, পরিবেশগত প্রভাব যাচাই, সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, গণপরিবহন নেটওয়ার্ক, পানি-বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ, বর্জ্যব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য-শিক্ষা অবকাঠামো এবং শিল্প-বাণিজ্যিক জোনিং সবকিছুকে একসঙ্গে বিবেচনায় এনে একটি দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন।

অন্যদিকে, পটিয়াবাসীর প্রত্যাশা, সিডিএর এই উদ্যোগ যেন কেবল সভার আলোচনায় সীমাবদ্ধ না থাকে। খুব দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রাথমিক নকশা, জমি ব্যবহারের কাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের ধাপভিত্তিক রোডম্যাপ প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজ, ভূমি বিশেষজ্ঞ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের মতামত নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য পরিকল্পনা তৈরি করা প্রয়োজন।

পরিকল্পিতভাবে এগোতে পারলে পটিয়া শুধু চট্টগ্রাম শহরের চাপ কমানোর অংশীদারই হবে তা নয়, দক্ষিণ চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ আধুনিক নগর বিকাশের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।