• ই-পেপার

যে নফল নামাজ জীবনে একবার হলেও পড়তে বলেছেন মহানবী (সা.)

বিশ্বখ্যাত মিসরীয় স্থপতির বিস্ময়কর মসজিদ নির্মাণ

ইসলামী জীবন ডেস্ক
বিশ্বখ্যাত মিসরীয় স্থপতির বিস্ময়কর মসজিদ নির্মাণ
সংগৃহীত ছবি

জেদ্দা কর্নিশের শান্ত এক শীতের সকাল। হঠাৎ একটি অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা যেন উন্মোচন করল স্থাপত্যের এক বিস্ময়কর রহস্য। পৌরসভার একটি গাড়ি রাস্তার বড় গর্তে পড়ে গেলে প্রকৌশলীরা দেখতে পান, সমুদ্রের ঢেউ মসজিদের নিচের প্রায় সব বালু ও মাটি ধুয়ে নিয়ে গেছে। অর্থাৎ বিখ্যাত আলজাজিরা (আল-রাহমা) মসজিদের নিচে কার্যত কোনো দৃশ্যমান ভিত্তিই অবশিষ্ট নেই। অথচ শত শত টনের ইটের তৈরি সেই মসজিদ তখনো অটল দাঁড়িয়ে—কোনো ফাটল নেই, ধসের কোনো চিহ্ন নেই। মুহূর্তেই ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ে প্রকৌশলী ও স্থাপত্যবিদদের মধ্যে। কিভাবে সম্ভব হলো এমন ঘটনা? সেই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে বিশ্বের খ্যাতিমান মিসরীয় স্থপতি আবদেল ওয়াহেদ আল-ওয়াকিলের সাহসী নকশা, ঐতিহ্যবাহী নির্মাণশৈলী এবং এক অসাধারণ স্থাপত্য-দর্শনের গল্পে।

সম্প্রতি আথির প্ল্যাটফরমের ‘বিতাফসিল’ অনুষ্ঠানে আল-ওয়াকিল জেদ্দা ও মদিনার বিভিন্ন ঐতিহাসিক মসজিদ নির্মাণের নেপথ্যের এমনই বহু অজানা গল্প তুলে ধরেন। তিনি বলেন,  ১৯৮০-এর দশকে জেদ্দার তৎকালীন মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ ফারসিকে একটি প্রবাল দ্বীপের ওপর মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাব দেন আল-ওয়াকিল। আন্তর্জাতিক নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো সেখানে ৪০ মিটার গভীর কংক্রিট ও স্টিলের ভিত্তি নির্মাণের পরামর্শ দিলেও তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ বেছে নেন।

তিনি রড ও কংক্রিটের পরিবর্তে ঐতিহ্যবাহী ইট, পোড়ামাটি, গম্বুজ ও খিলানভিত্তিক নির্মাণশৈলী ব্যবহার করে মসজিদটি নির্মাণ করেন। সমুদ্রের আর্দ্রতা, লবণাক্ত পরিবেশ ও ভূমিকম্পের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও এই নকশা ছিল অত্যন্ত সাহসী সিদ্ধান্ত।

পরে যখন সমুদ্রের ঢেউ মসজিদের নিচের মাটি ধুয়ে নিয়ে বড় ধরনের ফাঁপা জায়গা তৈরি করেও ভবনটিতে কোনো ফাটল সৃষ্টি করতে পারেনি, তখন অনেকের কাছেই এটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যশৈলীর অসাধারণ দৃঢ়তার বাস্তব উদাহরণ হয়ে ওঠে।

জেদ্দায় সফলতার পর আল-ওয়াকিলকে মদিনার কয়েকটি ঐতিহাসিক মসজিদের সংস্কার ও সম্প্রসারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল মসজিদে কুবা, মসজিদে কিবলাতাইন এবং মিকাত জিল হুলাইফা। মসজিদে কুবার কাজ চলাকালে ঘটে আরেকটি হৃদয়স্পর্শী ঘটনা। এক বৃদ্ধ ব্যক্তি কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই নির্মাণকাজে অংশ নিতে অনুরোধ করেন। নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে বাধা দিলে তিনি বলেন, ‘তোমরা কী মনে করো, তোমরাই এই মসজিদ নির্মাণ করছ? চারদিকে তাকাও, ফেরেশতারা এখানে তাওয়াফ করছে, তারাই এই মসজিদ নির্মাণ করছে।’ আল-ওয়াকিল বলেন, সেই বৃদ্ধের কথাগুলো আজও তার হৃদয়ে গেঁথে আছে।

আবদেল ওয়াহেদ আল-ওয়াকিলের বিশ্বাস, একটি স্থাপনার সৌন্দর্য শুধু নকশায় নয়; বরং মানুষের শ্রম, দক্ষতা ও আন্তরিকতায় নিহিত। ইতালীয় শিল্পী সিলভিও বিকি এবং প্রখ্যাত স্থপতি হাসান ফাতির কাছ থেকে তিনি শিখেছিলেন—এমন বিস্ময়কর স্থাপত্য-দক্ষতা। 

তার ভাষায়, ‘যখন মানুষের হাত কাজ করে না, তখন তার চিন্তাশক্তিও ক্ষয় হতে থাকে।’ এ কারণেই তিনি কাদা, ইট ও প্রাকৃতিক উপকরণভিত্তিক নির্মাণশৈলীর পক্ষে সোচ্চার ছিলেন এবং অতিরিক্ত কংক্রিটনির্ভর স্থাপত্যের সমালোচনা করতেন। তার মতে, দক্ষ কারিগরের হাতে গড়া প্রতিটি দেয়ালে এক ধরনের সৌন্দর্য ও কল্যাণের ছাপ থাকে, যা যান্ত্রিক নির্মাণে পাওয়া যায় না।

আবদেল ওয়াহেদ আল-ওয়াকিলের কাজ বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। জেদ্দার আলজাজিরা (আল-রাহমা) মসজিদের নকশার জন্য তিনি ১৯৮৪ সালে লন্ডনের একটি স্থাপত্য সাময়িকীর পুরস্কার লাভ করেন। পরে ১৯৮৯ সালে একই মসজিদের জন্য অর্জন করেন মর্যাদাপূর্ণ আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার।

এ ছাড়া ইসলামিক স্থাপত্যে অবদানের জন্য তিনি কিং ফাহাদ পুরস্কার, আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টসের সম্মানসূচক ফেলোশিপ এবং ২০০৮ সালে ক্ল্যাসিকাল স্থাপত্যে অবদানের জন্য রিচার্ড ড্রেইহাউস পুরস্কারে ভূষিত হন। এমনকি ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসও তাকে অক্সফোর্ড ইসলামিক সেন্টারের নকশা তৈরির দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আল-ওয়াকিলের মতে, স্থাপত্য শুধু ইট-পাথরের সমষ্টি নয়; বরং এটি মানুষের বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও সৌন্দর্যবোধের এক জীবন্ত প্রকাশ।
সূত্র : আলজাজিরা ও উইকিপিডিয়া

হাদিসের বাণী

যে আয়াত শুনে মহানবী (সা.) অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন

ইসলামী জীবন ডেস্ক
যে আয়াত শুনে মহানবী (সা.) অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন
সংগৃহীত ছবি

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার মহানবী (সা.) আমাকে বললেন, তুমি আমার সামনে কোরআনুল কারিম তিলাওয়াত করে শোনাও। আমি বললাম, আপনার ওপর কোরআনুল কারিম নাজিল হয়েছে, আর আমি আপনার সামনে কোরআন তিলাওয়াত করব? তিনি বললেন, আমি অন্যজনের কাছ থেকে কোরআন তিলাওয়াত শুনতে ভালোবাসি। ফলে আমি সুরা নিসা তিলাওয়াত করলাম। অবশেষে যখন আমি এ আয়াতে এসে পৌঁছলাম, ‘তখন তাদের কী অবস্থা হবে, যখন প্রত্যেক সম্প্রদায় থেকে একজন সাক্ষী (নবি ও রাসুল) উপস্থিত করব এবং তোমাকেও তাদের সাক্ষীরূপে উপস্থিত করব?’ তখন তিনি আমাকে বললেন, যথেষ্ট হয়েছে। তখন আমি তাকিয়ে দেখলাম, মহানবী (সা.)-এর চোখ দিয়ে অশ্রু বেয়ে বেয়ে পড়ছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৫৮২, সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৮৬৭)

শিক্ষা ও বিধান 

১. পবিত্র কোরআন শুধু তিলাওয়াত করাই নয়, মনোযোগ দিয়ে অন্যের তিলাওয়াত শোনাও ইবাদত।

২. কোরআন শুনে প্রভাবিত হওয়া ঈমানের আলামত। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চোখে অশ্রু নেমে এসেছিল, যা কোরআনের প্রতি তাঁর গভীর অনুভূতির প্রকাশ।

৩. কোরআনের আয়াত নিয়ে চিন্তা-ভাবনা (তাদাব্বুর) করা জরুরি। তিনি শুধু তিলাওয়াত শোনেননি; আয়াতের অর্থ ও পরিণতি হৃদয়ে ধারণ করেছিলেন।

৪. মহানবী (সা.) তাঁর উম্মতের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ছিলেন। উম্মতের পরিণতির কথা চিন্তা করেই তিনি অশ্রুসিক্ত হয়েছিলেন।

৫. সুন্দর কণ্ঠে কোরআন তিলাওয়াত করা এবং তা শোনা প্রশংসনীয়। এতে হৃদয় কোমল হয় এবং ঈমান বৃদ্ধি পায়।

৬. আল্লাহর ভয় ও জবাবদিহির অনুভূতি মুমিনের অন্তরে থাকা উচিত। কিয়ামতের দিনের সাক্ষ্য ও হিসাবের কথা স্মরণ করলে মানুষ গুনাহ থেকে দূরে থাকার প্রেরণা পায়।

জুমার দিনে যে ১৫ আমলে মিলবে অফুরন্ত সওয়াব

ইসলামী জীবন ডেস্ক
জুমার দিনে যে ১৫ আমলে মিলবে অফুরন্ত সওয়াব
সংগৃহীত ছবি

সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন জুমার দিন। আল্লাহ তাআলা এই দিনকে অন্য দিনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। তাই জুমার দিনে মুমিনের হৃদয়ে মমতা ও হৃদ্যতার অপার্থিব এক সুখ ফুটে ওঠে। পারস্পরিক সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি ও ভালোবাসার দীপ্তি ছড়িয়ে পড়ে। এদিনের বিশেষ কিছু ইবাদত ও আমল আছে, যা মহানবী (সা.)-এর জীবনে পাওয়া যায়। নিম্নে সেগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো—

১. জুমাবারের ফজরের তিলাওয়াত করা : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) শুক্রবার ফজরের নামাজে সুরা আস-সিজদা এবং সুরা আল-ইনসান তিলাওয়াত করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১০৬৮)

জুমার দিন এই সুরা তিলাওয়াত করতেন : কারণ এই সুরাতে আদম (আ.)-এর সৃষ্টির কথা, পুনরুত্থানের কথা, কিয়ামতের দিন সবাইকে সমবেত হওয়া ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আর এসব হবে জুমার দিন। সে জন্য এই সুরা পাঠ করে উম্মতকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

২. বেশি পরিমাণে দরুদ শরিফ পড়া : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা জুমার দিন আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ কোরো। কেননা তোমাদের পাঠকৃত দরুদ আমার সামনে পেশ করা হয়। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)

৩. জুমার নামাজ আদায় করা : ইসলামের যেসব ফরজ বিধান আছে, এর মধ্যে বেশি গুরুত্বপূর্ণ জুমার নামাজ। আরাফার দিবসের পর এদিনই সবচেয়ে বেশি মানুষ একসঙ্গে সমবেত হয়। যারা জুমার নামাজকে অলসতা কিংবা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে ছেড়ে দেয়, তাদের হৃদয়ে আল্লাহ তাআলা মোহর মেরে দেন।

৪. গোসল করা : এই দিনে বিশেষভাবে গোসল করার তাগিদ এসেছে, সালিম (রহ.) থেকে তাঁর পিতার সূত্র থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি জুমার নামাজে আসে সে যেন গোসল করে আসে। (তিরমিজি, হাদিস : ৪৯২)

৫. সুগন্ধি ব্যবহার করা : অন্য দিনের চেয়ে এদিন বেশি সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, আমি এ মর্মে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিন সুগন্ধি পাওয়া গেলে তা ব্যবহার করবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮০)

৬. দ্রুত মসজিদে যাওয়া : জুমার দিনের ফজিলত লাভে  এই আমল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এদিকে বিশেষভাবে মনোযোগী হওয়া উচিত। 

৭. ইবাদতে মশগুল থাকা : ইমাম জুমার নামাজে আসার পূর্ব পর্যন্ত নামাজ, জিকির ও তিলাওয়াতে রত থাকা।

৮. খুতবার সময় সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থাকা : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় তার সঙ্গীকে বলল, ‘চুপ থাকো’ সে একটি অনর্থক কাজ করল। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ১৪০১)

৯. সুরা কাহফ পড়া : আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তীকাল জ্যোতির্ময় হবে।’ (আত-তারগিব, হাদিস : ৭৩৫)

১০. জুমার নামাজের নির্ধারিত সুরা পাঠ করা : নুমান ইবনে বশির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই ঈদের নামাজে ও জুমার নামাজে ‘সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আলা’ ও ‘হাল আতা-কা হাদিসুল গা-শিয়াহ’ সুরা দুটি পাঠ করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯১৩)

কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে, রাসুল (সা.) সুরা জুমুআ ও সুরা আলা তিলাওয়াত করতেন।

১১. পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর কাপড় পরিধান করা : আবু জার (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন উত্তমরূপে গোসল করে, উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, তার উৎকৃষ্ট পোশাক পরিধান করে এবং আল্লাহ তার পরিবারের জন্য যে সুগন্ধির ব্যবস্থা করেছেন, তা শরীরে লাগায়, এরপর জুমার সালাতে এসে অনর্থক আচরণ না করে এবং দুজনের মাঝে ফাঁক করে অগ্রসর না হয়, তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ ক্ষমা করা হয়। (সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস : ১০৯৭)

১২. মসজিদে সুগন্ধি লাগানো : ওমর (রা.) জুমার দিন দ্বিপ্রহরে মসজিদে সুগন্ধি লাগানোর জন্য আদেশ করেছেন।

১৩. ক্ষমা প্রার্থনা করা : এদিন মহান রবের পক্ষে গুনাহ মাফের বারি বর্ষিত হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিম যদি পবিত্র হয়ে জামে মসজিদের দিকে হাঁটতে থাকে, এরপর ইমাম নামাজ শেষ করা পর্যন্ত নীরব থাকে, তাহলে এ নামাজ এই জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তার গুনাহের কাফফারা (মোচনকারী) হয়ে যাবে, যদি ধ্বংসকারী তথা কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ২৩৭২৯)

১৪. মৃতদের জন্য দোয়া করা : জুমার দিন কবরের আজাব মাফ হয়ে যায়। আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) জুমার দিন ছাড়া (অন্য দিন) ঠিক দুপুরে নামাজ আদায় করা অপছন্দ করতেন। তিনি বলেছেন, জুমার দিন ছাড়া (অন্যান্য দিনে) জাহান্নামের আগুনকে উত্তপ্ত করা হয়। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১০৮৩)

জুমার দিনে বা রাতে যে মারা যাবে, তার থেকে কবরের আজাব উঠিয়ে নেওয়া হবে এটা এই হাদিস থেকে প্রমাণিত। তবে কিয়ামত পর্যন্ত আজাব দেওয়া হবে না এটা নিশ্চিত নয়।

১৫. বেশি বেশি দোয়া করা : বিশেষ সময়ে দোয়া কবুল হয়। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, জুমার দিনের মধ্যে অবশ্যই এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করে নিশ্চয়ই তিনি তাকে তা দান করেন। তিনি বলেন, সে মুহূর্তটি অতি স্বল্প। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৮৫৮)

বেশির ভাগের মতে, সে সময়টি আসরের পর থেকে নিয়ে মাগরিবের আগ মুহূর্ত। (জাদুল মাআদ থেকে সংক্ষেপিত)

যে দুই গুণ মুমিনের অন্যতম অবলম্বন

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা
যে দুই গুণ মুমিনের অন্যতম অবলম্বন
সংগৃহীত ছবি

দুটি গুণ ঈমানকে মজবুত করে; এক. আল্লাহর ওপর অগাধ ভরসা থেকে জন্ম নেওয়া আত্মবিশ্বাস। দুই. আল্লাহ ও মানুষের সামনে বিনয়। ক্ষেত্র বিশেষে আত্মবিশ্বাস ছাড়া মানুষ ভালো কাজের সাহস পায় না, আবার ভালো কাজের মাহাত্ম বজায় রাখার জন্য বিনয়ের বিকল্প নেই। ফলে আল্লাহর হুকম পালনের উদ্দেশ্যে অর্জিত এই দুটি গুণকে একে অপরের পরিপূরক বলা যেতে পারে।
আল্লাহর ওপর রাখা অগাধ আস্থা-ভরসা থেকে জন্ম নেওয়া আত্মবিশ্বাস মুমিনকে দৃঢ় করে তোলে। পবিত্র কোরআনেও মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের এই দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাস অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা দুর্বল হয়ো না এবং দুঃখিত হয়ো না, আর তোমরাই বিজয়ী যদি মুমিন হয়ে থাকো।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৯)

এই আয়াতে প্রতিটি মুমিনের জন্য শক্তিশালী অনুপ্রেরণা রয়েছে। এই আয়াত মুমিনকে আশাবাদী, সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী হতে উদ্বুদ্ধ করে। তবে এই আত্মবিশ্বাসের অর্থ এই নয় যে নিজের শক্তিই চূড়ান্ত; বরং এটি আল্লাহর সাহায্য, রহমত ও প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভরশীল।

মানুষ যদি প্রকৃত মুমিন হতে পারে, তাহলে তার হারানোর কিছুই নেই। সে দুনিয়াতে যে অবস্থায়ই থাকুক, তার জীবনে যা-ই ঘটুক, মহান আল্লাহ তাকে কোনো অবস্থায় ঠকতে দেবেন না। তার বিজয় সুনিশ্চিত। এই আত্মবিশ্বাস যদি কোনো মুমিন অর্জন করতে পারে, তাহলে পৃথিবীর কোনো বাধা, দুঃখ, হতাশা মুমিনকে দুর্বল করতে পারবে না।

তবে সতর্ক থাকতে হবে, আত্মবিশ্বাস যেন অহংকারে রূপ না নেয়। কারণ আল্লাহ অহংকারীকে নয়, বরং বিনয়ী বান্দাদের ভালোবাসেন। পবিত্র কোরআনে বিনয়ী বান্দাদের সুনাম করতে গিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, “আর রহমানের বান্দা তারাই যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং অজ্ঞ লোকেরা যখন তাদেরকে সংবোধন করে তখন তারা বলে ‘সালাম’।” (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৬৩)


বিনয়ের সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো, বিনয় মানুষকে দুনিয়াতে সম্মানিত করে, আখিরাতে সফলতা অর্জনে সহায়তা করে। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনয় অবলম্বন করে, আল্লাহ তাকে মর্যাদায় উন্নীত করেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৪৮৬)

এর বিপরীতে অহংকারের ব্যাপারে অন্য হাদিসে তিনি বলেন, ‘যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৬৮)

আত্মবিশ্বাস ও বিনয়ের সবচেয়ে সুন্দর উদাহরণ ছিলেন রাসুল (সা.)। তিনি আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে বসতেন, তাদের খোঁজখবর নিতেন, নিজের কাজ নিজেই করতেন এবং কখনো অহংকার করতেন না। আবার আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে জীবনের প্রতিটি কঠিন পরিস্থিতিতে অবিচল থেকেছেন।

আল্লাহর ওপর রাখা ভরসা থেকে জন্ম নেওয়া আত্মবিশ্বাস মানুষকে এগিয়ে নেয়, আর বিনয় সেই অগ্রযাত্রাকে আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলে। এই দুটি মহৎ গুণের সমন্বয় মানুষের ঈমানকে আরো সুন্দর করে তোলে। মহান আল্লাহ সবাইকে আত্মবিশ্বাসী ও বিনয়ী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।