• ই-পেপার

বিশ্বখ্যাত মিসরীয় স্থপতির বিস্ময়কর মসজিদ নির্মাণ

আজ আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দিবসে ইসলামের নির্দেশনা

মুফতি ওমর বিন নাছির
আজ আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দিবসে ইসলামের নির্দেশনা
সংগৃহীত ছবি

মানবসভ্যতার ইতিহাসে এমন অনেক শক্তিশালী সাম্রাজ্য এসেছে, যারা সম্পদ, ক্ষমতা ও অস্ত্রের জোরে পৃথিবী শাসন করেছে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—অন্যায়, জুলুম ও বৈষম্যের ওপর দাঁড়িয়ে কোনো সমাজ, রাষ্ট্র কিংবা সভ্যতা দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারেনি। ন্যায়বিচারই একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত ভিত্তি, সমাজের শান্তির মূল চাবিকাঠি এবং মানুষের পারস্পরিক আস্থার প্রধান স্তম্ভ। তাই প্রতি বছর ১৭ জুলাই আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দিবস পালিত হয়। ইসলামও চৌদ্দশ বছর আগে ন্যায়বিচারকে এমন উচ্চ মর্যাদা দিয়েছে, যা জাতি, ধর্ম, বর্ণ কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে ন্যায়বিচারের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে এবং ন্যায়ের সাক্ষ্য দেবে। কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে ন্যায়বিচার পরিত্যাগ করতে প্ররোচিত না করে। তোমরা ন্যায়বিচার কর; এটাই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৮)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচার এবং আত্মীয়-স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন; আর অশ্লীলতা, অন্যায় ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৯০)

ইসলামে ন্যায়বিচার শুধু আদালতের বিচারকের দায়িত্ব নয়; বরং পরিবার, সমাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রশাসন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা প্রত্যেক মানুষের দায়িত্ব। একজন মুসলিমের কাছে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু কিংবা নিজের বিরুদ্ধে গেলেও সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই ঈমানের দাবি।

আল্লাহ তাআলা বলেন,‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ন্যায়বিচারের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে এবং আল্লাহর জন্য সাক্ষ্য দেবে, যদিও তা তোমাদের নিজেদের, পিতা-মাতা বা নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে হয়।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৩৫)

রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন ন্যায়বিচারের সর্বোত্তম আদর্শ। তিনি কখনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বংশ-মর্যাদা বা ক্ষমতার কারণে বিচারে পক্ষপাত করেননি। একবার এক সম্ভ্রান্ত বংশের নারী চুরির অপরাধে অভিযুক্ত হলে কিছু সাহাবি তার শাস্তি মওকুফের সুপারিশ করেন। তখন মহানবী (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর কসম! যদি মুহাম্মদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত, তবে আমি তারও হাত কেটে দিতাম।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৪৭৫)

এ হাদিস প্রমাণ করে যে, ইসলামে আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। কোনো ব্যক্তির পরিচয়, সম্পদ বা সামাজিক মর্যাদা তাকে ন্যায়বিচারের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে পারে না। আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিরা কিয়ামতের দিন আল্লাহর ডান পাশে নুরের মিম্বরের ওপর অবস্থান করবেন। তারা হলো সেই সব ব্যক্তি, যারা নিজেদের সিদ্ধান্ত, পরিবার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল বিষয়ে ন্যায়বিচার করেছে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮২৭)

বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, নিপীড়ন, দুর্নীতি, বৈষম্য ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অন্যতম কারণ হলো ন্যায়বিচারের অভাব। আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, শান্তি ও উন্নয়নের জন্য শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন এবং সবার জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করা। ইসলামও ঠিক এই শিক্ষাই দেয়—ক্ষমতার নয়, সত্যের বিজয়ই প্রকৃত বিজয়।

যে নফল নামাজ জীবনে একবার হলেও পড়তে বলেছেন মহানবী (সা.)

ইসলামী জীবন ডেস্ক
যে নফল নামাজ জীবনে একবার হলেও পড়তে বলেছেন মহানবী (সা.)
সংগৃহীত ছবি

নফল নামাজগুলোর মধ্যে ‘সালাতুত তসবিহ’ একটি অনন্য ও ফজিলতপূর্ণ ইবাদত, যা গুনাহ মাফ ও আত্মশুদ্ধির জন্য বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ। সালাতুত তাসবিহ অর্থ তসবি পাঠের নামাজ। আমরা আল্লাহর প্রশংসাবাচক যে-শব্দগুলো জপমালায় সকাল-সন্ধ্যা জপি, তাকেই তাসবিহ বা প্রচলিত শব্দে তসবি বলে। এই নামাজে ‘সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’ তসবি বারবার পড়া হয়। সালাতুত তসবির নিয়মিত আমল একজন মুমিনকে গুনাহ থেকে পবিত্র করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের পথ সুগম করে।

জীবনে অন্তত একবার হলেও সালাতুত তসবি পড়তে হয়। এ নামাজের সুসংবাদ নবীজি (সা.) তাঁর চাচাকে দিয়েছিলেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বরাতে হাদিসে আছে, একদিন নবীজি (সা.) আমার পিতা আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব (রা.)-কে বললেন, চাচাজান, আমি কি আপনাকে উত্তম তসবি শিক্ষা দেব না, যখন আপনি তা সম্পাদন করবেন, আল্লাহ আপনার পূর্বাপর, নতুন-পুরাতন, ইচ্ছা-অনিচ্ছায় ছোট-বড় সকল প্রকার পাপ ক্ষমা করবেন। তা হলো, চার রাকাত নামাজ। প্রতি রাকাতে সুরা ফাতিহা এবং পরে একটি সুরা পড়বেন। প্রথম রাকাতে কিরাত পড়া হলে দাঁড়ানো অবস্থায় পনেরো বার বলবেন, ‘সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’। তারপর রুকু করবেন এবং রুকু অবস্থায় পড়বেন দশবার। রুকু হতে সোজা হয়ে দাঁড়াবেন এবং এ-অবস্থায় তসবি পড়বেন দশবার। তারপর সেজদায় নত হবেন এবং দশবার তসবি পড়বেন। তারপর সেজদা থেকে মাথা তুলে (দুই সেজদার মধ্যবর্তী সময়ে) তসবি দশবার পড়বেন। তারপর আবার সেজদায় যাবেন এবং সে-অবস্থায় দশবার তসবি পড়বেন। তারপর (দ্বিতীয়) সেজদা থেকে মাথা তুলে আরও দশবার তসবি পড়বেন। এভাবে প্রতি রাকাতে ‘সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’ তাসবিহটি ৭৫ বার পড়া হবে।

চার রাকাত নামাজের প্রতি রাকাতে এভাবে করবেন। যদি প্রতিদিন একবার এই নামাজ পড়তে পারেন, পড়বেন। না হলে প্রতি জুমার দিন একবার পড়বেন। তা-ও না পারলে প্রতি মাসে একবার। তা-ও না হলে বছরে একবার। এবং তা-ও যদি না পারেন তবে জীবনে অন্তত একবার পড়বেন। (আবু দাউদ: ১২৯৭; ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩৮৭)

সালাতুত তাসবিহ নামাজের নিয়ম
এই নামাজ ৪ রাকাত। ৪ রাকাত একত্রে বা দুই রাকাত করেও পড়া যায়। ৪ রাকাতে মোট ৩০০ বার পড়তে হয় ‘সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’ তাসবিহটি। তাসবিহ পাঠের বিস্তারিত পদ্ধতি হলো:

১.নামাজে দাঁড়িয়ে সানা পড়ে তসবি পড়ুন ১৫ বার।
২.সুরা ফাতেহা ও অন্য সুরা মেলানোর পর রুকুর আগে তসবি পড়ুন ১০ বার।
৩.রুকুতে গিয়ে রুকুর তসবি পড়ার পর এ তসবি পড়ুন ১০ বার।
৪.রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় এ তসবি ১০ বার।
৫.সেজদায় গিয়ে সেজদার তসবি পড়ার পর সেজদাবস্থায় এ তসবি পড়ুন১০ বার।
৬.দুই সেজদার মাঝে বসা অবস্থায় এ তসবি পড়ুন ১০ বার।
৭. দ্বিতীয় সেজদায় গিয়ে সেজদার তসবি পড়ার পর আবার সেজদা অবস্থায় এ তসবি পড়ুন ১০ বার।

এভাবে প্রতি রাকাতে মোট ৭৫ বার এবং ৪ রাকাতে মোট ৩০০ বার সালাতুত তসবি নামাজের নির্ধারিত তসবি পড়া হবে। কোথাও তসবি পড়তে ভুলে গেলে বা ভুলক্রমে নির্দিষ্ট সংখ্যার চেয়ে কম পড়লে পরবর্তী যে-রোকনে স্মরণ আসুক, তার সংখ্যার সঙ্গে মিলিয়ে ভুলে যাওয়া সংখ্যা আদায় করে নিতে হবে। কোনো কারণে ‘সাহু সেজদা’ ওয়াজিব হলে সেই সেজদা এবং তার মধ্যবর্তী বৈঠকে তসবি পাঠ করতে হবে না। তাসবিহর সংখ্যা স্মরণ রাখার জন্য আঙুলের কর গণনা করা যাবে না, তবে আঙুল চেপে স্মরণ রাখা যেতে পারে।

সালাতুত তসবিহ নামাজের ফজিলত
রাসুল (সা.) বলেছেন, এই নামাজে গুনাহ মাফ হয়, এমনকি গুনাহ সমুদ্রের ফেনার মতো বেশি হলেও। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১,২৯৭)
এই নামাজ যেকোনো সময় পড়া যায়, তবে অন্য নামাজ পড়ার নিষিদ্ধ সময়গুলোতে, অর্থাৎ সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত ও ঠিক দুপুরের সময়ে পড়া যাবে না। বিশেষত রাতের বেলা বা তাহাজ্জুদ নামাজের সময় পড়া উত্তম। নিয়ত মুখে উচ্চারণ করার প্রয়োজন নেই। ‘সালাতুত তাসবিহর ৪ রাকাত নামাজ আল্লাহর জন্য আদায় করছি’ এটা ভেবে নামাজ শুরু করলেই হবে।
বি. দ্র. : সালাতুত তাসবিহ পড়ার আরো একটি নিয়ম রয়েছে। তবে উপরোল্লিখিত নিয়মটি উত্তম।

হাদিসের বাণী

যে আয়াত শুনে মহানবী (সা.) অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন

ইসলামী জীবন ডেস্ক
যে আয়াত শুনে মহানবী (সা.) অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন
সংগৃহীত ছবি

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার মহানবী (সা.) আমাকে বললেন, তুমি আমার সামনে কোরআনুল কারিম তিলাওয়াত করে শোনাও। আমি বললাম, আপনার ওপর কোরআনুল কারিম নাজিল হয়েছে, আর আমি আপনার সামনে কোরআন তিলাওয়াত করব? তিনি বললেন, আমি অন্যজনের কাছ থেকে কোরআন তিলাওয়াত শুনতে ভালোবাসি। ফলে আমি সুরা নিসা তিলাওয়াত করলাম। অবশেষে যখন আমি এ আয়াতে এসে পৌঁছলাম, ‘তখন তাদের কী অবস্থা হবে, যখন প্রত্যেক সম্প্রদায় থেকে একজন সাক্ষী (নবি ও রাসুল) উপস্থিত করব এবং তোমাকেও তাদের সাক্ষীরূপে উপস্থিত করব?’ তখন তিনি আমাকে বললেন, যথেষ্ট হয়েছে। তখন আমি তাকিয়ে দেখলাম, মহানবী (সা.)-এর চোখ দিয়ে অশ্রু বেয়ে বেয়ে পড়ছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৫৮২, সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৮৬৭)

শিক্ষা ও বিধান 

১. পবিত্র কোরআন শুধু তিলাওয়াত করাই নয়, মনোযোগ দিয়ে অন্যের তিলাওয়াত শোনাও ইবাদত।

২. কোরআন শুনে প্রভাবিত হওয়া ঈমানের আলামত। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চোখে অশ্রু নেমে এসেছিল, যা কোরআনের প্রতি তাঁর গভীর অনুভূতির প্রকাশ।

৩. কোরআনের আয়াত নিয়ে চিন্তা-ভাবনা (তাদাব্বুর) করা জরুরি। তিনি শুধু তিলাওয়াত শোনেননি; আয়াতের অর্থ ও পরিণতি হৃদয়ে ধারণ করেছিলেন।

৪. মহানবী (সা.) তাঁর উম্মতের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ছিলেন। উম্মতের পরিণতির কথা চিন্তা করেই তিনি অশ্রুসিক্ত হয়েছিলেন।

৫. সুন্দর কণ্ঠে কোরআন তিলাওয়াত করা এবং তা শোনা প্রশংসনীয়। এতে হৃদয় কোমল হয় এবং ঈমান বৃদ্ধি পায়।

৬. আল্লাহর ভয় ও জবাবদিহির অনুভূতি মুমিনের অন্তরে থাকা উচিত। কিয়ামতের দিনের সাক্ষ্য ও হিসাবের কথা স্মরণ করলে মানুষ গুনাহ থেকে দূরে থাকার প্রেরণা পায়।

জুমার দিনে যে ১৫ আমলে মিলবে অফুরন্ত সওয়াব

ইসলামী জীবন ডেস্ক
জুমার দিনে যে ১৫ আমলে মিলবে অফুরন্ত সওয়াব
সংগৃহীত ছবি

সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন জুমার দিন। আল্লাহ তাআলা এই দিনকে অন্য দিনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। তাই জুমার দিনে মুমিনের হৃদয়ে মমতা ও হৃদ্যতার অপার্থিব এক সুখ ফুটে ওঠে। পারস্পরিক সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি ও ভালোবাসার দীপ্তি ছড়িয়ে পড়ে। এদিনের বিশেষ কিছু ইবাদত ও আমল আছে, যা মহানবী (সা.)-এর জীবনে পাওয়া যায়। নিম্নে সেগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো—

১. জুমাবারের ফজরের তিলাওয়াত করা : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) শুক্রবার ফজরের নামাজে সুরা আস-সিজদা এবং সুরা আল-ইনসান তিলাওয়াত করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১০৬৮)

জুমার দিন এই সুরা তিলাওয়াত করতেন : কারণ এই সুরাতে আদম (আ.)-এর সৃষ্টির কথা, পুনরুত্থানের কথা, কিয়ামতের দিন সবাইকে সমবেত হওয়া ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আর এসব হবে জুমার দিন। সে জন্য এই সুরা পাঠ করে উম্মতকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

২. বেশি পরিমাণে দরুদ শরিফ পড়া : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা জুমার দিন আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ কোরো। কেননা তোমাদের পাঠকৃত দরুদ আমার সামনে পেশ করা হয়। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)

৩. জুমার নামাজ আদায় করা : ইসলামের যেসব ফরজ বিধান আছে, এর মধ্যে বেশি গুরুত্বপূর্ণ জুমার নামাজ। আরাফার দিবসের পর এদিনই সবচেয়ে বেশি মানুষ একসঙ্গে সমবেত হয়। যারা জুমার নামাজকে অলসতা কিংবা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে ছেড়ে দেয়, তাদের হৃদয়ে আল্লাহ তাআলা মোহর মেরে দেন।

৪. গোসল করা : এই দিনে বিশেষভাবে গোসল করার তাগিদ এসেছে, সালিম (রহ.) থেকে তাঁর পিতার সূত্র থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি জুমার নামাজে আসে সে যেন গোসল করে আসে। (তিরমিজি, হাদিস : ৪৯২)

৫. সুগন্ধি ব্যবহার করা : অন্য দিনের চেয়ে এদিন বেশি সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, আমি এ মর্মে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিন সুগন্ধি পাওয়া গেলে তা ব্যবহার করবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮০)

৬. দ্রুত মসজিদে যাওয়া : জুমার দিনের ফজিলত লাভে  এই আমল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এদিকে বিশেষভাবে মনোযোগী হওয়া উচিত। 

৭. ইবাদতে মশগুল থাকা : ইমাম জুমার নামাজে আসার পূর্ব পর্যন্ত নামাজ, জিকির ও তিলাওয়াতে রত থাকা।

৮. খুতবার সময় সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থাকা : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় তার সঙ্গীকে বলল, ‘চুপ থাকো’ সে একটি অনর্থক কাজ করল। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ১৪০১)

৯. সুরা কাহফ পড়া : আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তীকাল জ্যোতির্ময় হবে।’ (আত-তারগিব, হাদিস : ৭৩৫)

১০. জুমার নামাজের নির্ধারিত সুরা পাঠ করা : নুমান ইবনে বশির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই ঈদের নামাজে ও জুমার নামাজে ‘সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আলা’ ও ‘হাল আতা-কা হাদিসুল গা-শিয়াহ’ সুরা দুটি পাঠ করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯১৩)

কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে, রাসুল (সা.) সুরা জুমুআ ও সুরা আলা তিলাওয়াত করতেন।

১১. পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর কাপড় পরিধান করা : আবু জার (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন উত্তমরূপে গোসল করে, উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, তার উৎকৃষ্ট পোশাক পরিধান করে এবং আল্লাহ তার পরিবারের জন্য যে সুগন্ধির ব্যবস্থা করেছেন, তা শরীরে লাগায়, এরপর জুমার সালাতে এসে অনর্থক আচরণ না করে এবং দুজনের মাঝে ফাঁক করে অগ্রসর না হয়, তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ ক্ষমা করা হয়। (সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস : ১০৯৭)

১২. মসজিদে সুগন্ধি লাগানো : ওমর (রা.) জুমার দিন দ্বিপ্রহরে মসজিদে সুগন্ধি লাগানোর জন্য আদেশ করেছেন।

১৩. ক্ষমা প্রার্থনা করা : এদিন মহান রবের পক্ষে গুনাহ মাফের বারি বর্ষিত হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিম যদি পবিত্র হয়ে জামে মসজিদের দিকে হাঁটতে থাকে, এরপর ইমাম নামাজ শেষ করা পর্যন্ত নীরব থাকে, তাহলে এ নামাজ এই জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তার গুনাহের কাফফারা (মোচনকারী) হয়ে যাবে, যদি ধ্বংসকারী তথা কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ২৩৭২৯)

১৪. মৃতদের জন্য দোয়া করা : জুমার দিন কবরের আজাব মাফ হয়ে যায়। আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) জুমার দিন ছাড়া (অন্য দিন) ঠিক দুপুরে নামাজ আদায় করা অপছন্দ করতেন। তিনি বলেছেন, জুমার দিন ছাড়া (অন্যান্য দিনে) জাহান্নামের আগুনকে উত্তপ্ত করা হয়। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১০৮৩)

জুমার দিনে বা রাতে যে মারা যাবে, তার থেকে কবরের আজাব উঠিয়ে নেওয়া হবে এটা এই হাদিস থেকে প্রমাণিত। তবে কিয়ামত পর্যন্ত আজাব দেওয়া হবে না এটা নিশ্চিত নয়।

১৫. বেশি বেশি দোয়া করা : বিশেষ সময়ে দোয়া কবুল হয়। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, জুমার দিনের মধ্যে অবশ্যই এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করে নিশ্চয়ই তিনি তাকে তা দান করেন। তিনি বলেন, সে মুহূর্তটি অতি স্বল্প। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৮৫৮)

বেশির ভাগের মতে, সে সময়টি আসরের পর থেকে নিয়ে মাগরিবের আগ মুহূর্ত। (জাদুল মাআদ থেকে সংক্ষেপিত)