• ই-পেপার

ইরানি হামলায় কুয়েতের পানি বিশুদ্ধকরণ ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত

পেরুতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত অন্তত ১৪

অনলাইন ডেস্ক
পেরুতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত অন্তত ১৪
ছবি : রয়টার্স

পেরুতে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছে। উত্তর পেরুর কাহামার্কা অঞ্চলে একটি মিনিবাস রাস্তা থেকে খাদে পড়ে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়। এ দুর্ঘটনায় আরো পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

সান হুয়ান পৌরসভার কর্মকর্তা রিকার্ডো চিলন জানান, দুর্ঘটনার পর পুলিশ ও দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। নিহতদের মধ্যে চালক ও একটি শিশুও রয়েছে। জানা গেছে, ১৯ জন যাত্রী নিয়ে মিনিবাসটি সান হুয়ান জেলা থেকে সিউদাদ দে দিওসের দিকে যাচ্ছিল।

দমকল কর্মকর্তা এডসন রোমান জানান, উদ্ধার অভিযান কঠিন হয়ে পড়েছে, কারণ গাড়িটি একটি গভীর খাদে আটকে আছে। এখনো কয়েকটি মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পেরুতে খারাপ সড়ক, যানবাহনের ত্রুটি, পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব এবং অতিরিক্ত গতির কারণে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশটির সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

উগান্ডায় স্কুল বাস দুর্ঘটনায় ২০ শিক্ষার্থীসহ নিহত ২১

অনলাইন ডেস্ক
উগান্ডায় স্কুল বাস দুর্ঘটনায় ২০ শিক্ষার্থীসহ নিহত ২১
ছবি : এক্স থেকে নেওয়া।

পূর্ব উগান্ডায় শিক্ষাসফরে যাওয়া শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি বাস দুর্ঘটনায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২০ জন শিক্ষার্থী এবং একজন প্রাপ্তবয়স্ক রয়েছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিশুদের নিয়ে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর একটি এটি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাপচোরওয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বাসের কর্মীসহ আরো কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বাসটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এরপর চেকওয়াটিট হিল সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এই সড়কে এর আগেও একাধিক মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

নিহতদের মধ্যে ২০ জন শিক্ষার্থী এবং স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক তাদেও সেকাডে রয়েছেন। পুলিশ জানায়, চালক বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে সেটি রাস্তা থেকে ছিটকে গিয়ে পাশের একটি বড় পাথরে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি এনডেজ্জের কিং ডেভিড জুনিয়র স্কুলের শিক্ষার্থীদের বহন করছিল। তারা শিক্ষাসফর শেষে বাড়ি ফিরছিল।

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তারা পর্যটন এলাকা সিপি জলপ্রপাত পরিদর্শন করে ফিরছিল। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে অংশ নেন এবং আহত শিশুদের হাসপাতালে পাঠান। প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রকাশ করা ভিডিওতে বাসটিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখা গেছে।

ট্র্যাফিক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, উগান্ডায় প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত গতি, ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ না করা যানবাহন এবং ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশটিতে একাধিক বাস দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে স্কুল পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ শিক্ষার্থীবাহী বাস দুর্ঘটনা সেই উদ্বেগ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

ভারতে স্কুলবাসে ট্রেনের ধাক্কা : নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫

অনলাইন ডেস্ক
ভারতে স্কুলবাসে ট্রেনের ধাক্কা : নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫
ছবি : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

মুর্শিদাবাদে যাত্রীবাহী ট্রেনের সঙ্গে স্কুলভ্যানের সংঘর্ষে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে তিনজন শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার খবর দেওয়া হয়েছিল।

মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরে মৃত্যু হয়েছে আরো দুই শিক্ষার্থীর। তাদের নাম, ইসানূর রহমান (৫) ও তামান্না পারভিন (৭)। এ ঘটনায় আরো পাঁচ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর থানা এলাকার কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর রেলওয়ে স্টেশনের মধ্যবর্তী একটি লেভেল ক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের কারণ খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একটি ট্রেন চলে যাওয়ার পর রেলক্রসিংয়ের গেট খুলে দেওয়া হয়। এ সময় স্কুল ভ্যানটি লাইন পার হতে গেলে নিমতিতা-কাটোয়াগামী আরেকটি যাত্রীবাহী ট্রেন এসে ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ভ্যানটির দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ রেললাইনের ওপর ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনার পর কর্ণসুবর্ণ রেলক্রসিংয়ে গেটম্যানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রেল কর্তৃপক্ষ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা গেটম্যান ও একজন সুপারভাইজারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।

এক রেল কর্মকর্তা জানান, কাটোয়া থেকে প্রায় ৪৮ কিলোমিটার দূরে কর্ণসুবর্ণ স্টেশনের কাছে স্কুলশিক্ষার্থী বহনকারী একটি ভ্যান রেললাইন পার হওয়ার সময় একটি লোকাল ট্রেন সেটিকে ধাক্কা দেয়।

ঘটনার পর ঊর্ধ্বতন পুলিশ ও রেল কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। গেটম্যানের অবহেলার অভিযোগসহ দুর্ঘটনার কারণ জানতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিকে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জন্য গেটম্যানের অবহেলাকেই দায়ী করেছেন।
 

বিজয় সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে সাংবাদিক জড়িত!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
বিজয় সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে সাংবাদিক জড়িত!

বিজয় থালাপাতির নেতৃত্বাধীন তামিলনাড়ুর ক্ষমতাসীন সরকারকে হটাতে ষড়যন্ত্রের ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মাসের শেষ দিকে এ ষড়যন্ত্র ফাঁস হওয়ার পর তদন্তে নামে চেন্নাই পুলিশের একটি বিশেষ তদন্ত দল।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজন সিনিয়র টেলিভিশন সাংবাদিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তে তামিলনাড়ুর আগের ক্ষসতাসীন দল ডিএমকের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। সাবেক মন্ত্রী ও ডিএমকে নেতা সেন্থিল বালাজি ও তার ভাই অশোক বালাজিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে চেন্নাই পুলিশ।

সিনেসার নায়ক থেকে জননায়ক বনে যাওয়া জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর, যিনি থালাপাতি বিজয় নামে পরিচিত, গত ১০ মে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। পরের মাসেই তার সরকারকে উৎখাত করতে একটি ষড়যন্ত্র শুরু হয়। সমীক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও ইউটিউবার তিরুনাভুক্কারাসুকে সামনে রেখে বিজয় সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র সাজানো হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্য ও তাদের বিভিন্ন ডিভাইসের ফরেনসিক করে পুলিশ জানতে পেরেছে এ ষড়যন্ত্রের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘প্রজেক্ট মেঘালয়া’। ষড়যন্ত্রের মূল প্লট ছিল অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে বিজয়ের দল টিভিকের অন্তত ১৫ জন বিধায়ককে কিনে ফেলা। ফ্লোর ক্রসিঙের আইনী জটিলতা এড়াতে সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা না এনে প্রথমে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে সরকারকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। এরপর ১৫ জন বিধায়ক একসঙ্গে পদত্যাগ করলে বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতো।

গত নিবাচনে ১০৮টি আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় টিভিকে। তবে ২৩৪ আসনের বিধান সভায় সরকার গঠনের জন্য দরকার ছিল ১১৮টি আসন। কয়েকটি ছোট দলের সমর্থনে বিজয় তালিনাড়ুর ইতিহাসে প্রথমবারের মত জোট সরকার গঠন করেন।

জুন মাসের শেষ সপ্তাহে উথানগারাই কেন্দ্রের টিভিকে বিধায়ক এন ইলাইয়ারাজা-র সাথে তিরুনাভুক্কারাসু যোগাযোগ করেন। তিনি একটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের বড় নেতাদের নাম করে ইলাইয়ারাজাকে বিধানসভায় দলীয় হুইপের সিদ্ধান্ত অমান্য করে ভোট দেওয়ার প্রস্তাব দেন। বিনিময়ে তাকে ৩৫ কোটি রুপি দেওয়ার লোভ দেখানো হয়। বিধায়ক ইলাইয়ারাজা সরাসরি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে, ষড়যন্ত্রকারীরা তাকে এবং তার পরিবারকে খুনের হুমকি দিতে শুরু করে। হুমকিতে ভয় না পেয়ে বিধায়ক ইলাইয়ারাজা গত ২৯ জুন চেন্নাই পুলিশ কমিশনারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এরপরই ফাঁস হয় ‘প্রজেক্ট মেঘালয়া’র খবর।

পুলিশ মূল অভিযুক্ত তিরুনাভুক্কারাসুসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের ফোন, চ্যাট রেকর্ড এবং ডিজিটাল ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষায় পুলিশ দেখতে পায় মূল অভিযুক্ত তিরুনাভুক্কারাসুর সাথে পুথিয়া থালাইমুরাই চ্যানেলের সিনিয়র সাংবাদিক বিজয়নের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার পুলিশ বিজয়নকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং তার ফোনটি জব্দ করেছে। তবে চেন্নাই প্রেসক্লাব পুলিশের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে এটিকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দমন করার চেষ্টা বলে অভিহিত করেছে। ক্লাবটি জানিয়েছে যে, ১৫ জুলাই গভীর রাত পর্যন্ত বিজয়নেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, সঠিক প্রক্রিয়া ছাড়াই তার ফোন জব্দ করা হয় এবং পর দিন আবারও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়। তবে পুলিশ জোর দিয়ে বলেছে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিজয়নকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে এ ঘটনায় সাবেক মন্ত্রী ও ডিএমকে নেতা সেন্থিল বালাজি ও তার ভাই অশোক বালাজির সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত মিলছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে পুলিশ। সেন্থিল বালাজির সাথে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের বৈরিতা পুরোনো। গতবছর সেপ্টেম্বরে কারুরে বিজয়েরে এক নির্বাচনী জনসভায় পদদলিত হয়ে ৪১ জন মারা যান। সে ঘটনার জন্য বিজয় ডিএমকে এবং সেন্থিলকে দায়ী করেছিলেন। সেন্থিল কারুর এলাকার প্রভাবশালী বিধায়ক। তবে ডিএমকে এ ধরনের ষড়যন্ত্রের সাথে তাদেরর জড়িত থাকার অভিযোগ সম্পুর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে।