• ই-পেপার

চট্টগ্রাম

মানুষের চাপে ত্রাণ বিতরণের মঞ্চ ভেঙে পড়ে গেলেন অর্থমন্ত্রী

কুড়িগ্রাম

৪৪৮ কোটি টাকার তীর রক্ষা বাঁধে ফের ধ্স, আতঙ্ক

রোকনুজ্জামান মানু, কুড়িগ্রাম
৪৪৮ কোটি টাকার তীর রক্ষা বাঁধে ফের ধ্স, আতঙ্ক
কু‌ড়িগ্রা‌মের চিলমারী উপ‌জেলার রা‌নীগঞ্জ ইউনিয়‌নের কাঁচ‌কোল সড়কটা‌রি এলাকা থেকে বাঁধ ধসের ছবি।

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধে ফের ধ্স দেখা দিয়েছে। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে একই এলাকায় নতুন করে প্রায় ৬০ মিটার ব্লক পিচিং নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় নদতীরবর্তী মানুষের মধ্যে ভাঙন-আতঙ্ক বেড়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমেই বাঁধটির অন্তত ১৫০ থেকে ১৬০ মিটার এলাকায় ধসের ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সরেজমিনে চিলমারী উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল এলাকার সড়কটারী অংশে গিয়ে দেখা যায়, বৃহস্প‌তিবার দুপু‌রে ব্রহ্মপুত্রের তীব্র স্রোতে ব্লক পিচিং ধসে নদীগর্ভে চলে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থান রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, বাড়ি বাঁধের পশ্চিম পাশে। বৃষ্টি না থাকলেও বৃহস্প‌তিবার দুপু‌রে হঠাৎ করেই ব্লক পিচিং ধসে পড়ে। খবর পাওয়ার পর শুক্রবার সকাল থেকে পা‌নি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলছে।

একই এলাকার বাসিন্দা মাইদুল ইসলাম বলেন, বাঁধ নির্মাণের শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ছিল। তার অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণকাজের কারণেই নদীর পানি বাড়লেই একই স্থানে বারবার ধস দেখা দিচ্ছে। প্রতিবছর জরুরি মেরামত করা হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।

খয়বার আলী নামে আরেক বাসিন্দা জানান, উত্তর ওয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কাঁচকোল বড়ভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অ‌নেক এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হ‌য়ে যা‌বে।

জানা গে‌ছে, ২০১৬ সালে ৪৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীররক্ষা প্রকল্পের আওতায় এ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের মাত্র দুই বছর পর, ২০১৮ সাল থেকেই প্রায় চার কি‌লো বাঁ‌ধের বিভিন্ন স্থানে ধস দেখা দিতে শুরু করে। প্রতিবারই জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। সর্বশেষ চলতি মাসের ১ জুলাই কাঁচকোল এলাকার তিনটি স্থানে প্রায় ১০০ মিটার ব্লক পিচিং ধসে যায়। তখন জিও ব্যাগ ফেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ১৫ দিনের মাথায় একই এলাকায় আবারও ধস দেখা দেয়।

কাঁচকোল এলাকার বাসিন্দা নুরজাহান বেগম বলেন, ‘এটে খা‌লি বারে বা‌রে ভা‌ঙে। খা‌লি ওমরা (পাউবো) আসি বস্তা ফেলায়। কিন্তু কো‌নো কাম হয় না। কুন‌দিন যে বা‌ড়িঘর ভাঙি নি‌য়ে যা‌বে।’

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ‘২০১৬ সালে চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষায় চার কিলোমিটার ব্লক পিচিং বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। চলতি মাসের শুরুতে তিনটি স্থানে প্রায় ১০০ মিটার এবং বৃহস্পতিবার আরো প্রায় ৬০ মিটার এলাকায় ধ্স দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে শুক্রবার সকা‌ল থেকে ৪০০ জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়ে‌ছে। পাশাপাশি আরো ১২ হাজার জিও ব্যাগের অনুমোদন পাওয়া গেছে। আগামী রবিবারের মধ্যে ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।’

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় ব্যবস্থা নেবে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় ব্যবস্থা নেবে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী এলাকায় বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের যেসব এলাকা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেসব এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জরিপ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেড়িবাঁধসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে তারা দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি জনগণের সরকার এবং সব সময় জনগণের পাশে থাকবে। বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

ত্রাণ বিতরণ শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চকরিয়ার ছড়াকুল এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ, সড়ক ও বসতবাড়ি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেন।

এ সময় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আ. মান্নান, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী শাহীন দেলোয়ারসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

লালপুর

পরীক্ষা কক্ষে নকলের মহোৎসব! ভিডিও ভাইরাল

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
পরীক্ষা কক্ষে নকলের মহোৎসব! ভিডিও ভাইরাল
সংগৃহীত ছবি

নাটোরের লালপুর উপজেলার নান্দু রায়পুর উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পরীক্ষার্থীদের নকল করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি টিকটকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফরমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, পরীক্ষার হলে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রকাশ্যে নকল করছে। কেউ বই বা কাগজ দেখে লিখছে, আবার কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে উত্তর লিখছে। আরো উদ্বেগজনক বিষয় হলো—ভিডিওতে পরীক্ষার কক্ষে কোনো শিক্ষক বা তদারককারী উপস্থিত ছিলেন না, যা পুরো পরীক্ষার শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ভিডিওটি প্রকাশের পর বিষয়টি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং অভিভাবকসহ সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্বহীনতা ও পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু ভিডিও প্রকাশকারী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই সমস্যার সমাধান হবে না; বরং যারা নকল করেছে এবং যারা দায়িত্বে অবহেলা করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম জানান, ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে। ভিডিও ধারণ ও প্রকাশ করার কারণে সংশ্লিষ্ট এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পরীক্ষার সময় শিক্ষকদের অনুপস্থিতি নিয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।

জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক চম্পা

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক চম্পা
সংগৃহীত ছবি

প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা-২০২৬ এ জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক (মহিলা) নির্বাচিত হয়ে প্রশংসায় ভাসছেন ফরিদপুরের ভাঙ্গার শিক্ষক চম্পা আক্তার। তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার  ১ নম্বর ভাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত রয়েছেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত  অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে সম্মাননা স্মারক নিয়েছেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রী আ. ন. ম. এহসানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

এর আগে চম্পা আক্তার উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের সবগুলো ধাপ পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন এবং তার অনন্য কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ  দেশসেরা কাব শিক্ষক নির্বাচিত হন।

বিজয়ী শিক্ষক চম্পা আক্তার নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ে এই স্বীকৃতি আমার জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এই অর্জন আমার বিদ্যালয়, সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের সবার। ভবিষ্যতেও শিশুদের সুশিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও কাব কার্যক্রমের উন্নয়নে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যেতে চাই।’