টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পৃথক দুর্ঘটনায় তিন যুবক ও এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া এসব দুর্ঘটনায় ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজনকে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি সাতজন স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের থলপাড়া-চাকলেশ্বর বিলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই যুবক এবং বহুরিয়া ইউনিয়নের বুধিরপাড়া বিলে এক যুবক বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান। এছাড়া শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে পাট জাগ দিতে গিয়ে গোড়াই ইউনিয়নের কোদালিয়া খালের পানিতে ডুবে বৃদ্ধ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতরা হলেন থলপাড়া-চাকলেশ্বর বিলে ইটভাটার শ্রমিক রংপুরের সাজ্জাত হোসেন (১৮) ও শেরপুরের পাকুরিয়া গ্রামের খুজাউরা গ্রামের হাসমত মিয়ার ছেলে জিকুল মিয়া (১৮), বুধীরপাড়া বিলে বহুরিয়া ইউনিয়নের বহুরিয়া মাঝিপাড়া এলাকার সুজন রাজবংশীর ছেলে সুশান্ত রাজবংশী (১৮) ও কোদালিয়া খালের পানিতে ডুবে কোদালিয়া এলাকার রুস্তম আলী ফরাজী (৭০)। তাদের মধ্যে সাজ্জাত ইটভাটা ও বাসে শ্রমিকের কাজ করতেন। জিকুল মিয়া বিডি ফুড কম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। তারা জয়দেবপুর থানার ভাওয়াল মির্জাপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, জয়দেবপুর থানার ভাওয়াল মির্জাপুর এলাকায় বিভিন্ন পেশায় কর্মরত ২৮ থেকে ৩০ জন মিলে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের মহেড়া জমিদার বাড়িতে (পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার) বেড়াতে আসেন। মাগরিবের নামাজের পর বনভোজের নৌকাটি ফতেপুর স্কুল ঘাট থেকে নেচে-গেয়ে বিকট শব্দে গান বাজাতে বাজাতে ঝিনাই নদী হয়ে ভাওয়াল মির্জাপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। পরে থলপাড়া সেতু পার হওয়ার পর নৌকার মাল্লা নদী থেকে বিচ্যুত হয়ে নৌকা নিয়ে থলপাড়া-চাকলেশ্বর এলাকার বিলে ঢুকে পড়ে।
এ সময় বিলের ওপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের তারের সঙ্গে ঘর্ষণে নৌকার সামনে থাকা কয়েকজন ছিটকে পড়ে আহত হয়। আহতদের মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার এনায়েতুর রহমান সাজ্জাত ও জিকুলকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়া রবিন মিয়া, লিপটন মিয়া, রানা আহমেদ ও মেহেদী হাসানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে সুশান্ত রাজবংশীসহ আরো সাতজন প্রতিদিনের মতো নৌকায় বেড় জাল নিয়ে বুধিরপাড়া বিলে মাছ ধরতে যান। বিলের মাঝে বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে সবাই ছিটকে পানিতে পড়েন। এ সময় রতন রাজবংশী, লিটন রাজবংশী, গোলক রাজবংশী, আশিক রাজবংশী, প্রদীপ রাজবংশী, লোকনাথ রাজবংশী ও প্রকাশ রাজবংশী আহত হন এবং সুশান্ত রাজবংশী পানিতে নিখোঁজ হন। খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এসে প্রায় দুই ঘণ্টা উদ্ধারকাজ চালিয়ে টার দিকে সুশান্তর মরদেহ উদ্ধার করেন।
অন্যদিকে শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে গোড়াই ইউনিয়নের কোদালিয়া খালে পাট জাগ দিতে গিয়ে পানিতে ডুবে কৃষক রুস্তম আলী ফরাজী নিখোঁজ হন। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৪৫ মিনিট উদ্ধার কাজ চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
বনভোজনের নৌকায় থাকা ইয়াছিন, সিয়াম ও আলম জানান, নৌকায় গান বাজনা চলছিল। ফতেপুর স্কুল ঘাট থেকে নৌকা ছাড়ার আধাঘণ্টা পর হঠাৎ বিদ্যুতের ঝলকানি দেখতে পান। পরে সহপাঠীদের চিৎকারে তারা কাছে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন। রাত ৯টার দিকে আহতদের কুমুদিনী হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
মির্জাপুর ফায়ার স্টেশনের ইন্সপেক্টর মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘বুধিরপাড়া এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের লাইনের তার ঝুলে থাকায় উদ্ধার কাজে বিলম্বিত হয়েছে। অন্যদিকে কোদালিয়া এলাকায় উদ্ধার কাজ চালিয়ে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আইনি পক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’