প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল আয় ও রাজস্বের পূর্বাভাস দেওয়ায় নেটফ্লিক্সের শেয়ারে বড় পতন হয়েছে। শুক্রবার বাজার খোলার আগে কম্পানিটির শেয়ারের দাম ৯ দশমিক ২ শতাংশ কমে যায়।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) রয়টার্সের এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।
টানা দ্বিতীয় প্রান্তিকেও বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে কম আয় ও রাজস্বের পূর্বাভাস দিয়েছে স্ট্রিমিং জায়ান্টটি। এতে নেটফ্লিক্সের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার সক্ষমতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নেটফ্লিক্স এখন শুধু সাবস্ক্রিপশনের ওপর নির্ভর করছে না। বিজ্ঞাপন, লাইভ কনটেন্ট এবং সাবস্ক্রিপশনের দাম বাড়িয়ে ব্যবহারকারীপ্রতি আয় বাড়ানোর চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে ব্যবহারকারীদের মনোযোগ ধরে রাখতে নেটফ্লিক্সকে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী মিডিয়া প্রতিষ্ঠান ডিজনির পাশাপাশি ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঙ্গেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে তাদের।
বিশ্লেষক জেফরি ওলডারজ্যাক বলেন, নেটফ্লিক্সের বর্তমান ব্যাবসায়িক গল্পে আগের মতো উত্তেজনা নেই। তরুণদের একটি বড় অংশ দীর্ঘ সময়ের ভিডিওর বদলে বিনা মূল্যের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে।
তার মতে, এর ফলে নেটফ্লিক্সে নতুন গ্রাহক বাড়ার গতি কমে যেতে পারে। পরিস্থিতি সামলাতে প্রতিষ্ঠানটি সাবস্ক্রিপশনের দাম আরো বাড়াতে পারে এবং কনটেন্টে বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে।
এদিকে ২০২৫ সালের জুনে সর্বোচ্চ দামে ওঠার পর নেটফ্লিক্সের শেয়ারের দাম এখন পর্যন্ত ৪৪ শতাংশের বেশি কমেছে।
নেটফ্লিক্স জানিয়েছে, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে দর্শকের দেখার সময়সংক্রান্ত প্রতিবেদন বছরে একবার প্রকাশ করা হবে। আগে এই প্রতিবেদন বছরে দুইবার প্রকাশ করা হতো।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেও নেটফ্লিক্স নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কমেনি। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে নেটফ্লিক্সের কনটেন্ট তালিকাও গত বছরের তুলনায় দুর্বল হতে পারে। এতে কম্পানিটির প্রবৃদ্ধি নিয়ে শঙ্কা আরো বাড়ছে।






