বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের উদ্যোগ নিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বসুন্ধরা শুভসংঘ। গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) শাখার উদ্যোগে গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে লাইব্রেরি ভবনের সামনে থেকে অভিযান শুরু হয়। এতে বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রায় অর্ধশতাধিক স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থী অংশ নেন।
অভিযানের শুরুতেই স্বেচ্ছাসেবীরা লাইব্রেরি ভবনের চারপাশ, গ্যারেজ এলাকা, সড়কের পাশ এবং ঝোপঝাড় পরিষ্কার করেন। বেলচা, কাঁচি ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহার করে আগাছা পরিষ্কার করা হয় এবং সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন মালি স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে কাজ করেন।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ক্যাম্পাস থেকে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের পানির বোতল, পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে সেগুলো পলিথিনে ভরে নির্ধারিত বর্জ্য সংগ্রহস্থলে ফেলা হয়।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউমার্কেট এলাকায় দোকানদার, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। এ সময় সবাইকে নির্ধারিত স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা, খোলা স্থানে পানি জমতে না দেওয়া, ডাস্টবিন ব্যবহার এবং নিয়মিত আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করা হয়।
বসুন্ধরা শুভসংঘ গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সাব্বির বলেন, ‘এই ক্যাম্পাস আমাদের সবার। তাই এটিকে পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। শুধু এক দিনের কর্মসূচি নয়, আমরা প্রতি মাসে অন্তত একবার ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে বসুন্ধরা শুভসংঘ সবসময় কাজ করে যাবে।’
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে ক্যাম্পাসসংলগ্ন প্রতিটি দোকানে বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে একটি করে ময়লার ঝুড়ি প্রদান করেছি। সেগুলো যেন যথাযথভাবে ব্যবহার হয়, সে বিষয়েও নিয়মিত তদারকি করছি। আমাদের লক্ষ্য গোবিপ্রবিকে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলা।’
তিনি আরো বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণই পারে একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে।’
কর্মসূচিতে অংশ নেন বসুন্ধরা শুভসংঘ গোবিপ্রবি শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল ইসলাম ও রায়হানুল রিফাত, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত, প্রচার সম্পাদক নাহিদুল ইসলাম, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক রাজু মোল্লা, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক শোভন সরকার, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সুদীপ্ত পাল, কার্যকরী সদস্য শুভ রায়, আবির মাহমুদ, তূর্য রহমান, ফাহাদ আমিন, অমিত কীর্তনীয়া, রাসেল চৌধুরী, সোহান আহমেদ, হৃদয় আহসান, নুর আলম চৌধুরী, নাউন সেখসহ সংগঠনের আরো অনেক স্বেচ্ছাসেবী।





