• ই-পেপার

‘ভূতের বাড়ি’তে রাত কাটালেই মিলবে রাশি রাশি টাকা

আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীচক্রে পুলিশ, অবশেষে গ্রেপ্তার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীচক্রে পুলিশ, অবশেষে গ্রেপ্তার
ছবি : এনডিটিভি

ব্যাপারটা অনেকটা সিনেমার মতো। সিনেমায় দেখা যায়, কোনো সন্ত্রাসীচক্রের উত্থানের পেছনে পুলিশের কোনো অসৎ কর্মকর্তার হাত থাকে। অসৎ পুলিশ কর্মকর্তা সন্ত্রাসী গ্যাংকে সহায়তা করেন বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে যান।

সেই পুলিশ সদস্য সন্ত্রাসী গ্যাংকে গোপন তথ্য দেন, অভিযানের খবর আগেভাগে ফাঁস করে দেন বা সন্ত্রাসীদের হয়ে হুমকি দেন। বাস্তবে তেমন এক অসৎ পুলিশ কর্মকর্তার সন্ধান পাওয়া গেছে ভারতের পাঞ্জাবে। তার নাম গুরিন্দরজিৎ সিং নাগরা। 

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-এফবিআই তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ আনার পর প্রথমে তাকে বদলি করা হয়। প্রাথমিক তদন্ত শেষে শুক্রবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংসহ ভারতের বেশ কয়েকটি অপরাধীচক্র যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের নানা দেশে খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক, অর্থ, অস্ত্র, মানবপাচারসহ নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছিল।

আন্তর্জাতিক চক্রটিকে নিশ্চিহ্ন করতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশ ‍মিলে ‘অপারেশন হার্ড বল’ নামে বিরল যৌথ অভিযান শুরু করে। দীর্ঘদিন গোপনে এসব গ্যাংয়ের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। 

গত ৭ জুলাই মার্কিন বিচার বিভাগ  লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালত থেকে ৩টি চার্জশিট প্রকাশ করে, যেখানে মোট ৩৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগনামা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে একযোগে ৫০টিরও বেশি স্থানে এক বিশাল ক্র্যাকডাউন চালানো হয়। অভিযানে ভারতভিত্তিক গ্যাংগুলোর ২৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

পাঞ্জাবের পুলিশ কর্মকর্তা গুরিন্দরজিৎ সিং নাগরা সেই ৩৭ জনের একজন। অভিযোগ আসার সময় তিনি পাঞ্জাব রাজ্যের হোশিয়ারপুর জেলার টাণ্ডা থানার স্টেশন হাউস অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগ আসার পর প্রথমে তাকে হোশিয়ারপুরের পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। শুক্রবার রাতে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগে বলা হয়, গুরিন্দরজিৎ সিং নাগরা পাঞ্জাবভিত্তিক ‘জগ্গু ভগবানপুরিয়া অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপ’-এর সদস্য। গ্রুপের সদস্যরা তাকে তথ্য সরবরাহ করত। আর সে তথ্যের ভিত্তিতে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায় করতে গুরিন্দরজিৎ।

অভিযোগে বলা হয়, ভগবানপুরিয়া গ্যাংয়ের সদস্য গুরলাল সিং লস অ্যাঞ্জেলেসের এক ভুক্তভোগীর তথ্য নাগরার কাছে সরবরাহ করেছিল। 

অভিযোগে আরো বলা হয়, গত জানুয়ারি মাসে পাঞ্জাবের টাণ্ডা থানা এলাকায় বলউইন্দর সিং নামে এক স্থানীয় ব্যবসায়ী খুন হন। সেই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের সুযোগ নিয়ে নাগরা যুক্করাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রবাসী একটি পরিবারের কাছে ৪ কোটি রুপি চাঁদা দাবি করেন।

গুরিন্দরজিৎ হুমকি দেন, টাকা না দিলে ভারতে থাকা তাদের আত্মীয়দের এই খুনের মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে। গুরিন্দরজিৎ এরই মধ্যে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে ১৬ লাখ রুপি আদায়ও করেছিল বলে অভিযোগ করা হয়।

ফিলিস্তিনি বন্দিদের কারাগার কুমির দিয়ে ঘিরে ফেলার পরিকল্পনা ইসরায়েলের

অনলাইন ডেস্ক
ফিলিস্তিনি বন্দিদের কারাগার কুমির দিয়ে ঘিরে ফেলার পরিকল্পনা ইসরায়েলের

ফিলিস্তিনি বন্দিদের রাখার জন্য কুমিরঘেরা বিশেষ কারাগার নির্মাণের একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির পরিবেশ সুরক্ষা মন্ত্রী ইদিত সিলমান এই সপ্তাহে নীল নদের কুমিরের আইনি অবস্থান পরিবর্তন করেছেন।

এর ফলে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের কারাগারের নিরাপত্তায় কুমির ব্যবহারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। হিব্রু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার নেওয়া এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কারণ, ইসরায়েলের প্রকৃতি ও উদ্যান কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে কারাগার বা আটক কেন্দ্রের চারপাশে কুমির ব্যবহারের পরিকল্পনার বিরোধিতা করে আসছে।

চ্যানেল ১৩-এর তথ্য অনুযায়ী, কট্টর-ডানপন্থী নেতা বেন গভির গত ডিসেম্বরে কারা বিভাগের প্রধান কোবি ইয়াকোবির সঙ্গে এক বৈঠকে প্রথম ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বন্দিদের কুমিরঘেরা আটক কেন্দ্রে রাখার প্রস্তাব দেন।

তবে ইতামার বেন গভির এই পরিকল্পনার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিলেও এবং কারা বিভাগের কর্মকর্তারা উত্তর ইসরায়েলের হামাত গাদের কুমির খামার পরিদর্শন করলেও, প্রকৃতি ও উদ্যান কর্তৃপক্ষ এর বিরোধিতা করেছে। কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা বলেছেন, বর্তমান আইন অনুযায়ী কুমির শুধু শিক্ষা ও গবেষণার উদ্দেশ্যে রাখা যেতে পারে।

তবে কুমিরকে নতুনভাবে শ্রেণিভুক্ত করার ফলে এগুলোকে শুধু চিড়িয়াখানা বা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যেই নয়, অন্য ধরনের স্থাপনাতেও রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ওয়াইনেটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকৃতি ও উদ্যান কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা দুই ডানপন্থী মন্ত্রীকে বলেন, ‘কুমিরদের সুরক্ষা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। আমাদের সুরক্ষার জন্য তাদের ব্যবহার করার কথা আইনের উদ্দেশ্য নয়।’

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরিবেশমন্ত্রী ইদিত সিলমান নির্দিষ্ট শর্তে কুমিরগুলোকে কিছু আটক কেন্দ্রে রাখার অনুমতি দিতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে কুমিরগুলোর দেখভাল ও ব্যবস্থাপনার নিয়ম প্রকৃতি ও উদ্যান কর্তৃপক্ষের পরিচালক নির্ধারণ করবেন।

হিব্রু প্রতিবেদন অনুসারে, বেন গভির প্রথমে কুমিরগুলোকে দক্ষিণ ইসরায়েলের কেৎজিওত কারাগারে ছাড়ার চেষ্টা করছেন, যেখানে প্রধানত ফিলিস্তিনি বন্দিদের রাখা হয়।

কয়েক সপ্তাহ আগে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির ও পরিবেশমন্ত্রী ইদিত সিলমান প্রকৃতি ও উদ্যান কর্তৃপক্ষের প্রধান রায়া সোরাকি এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আইন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তারা কারাগারের নিরাপত্তায় কুমির ব্যবহারের পরিকল্পনার পক্ষে অবস্থান নেন।

ওয়াইনেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের আইন উপদেষ্টা সিলমানকে সতর্ক করে জানান, কারাগারে কুমির ব্যবহারের জন্য একতরফাভাবে আইনি ভিত্তি তৈরি করার ক্ষমতা তার নেই। তবে সেই সতর্কতা উপেক্ষা করেই সিলমান পরে এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত জারি করেন।

প্রকৃতি ও উদ্যান কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ সভা শিগগিরই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে পরিবেশমন্ত্রী ইদিত সিলমানের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আবার আলোচনা হবে। সমালোচকদের অভিযোগ, তিনি এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নিজের মন্ত্রণালয়ের আইন উপদেষ্টার আপত্তি উপেক্ষা করেছেন।

এর আগে জানুয়ারিতে কারা বিভাগের কর্মকর্তারা উত্তর ইসরায়লের হামাত গাদের কুমির খামার পরিদর্শন করেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল কারাগারের নিরাপত্তায় কুমির ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করা।

চ্যানেল ১৩-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারা বিভাগের কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। তারা গ্যালিলি সাগরের দক্ষিণে হামাত গাদের এলাকার কাছে কুমিরঘেরা একটি আটক কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেন গভিরের এই পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের একটি বিতর্কিত আটক কেন্দ্র থেকে অনুপ্রাণিত। ‘অ্যালিগেটর আলকাট্রাজ’ নামে পরিচিত ওই কেন্দ্রটি কুমির-অধ্যুষিত একটি এলাকায় নির্মিত হয়েছিল এবং সেখানে অভিবাসীদের রাখা হতো। তবে কেন্দ্রটি খারাপ পরিবেশ, মানবাধিকার উদ্বেগ এবং আইনি জটিলতা নিয়ে পরিবেশবাদী ও আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।

ভারতের প্রথম বেসরকারি স্পেস রকেট ‘বিক্রম-১’ এর সফল উৎক্ষেপণ

অনলাইন ডেস্ক
ভারতের প্রথম বেসরকারি স্পেস রকেট ‘বিক্রম-১’ এর সফল উৎক্ষেপণ
সংগৃহীত ছবি

ভারতের বেসরকারি খাতে তৈরি প্রথম কক্ষপথে পৌঁছাতে সক্ষম রকেট ‘বিক্রম-১’ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। শনিবার অন্ধ্র প্রদেশের শ্রীহরিকোটায় অবস্থিত সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়।

এই সফল উৎক্ষেপণকে ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের জন্য বড় একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি দেশটির বাণিজ্যিক মহাকাশ কর্মসূচির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। রকেটটি তৈরি করেছে হায়দরাবাদভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্কাইরুট অ্যারোস্পেস। ‘মিশন আগমন’ নামে পরিচালিত এই অভিযান ছিল কোনো ভারতীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রথম কক্ষপথে উপগ্রহ পাঠানোর চেষ্টা। উৎক্ষেপণের পর স্কাইরুট অ্যারোস্পেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, বিক্রম-১ সফলভাবে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে পৌঁছেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, রকেটটি শেষ ধাপের জ্বালানি পোড়ানোর কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করে। এরপর এটি প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় কক্ষপথে বহন করা সব পেলোড সফলভাবে স্থাপন করে। পেলোড বলতে বোঝায় রকেট যে জিনিসগুলো মহাকাশে নিয়ে যায় এবং নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছে দেয়।

 স্কাইরুটের দাবি, এই সাফল্যের মাধ্যমে ভারত বিশ্বের তৃতীয় দেশ হিসেবে বেসরকারি উদ্যোগে কক্ষপথে রকেট উৎক্ষেপণের সক্ষমতা অর্জন করল। রকেটটি শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় উৎক্ষেপণের কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের কয়েক মিনিট আগে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাউন্টডাউন কিছু সময়ের জন্য থামিয়ে দেয় মিশন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। এতে উৎক্ষেপণে সামান্য বিলম্ব হয়। পরে দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে বিক্রম-১ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের সময় মিশন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের দুই সহ-প্রতিষ্ঠাতা পবন কুমার চান্দানা ও নাগা ভারত ডাকা। তারা দুজনই ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর সাবেক বিজ্ঞানী। এ সময় ইসরোর চেয়ারম্যান ভি. নারায়ণন, সংস্থাটির সাবেক কয়েকজন প্রধান, ভারতীয় মহাকাশচারী শুভাংশু শুক্লা এবং অন্ধ্র প্রদেশের মন্ত্রী নারা লোকেশও উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানায়, সফল উৎক্ষেপণের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফোন করে স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের প্রতিষ্ঠাতাদের অভিনন্দন জানান।

সফল উৎক্ষেপণের পর স্কাইরুট অ্যারোস্পেস এক্সে লিখেছে, 'বিক্রম-১ সফলভাবে কক্ষপথে পৌঁছেছে। রকেটটি ৪৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তার সব পেলোড স্থাপন করেছে। ভারতের বেসরকারি মহাকাশ কর্মসূচির জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক অর্জন।' আরেকটি পোস্টে প্রতিষ্ঠানটি লিখেছে, 'স্বাগতম মহাকাশ, আমরা এসে গেছি। ভারতের বেসরকারি খাতের প্রথম কক্ষপথগামী মহাকাশ অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।'

এই অভিযানে বিক্রম-১ পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে একাধিক প্রযুক্তি প্রদর্শনের পেলোড বহন করে। এর মধ্যে ছিল গ্রাহা স্পেস, কসমোসার্ভ স্পেস, ডিসিকিউবড এবং স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের নিজস্ব পরীক্ষামূলক পেলোড। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রকেটটি কয়েকটি স্মারক সামগ্রীও বহন করেছে। এর মধ্যে ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে লেখা ‘বন্দে মাতরম’ লেখা একটি পোস্টকার্ড, ভারতীয় বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও মহাকাশচারীদের পোস্টকার্ড, ১৮ ক্যারেট সোনার তৈরি একটি ক্ষুদ্র রকেট এবং একটি ক্ষুদ্র শিল্পকর্ম। ওই শিল্পকর্মে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির অগ্রদূত বিক্রম সারাভাই, নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী স্যার সি. ভি. রমন এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিজ্ঞানী এপিজে আবদুল কালামের ক্ষুদ্র ভাস্কর্য রাখা হয়েছে। স্কাইরুট জানায়, ভারতের বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণায় তাদের অবদানের প্রতি সম্মান জানাতেই এসব স্মারক বহন করা হয়েছে।

স্কাইরুট অ্যারোস্পেস জানিয়েছে, এই প্রথম উড্ডয়ন থেকে সংগ্রহ করা সব তথ্য বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা হবে। এর মাধ্যমে রকেটের দিকনির্দেশনা, নেভিগেশন ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রযুক্তির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হবে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এসব তথ্য ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক মহাকাশ উৎক্ষেপণ আরো উন্নত করতে কাজে লাগানো হবে। এ ছাড়া বাস্তব উড্ডয়নে বিক্রম-১-এর হালকা কার্বন কম্পোজিট কাঠামো এবং ত্রিমাত্রিক (৩ডি) মুদ্রণ প্রযুক্তিতে তৈরি ইঞ্জিনও সফলভাবে পরীক্ষা হয়েছে। 

স্কাইরুট অ্যারোস্পেস ২০২২ সালে ‘বিক্রম-এস’ নামে একটি সাবঅরবিটাল রকেট সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছিল। তবে বিক্রম-১ই কোম্পানির প্রথম রকেট, যা পৃথিবীর কক্ষপথে পেলোড স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। এই সাফল্যের মাধ্যমে স্কাইরুট এখন সাবঅরবিটাল পরীক্ষা থেকে পূর্ণাঙ্গ কক্ষপথে বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণের পর্যায়ে প্রবেশ করল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফল উৎক্ষেপণ ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের বিকাশে বড় ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ বাজারেও ভারতের অবস্থান আরো শক্তিশালী হবে।

নির্ঘুম রাতে অনলাইনে লটারি খেলে দেড় লাখ ডলার জিতলেন এক নারী

অনলাইন ডেস্ক
নির্ঘুম রাতে অনলাইনে লটারি খেলে দেড় লাখ ডলার জিতলেন এক নারী
সংগৃহীত ছবি

নির্ঘুম এক রাতই বদলে দিল যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলাইনার এক নারীর জীবন। ঘুম না আসায় সময় কাটানোর জন্য অনলাইনে লটারি খেলতে বসেছিলেন তিনি। আর সেই খেলাতেই জিতে নিয়েছেন ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বড় পুরস্কার।

মুরসভিল শহরের বাসিন্দা সু রাউলি লটারি কর্মকর্তাদের জানান, গত ৮ জুলাই রাতে তার ঘুম আসছিল না। সময় কাটানোর জন্য তিনি নিজের স্মার্টফোন হাতে নেন। এরপর শুরু করেন ডিজিটাল ইনস্ট্যান্ট লটারির একটি গেম খেলা। কিছুক্ষণ পরই সাধারণ বিনোদনের সেই মুহূর্ত বদলে যায় বড় এক চমকে। নতুন চালু হওয়া ‘টাম্বলিং ট্রেজারস’ নামের ডিজিটাল লটারিতে ৩০ ডলারের একটি টিকিট কিনে তিনি জিতে নেন ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পুরস্কার। লটারি কর্মকর্তারা জানান, এই গেমে এত বড় পুরস্কার জেতার সম্ভাবনা ছিল খুবই কম। তাদের হিসাব অনুযায়ী, রাউলির মতো বড় পুরস্কার জেতার সুযোগ ছিল ২০ লাখে মাত্র একটি। 

রাউলি বলেন, মোবাইলের পর্দায় ফলাফল দেখে প্রথমে তিনি বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। কারণ এত বড় অঙ্কের অর্থ জেতার কথা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি। তিনি বলেন, ‘রাত অনেক হয়ে গিয়েছিল। আমি শুধু সময় কাটানোর জন্য খেলছিলাম। তখনই এই ঘটনা ঘটে।’ রাউলি আরো বলেন, ‘সেই মুহূর্তে আমি একেবারেই বিশ্বাস করতে পারিনি। কারণ এমন ঘটনা সাধারণত ঘটে না।’ গত সোমবার (১৩ জুলাই) র‍্যালি শহরের লটারি সদর দপ্তর থেকে নিজের পুরস্কারের অর্থ গ্রহণ করেন রাউলি। তবে কর কাটার পর পুরো অর্থ হাতে পাননি তিনি। ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের কর কেটে নেওয়ার পর তিনি পান ১ লাখ ৮ হাজার ২৩ ডলার। রাউলি বলেন, ‘আমরা খুবই আনন্দিত।’ তিনি জানান, লটারিতে পাওয়া অর্থের একটি অংশ দিয়ে নিজের বাড়ির কিছু সংস্কারের কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। একটি সাধারণ নির্ঘুম রাত এবং সময় কাটানোর জন্য খেলা একটি অনলাইন লটারি শেষ পর্যন্ত রাউলির জীবনে বড় আর্থিক পরিবর্তন এনে দিয়েছে।

এর আগে গত মাসে মালয়েশিয়ায় এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ব্যাংকের লাকি ড্রয়ে অংশ নিয়ে এক রাতেই কোটিপতি হয়ে যান। ৭৩ বছর বয়সী চান চাই সিয়াং আগে একটি কারখানায় কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি একটি নির্জন আশ্রমে বসবাস করছেন। তিনি ব্যাংক সিম্পানান ন্যাশনালের লাকি ড্র থেকে ১০ লাখ রিঙ্গিত পুরস্কার জেতেন। চান চাই সিয়াং বলেন, এই পুরস্কার কোনো অলৌকিক ঘটনার ফল নয়। এটি তার কর্মফলের অংশ। তার ভাষায়, এই অর্থ আগের জীবনের কাজের ফল, কোনো বিশেষ আশীর্বাদ নয়। তিনি আরো বলেন, টাকা পাওয়ার আশায় তিনি কখনো কোনো মানত করেননি বা বিশেষ কোনো প্রার্থনাও করেননি।